somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত হয়েছেন জনাব "যদি-কিন্তু" সাহেব। এতটাই বিস্ময়কর খবর যে অনেকে চায়ের কাপ হাত থেকে ফেলে দিলেন, আবার অনেকে ভাবলেন এটা নিশ্চয়ই এপ্রিল ফুলের বিলম্বিত মজা। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "ইনি আবার কে?" জবাব এলো, "উনি তো সেই লোক, যিনি দলীয় সভায় সবচেয়ে পেছনের চেয়ারে বসে সবার আগে হাততালি দিতেন, এবং বিরতির সময় সবচেয়ে বেশি সিঙ্গারা খেতেন।"

শোনা যায়, যেদিন তাকে ফোন করে সুখবরটি দেওয়া হলো, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এটা কোনো প্রতারক চক্রের ফোন, এবং প্রায় ফোনটাই কেটে দিচ্ছিলেন। পরে বিশ্বাস হওয়ার পর তিনি নাকি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনবার নিজেকে চিমটি কেটেছিলেন।

যাই হোক, পেছনের চেয়ার থেকে এক লাফে সবচেয়ে সামনের চেয়ারে গিয়ে বসলেন যদি-কিন্তু সাহেব। শপথ নেওয়ার সময় তার মুখে এমন একটা "আমি স্বপ্নে নেই তো" গোছের হাসি লেগেছিল, যা দেখে সামনের সারির অনেকেই পরস্পরের কনুই দিয়ে গুঁতোগুঁতি শুরু করে দিয়েছিলেন।

অতীতের কীর্তি: এক প্রকৃত গোয়েন্দা-বিরোধী গোয়েন্দা

যদি-কিন্তু সাহেবের অতীত ছিল রীতিমতো রঙিন, বলিউডের কোনো টুইস্ট-সমৃদ্ধ সিনেমার মতো। এক সময় তিনি ছিলেন একটি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার বড় কর্তা, যেখানে তার প্রধান দক্ষতা ছিল তদন্তকে এমনভাবে "গভীর" করা যে সেটা মাটির নিচে হারিয়ে যেত। তার বিখ্যাত নীতিবাক্য ছিল, "প্রমাণ না পেলে মামলা বন্ধ, প্রমাণ পেলেও একটু দেখি, তারপর আবার একটু দেখি, তারপর ফাইলটা আলমারিতে রেখে দিই।"

এই নীতির বলে তিনি এমন কিছু বড় মামলা "তদন্ত" করলেন যে বছর দশেক পর ফাইল খুলে দেখা গেল, সবচেয়ে বড় অভিযুক্তদের নামই তালিকায় নেই। যেন কেউ জঙ্গল সাফারিতে গিয়ে হাতি বাদ দিয়ে শুধু পিঁপড়ার ছবি তুলে এনেছেন, আর রিপোর্টে লিখেছেন "জঙ্গলে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।"

দুর্নীতিবিরোধী পদ ছাড়ার পরপরই তিনি আবিষ্কার করলেন, ব্যাংকিং সেক্টর আসলে তার হৃদয়ের ভাষা। একটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যখন একটি ব্যাংক রীতিমতো পকেটে পুরে ফেলল, তখন যদি-কিন্তু সাহেব সেই ব্যাংকের বোর্ডরুমে গিয়ে বসলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের চেয়ারে, ঠিক এসির বাতাস আর জানালার রোদের মাঝামাঝি সেই আদর্শ আসনটিতে। ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা কোথায় গেল, জানতে চাইলে তিনি প্রতিবারই একই কায়দায় কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলতেন, "আমি তো শুধু স্বতন্ত্র পরিচালক, স্বাক্ষর করি, প্রশ্ন করি না।" যেন স্বতন্ত্র পরিচালকের চাকরির বর্ণনাতেই লেখা ছিল, "চোখ বন্ধ রাখা আবশ্যক।"

ঐতিহাসিক ভাষণ: এক রাতের গল্প, তিন রকম ভার্সন

দেশে যখন বিশাল গণঅভ্যুত্থান হলো আর তৎকালীন সরকারপ্রধান রাতের অন্ধকারে হাওয়া হয়ে গেলেন, তখন জাতির সামনে টিভিতে এসে যদি-কিন্তু সাহেব অত্যন্ত গম্ভীর গলায়, প্রায় ঐতিহাসিক ভঙ্গিতে ঘোষণা দিলেন, "তিনি আমার কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, আমি তা গ্রহণ করেছি।" গোটা জাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল, কেউ কেউ আনন্দে মিষ্টিও বিতরণ করে ফেলল।

