somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
আলহামদুলিল্লাহ! যা চেয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি দয়া করেছেন আমার পরম প্রিয় রব। যা পাইনি, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই—কারণ জানি, তিনি দেন শুধু কল্যাণই। সিজদাবনত শুকরিয়া।nnপ্রত্যাশার একটি ঘর এখনও কি ফাঁকা পড়ে আছে কি না, জানি না। তবে এটুকু জানি—

মধু ও মধুমক্ষিকা; স্রষ্টার সৃষ্টিনৈপুন্যতার অনন্য নিদর্শন

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি: অন্তর্জাল।

মধু ও মধুমক্ষিকা; স্রষ্টার সৃষ্টিনৈপুন্যতার অনন্য নিদর্শন

মধু। সুমিষ্ট পানীয়। শ্রেষ্ঠতম ঔষধি। বহু রোগের আরোগ্য। দেশ-কাল-জাত-পাতের উর্ধ্বে সকলের প্রিয় এক পানীয়। কিন্তু কে দেয় এই পানীয়? কী তার সৃষ্টিকৌশল? হাজারও ফুলে ফুলে ঘুরে, সুতীক্ষ্ণ চঞ্চুতে করে, অতি সামান্য পরিমানে, একটু একটু করে পুষ্পরস সঞ্চয় করে দীর্ঘ শ্রমে, দীর্ঘ সময়ে, বিপুল ধৈর্য্যে, অতি ক্ষুদ্র ডানায় ভর করে, মাইলের পর মাইল উড়ে উড়ে, ছোট্ট মৌমাছির দল গড়ে তোলে মধুর একেকটি চাক, আমাদেরকে উপহার দেয় সুমিষ্ট পানীয় মধু। তাই মধুর কথা বলতে গেলে আগেই আসে এর কারিগরের কথা। মধুমক্ষিকার কথা।

মধুমক্ষিকা। হ্যাঁ, ক্ষুদ্র এক পতঙ্গ। রহস্যে ভরা অদ্ভূত এক পোকা। মৌমাছি, মধুকর, মৌপোকা কত নামেই না আমরা অভিহিত করি তাকে। কিন্তু ভেবে দেখেছি কি কখনও, কতটা তীক্ষ্ণ তার অনুভবশক্তি! কত ব্যাপকতর তার অনুভূতি সামর্থ্য! কী তার ধারণার সক্ষমতা! ক্রোশ ক্রোশ মাইল দূর থেকে অনায়াসে সে পেয়ে যায় নানান ফুলের ঘ্রাণ! দূর বহু দূর থেকে তার ঘ্রানেন্দ্রীয় ঠিক ঠিকভাবে তাকে দিশা দেয় কোন ফুল কোথায় ফুটেছে আর কী তার ঘ্রাণ! শুধু অনুভব-অনুভূতির উপরে ভর করে যে স্তরে পৌঁছা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি এখনও! আর হবেও না হয়তো কোনো দিন! সৃষ্টির এ এক মহাবিস্ময়! মহিয়ানের কুদরতের এ এক অনন্য বহিপ্রকাশ! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার সৃষ্টিসুষমার এ এক বিচিত্র কারিশমা!

মধুমক্ষিকা; বিপুল, বিস্ময়কর এবং বিচিত্র ঘ্রাণ শক্তির ধারক!

কী এমন শক্তি, সামর্থ্য এবং সক্ষমতা দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন ছোট্ট এই মৌমাছিকে, যা দিয়ে সে দূর-বহুদূর থেকে নিমিষেই নিয়ে নিতে পারে অদেখা পুষ্পের ঘ্রাণ? চলুন, মৌমাছির সেই অজানা কাহিনী নিয়েই কথা বলবো আজ। বস্তুত: মৌমাছিকে দূর দূরান্ত থেকে নানান ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে সেই ফুলের কাছে মধু সংগ্রহে যাওয়ার জন্য উপায় খুঁজতে হয় না। কারণ, প্রাণিকুলের হাজারও বড় বড় সৃষ্টির মাঝে অতি ক্ষুদ্র এই পতঙ্গটির রয়েছে ১৭০ টি ঘ্রাণ সংবেদী ইন্দ্রিয়, যা শুধু দূর থেকে তাকে গন্ধ এনে দিতেই সাহায্য করে না, বরং এটাও জানিয়ে দেয় কোন গন্ধটি ঠিক কোন ফুলের! কোন ঘ্রাণ কোন ফুল থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে সে তাও সঠিকভাবে জেনে নিতে পারে দূরের অবস্থানে থেকেই। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজিম! কতই না মহান তিনি! কতই না অসাধারণ তাঁর সৃষ্টিনৈপূন্য!

