somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

বোতলবন্দী ইবলিশ

১৭ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বোতলবন্দী ইবলিশ

ছবি, এআই জেনারেটেড

আগেকার দিনে ভুত-প্রেত ছিলো গ্রামে-গঞ্জে অহরহ। রাত বিরাত বাইরে যেতে ভয় হতো। তখনকার দিনের মত ভুত প্রেতের আনাগোনা এখন আর দেখা যায় না। আমাদের ছোট বেলায় তো দিনেও ঘরের বাইরে যেতে রীতিমত বুক কাঁপতো। শয়তানও ছিল ম্যালা তখন। এখানে ঢিল ছোঁড়ে তো ওখানে ভেংচি কাটে। এর বাড়িতে হানা দেয় তো ওর বাড়িতে ভ্যাজাল সৃষ্টি করে। সন্ধ্যার পরে হাট বাজার থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে বাড়িতে যেতেও ভয় হতো তখন। পথে শয়তান ইলিশ মাছ কেড়ে নিয়ে যায় কি না, সেই ভয়। বুঝুন, শয়তানের উপদ্রব কেমন ভয়ানক পর্যায়ে ছিল। সন্ধ্যার পরে বৈশাখ মাসে নতুন পানিতে ভরে যেত মাঠঘাট। তখন গ্রামে থাকতো উৎসব মুখর পরিবেশ। অনেকেই টর্চ লাইট, লুফা কিংবা হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে হাটু পানিতে মাঠেঘাটে মাছ ধরতে নেমে যেত। সে এক মজার স্মৃতি। রীতিমত মৎস্য ধরার অভিযান। কৈ, শোল, বোয়াল, মাগুর, শিং, বাইম, সরপুটিসহ নানান ধরণের মাছ প্রচুর পাওয়া যেত। আনন্দময় এই মাছ ধরার অভিযানে আমরাও প্রায়ই যেতাম। এক হাতে লাইট অন্য হাতে দাও কাঁচি ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে কুপিয়ে মাছ ধরা হতো।

তখন দেখতাম, মাথার উপর দিয়ে, একেবারে কাছে দিয়ে, একটু পরপর শয়তান উড়ে যেত। একটু আধটু ভয়ও পেতাম। তখন দোয়া কালাম পড়ে নিতাম। এগুলোকে আমরা বলতাম, দিয়া বাতি। মুখের কাছে একটা আগুনের গোল্লার মত থাকতো। এগুলো যখন উড়ে যেত তখন ফস করে একটা আওয়াজ হতো। গ্রামের লোকেরা বলতেন, এরা না কি, মাছ খেকো ভুত। এখন আর এসব দেখার কথা শুনি না। আগে প্রচুর পরিমানে শয়তান বন্দি করার ঘটনাও দেখা যেত। ওঝা, ফকিরেরও অভাব ছিল না। শয়তান যেমন ম্যালা ছিল, ওঝা ফকিরও ছিল প্রচুর। তারা শয়তান দমন করতে বোতলবন্দির এই কাজটা করতো। এখন অতশত শয়তানও দেখা যায় না, আর আগের মত ওঝা, ফকিরের কেরামতিও চলে না। তবে এখনও সামু ব্লগে মাঝেমাঝে ভয়ঙ্কর কিছু ভুত-প্রেতের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। অবশ্য, বেশি বাড়াবাড়ি করলে, এদের উপদ্রব অতি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে, এগুলোও একসময় বোতলবন্দি হয়ে যায়।

বোতলবন্দি শয়তানের ইনিয়েবিনিয়ে কান্নাও কিন্তু সেইরকম উপভোগ করার মত বিষয়। এরা জোরে জোরে শব্দ করে কান্না করে। হাজারও অন্যায় করেও এরা নিজেদের নির্দোষ প্রমান করতে কান্নার ঢেকুর তুলতে থাকে। হেচকির মত দিতে থাকে। সে এক ভয়াবহ পরিবেশ। একসময় জিদ ধরে, মুক্তি না দিলে সব কিছু ভেঙ্গে ফেলারও হুমকি দিতে থাকে। এরে ওরে ঘুষি মারতে চায়। সাংঘাতিক বিশ্রী অবস্থা। কিন্তু সবকিছু করে বোতলের ভেতরে থেকেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৪৮
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×