somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

কুরআনকে রূপকথার গল্প আখ্যায়িত করা ধর্মবিদ্বেষী সাইকোই নাকি সামুর প্রাণ! ছিঃ ছিঃ!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
কুরআনকে রূপকথার গল্প আখ্যায়িত করা ধর্মবিদ্বেষী সাইকোই নাকি সামুর প্রাণ! ছিঃ ছিঃ!

নিউইয়র্কের Sugar Hill State Forest এর ছবিটি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

সম্প্রতি একটি পোস্ট চোখে পড়েছে। বিশাল আবেগপ্রবণ, কান্নাকাটির পোস্ট, কেদে কেটে অস্থির, যেন হেঁচকি উঠছে। পোস্ট জুড়ে মিথ্যা হাউকাউ আর ভুয়ো চারিত্রিক প্রশংসার বিশাল আয়োজন। কথা হলো, ফাউলকে সবসময় ফাউল বলতেই হবে। এই ব্যক্তি সামুর দুর্দিনে ত্রাতা সেজে এসেছেন, বুদ্ধি বিলিয়ে বলছেন যে, বদ্ধ মাতাল ও আহম্মক সাইকোটাকে ফিরিয়ে আনলেই সামুর খরা কেটে যাবে। সাইকোই নাকি সামুর প্রাণ, ধর্মবিদ্বেষী নষ্টই নাকি শ্রেষ্ঠ ব্লগার। ছিঃ ছিঃ, এত লজ্জা রাখি কোথায়!

আমরা প্রত্যেকের লেখার স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। কিন্তু যখন কেউ বারবার সীমা লঙ্ঘন করে, কথায় কথায় অন্যকে অপমান-অপদস্থ করে, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে উসকানিমূলক ও জঘন্য মন্তব্য করে, কুরআনকে রূপকথার বানোয়াট গল্প বলে অট্টহাসি হাসে, নবী-রাসূলগণের নামে বেয়াদবি করে, আরব জাতিকে বেদুইন বলে উপহাস করে, বাংলাদেশের মানুষকে ঢালাওভাবে অসৎ, অশিক্ষিত, প্রশ্নফাঁসকারী, ডোডো, পিগমি, ম্যাঁও-প্যাঁও, লিলিপুটিয়ান, মগজহীন ইত্যাদি বিশেষণে বিদ্রূপ করে বিকৃত রুচির উল্লাসে মেতে ওঠে, তখন করণীয় কী? বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও যিনি অন্যের সম্মান-মর্যাদার তোয়াক্কা না করে যাচ্ছেতাই আচরণ করেন, তাঁর ব্যাপারে মডারেশনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিজ্ঞ ও যথার্থ। এত কান্নাকাটির কোনো কারণ নেই।

তাঁর সেই তেলবাজি-ভরা পোস্টে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র কতিপয় ‘অপব্লগার’ই নাকি এই সাইকোর উদ্ভট মন্তব্যে আপত্তি জানায়। প্রশ্ন হলো, এই ‘অপব্লগার’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে? যে সম্মানিত ব্লগাররা লাগামহীন প্রলাপ, উদ্ভট ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন, তাঁদের? সাধারণ ব্লগারদের এভাবে ‘অপব্লগার’ আখ্যা দেওয়া চরম অশোভন ও আস্পর্ধাপূর্ণ আচরণ নয় কি? আমি এই নির্লজ্জ চামচামিপূর্ণ পোস্টের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে মান্যবর ব্লগ মডারেটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আমার মতে, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো, সবসময়ই ভালো, অনেক অনেক ভালো। পাগলের জন্য ব্লগ নয়, বন-বাদাড়ই উপযুক্ত। আমেরিকায় ট্রাম্পের মতো বিতর্কিত ব্যক্তি থাকলেও দেশটির সাধারণ জনগণের অনেকেই মানবিক। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন। তারা গাছপালা কেটে গোটা দেশটাকে জঙ্গলশূন্য করেননি; নিউইয়র্কের কিছু এলাকায় এখনো বন-জঙ্গলের অস্তিত্ব বিদ্যমান। সুতরাং, টেনশনের কী আছে? উদ্ভট ও বদ্ধমস্তিষ্কের ব্লগ-বিতাড়িতরা সেখানে গিয়ে উল্লাস করতেই পারে, সে অধিকার তাদের পূর্ণমাত্রায়ই রয়েছে বলে মনে করি।

তবে শেষ কথা হলো, শেষের পরেও একটা শেষ থাকে। শত আঘাতের পরেও আমরা চাই না যে, কেউ আবদ্ধ অবস্থায় থাকুক। তবে সে জন্য ব্যক্তির সদিচ্ছাটা প্রথম এবং প্রধানত জরুরি। আমি মনে করি, তাঁকে শেষ সুযোগ হিসেবে আরেকবার ফিরিয়ে আনা যায় কি না, সেটা মাননীয় ব্লগ মডারেটর ইচ্ছে করলে বিবেচনা করে দেখতেই পারেন, তবে অবশ্যই শর্ত হচ্ছে, যদি তিনি নিজেকে শুধরে নেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি তাদেরকে প্রদান করেন। সেটা কেবল তখনই সম্ভব, যখন তিনি ব্লগ মডারেটর ও ব্লগার নির্বিশেষে সকলের কাছে তার অতীতের বারংবারের সীমালঙ্ঘন, ধারাবাহিক ভুলভ্রান্তি এবং গোয়েবলসীয় আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সকলের জন্য শুভকামনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরানকে হারানো পসিবল না

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০

সবাই বলতাছে
-ইরানের কাছে কত মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আছে??
-ইরান কত দিন যুদ্ধ চালাতে পরাবে??
- কে আগে টায়ার্ড হবে???
ট্যাকা কম, অর্থনীতি ভাঙ্গা, মিত্র দেশ নাই, চিকিৎসা নাই...
but..

মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ইন্টারসেপ্টর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬



ইরানের মাটি পানি ও আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ইরানের সমতল ভূমি কম তারপরও ইরানে গম উচ্চ ফলন হয়। ভোজ্য তৈল জাত শষ্য উচ্চ ফলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধোলাই-৭১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



মধ্যপ্রাচ্যে আছি। দেশে ফেরার টিকেট কাটা ছিল ২ তারিখে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধের দামামা।আমি আরবি বুঝিনা। এয়ারপোর্টে কাউকে ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে ''খালাস খালাস'' মাফি মাফি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিলে কাজ হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৩


সম্প্রতি শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জিহাদের' ডাক দেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানানো হলেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

হা হা রিয়্যাক্ট না করে কেউ যাবেন না

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই লোকটা বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ধ্বংস চেয়ে আসছে, তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করার মত ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে আসছে; অথচ যুদ্ধ শুরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×