মধুমক্ষিকার এমন বিপুল, বিস্ময়কর এবং বিচিত্র ঘ্রাণ শক্তির কারণেই কি মহাগ্রন্থ আল কুরআনে তার আলোচনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা? শুধু কি আলোচনা? আলোচনা বললেও তো কম করেই বলা হবে। সুদীর্ঘ একটি সূরার নামকরণই তো করা তার নামে। সূরা আন নাহল! আসলে কারণ এটি হলেও হতে পারে, তবে শুধুমাত্র এই কারণেই মধুমক্ষিকার নামে সূরার নামকররণ করা হয়েছে এমনটি বলার সুযোগ নেই। আসল কারণ তো, মহান আল্লাহ তাআ'লাই ভালো জানেন। তাঁর ইচ্ছে এবং পছন্দই চূড়ান্ত। তিনি তাঁর সৃষ্টির কল্যানেই এই পৃথিবী এবং মহাবিশ্বকে সাজিয়েছেন অকল্পনীয় নৈপুন্যতায়, অচিন্তনীয় সুষমায়। তিনি মানব কল্যানে মধুমক্ষিকাদের ভূমিকা এবং গুরুত্বকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন হয়তো। আল কুরআনে এমন গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে মধু এবং মধুমক্ষিকার উপকারিতা হয়তো মানবজাতিকে অবহিত করতে চেয়েছেন, যাতে তারা এর উপকারিতা এবং ফায়দা পরিপূর্ণরূপে লাভ করতে পারে। আল কুরআনে তিনি ইরশাদ করেন-

وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ

আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেনঃ পর্বতগাত্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরী কর, -সূরা আন নাহল, আয়াত ৬৮

ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। -সূরা আন নাহল, আয়াত ৬৯

মৌমাছি আমাদের কী দেয়?

মানব জাতির উপকার ও সভ্যতার বিকাশে ক্ষুদ্র পতঙ্গ মৌমাছির অবদান খুটিয়ে খুটিয়ে লিখতে গেলে বৃহৎ কলেবরের পুস্তক লেখার প্রয়োজন হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এতটুকু বলা যায় যে, এদের থেকে আমরা মধু, মোম পরাগ, রয়েল জেলি ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় বিষ পেয়ে থাকি। কথা হচ্ছে, এটাই বা কম কিসে? পৃথিবীর অন্য কোনো পতঙ্গ থেকে এত দামি ও প্রয়োজনীয় এতগুলো জিনিস পাওয়ার নজির এককথায় নেই বললেই চলে।

মৌমাছি কত জাতের?

শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠলেও কম করে হলেও ২০,০০০ (বিশ হাজার) প্রজাতির মৌমাছি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারাটা পৃথিবী! অনাদিকাল হতে এরা প্রতীক হয়ে আছে অজানা অনেক রহস্য এবং বিবিধ উপকারের। খোদ আমেরিকাতেই রয়েছে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) প্রজাতির মৌমাছি। হাজার কিংবা লক্ষ বছর ধরে টিকে আছে তারা। পাহাড়ের কোটরে, ঘরের চালায়, উঁচু গাছের ডালে বাসা বেধে তারা তৈরী করে এসেছে নানান রং, বর্ণ আর স্বাদের মধু। মানুষ তা পান করে। খুব সহজেই পান করে। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, একটি বড় চাকের মধু তৈরীর জন্য চাকের প্রতিটি মধুমক্ষিকাকে পাড়ি দিতে হয় প্রায় নব্বই হাজার মাইল পথ! এরচেয়েও আশ্চর্য্যের বিষয়, সাধারণত: ৫০০ গ্রাম মধু তৈরি করতে কমপক্ষে ২ মিলিয়ন ফুলের প্রয়োজন হয় এই মৌমাছিদের! কি অসাধ্য সাধন করতে হয় মধুমক্ষিকাদের! ভাবতেই গা শিউরে ওঠে! (০১)

মধুর অপরনাম শিফা বা রোগারোগ্য:

মধুমক্ষিকা। নিরলস কর্মী। কঠোর পরিশ্রমী অসাধারণ উপকারী বিচিত্র এক জীব। তার উদয়াস্ত পরিশ্রমে তৈরী হয় মধু। যে মধুর অনন্য গুণাগুণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন,

فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ ۗ

‘ফিহি শিফাউল লিন্নাস’, তাতে আছে মানবজাতির মহৌষধ। -সুরা নাহল, আয়াত ৬৯

কী সেই শিফা? বিজ্ঞান বলছে, মধুতে থাকে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, এনজাইম ও খনিজ পদার্থ, যাকে বলা হয় সব রোগের মহাষৌধ। শুনে আশ্চর্য্য হওয়ার কিছু নেই, মধুতে রয়েছে প্রায় ৪৫ টি খাদ্য উপাদান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এনজাইম বা উৎসেচক, খনিজ পদার্থ - যথা: পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ; এছাড়াও রয়েছে প্রোটিন, যা বিশেষ মাত্রায় শক্তি উৎপাদন করে। মধু একইসাথে শরীরকে দেয় তাপ ও বল, মানব শরীরের সুস্থতার জন্য যা একান্ত প্রয়োজন।

মধুর খাদ্যগুণ:

১০/১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডায় মধু দানা বাঁধে। মধুর আপেক্ষিক গুরুত্ব ১ঃ৪। খাঁটি মধু স্বচ্ছ, খেতে সুস্বাদু। তবে কিছুটা অম্লভাবাপন্ন। মধুতে পানি ২০, শর্করা ৬৩, সুক্রোজ ৫, ফুকটোজ ১, ছাই বা এ্যাশ ৫০, ফরমিক এসিড ২০ শতাংশ ছাড়াও খনিজ লবণ, ডায়টেজ, এনজাইম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ ভিটামিন এ, বি-১, বি-২, বি-৬, সি প্রভৃতি বিদ্যমান। গবেষণায় দেখা যায়, ৭ আউন্স মধুর মধ্যে ১.২৫ কেজি দুধের সমান পুষ্টি আছে।

