somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

উমরাহ পালনের বিস্তারিত নিয়ম-কানুন এবং দোয়া-তাসবিহ

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
উমরাহ পালনের বিস্তারিত নিয়ম-কানুন এবং দোয়া-তাসবিহ

ছবি সংগৃহিত।

উমরাহ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা যেকোনো সময় পালন করা যায় (হজ্জের মাস ব্যতীত)। এটি হজ্জের মতোই পবিত্র কাবা শরীফের জিয়ারত এবং নির্দিষ্ট আমলসমূহ নিয়ে গঠিত। উমরাহ পালনের জন্য শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকা দরকার। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিয়মগুলো মূলত একই, তবে কিছু পার্থক্য রয়েছে (যেমন মহিলাদের ইহরামে সেলাইবিহীন কাপড় না পরা, মুখ-হাত খোলা রাখা)।

উমরার ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, এক উমরা অন্য উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সকল কিছুর কাফফারা। আর মাবরূর হজ্বের একমাত্র প্রতিদান হল জান্নাত। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৭২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৪৯

তালবিয়া পাঠের ফযীলত

সাহল ইবনে সা’দ আসসায়েদী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি যখন তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডানে ও বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যা কিছু আছে যেমন, গাছপালা, মাটি, পাথর সকল কিছু তালবিয়া পাঠ করতে থাকে। -জামে তিরমিযী, হাদীস : ৮২৮; ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৯২১

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মুমিন যখন ইহরামের হালতে দিন কাটাবে তখন সূর্য তার সকল গুনাহ নিয়ে অস্ত যাবে। আর কোনো মুসলিম যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্বের তালবিয়া পাঠ করবে তখন তার ডানে-বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সবকিছু তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। -জমে তিরমিযী, হাদীস : ৮১০; তারগীব, হাদীস : ১৭০৩

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কেউ তালবিয়া পাঠ করবে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। এবং যে কেউ তাকবীর বলবে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাতের সুসংবাদ? উত্তরে নবীজী বললেন, হ্যাঁ। -আলমু’জামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস : ৭৭৭৫; তারগীব, হাদীস : ১৭০৭

মক্কা মুকাররমার ফযীলত

আবদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে হামরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘হাযওয়ারা’ নামক স্থানে ছিলেন তখন তাকে উটের উপর সওয়ার অবস্থায় বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ যমীন। আর আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহর কসম! যদি আমাকে তোমার (বুক) থেকে চলে যেতে বাধ্য না করা হত তাহলে আমি কখনো যেতাম না। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৩১০৮

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ফতহে মক্কার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেন, নিশ্চয়ই আসমান-যমীন সৃষ্টির দিনই আল্লাহ এই যমীনকে হারাম/সম্মানিত করেছেন। সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম ও সম্মানিত। ...। - সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৫৩

মসজিদে হারামে নামায আদায়ের ফযীলত

আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শুধু তিনটি মসজিদের উদ্দেশে সফর করা যাবে : আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী), মসজিদে হারাম ও মসজিদে আকসা। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৯৭

জাবির রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার এই মসজিদে একটি নামায অন্য মসজিদে হাজার নামায থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা, মসজিদে হারামে একটি নামায অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাযের চেয়ে উত্তম।-মুসনাদে আহমদ ৩/৩৯৭

বাইতুল্লাহর তাওয়াফের ফযীলত

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে এবং দুই রাকাত নামায আদায় করে সে একটি গোলাম আযাদ করার ছওয়াব পাবে। - ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৯৫৬

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হচ্ছে নামাযের মতো। তবে এতে তোমরা কথা বলতে পার। সুতরাং এ সময় যে কথা বলবে সে যেন শুধু উত্তম কথাই বলে।-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৯৬০

হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার ফযীলত

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘এই দুটি রোকন (হাজরে আসওয়াদ ও রোকনে ইয়ামানী) স্পর্শ করা গুনাহসমূহকে মুছে দেয়। ’-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৯৫৯

