
সম্প্রতি একটি পোস্ট চোখে পড়েছে। বিশাল আবেগপ্রবণ, কান্নাকাটির পোস্ট, কেদে কেটে অস্থির, যেন হেঁচকি উঠছে। পোস্ট জুড়ে মিথ্যা হাউকাউ আর ভুয়ো চারিত্রিক প্রশংসার বিশাল আয়োজন। কথা হলো, ফাউলকে সবসময় ফাউল বলতেই হবে। এই ব্যক্তি সামুর দুর্দিনে ত্রাতা সেজে এসেছেন, বুদ্ধি বিলিয়ে বলছেন যে, বদ্ধ মাতাল ও আহম্মক সাইকোটাকে ফিরিয়ে আনলেই সামুর খরা কেটে যাবে। সাইকোই নাকি সামুর প্রাণ, ধর্মবিদ্বেষী নষ্টই নাকি শ্রেষ্ঠ ব্লগার। ছিঃ ছিঃ, এত লজ্জা রাখি কোথায়!
আমরা প্রত্যেকের লেখার স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। কিন্তু যখন কেউ বারবার সীমা লঙ্ঘন করে, কথায় কথায় অন্যকে অপমান-অপদস্থ করে, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে উসকানিমূলক ও জঘন্য মন্তব্য করে, কুরআনকে রূপকথার বানোয়াট গল্প বলে অট্টহাসি হাসে, নবী-রাসূলগণের নামে বেয়াদবি করে, আরব জাতিকে বেদুইন বলে উপহাস করে, বাংলাদেশের মানুষকে ঢালাওভাবে অসৎ, অশিক্ষিত, প্রশ্নফাঁসকারী, ডোডো, পিগমি, ম্যাঁও-প্যাঁও, লিলিপুটিয়ান, মগজহীন ইত্যাদি বিশেষণে বিদ্রূপ করে বিকৃত রুচির উল্লাসে মেতে ওঠে, তখন করণীয় কী? বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও যিনি অন্যের সম্মান-মর্যাদার তোয়াক্কা না করে যাচ্ছেতাই আচরণ করেন, তাঁর ব্যাপারে মডারেশনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিজ্ঞ ও যথার্থ। এত কান্নাকাটির কোনো কারণ নেই।
তাঁর সেই তেলবাজি-ভরা পোস্টে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র কতিপয় ‘অপব্লগার’ই নাকি এই সাইকোর উদ্ভট মন্তব্যে আপত্তি জানায়। প্রশ্ন হলো, এই ‘অপব্লগার’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে? যে সম্মানিত ব্লগাররা লাগামহীন প্রলাপ, উদ্ভট ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন, তাঁদের? সাধারণ ব্লগারদের এভাবে ‘অপব্লগার’ আখ্যা দেওয়া চরম অশোভন ও আস্পর্ধাপূর্ণ আচরণ নয় কি? আমি এই নির্লজ্জ চামচামিপূর্ণ পোস্টের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে মান্যবর ব্লগ মডারেটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমার মতে, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো, সবসময়ই ভালো, অনেক অনেক ভালো। পাগলের জন্য ব্লগ নয়, বন-বাদাড়ই উপযুক্ত। আমেরিকায় ট্রাম্পের মতো বিতর্কিত ব্যক্তি থাকলেও দেশটির সাধারণ জনগণের অনেকেই মানবিক। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন। তারা গাছপালা কেটে গোটা দেশটাকে জঙ্গলশূন্য করেননি; নিউইয়র্কের কিছু এলাকায় এখনো বন-জঙ্গলের অস্তিত্ব বিদ্যমান। সুতরাং, টেনশনের কী আছে? উদ্ভট ও বদ্ধমস্তিষ্কের ব্লগ-বিতাড়িতরা সেখানে গিয়ে উল্লাস করতেই পারে, সে অধিকার তাদের পূর্ণমাত্রায়ই রয়েছে বলে মনে করি।
তবে শেষ কথা হলো, শেষের পরেও একটা শেষ থাকে। শত আঘাতের পরেও আমরা চাই না যে, কেউ আবদ্ধ অবস্থায় থাকুক। তবে সে জন্য ব্যক্তির সদিচ্ছাটা প্রথম এবং প্রধানত জরুরি। আমি মনে করি, তাঁকে শেষ সুযোগ হিসেবে আরেকবার ফিরিয়ে আনা যায় কি না, সেটা মাননীয় ব্লগ মডারেটর ইচ্ছে করলে বিবেচনা করে দেখতেই পারেন, তবে অবশ্যই শর্ত হচ্ছে, যদি তিনি নিজেকে শুধরে নেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি তাদেরকে প্রদান করেন। সেটা কেবল তখনই সম্ভব, যখন তিনি ব্লগ মডারেটর ও ব্লগার নির্বিশেষে সকলের কাছে তার অতীতের বারংবারের সীমালঙ্ঘন, ধারাবাহিক ভুলভ্রান্তি এবং গোয়েবলসীয় আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সকলের জন্য শুভকামনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



