somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ছিলাম না - আছি - থাকবো না

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

space-background ছবি: অন্তর্জাল

সূরাহ আদদাহর/ আল ইনছান, আয়াত-০১ এর মর্ম অবলম্বনে-

ছিলাম না - আছি - থাকবো না

আমি তো ছিলাম না-
আমার নাম নিশানা ছিল না
অস্তিত্বের চিহ্নমাত্রও ছিল না আমার
আমি জানতাম না- আমি আসবো
পৃথিবীর কর্দমাক্ত এই পথে পথে আমি হাটবো
মাটি-পাথর-ইট-ছনের কুটুরীতে হবে আমার বসত
ক্ষনিকের-
কিছু মুহূর্তের-
কিছু কালের-
খানিক সময়ের-
আমার গর্ভধারীনী প্রিয় মাতারও জানা ছিল না- আমি আসবো
তিনিও আমাকে চিনতেন না
আমার পিতারও অচেনা ছিলাম আমি
কোলে পেয়ে তবেই তারা চিনেছেন আমাকে
চমকে উঠেছেন অদ্ভূত আনন্দে
নেচে উঠেছে তাদেরও নরম মন
অচেনা আমাকে পেয়ে শিহরিত হয়েছেন
উচ্ছ্রাস-আনন্দে তারা তখন
কেঁদে দিয়েছেন হয়তো
চুমু খেয়ে বুকে তুলে নিয়েছেন
'অচেনা মানিক' প্রাপ্তির অনির্বচনীয় সুখের আভা
তখন তাদের চোখেমুখে

আমিও তো পৃথিবীর আলো-বাতাস এই মাঠ-ঘাট
এই কোলাহল-কদর্যতা কিছুই চিনতাম না
এখানের আলো-আঁধারির এই খেলা
আমার জানা ছিল না
উঁচু নিচুর প্রভেদ আমি জানতাম না
কালোয়-ধলোয় বিভেদের কুতসিত রূপ
আমি এখানে এসে দেখেছি

আবার এই আছি-
সামান্য সময়
কিছুকাল মাত্র
খুবই অল্প কিছু মুহূর্ত
সুখ-দু:খ হাসি-কান্নার ছন্দে
বিমলিন একেকটা দিন
দিনের পরে রাতের আগমন
কুয়াশাভেজা প্রভাতের বিমুগ্ধ অবয়ব
শীত-গ্রীষ্মের অমলিন সৌন্দর্য্য
পাহাড়-নদী-ঝর্ণা-গিরি-সাগর-কাননের হাতছানি
গ্রহ-নক্ষত্র সুশোভিত আলোকিত সুনিল আকাশ দেখি
পাখিদের কলতান শুনি
শিশুদের হাসি দেখি
ফুলের পাপড়ি ছুঁই, ছুঁয়ে দেখি
তাকিয়ে দেখি-
সময়গুলো আচমকা ফুরিয়ে যায়
আমার চলে যাবার ডাক আসে
আমি ফিরে যেতে উদ্যত হই
সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে
ব্যস্তত্রস্ততায়
মুহূর্তকাল আগপিছ না করেই
আবার আমার অনন্ত গন্তব্যে যাত্রা

আমি কোথায় যাব?
কোন অচেনা পথে যেতে হবে আমাকে?
একাকি আগের মত
সঙ্গীহীন

ছিলাম না - আছি - থাকবো না
এই তো জীবন
এই তো জনম
মানব জনম
আসা যাওয়ার চিরন্তন ধারা
সময়ের মত চিরন্তন অস্থির চলমান
বহতা নদীর মত কুলুকুলু বেগে বয়ে চলা মানবজীবন
আমাদের প্রাণের পথচলা
নিত্য সাতরে চলা-
অনন্তের পথে
অসীমের দিকে-

যিনি পাঠিয়েছেন
যিনি সৃজনের অমীয় সুন্দর ধারায় সাজিয়েছেন বসুন্ধরা
নিরন্তর আমরা ছুটে চলি তাঁর দিকে
তাঁর আহবানে
তাঁর সকাশে
তাঁর সন্নিকটে

এ যেন সৃষ্টির এক ভিন্ন খেলা
এই খেলা যিনি খেলছেন তিনি কে?
কি তার পরিচয়?

তিনি এক ও একক
অদ্বিতীয় লা- শারিক
তাঁর কেউ নেই
পুত্র পরিজন নেই
পিতা কিংবা মাতা নেই
তিনি চির মহিয়ান
চিরঞ্জীব
বিশ্ব জগতের সবকিছুর একক স্রষ্টা
একচ্ছত্র অধিপতি
রাজাধিরাজ
মালিক মহিয়ান
সর্বশক্তিমান-

তাকেই যদি আপন করে নিতে পারতাম!

সংযুক্তি: আল কুরআনের সূরাহ আদদাহর/ আল ইনছান, আয়াত-০১ নং আয়াতে কারিমা অর্থসহ-

هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنسَانِ حِينٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُن شَيْئًا مَّذْكُورًا

'মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না।' -সূরাহ আদদাহর/ আল ইনছান, আয়াত-০১

Has there not been over Man a long period of Time, when he was nothing - (not even) mentioned?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×