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এই পাথর কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপসি'ত হবে যে, তার দুটি চোখ থাকবে, যা দ্বারা সে দেখবে এবং জিহ্বা থাকবে, যা দ্বারা সে কথা বলবে। সে ঐ ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য দিবে যে তাকে সঠিক পন্থায় ইসতিলাম করে। -ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৯৪৪

সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈর ফযীলত

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়া আল্লাহর দুটি নিদর্শন।... -সূরা বাকারা : ১২৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আর সাফা-মারওয়ায় তোমার সাঈ কর। তা তো ৭০ জন দাস মুক্ত করার সমতুল্য। -বাযযার/কাশফুল আসতার, হাদীস : ১০৮২; ইবনে হিব্বান, হাদীস : ১৮৮৭

উমরাহ পালনের সাধারণ নিয়ম-কানুন:

প্রস্তুতি: উমরাহের নিয়ত করার আগে গোসল করুন (ওয়াজিব নয়, কিন্তু সুন্নত)। পুরুষরা দুই খণ্ড সেলাইবিহীন সাদা কাপড় (ইজার এবং রিদা) পরবেন। মহিলারা সাধারণ পোশাক পরবেন, তবে ইহরামের নিষিদ্ধ জিনিসগুলো এড়িয়ে চলবেন।

ইহরামের নিষিদ্ধতা: ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা কাপড় পরা, সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা, শিকার করা, লড়াই-ঝগড়া, অশ্লীল কথা বলা, বিবাহ করা বা করানো নিষিদ্ধ। পুরুষরা মাথা ঢাকতে পারবেন না, মহিলারা মুখ ঢাকতে পারবেন না (নিকাব নয়)।

উমরাহ -এর ফরজ: উমরাহ -এর ফরজ ২ টি। যথা: ১। ইহরাম বাঁধা এবং ২। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা।

উমরাহ -এর ওয়াজিব: উমরাহ -এর ওয়াজিব ২ টি। যথা: ১। সায়ী করা এবং ২। হালক/কসর। যদি এই ২ টি ওয়াজিবের কোনটি ছুটে যায়, তাহলে দম (কুরবানি) দিতে হয়।

উমরাহ -এর সুন্নত: উমরাহ -এর সুন্নাত আমলগুলো হচ্ছে-
১। ইহরামের পূর্বে: গোসল করা (সুন্নাত), নখ কাটা, বগল ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা (শুধু ইহরাম বাঁধার আগে)।
২। ইহরাম বাঁধার পর: তালবিয়া পাঠ করা (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক)।
৩। তাওয়াফের সময়: হাজরে আসওয়াদকে ইশারা করা, রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা, ইস্তিলাম করা, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করা (পুরুষদের জন্য), প্রতি চক্করের পর দোয়া পড়া।
৪। তাওয়াফের পর: দুই রাকাত নামাজ পড়া (মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে সম্ভব হলে)।
৫। জমজমের পানি পান: জমজমের পানি পান করা।

মিকাত: মক্কার বাইরে থেকে আসলে নির্দিষ্ট মিকাত (যেমন জুল-হুলাইফা, যালামলাম ইত্যাদি) থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। মক্কায় থাকলে মক্কার বাইরে গিয়ে ইহরাম বাঁধুন।

উমরাহ কখন আদায় করা উচিত: হজের মাস ব্যতিত বছরের যে কোন মাসের যে কোন সময় উমরাহ করা যায়, তবে রমজানে উমরাহ করলে বিশেষ সওয়াব।

সতর্কতা: উমরাহ পালনের সময় সঠিক নিয়ত রাখুন, ধৈর্য ধরুন, ভিড়ে সতর্ক থাকুন। মহিলারা মাহবারী অবস্থায় ইহরাম বাঁধতে পারেন, কিন্তু তাওয়াফ করতে পারবেন না (পরে করবেন)।

সমাপ্তি: হালক/কসর করার পর ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া যাবে।

এখন ধাপ ধাপে উমরাহ পালনের বিস্তারিত নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট দোয়া-তাসবিহ দেওয়া হচ্ছে। পড়ার সুবিধা বিবেচনায় দোয়াগুলো আরবির পাশাপাশি বাংলায় উচ্চারণ এবং অর্থসহ উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ইহরাম বাঁধা (মিকাতে), ফরজ