১০০ গ্রাম মধুতে ৩০০০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধক হিসাবে এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। মৌ বিষ বা বীভেমন শরীরে অনাক্রমণতা বা ইমিউন বৃদ্ধি করে। রক্তের বিষাক্ততা দূর করে। হৃৎপিন্ডের দুর্বলতা হ্রাস করে। দীর্ঘায়ু ও যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মধুতে যে পরিমাণ পেনটোথোনিক ভিটামিন আছে তার কাজ হ’ল আয়ুষ্কাল বাড়ানো।

মধুতে এতসব গুণাবলী না থাকার কোন কারণ নেই। বরং, থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ, প্রিয়তম রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সুসংবাদ শুনিয়েছেন রোগারোগ্যের বিষয়ে। আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃজন করেননি।’ -বুখারি : ৫২৭৬; তাফসিরে কুরতুবি : ১০/২৩৫

কতই না খাদ্যগুণের আধার এই মধু!

মধু! নামেই মিশ্রিত রয়েছে কী এক মায়াময়তা! মোহনীয়তা! নামোচ্চরণ করলেই জিহবায় চলে আসে মিষ্টি মিষ্টি স্বাদের অন্যরকম এক অনুভূতি! খাদ্যগুণে ভরপুর মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে শর্করা। শুধু কি তাই? এতে আছে ডেক্সট্রিন, খাবারের পরে যা সরাসরি ঢুকে পড়ে রক্তে এবং খুব সহজে তাৎক্ষণিকভাবেই শরীরের গঠন ও উন্নয়নে কাজ করে। মধুর অন্যতম একটি গুণ এটি খুব দ্রুত হজম হয়। শুধু তাই নয়, এটি হজমকারকও বটে। আমাদের গ্রহণকৃত অন্যান্য খাবারদাবার পরিপাকে হজম শক্তি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা রাখে এটি।

অনেক মানুষ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগে থাকেন। কেউ বা আবার আক্রান্ত হন বিপরীতমুখী ডায়েরিয়ায়। মধুতে রয়েছে এর সহজ সমাধান। ১ চা চামচ খাঁটি মধু প্রতি দিন সকালে নিয়মিত কিছু দিন পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা, ডায়েরিয়া এবং অম্লত্বসহ এই জাতীয় সমস্যাগুলো দূর করা খুব সহজেই সম্ভব।

রক্তশূন্যতার কারণে অনেকের ফ্যাকাশে চেহারা সচরাচর চোখে পড়ে। বিশেষ করে, শিশুদের মধ্যে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। আশার কথা, মধুতে রয়েছে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান। কারণ, মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কিছু দিন পরিমিতভাবে মধু পান করলে এই সমস্যা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

এ ছাড়া রয়েছে হাপানি রোগ। আমাদের দেশে এই সমস্যা অনেকেরই দেখা যায়। দেখা যায় ফুসফুসে সমস্যাজনিত নানান রোগ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মধু এসব ক্ষেত্রে দারুন কার্যকর একটি সমাধান। এর কারণ হচ্ছে, মধুতে রয়েছে অধিক পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ, যা শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে যথেষ্ট কার্যকর বলে প্রমানিত হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, মধুর এত এত গুণাগুণ উল্লেখ করায় ভেবে বসছেন না তো যে, ক্যানভাসারদের মতো করে মধুকে সর্বরোগের মহৌষধী বানিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে!

মধুর ইতিহাস বহু পুরনো:

আসলে মধু তো আজকের নয়। মধুর অনন্য গুণাগুণ নিয়ে গবেষনা চলে এসেছে হাজার হাজার বছর যাবত। বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করে এসেছেন সেই হিপোক্রেটিস ( খ্রি. পূর্ব- ৪৬০- ৩৫৭) থেকে নিয়ে D H Denison Han, S. Playford Ghosh, SG Bell অবধি। আজও শেষ হয়নি সে গবেষনার ধারাবাহিকতা। চলমান সে গবেষণায় যে ফলাফল উঠে এসেছে, সেটাই প্রকাশ করেছেন তারা। আর আমরা তাদের গবেষনালব্ধ সে কথাগুলোর প্রতিধ্বনিই করে চলেছি মাত্র।

প্রাচীন মিসরে ফেরাঊনের সময়ে মধুর ব্যবহারের নযীর পাওয়া যায়। বিশ্ব বিজয়ী নেতা আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ মধুতে ডুবিয়ে নিজ দেশে প্রেরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হিসাবে মধু ব্যবহার করা হয়েছিল। রাশিয়ার পঙ্গু ও মানসিক রোগীদেরকে চিকিৎসার জন্য মৌ খামারে প্রেরণ করা হয়। আধুনিক চিকিৎসার প্রধান প্রবক্তা ইবনে সিনা ৯৮০ খৃষ্টাব্দে মন্তব্য করেন, ‘যৌবন অটুট রাখতে এবং আয়ু বৃদ্ধিতে মধু পান করা উচিত’। বর্তমানে উন্নত দেশসমূহে ‘হাইমেনোকেমা থেরাপি’ এবং মৌমাছির হুল ফুটিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

মধু; নির্ভেজাল একটি খাদ্য:

