somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ওরা এখনও ৭১-এর চেতনা ফেরি করে পার পেতে চায়

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওরা এখনও ৭১-এর চেতনা ফেরি করে পার পেতে চায়

ষোলো বছর ধরে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল, তারা দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের প্রতিটি স্তরকে কলুষিত করেছে। গুম-খুনের রাজনীতি, দমন-পীড়নের শাসন, এবং দুর্নীতির জালে তারা গোটা জাতিকে বন্দি করে রেখেছিল। হাজারো পরিবার আজও তাদের প্রিয়জনের হদিস জানে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যে তরুণদের একসময় স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, তাদের অনেকেই গুলিতে ঝরে গেছে।

এখন, সেই একই গোষ্ঠী আবার মুখে এনেছে ৭১-এর চেতনার বুলি। বের করেছে সেই পুরনো, মলিন পতাকা, যেটির রঙে লেগে আছে লুটের কালি, গুমের ছায়া আর বিদেশে পাচার করা টাকার দাগ। তারা চেঁচাচ্ছে, “রাজাকাররা জিতে গেছে!” বলে।

কিন্তু তাদের ছেলেমানুষি দেখে মানুষ হাসছে। কারণ, রাজাকাররা ১৯৭১ সালে হেরেছিল এদেশের মাটি ও মানুষের কাছে। আর ২০২৪ সালে হেরেছে তাদের প্রকৃত পৃষ্ঠপোষকরা, যারা “জয় বাংলা” বলতে বলতে স্বাধীনতার বিরোধীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছিল; যারা ভুয়া ভোটের আড়ালে নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করে আনন্দে বিভোর হয়েছিল; যারা মুক্তিযোদ্ধার কোটার নামে বাণিজ্য করেছে, যারা জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নিরীহ নির্দোষ মানুষদের খুন করেছে, আর যারা তরুণ প্রজন্মের রক্তে রাজপথ ভিজিয়েছে।

আজ তাদের মিথ্যের পতাকা ছিঁড়ে গেছে, অবৈধভাবে আকড়ে থাকা মসনদ হারিয়েছে, আর মুখে আর্তনাদ ছাড়া কিছুই নেই। তাদের পতন ধ্বনি বাজিয়ে দেওয়া নতুন প্রজন্ম জেগে উঠেছে, যাদের হাতে পুরনো পতাকা নেই, রয়েছে আগুন। তারা রক্ত দিয়ে লিখেছে নতুন ইতিহাস, “যারা ৫৩ বছর ধরে ৭১-এর চেতনা বিক্রি করেছে, তাদের পরিণতি লেখা আছে ৫ আগস্টের রাস্তায়।”

আজ আর কেউ তাদের মিথ্যা চেতনা কিনবে না। ৭১-এর চেতনা এখন কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি শহীদের রক্তে জ্বলন্ত আগুন, যা অন্যায় ও প্রতারণার গলা চেপে ধরেছে।

এখন তাদের জন্য একটাই বার্তা, বাগাড়ম্বর ছেড়ে দাও, মুখ ঢেকে নাও, লজ্জায় মাথা অবনত করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাও। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে শেখো, এই বাংলাদেশ আর কারো বাপের জমিদারি নয়। এই আকাশ, এই মাটি, সবই জনগণের। কোন ফ্যাসিবাদী দানবের পৈত্রিক দান দক্ষিণা নয়।

জয় হোক সেই ছাত্র-জনতার, যারা প্রমাণ করেছে, স্বাধীনতা কোনো দলের নয়, স্বাধীনতা রক্তে লেখা এক চিরন্তন সত্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৩
১৯টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×