নিয়ম: মিকাতে পৌঁছে গোসল করুন, ইহরামের কাপড় পরুন। ইহরামের নিয়ত করুন। ২ রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়ুন (ওয়াজিব নয়)। তারপর তালবিয়া পড়ে ইহরাম শুরু করুন। ইহরাম অবস্থায় তালবিয়া বারবার পড়ুন, বিশেষ করে অবস্থা পরিবর্তনের সময় (যেমন উঠা-বসা, চলা)।

ইহরামের নিয়তের দোয়া:

আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أُرِيدُ الْعُمْرَةَ فَيَسِّرْهَا لِي وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাহ; ফাইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি উমরাহ পালনের ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য এটি সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন।

তালবিয়া (ইহরামের পর বারবার পড়ুন):

আরবি: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার ডাকে সাড়া দিলাম, আমি সাড়া দিলাম। আপনার কোনো শরীক নেই, আমি সাড়া দিলাম। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ এবং রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরীক নেই।

তাসবিহ (ইহরামে যে কোনো সময় পাঠ করা যায়): সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই), আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)।

২. মসজিদুল হারামে প্রবেশ এবং কাবা দেখা

নিয়ম: মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা দিয়ে প্রবেশ করুন। কাবা দেখলে দোয়া পড়ুন। তারপর তাওয়াফ শুরু করুন।

মসজিদে প্রবেশের দোয়া:

আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বি-ওয়াজহিহিল কারিম ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশশায়তানির রাজিম। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপর দরূদ ও সালাম। আমি আল্লাহর মহানত্ব, তাঁর মহান মুখমণ্ডল এবং চিরন্তন কর্তৃত্বের আশ্রয় নিচ্ছি অভিশপ্ত শয়তান থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।

বাইতুল্লাহ দর্শনের সময় পাঠের দোয়া:

আরবি: اللَّهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَشْرِيفًا وَتَعْظِيمًا وَتَكْرِيمًا وَمَهَابَةً، وَزِدْ مَنْ شَرَّفَهُ وَكَرَّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ أَوْ اعْتَمَرَهُ تَشْرِيفًا وَتَعْظِيمًا وَتَكْرِيمًا وَبِرًّا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা জিদ হাজাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা'জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মাহাবাতান, ওয়া জিদ মান শাররাফাহু ওয়া কাররামাহু মিম্মান হাজ্জাহু আও ই'তামারাহু তাশরিফান ওয়া তা'জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া বিররান।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এই ঘরের (কাবা) সম্মান, মহত্ব, মর্যাদা এবং ভয়-ভক্তি বাড়িয়ে দিন। এবং যারা এটির সম্মান করে এবং মর্যাদা দেয়, যারা হজ্জ বা উমরাহ করে, তাদের সম্মান, মহত্ব, মর্যাদা এবং নেকী বাড়িয়ে দিন।

৩. তাওয়াফ (কাবার চারপাশে ৭ চক্কর), ফরজ

নিয়ম: হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে শুরু করুন, কাঁধ বাম দিকে রেখে ঘুরুন। প্রত্যেক চক্করে হাজরে আসওয়াদ চুমু দিন বা ইশারা করুন। পুরুষরা প্রথম ৩ চক্করে রমল (দ্রুত হাঁটা) করবেন। তাওয়াফের পর ২ রাকাত নামাজ পড়ুন। মাহরাম ছাড়া মহিলারা ভিড় এড়িয়ে তাওয়াফ করুন।

হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ/ চুমু খাওয়ার দোয়া:

আরবি: بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

তাওয়াফের মধ্যে দোয়া (প্রত্যেক চক্করে পড়তে পারেন):

আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনয়া হাসানাতান ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান ওয়া কিনা আজাবান নার।

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।

তাসবিহ: তাওয়াফে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার পড়ুন।

৪. সাই (সাফা-মারওয়ার মধ্যে ৭ বার চলা), ওয়াজিব

নিয়ম: তাওয়াফের পর সাই শুরু করুন। সাফা থেকে শুরু, মারওয়ায় শেষ। পুরুষরা সবুজ আলোর মধ্যে দৌড়াবেন (হারওয়ালা)। মহিলারা স্বাভাবিক হাঁটবেন। প্রত্যেক চক্করে সাফা বা মারওয়ায় উঠে কাবার দিকে মুখ করে দোয়া পড়ুন।