দুনিয়া জুড়ে ভেজালের রাজত্ব আজ। কোথায় যাবেন? কী কিনবেন? কী খাবেন? সবকিছুতেই ভেজাল। ভেজালের এই রাজত্বেও মধু হারিয়ে ফেলেনি তার নির্ভেজাল অস্তিত্ব। মধুকে বলতেই হবে এটি নির্ভেজাল একটি খাদ্য। তবে নকল বা ভেজাল মধুর কথা ভিন্ন। মধুতে থাকা শর্করার ঘনত্ব এত বেশি যে, এর মধ্যে কোনো জীবাণু ১ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচতে পারে না। এতে ভিটামিন এ, বি এবং সি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান। মধুতে কোলস্টেরলের ভয় নেই। কারণ, এটি কোলস্টেরল মুক্ত। সুস্থ অসুস্থ যে কেউ মধু খেতে পারেন। সুস্থ মানুষ দিনে দু’চা-চামচ মধু অনায়াসে খেতে পারেন। বেশি খেতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাদ্য ভাত, রুটি, আলু কমিয়ে খেতে হবে। অন্যথায় মুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণ খেলে মোটা হওয়ার ভয় তেমন থাকে না বললেই চলে।

অনেকের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে! ঘুম সহজে আসেই না। যত চেষ্টাই করে থাকুন না কেন, দুই চোখের পাতা এক করতে পারেন না কোনভাবে। রাতটা পার করেন ছটফট করে করে। ক্রমে ক্ষীণকায় হতে হতে নানাবিধ অসুস্থতায় নিপতিত হতে দেখা যায় এরকম রোগীদেরকে। দায় চাপান ডিপ্রেশনের উপর। নিরুপায় হয়ে শেষমেষ ঘুমের ওষুধ খেতে শুরু করেন কেউ কেউ। কিন্তু কাহাতক আর ঘুমের ওষুধ? স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান কি? হ্যাঁ, এই রোগ নিরাময়েও ব্যবহার করে দেখতে পারেন মধু। বিশ্বাস রাখুন মধুর উপরে, এই পানীয় আপনার দুই চোখের পাতাকে ওষুধ ছাড়াই পুনরায় একত্র করে দিতে সহায়তা করবে। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস ইষৎ উষ্ণ পানির সাথে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে সামান্য নেড়েচেড়ে পান করে নিন। দেখবেন, ঘুম এসে যাবে সহজেই।

তারুণ্য বা যৌবন ধরে রাখতে চান!

আপনি আপনার তারুণ্য বা যৌবন ধরে রাখার চিন্তায় অস্থির হচ্ছেন! নিজের দুর্বলতার জন্য দুশ্চিন্তায় রয়েছেন! এরও সহজ সমাধান কিন্তু মধুতে রয়েছে। একটা নিয়ম করে নিন। সকালে বা রাতে ঘুমুতে যাওয়ার পূর্বে। প্রতি দিন এক গ্লাস হালকা গরম দুধ কিংবা দুধ না থাকলে পানি নিন। সাথে মিশিয়ে নিন পরিমানমত মধু। এভাবে পান করে যান নিয়মিত কিছু দিন। পুরুষত্বহীনতা বা স্নায়ুবিক দুর্বলতা নিরসনে দারুনভাবে কাজে দিবে এই পদ্ধতি।

বুড়িয়ে যাওয়া রোধে কাজ করে মধু!

বুড়ো মানুষকেও অনেক সময় বুড়ো বলা বিপদের কারণ। কারণ, বুড়ো বললেই ক্ষেপে যেতে দেখা যায় অনেককে। আসলে বুড়ো আমরা কেউই হতে চাই না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মধু এমনই একটি পানীয় যাতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। আর এই উপাদান আমাদের ত্বকের রঙ সুন্দর করতে সাহায্য করে। ত্বককে মোলায়েম, মসৃন এবং পেলব রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ত্বকে ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করা মধুর অন্যতম একটি গুণ। সামগ্রিকভাবে শরীরের শক্তিবৃদ্ধি, প্রাণপ্রাচুর্য আনয়ন এবং সর্বোপরি শরীরে কর্মক্ষমতা বাড়াতে মধুর রয়েছে দারুন ভূমিকা।

দাঁত ও মুখের যত্নে মধুর রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা!

অনেকেরই দন্তক্ষয়জনিত রোগ রয়েছে। মুখের ভেতরে ঘা, দাঁতে ব্যথা, দাঁতের গোড়ায় গর্ত, মাড়ীতে পুঁজসহ নানাবিধ যন্ত্রণায় দিশেহারা হতে হই আমরা অনেকেই। এই সমস্যার সমাধানে কত যে ছোটাছুটি! ডাক্তার বৈদ্য দেখিয়েও উপায় হয় না অনেকের। এর থেকে বাঁচার সহজ রাস্তা নিয়মিত মধুর ব্যবহার। মধুমিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করুন। মুখ ও মাড়ির প্রদাহ দূর হবে। শুধু প্রদাহই দূর করে না, মুখে নিয়মিত মধুর ব্যবহার এমনকি দাঁত পড়ে যাওয়াকেও বিলম্বিত করে। তাই স্বীকার করতেই হবে, দাঁত ও মুখের সামগ্রিক যত্নে মধুর ভূমিকা অসাধারণ।

হজমশক্তি বৃদ্ধিতে মধুর বিস্ময়কর কাজ!

আমরা নিবন্ধের প্রথমদিকে ইতোপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, মধু নিজে সহজ হজম হয় এমন একটি পানীয় এবং এর বড় গুণ এটি অন্যান্য খাবারাদি যা আমরা খেয়ে থাকি সেগুলোকে সহজে হজম করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। মধু পাকস্থলীর কাজকে শক্তিশালী করে, পাশাপাশি দূর করে হজমের গোলমাল। এছাড়া, এটি হাইড্রোক্রলিক এসিড ক্ষরণকে হ্রাস করে, ফলে দূর হয় অরুচি, বমিভাব, বুক জ্বালাপোড়া থেকে শুরু করে এইজাতীয় অনেক উপসর্গ।

চাই একটু উষ্ণতা!

হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে উষ্ণতার প্রয়োজন দেখা দেয় বৈকি! শীতের হিমেল হাওয়া! হিম শীতল ঠান্ডায় শরীর যেন বরফের টুকরো! ঠকঠক কাঁপুনিতে দাঁতে দাঁত লাগে! শীতের সকালে প্রচন্ড ঠান্ডার দিনে এমন অনুভূতি নেয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সবারই হয়তো থেকে থাকবে। এমন ঠান্ডায় শরীরকে একটু উষ্ণতা দিতেও মধু কিন্তু দারুন কার্যকর। ইষৎ উষ্ণ এক গ্লাস পানির সাথে এক বা দুই কাপ মধু মিশিয়ে পান করে নিন। দেখবেন, মুহূর্তেই শীত আপনার চারপাশে নেই। চনমনে একটা তাজাভাব চলে আসবে পুরো দেহ অবয়বে। পেটপুরে অধিক পরিমানে মধু একইসাথে পান করে ঘেমে নেয়ে একাকার হতে দেখেছেন কখনো কাউকে? একটা সময়ে মাত্রাতিরিক্ত মধু একসাথে পান করার ফলে, শরীরের তাপ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাল সামলাতে না পেরে পুকুর বা খালের পানিতে নেমে শরীর ঠান্ডা করতে দেখা যেত গ্রামগঞ্জের মানুষকে। এমনটা অবশ্য ঠিক নয়। একসাথে এত অধিক পরিমানে মধু পান করা অনুচিত।

ডায়েরিয়াজনিত পানিশুন্যতা পূরনে মধু!

ডায়েরিয়াজনিত পানিশুন্যতা পূরনে মধু ব্যবহার করা যায়। ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা দূর করা সম্ভব। ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগীকে মধুমিশ্রিত পানি পান করানোর ফলে পানিশুন্যতার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি হতে তাকে রক্ষা করা সম্ভব এবং এর ফলে রোগী দ্রুত সুস্থতা লাভ করতে পারে। ডায়েরিয়ায় মধুর ব্যবহার হাদীসেও নির্দেশিত।

‘হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ‘আমার ভাইয়ের খুব পায়খানা হচ্ছে।’ তিনি বললেন, ‘তাকে মধু পান করিয়ে দাও। তিনি গেলেন এবং তাকে মধু পান করালেন। আবার তিনি এভাবে দু’বার এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! তার পায়খানা তো আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যবাদী এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যাবাদী। উক্ত ব্যক্তি গেলেন এবং তাকে মধু পান করালেন। এবার তিনি সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করলেন।’ -বুখারি : ৫/২৯১, মুসলিম, তিরমিজি : ৬০৭/ ২০২৩

রূপচর্চায়ও রয়েছে মধুর ব্যবহার!

হ্যাঁ, সেই আদিকাল থেকেই রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে মধু। রূপচর্চায় মধুর রয়েছে নানাবিধ ব্যবহার। বিশেষ করে, মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখমন্ডলের ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্যও মধুর ব্যবহার সুবিদিত।

ওজন কমাতেও ভূমিকা রয়েছে মধুর!

খাওয়া দাওয়া তলানিতে নিয়েও অনেকের ওজন কমাতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে। অতি সামান্য পরিমান খেয়েও ওজন কমাতে পারেন না বলে অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় কারও কারও কাছ থেকে। মধু এই সমস্যায় কার্যকর। কারণ, মধুতে কোনো চর্বি নেই। এটি পেট পরিষ্কার করার সাথে সাথে পেটে জমে থাকা ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে, ফলে নিয়মিত মধু সেবনে ওজন কমে।

শিশুর বিকাশে চাই মধু!

মধুর এত এত গুণাগুণ কি শুধুই বড়দের জন্য? এর উত্তর হচ্ছে না, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও মধু সমানভাবেই কার্যকর। শিশুর বয়স ছয় মাস পেরিয়ে গেলে তাকে সামান্য পরিমান (তিন চার ফোঁটা) মধু নিয়মিত খাওয়ানো উচিত। এটি তাদের পুরো দেহের বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এতসব উপকারিতা পেতে হলে মধুটা হতে হবে খাঁটি। বলাবাহুল্য, ভ্যাজাল বা নকল মধুতে এসব উপকার আশা করা বৃথা। শুধু উপকার আশা করাই বৃথা নয়, বরং ভ্যাজাল বা নকল মধুকে আসল মধু ভেবে নিয়মিত পান করার ফলে হতে পারে অনেক ধরণের ক্ষতিও। তাই মধু পান বা ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই জেনে নিতে হবে সেটি আসল না কি নকল। বর্তমানে মধুর রয়েছে নানান জাত ও রকম। প্রাকৃতিক মধুপ্রাপ্তি কঠিন হলেও চাষকৃত মধুর ব্যাপকতা এখন বেশ লক্ষনীয়। প্রাকৃতিক মধুর গুনগত মান এবং দাম চাষের মধু অপেক্ষা অনেক বেশি হওয়ায় অনেকে চাষের মধুকেই প্রাকৃতিক মধু বলে চালিয়ে দিতে চান, এতে করে দাম বেশি পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই কারণে মধু চিনে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু কীভাবে সনাক্ত করবেন আপনার সংগ্রহকৃত মধু খাঁটি কি না?