কিন্তু নাটকের আসল মোচড় এলো কয়েক মাস পর। এক সাংবাদিকের সহজ প্রশ্নের জবাবে তিনি হঠাৎ যেন ভুলে যাওয়া রোগে আক্রান্ত হলেন, "আসলে পদত্যাগপত্র বলতে... মানে... আমি শুনেছি পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু কাগজটা... সেটা ঠিক আমার কাছে নেই।" এই একটি বাক্যে গোটা জাতি এমনভাবে মাথায় হাত দিল, যেন কেউ বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছে বর-কনে সই করেছে ঠিকই, কিন্তু কাবিননামাটা কোথায় গেছে কেউ জানে না।

প্রশ্ন উঠল, তাহলে সেই রাতে টিভিতে যে কাগজ দেখিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিলেন, সেটা কী ছিল, চায়ের রসিদ? এরপর থেকেই সমালোচকরা তার নতুন নামকরণ করলেন "যদি-কিন্তু সাহেব", কারণ তার প্রতিটি বাক্যে একটা "যদি" আর একটা "কিন্তু" এমনভাবে লুকিয়ে থাকত, ঠিক যেমন খিচুড়িতে হঠাৎ একটা আস্ত কাঁচামরিচ পাওয়া যায়, টেরই পাওয়া যায় না কখন কামড় পড়বে, আর পড়লেই চোখে পানি।

আনুগত্যের চূড়ান্ত নমুনা: এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য

একবার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তিনি এমন এক আবেগঘন বক্তব্য দিলেন, যেখানে পতিত সরকারপ্রধানের চরণধূলি পেলে নিজেকে ধন্য মনে করবেন বলে জানালেন। শোনা মাত্র উপস্থিত অতিথিরা এমনভাবে মাথা নিচু করলেন, যেন হঠাৎ সবার জুতার ফিতা একসাথে খুলে গেছে। পেছনের সারি থেকে একজন ফিসফাস করে বলেই ফেললেন, "ইনি কি জানেন না, উনি এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে, কোনো ভক্ত সমিতির সভাপতি নন?" আরেকজন যোগ করলেন, "এত ধুলো নেওয়ার শখ থাকলে তো মাটির ব্যবসা করলেই পারতেন।"

বিদায়বেলা: শেষ যদি, শেষ কিন্তু

তিন বছর তিন মাস পর যখন যদি-কিন্তু সাহেব অবশেষে পদত্যাগ করলেন, তখন তার বিদায়ী বার্তায় ছিল সেই চিরচেনা, প্রায় ট্রেডমার্ক হয়ে যাওয়া ভঙ্গি, "আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য মহৎ ছিল।" গোটা জাতি সমস্বরে বলে উঠল, "যদি-কিন্তু সাহেব, বিদায় বক্তব্যেও যদি-কিন্তু! আপনি সত্যিই শেষ পর্যন্ত নিজের ব্র্যান্ড ধরে রাখলেন, একে বলে আসল প্রফেশনালিজম।"

কেউ কেউ রসিকতা করে বললেন, তার বিদায়ী ভাষণ থেকে যদি আর কিন্তু বাদ দিলে যা থাকে, তা দিয়ে একটা টুইট বার্তাও লেখা যাবে না।

ইতিহাস তাকে মনে রাখবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। তবে ভাষাবিদরা প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে নিশ্চিত করেছেন, বাংলা ভাষায় "যদি" এবং "কিন্তু" শব্দ দুটির সৃজনশীল ও কৌশলগত ব্যবহারের এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় তিনি একাই রচনা করে গেছেন, যা নিয়ে ভবিষ্যতে পিএইচডি থিসিসও লেখা হতে পারে, শিরোনাম: "রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরে শর্তসাপেক্ষ ক্রিয়াপদের প্রয়োগ, একটি কেস স্টাডি।"

বিঃ দ্রঃ এই লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং যেকোনো জীবিত বা প্রয়াত ব্যক্তির সাথে মিল থাকলে তা নিছক কাকতালীয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
-মোঃ মুসা (গাঙচিল)

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
ঘর কাপলের জোড়া শালিক!
শেষ শিশিরের নরম আলো
তোমার মনে মুখটা একটু ধুইতে দেবে?

তুমি আমার নৌকা বিহীন নদী হবে?
বৈঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×