সায়ী শুরুর দোয়া:

আরবি: إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা'আইরিল্লাহি, ফামান হাজ্জাল বাইতা আও ই'তামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আন ইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা, ওয়া মান তাতাওয়া'আ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলিম।

অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরাহ করে, তার জন্য এ দু'টির মধ্যে চলাফেরায় কোনো পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো নেক আমল করে, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ শোকরগুজার এবং সর্বজ্ঞ।

সাফা-মারওয়ায় দোয়া:

আরবি: اللَّهُمَّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতাল আ'আজ্জুল আকরাম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন, আর আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক সম্মানিত।

তাসবিহ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির পড়ুন।

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর, প্রশংসা তাঁর, এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

৫. হালক বা কসর (চুল কাটা বা ছোট করা), ওয়াজিব

নিয়ম: সাই শেষে পুরুষরা মাথা মুন্ডন (হালক) করবেন বা চুল ছোট করবেন (কসর)। মহিলারা চুলের অগ্রভাগ থেকে এক আঙ্গুলের পরিমাণ কাটবেন। এরপর ইহরাম থেকে মুক্তি। যদি কোনো ভুল হয়, তাহলে কাফফারা দিন।

শেষের দোয়া:

আরবি: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَتَمَّ عَلَيْنَا نِعْمَتَهُ وَأَكْمَلَ لَنَا دِينَنَا

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতাম্মা আলাইনা নি'মাতাহু ওয়া আকমালা লানা দিনানা।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের জন্য দীনকে পূর্ণ করেছেন।

উমরাহ পালনের সময় যেকোনো ব্যক্তিগত দোয়া করতে পারেন। উমরাহ পালনের সময় অজু বজায় রাখুন, ভিড়ে সতর্ক থাকুন, এবং নেক আমল করুন। যদি কোনো ভুল হয়, তওবা করুন বা কাফফারা দিন (যেমন কুরবানি)। ইনশাআল্লাহ, এই গাইড অনুসরণ করে আপনি সঠিকভাবে উমরাহ পালন করতে পারবেন। আপনার প্রতিটি নেক দোয়ায় আমাদেরকেও মনে রাখুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন। আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা পেলে শরিয়া আইন চালু না করে দলের নামে ইসলাম রাখা যায় কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫২



সূরাঃ ৪ নিসার ৭৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌশল

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

জামায়াতের আমীরের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে কর্মজীবী নারীর সঙ্গে বেশ্যাবৃত্তির সম্পর্ক টেনে আনা পোস্টটি হ্যাকড হোক বা অ-হ্যাকড—এর রাজনৈতিক প্রভাব মোটেও একমুখী নয়। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, এতে জামায়াতের ক্ষতিই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩২

ধর্ম, রাজনীতি ও “বেহেস্তের টিকিট”: ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।
-----------------------------------------------------------
ধর্ম ও রাজনীতি এক জিনিস নয়, এক পথে চলে না, এবং এক লক্ষ্যেও পৌঁছায় না। ধর্মের ভিত্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও আত্মসংযম। রাজনীতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিমেরিক

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

ধান লাগাতে গিয়ে খোকার একী হল হাল
কাদা জলে হোঁচট খেয়ে চিড়ে গেলো গাল
না পারে আর কইতে
না পারে আর সইতে
টক মিষ্টি যাহাই খাচ্ছে সবই লাগে ঝাল। ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ হবে দেখা নিশ্চয়ই =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০


জম্পেশ খানা শেষে তোরা করিস চায়ের আয়োজন
আজ একত্রে কাটাবো সময় আমরা প্রিয়জন,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে আমরা ক'জন
গল্প আড্ডা আহা সেকি মধুর গুঞ্জরন।

জেনে যাবো কেমন ছিলে, আছো কেমন তোমরা,
কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×