মধু খাঁটি কি না, বুঝার উপায় কি?

মধু খাঁটি কি না, এটি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমন:

০১. খাঁটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছাড়লে তা সরাসরি ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যায়।

০২. কয়েক ফোঁটা মধু একটি ব্লটিং পেপারে নিলে ব্লটিং পেপার কর্তৃক মধু শোষিত হবে না। ভেজাল মধুকে ব্লটিং পেপার শোষণ করতে পারে, পেপারকে সে আর্দ্র করে তোলে।

এ ছাড়া মধু পরীক্ষার জন্য আরও অনেক পদ্ধতিসহ আধুনিক কিছু পদ্ধতিও রয়েছে। সেগুলো জেনে নিয়ে সেই অনুসারে মধুর খাঁটিত্ব পরখ করে নেয়া যেতে পারে।

মৌচাক, অনিন্দ্য সুন্দর এক সৃষ্টি!

ছোট্ট পতঙ্গ মধুমক্ষিকাকে এমন অনিন্দ্য সুন্দর বাসা বানানোর কৌশল কে শিখিয়েছে, ভেবে দেখেছেন কখনও? আহ! কতই না সুন্দর তাদের বানানো বাসা! হাজার হাজার কামরার অদ্ভূত, বিচিত্র এবং নয়নাভিরাম এই বাসা দেখেও তো আশ্চর্য্য না হয়ে পারা যায় না। বাসা বানাতে হবে, এটা না হয় তারা বুঝলো, এই এতটুকু জ্ঞান না হয় ধরে নিলাম স্রষ্টা প্রদ্ত্ত, কিন্তু একইরকম বাসা কিভাবে বানায় দুনিয়াজুড়ে থাকা হাজার হাজার প্রজাতির মৌমাছি? একটু আড়ালে আবডালে কিংবা অন্ধকার রয়েছে বাসা বা চাক বানানোর জন্য এমনসব স্থান বেছে নেয় মৌমাছি। যেমন- গাছের ফাঁক ফোকর বা উঁচু ডাল, পাহাড়ের গাত্র, দেয়ালের ফাটল, আলমারি, ইটের স্তূপ ইত্যাদি স্থান। গবেষনায় জানা যায়, চাকপ্রতি মধুর উৎপাদন প্রতিবারে গড়ে প্রায় ৪ কেজি।

মার্কিন গণিতজ্ঞ থমাস হেলস বলেন, মৌচাক হলো প্রকৃতির সবচেয়ে সুনিপুণ শৈল্পিক পদ্ধতিতে বানানো একটি বাসস্থান। একটি মৌচাকের ভেতর অসংখ্য রুম বা কামরা থাকে। ষষ্ঠভুজাকৃতির প্রতিটি কক্ষ। দারুণভাবে সুবিন্যস্ত। অসাধারণ নির্ভুল এর নির্মাণকাজ।

মৌমাছিরা কিছু কক্ষে মধু সঞ্চয় করে। কিছু প্রকোষ্ঠ রেখে দেয় ফাঁকা। সেখানে তারা ডিম পাড়ে। সংরক্ষণ করে লার্ভা ও পিউপা। বাচ্চা মৌমাছিরা বড় হয় কক্ষগুলোতে। এখানে জমা থাকে মধু আর ফুলের পরাগ রেণু।

সবচে’ নির্ভেজাল ও শৈল্পিক উপাদান দিয়ে তারা বানায় তাদের ঘর। শ্রমিক মৌমাছির মোমগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মোম এ ঘরের প্রধান উপকরণ।

মোম ছাড়াও বাসা নির্মাণে শ্রমিক মৌমাছি রেজিন জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে। গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে এই পদার্থ তারা সংগ্রহ করে। এটি ব্যবহারের ফলে বাসার গঠন শক্ত হয়। মৌমাছির শরীরের আকার ও আয়তন অনুযায়ী বাসা নির্মাণ করা হয়। মৌচাকে রানীর জন্য বানানো কুঠুরিটি হয় সবচেয়ে বড়।

প্রতিটি মৌচাকে থাকে তিন শ্রেণির মৌমাছি; প্রত্যেকের কাজ সুবিন্যস্ত:

একটি মৌচাকে তিন শ্রেণির মৌমাছি থাকে, যথা: (১) রাণী, (২) পুরুষ ও (৩) শ্রমিক মৌমাছি। রাণী মৌমাছি আকারে সবচে’ বড়। একটি চাকে থাকে কেবল একটি রাণী। তার একমাত্র কাজ ডিম পাড়া। পুরুষ মৌমাছি আকারে মধ্যম, চোখ তাদের বড় বড়। তাদের কোনো হুল থাকে না। এদের একমাত্র কাজ রাণীর সাথে মিলিত হয়ে বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করা।

কাজ করে থাকে শ্রমিক মৌমাছিরা। তারা সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির। চোখ এদের ছোট, হুল এদের ভয়ানক। রাণী ও পুরুষ বাদে অবশিষ্ট সকল সদস্যই শ্রমিক মৌমাছি।

