somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

হিটলারের শেষ আশা ও নিজেকে চালাক মনে করা রোগীর গল্প

০৬ ই মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
হিটলারের শেষ আশা ও নিজেকে চালাক মনে করা রোগীর গল্প

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

এক.

বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে যে, হিটলার তার জীবনে ৬০ লক্ষাধিক ইহুদিকে হত্যা করেছেন।

ফাঁসি দেওয়ার পূর্বে হিটলারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, "তার শেষ কোনো চাওয়া পাওয়া বা আশা আকাঙ্খা আছে কি না।"

তিনি বললেন, "তার জীবনের শেষ আশা একটাই। তিনি ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।"

সকলেই তার এই কথায় আশ্চর্য্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন যে, "তার এমন ইচ্ছের পেছনের কারণ কী?"

হিটলার সহাস্যে বললেন যে, "আমি মৃত্যুর পূর্বে এটা নিশ্চিত হয়ে যেতে চাই যে, একটু পরেই আরেকজন ইহুদির মৃত্যু হচ্ছে। পৃথিবী থেকে একটা ইহুদি অন্ততঃ হ্রাস পাবে। এতে করে মৃত্যুর পরেও আমি কিছুটা শান্তি পাব।"

দুই.

কোনো এক গ্রামে এক ডাক্তার নতুন করে ডাক্তারি শুরু করেছেন। রীতিমত একেবারে ক্লিনিক খুলে বসেছেন। অল্প দিনেই রোগী পত্তরে গমগম অবস্থা।

তবে তার ক্লিনিকের অদ্ভূত একটা নিয়ম আছে। নিয়মটা হচ্ছে, তার কাছে চিকিৎসা নিতে হলে যে কোনো রোগীকে ৫০০ টাকা দিয়ে সিরিয়াল এন্ট্রি করতে হবে। উক্ত ৫০০ টাকার বিনিময়ে তিনি রোগীর প্রয়োজনীয় সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগ নির্নয় করবেন। কোনো রোগীর রোগ নির্নয়ে ডাক্তার যদি ভুল করে বসেন তাহলে সেই রোগীকে উল্টো নগদ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা বাবদ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন।

এসব নিয়ম কানূন একেবারে বিশালাকারের সাইনবোর্ডে লিখে ঝুলিয়েও দেওয়া হয়েছে, যাতে সবার চোখে পড়ে। ব্যাপকভাবে প্রচার হয়।

পাশের গ্রামের জনৈক লোক, যিনি কি না নিজেকে অতিশয় চালাক ভাবতেন। তিনি এই ক্লিনিকের ১০,০০০ টাকার অফারের খবর শুনেই ভাবলেন রিস্ক একটা নিতেই হবে। ৫০০ টাকা তো! গেলে তো ৫০০ টাকাই যাবে। ১০,০০০ টাকা কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না। যেই চিন্তা সেই কাজ। ছুটলেন সেই ডাক্তারের ক্লিনিকে।

৫০০ টাকা দিয়ে সিরিয়াল নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে বললেন যে, "ডাক্তার সাহেব, আমার কোনো কিছুতেই রুচি নেই। আসল কথা হলো, কোনো কিছুর স্বাদ আমি একেবারেই অনুভব করতে পারি না।" এই কথা বলে চালাক ব্যক্তিটি মনে মনে এই ভেবে কিছুটা হেসেও নিলেন যে, স্বাদ বুঝা না বুঝা সেটা তো একান্তই আমার ব্যাপার। আমি কোনোভাবেই স্বীকারই করবো না যে, আমি স্বাদ অনুভব করতে পারছি। ডাক্তারের ১০,০০০ টাকা আজ নিশ্চিত আমার পকেটে ঢুকে যাবে।

ডাক্তার তাকে অভয় দিয়ে বললেন যে, "ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। ব্যবস্থা আছে। সবকিছুরই ব্যবস্থা থাকে।"

একটু পরে ডাক্তার তাকের উপর থেকে একটি বোতল নামিয়ে এনে সেটির কর্ক খুলে রোগীকে বললেন, "মুখ হা করুন।"

রোগী মুখ হা করলে ডাক্তার তার মুখে সেই বোতল থেকে খানিকটা তরল ঢেলে দিলেন।

সাথে সাথে রোগী চেঁচিয়ে উঠলো- "ডাক্তার সাহেব, আপনি কী দিলেন আমার মুখে? এ তো সাঙ্ঘাতিক বাজে জিনিষ। মারাত্মক ঝাঁঝালো উটকো গন্ধ!"

ডাক্তার বললেন যে, "এটা ছয়মাসের পুরাতন গরুর চনা।"

রোগী বললেন, "ছি! ছি! আপনি আমাকে এমন জিনিষ খাওয়ালেন?"

ডাক্তার বললেন যে, "আপনি যেহেতু কোনো কিছুর স্বাদ আদৌ অনুভবই করতে পারেন না, তাই আপনাকে হাই ডোজটা দিয়েই পরীক্ষা করাতে হয়েছে বলে আমি দুঃখিত! আশা করছি, আপনি এখন বুঝতে পেরেছেন যে, আপনার স্বাদ আস্বাদনের ক্ষমতা পুরোপুরি ঠিক আছে।"

৫০০ টাকা খুইয়ে নিরুপায় হয়ে চালাক লোকটি চলে গেলেন। তবে তার মনের ক্ষোভ কমে না। দিন দিন বরং আরও বাড়তে থাকে। কিছু দিন পরে নতুন একটি ফন্দি আঁটলেন ডাক্তারকে কাবু করতে। ১০,০০০ টাকা এবার আদায় করেই ছাড়বেন। এবার ভাবলেন যে, ডাক্তারকে বলবেন যে, তার কিছুই মনে থাকে না। কারণ, মনে থাকা না থাকার বিষয়টি তো ডাক্তার বুঝার কথা নয়।

যেই চিন্তা সেই কাজ। আবার গেলেন ডাক্তারের ক্লিনিকে। রীতিমত ৫০০ টাকায় আবার টিকেট কেটে গেলেন ডাক্তারের কাছে। বললেন, "ডাক্তার সাহেব, আমার কিছুই মনে থাকে না। সবকিছুই ভুলে যাই।"

ডাক্তার আগেরবারের মতই অভয় দিয়ে বললেন যে, "চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। ব্যবস্থা আছে। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।"

ডাক্তার একটু ভেবে আলমারির সেই আগের স্থানটিতেই হাত দিলেন, যেখান থেকে গত কিছু দিন পূর্বে গরুর চনার বোতল বের করে এনেছিলেন।

রোগী এই দৃশ্য দেখে সাথে সাথে প্রতিবাদ করে উঠলেন, বললেন, "ডাক্তার সাহেব, করছেন কি? সেই একই ওষুধ? সর্বনাশ!"

ডাক্তার বললেন, "আপনি তো দেখছি সবকিছু ভালোই মনে রাখতে পারেন।"

রোগী হেরে গেলেন এ যাত্রায়ও। নিরুপায় হয়ে এবারেও ৫০০ টাকা হারিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন নিজেকে অতিশয় চালাক মনে করা রোগী।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×