somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ধর্ষকের কঠোর শাস্তির বিধান করতে সমস্যাটা কোথায়?

১০ ই মার্চ, ২০২৫ সকাল ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ধর্ষকের কঠোর শাস্তির বিধান করতে সমস্যাটা কোথায়?

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ, যা শুধু ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে না, সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও নষ্ট করে। বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে, কিন্তু এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেন এক অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ষন ও ধর্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান চাইলে সমস্যাটা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা সমাজের বিভিন্ন স্তরের জটিলতা ও দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হই।

সুশীল সমাজের ধর্ষণের কঠোর শাস্তি বিরোধী অবস্থানঃ

সুশীল সমাজ বলতে আমরা সাধারণত শিক্ষিত, সচেতন ও প্রগতিশীল মানুষদের বুঝি, যারা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে অনেক সময় তাদের অবস্থান অস্পষ্ট বা দ্বিধাগ্রস্ত বলে মনে হয়। প্রশ্ন উঠেছে, কেন সুশীল সমাজের একটি অংশ ধর্ষণের কঠোর শাস্তির পক্ষে সোচ্চার নন?

১. আইনের দুর্বলতা ও প্রয়োগের অভাব: বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় বা রাজনৈতিক প্রভাবে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। সুশীল সমাজের একটি অংশ মনে করেন, শুধু কঠোর শাস্তির বিধান করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. সামাজিক কুসংস্কার ও লজ্জার সংস্কৃতি: সমাজে এখনও ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুকে দোষারোপ করার মানসিকতা বিদ্যমান। অনেক সময় সুশীল সমাজের মানুষরাও এই লজ্জার সংস্কৃতির শিকার হন। তারা মনে করেন, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির পরিবার ও সমাজের সম্মান রক্ষার জন্য বিষয়টি চেপে যাওয়াই ভালো। এই মানসিকতা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

৩. ধর্ষণের সংজ্ঞা ও প্রমাণের জটিলতা: আইনগতভাবে ধর্ষণের সংজ্ঞা ও প্রমাণ সংগ্রহ একটি জটিল প্রক্রিয়া। অনেক সময় সুশীল সমাজের মানুষরা এই জটিলতাকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের শাস্তির বিষয়ে দ্বিধান্বিত হন। তারা মনে করেন, ভুল অভিযোগের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধর্ষণের পরিসংখ্যান ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটঃ

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছর হাজার হাজার নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এর মধ্যে অনেক ঘটনাই মিডিয়ায় আসে না, কারণ সমাজের চাপ ও ভয়ে পরিবারগুলো নীরব থাকে।

১. শিশু ধর্ষণ: শিশু ধর্ষণের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের সদস্য বা পরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করা কঠিন, কারণ শিশুরা অনেক সময় ঘটনা বুঝতে পারে না বা ভয়ে কথা বলতে চায় না।

২. নারী নির্যাতন: নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা শুধু ধর্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক অত্যাচারও এর অন্তর্ভুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির শিকার হন, কিন্তু ভয় ও লজ্জায় তারা প্রতিবাদ করতে পারেন না।

ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয়ঃ

ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে শুধু কঠোর শাস্তির বিধানই যথেষ্ট নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও জরুরি।

১. আইনের সঠিক প্রয়োগ: ধর্ষণের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষক যেই হোক না কেন, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।

২. সামাজিক সচেতনতা: ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। নারী ও শিশুদের অধিকার সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করতে হবে। লজ্জার সংস্কৃতিকে ভেঙে ফেলে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে সাহায্য করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

৩. শিক্ষা ও নৈতিকতা: শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নারী ও শিশুদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা শেখানো উচিত।

৪. মিডিয়ার ভূমিকা: মিডিয়াকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে উপযুক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতে হবে এবং সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

শেষের কথাঃ

ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু আইন দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ। সুশীল সমাজকে এই ইস্যুতে আরও সোচ্চার হতে হবে এবং ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু তখনই আমরা একটি নিরাপদ ও ন্যায়বান সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০২৫ সকাল ৯:০৯
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×