শ্রমিকদের কাজ বিন্যস্ত। বিকেন্দ্রিত। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন কাজ। প্রতিটি দলে থাকে কঠিন শৃঙ্খলা। চাক বানানো, ফুলের মিষ্টি রস ও পরাগরেণু সংগ্রহ, মধু তৈরি, চাকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, চাকে বাতাস দেয়া, চাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত মৌমাছিরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করে। চাকের গঠনে যেমন থাকে শিল্প, তেমনি একে ঘিরে কাজের বিন্যাসেও থাকে শিল্প।

তাদের এই বিন্যাস শৈল্পিকতা আল্লাহ তাআ'লা প্রদত্ত বিশেষ প্রজ্ঞার স্মারক। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ

‘আপনার রব মৌমাছিদের জ্ঞান ও নির্দেশনা দিয়েছেন, গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে, তাতে।’ -সূরা আন নাহল, আয়াত ৬৮

মৌমাছির রয়েছে নিজস্ব বিস্ময়কর যোগাযোগ ব্যবস্থা:

পারস্পারিক যোগাযোগ রক্ষা ও তথ্যাদি সম্প্রচারের জন্য রেডিও তরঙ্গ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডিস এন্টেনা ইত্যাদি কত কি ব্যবহার করতে হয় আমাদের! কিন্তু মধুমক্ষিকাদের এসবের প্রয়োজন হয় না। তাদের রয়েছে নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একে অপরের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিতে পারে তারা। মধু আহরণের উদ্দেশ্যে পছন্দসই ভালো ফুলের তালাশে বেরিয়ে যায় কিছু মৌমাছি। তারা ঘুরতে থাকে বিভিন্ন দিকে। যখনই পেয়ে যায় কাঙ্খিত ফুল। তারা সংকেত পাঠিয়ে দেয় মৌচাকে থাকা অন্য মৌমাছিদের কাছে। বলে দেয় পথের দিশা। কোন পথে, কত দূরে গেলে পাওয়া যাবে মধু সংগ্রহ করার মত ফুল বিস্তারিত জেনেই চাকের মৌমাছিরা ছুটে যায় মধু সংগ্রহে। তারা ঠিকঠিকভাবেই পৌঁছে যায় সেখানে, যেখানে অপেক্ষা করছে অগ্রগামী তথ্যপ্রেরণকারী মৌমাছির দল!

ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় মৌমাছি কি শুধু মধুই সংগ্রহ করে?

ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় মৌমাছি। শুধু মধু সংগ্রহ করে? না। সে আরও অনেক উপকার করে চলে। পরাগায়ন তার সেরা এবং শ্রেষ্ঠতম আরেকটি কাজ। ফুল থেকে ফুলে সে যখন উড়ে চলে, তখন নিজের পা এবং বুকের লোমে ফুলের অসংখ্য পরাগরেণু বয়ে বেড়ায়। এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে পরাগায়ন ঘটে যায়, আর এর ফলে উৎপন্ন হওয়ার সুযোগ লাভ করে আমাদের আহার্য্য নানাবিধ ফল ফসল।

পরাগায়নের জন্যে বাগানে মধু চাষ খুবই ফলপ্রসু। এ পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায়। বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে মৌমাছি দ্বারা পরাগায়িত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত বাড়তি ফসলের মূল্য মোট উৎপাদিত মধু ও মোমের মূল্যের ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। দেশীয় মৌমাছিরা সারা বিশ্বের ৮০ শতাংশ ফুল গাছের পরাগায়ন করে বলে অনুমান করা হয়। -দেখুন, প্রাগুক্ত (০১)

মৌমাছি আমাদের মধু দেয়, সুস্থতা ও বলবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, পরাগায়নের মাধ্যমে ফলের জন্মে ভুমিকা রাখে - বিষয়টি এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের জীবনযাপনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নিশ্চয়তায়ও তার ভুমিকা বিপুল ও ব্যাপক। কেবল ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধু রপ্তানি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি মধু রপ্তানি হয়, যা মোট রফতানির ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

৫ প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে আমাদের দেশে:

বাংলাদেশের কথাই যদি বলি, এখানে দেশি ও বিদেশি মিলে বর্তমানে ৫ প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। যেমন: এপিস মেলিফেরা (Apis mellifera), এপিস সেরেনা (Apis cerana), এপিস ডরসাটা (Apis dorsata), এপিস ফ্লোরিয়া (Apis florea) এবং ট্রায়োগোনা (Triogona)। এর মধ্যে এপিস মেলিফেরা (Apis mellifera) বিদেশী প্রজাতির। তার আদি ঠিকানা ইউরোপ। ইউরোপ থেকে সংগৃহিত এই প্রজাতির মধুপোকার কিছুটা ভদ্রলোকি ভাব রয়েছে। চলাফেরায়, মানে, উড়াউড়িতে কেমন শান্ত শান্ত একটা ভাব। তবে বাংলাদেশকে ভালো লেগেছে তার। অর্থাৎ, এখানের আবহাওয়া ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছে সে। এখানে এর চাষ করা হয়। এই প্রজাতির মৌমাছির চাষ লাভজনক প্রতীয়মান হয়েছে। -দেখুন (০৩)

মাত্র চার প্রজাতির মৌমাছি। কিন্তু তাদের মধুর উপর টিকে আছে হাজার হাজার পরিবার। এছাড়া প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহকারী মৌয়ালদের সংখ্যা অগণিত। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় মধু সংগ্রহকে পেশা হিসেবে নিয়ে আয়ে বেঁচে আছেন তারা। তাদের ছাড়াও বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া মৌ চাষীর সংখ্যাও বর্তমানে প্রায় ১০ সহস্রাধিক। এসব চাষীর খামারে বছরে গড়ে ছয় হাজার টন মধু উৎপাদন হয়। যার অধিকাংশই রপ্তানি হয় নানা দেশে!

মৌমাছিদের জন্য রয়েছে জাতিসংঘ ঘোষিত একটি দিবসও:

হ্যাঁ, প্রাণিজগতের অন্যতম ও বিপুল পরিশ্রমী এবং পরিবেশ ও মানব জাতির পরম উপকারী ক্ষুদ্র পতঙ্গ মৌমাছির জন্য একটি দিবস নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ। ২০১৮ সাল থেকে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে ২০ মে দিনটি। এ উদ্যোগ মৌমাছির জন্য কোন কাজে না আসুক বা না আসুক, মৌমাছির গুরুত্ব অনুধাবনে আমাদের সহায়তা করবে নিঃসন্দেহে। (০২)

ল্যান্ডমাইন শনাক্তেও সহায়তা দিতে পারে মৌমাছি!

লোভ লালসা এবং ক্ষমতার দ্বন্ধে দেশে দেশে যুদ্ধ, হানাহানি এবং রক্তপাতে লিপ্ত হয় আগ্রাসী মানুষ। শত্রুপক্ষের মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার জন্য মাটিতে মাইন পুতে রাখে প্রতিপক্ষের যুদ্ধংদেহী দল। মজার বিষয় হচ্ছে, লুকিয়ে পুতে রাখা জীবনবিধ্বংসী সেই মাইন খুঁজে পেতেও এখন সাহায্য করছে মৌমাছি। ট্রাইনাইট্রোটলুইন খাইয়ে মধুকরদের ছেড়ে দেওয়া হয় সম্ভাব্য মাইন থাকতে পারে এ রকম এলাকায়। যে কোনো গন্ধের প্রতি প্রচণ্ড সংবেদনশীল তারা। ল্যান্ডমাইন যেহেতু ট্রাইনাইট্রোটলুইন রাসায়নিক ব্যবহার করে বানানো, ফলে মৌমাছির এই সংবেদনশীলতার কারণে ল্যান্ডমাইনের আশপাশে খাবারের খোঁজ করতে থাকে, যা পর্যবেক্ষণ করা হয় ড্রোনের মাধ্যমে। মৌমাছিদের গতিবিধি থেকে ড্রোন বলে দিচ্ছে কোথায় আছে ল্যান্ডমাইন! ধ্বংসোম্মুখ মানবজাতিকে বাঁচাতে ছোট্ট মৌমাছির এটা বিস্ময়কর আরেকটি অবদান বটে!

কোভিড–১৯ আক্রান্ত নমুনা শনাক্তেও সাহায্য করতে সক্ষম মৌমাছি!

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড ১৯ এর কাছে পরাস্ত মানুষও সহায়তা নিচ্ছে পতঙ্গটির। নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-পশুচিকিত্সার গবেষণাগারে তাকে দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। সেখানকার ভাইরোলজির অধ্যাপক উইম ভ্যান দের পোয়েল নিশ্চিত করেন, প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা কোভিড–১৯ আক্রান্ত নমুনা শনাক্তের সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের স্ট্র–র মতো লম্বা ও সূক্ষ্ম শুঁড় প্রসারিত করছে। সনাক্ত হচ্ছে আক্রান্তরা।

পরম উপকারী মৌমাছিরা টিকে থাকুক যুগযুগান্তর:

এভাবেই পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং মানব জাতির নানাবিধ উপকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে অতি প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আজকের অতি আধুনিক সময়ে এসেও নিজের অপরিহার্যতা নিশ্চিত করে চলেছে ক্ষুদ্র মধুমক্ষিকার দল! ক্ষুদ্র এক প্রাণি পৃথিবী ও মানুষের কল্যানে আর কতো করবে? মৌমাছি দলবদ্ধভাবে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করে। নিজেদের মধ্যে মারামারি হানাহানি করে না। পরোপকারে তিল তিল করে নিজেদের বিপুল শ্রমে সঞ্চিত মধু উৎসর্গ করতে কুন্ঠিত হয় না। ক্ষুদ্র মৌমাছি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার সৃষ্টিকুশলতার অনন্য এক নজিরই শুধু নয়, আমাদের শিক্ষা গ্রহণের সুবিশাল এক জগতও বটে!

তথ্যসূত্র:

(০১) How many species of native bees are in the United States?

(০২) সুন্দরবনের বন্ধু মৌমাছি

(০৩)
পুষ্টি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য মৌচাষ

(০৪) সূরা আন নাহল, কুরআনুল কারিম

(০৫) সহিহ বুখারি
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:০১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইংরেজী শুভ নববর্ষ '২০২৬

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪৭

ইংরেজী শুভ নববর্ষ '২০২৬



আগত ২০২৬ ইংরেজী নববর্ষে সবাইকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ ।

বিগত ২০২৫ সাল বাংলাদেশ ও বর্হির বিশ্ব ছিলো ঘটনা বহুল এবং দু:খজনক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ।
সময়ের পার্থক্যের কারণে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ও টিটিপি বিতর্ক: নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর কি দিল্লির কোনো এজেন্ডা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৭


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝে আফগান তালেবান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন পশ্চিমা বিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×