আমাদের দেশের ভ্রমনপিপাসু মানুষগুলোর ভ্রমন নিয়ে অনেক সাধ আহ্লাদ থাকার পরেও একটি বাধার কাছে গিয়ে সবকিছু থমকে যায় আর তা হল অর্থ। অর্থের অভাবে আমরা চাইলেও কোথাও যেতে পারি না। পাই না ভ্রমনের আনন্দ। তার ওপর রয়েছে সম্পূর্ণ নতুন জায়গায় গিয়ে কিভাবে প্ল্যানিং করে ঘুরব কোথায় ঘুরব এসবের গাইডলাইনের অভাব। একজন ক্ষুদ্র এবং অভাবী মানুষ হিসেবে আরেকজন একই ধরণের মানুষকে সাহায্য করার ইচ্ছা নিয়ে লেখাটি লিখলাম। সবাইকে চট্টগ্রামে আসার আমন্ত্রন।
প্রকৃতি সৌন্দর্যের অকৃপণ ছোয়ায় সাজিয়েছে আমাদের চট্টগ্রামকে। যেদিকেই যাবেন গাছপালা এবং পাহাড় একটি নিয়মিত দৃশ্য।
চট্টগ্রাম যদি বাসে যান তবে আপনাকে কর্ণেলহাট/অলংকার/ওয়াসা/দুই নাম্বার গেট/জি ই সি যে কোন স্হানে নামিয়ে দিবে। কর্ণেলহাট এবং অলংকার নামিয়ে দিলে আপনি ভাড়া করবেন ট্যাক্সি। গন্তব্য বলবেন মিমি সুপার মার্কেট। ১৫০-২০০ টাকার ওপর ভাড়া চাইবে না। বরং আরো কম দামে পেয়ে যেতে পারেন। যদি আপনি ট্রেনে আসেন তাহলে একটা রিক্সা নিয়ে নিলেই যথেষ্ট। একই গন্তব্যে (মিমি সুপার মার্কেট) রিক্সা নেবে সর্বোচ্চ ৩০/৪০ টাকা এবং ট্যাক্সি ৬০-১০০ টাকা এর বেশী চাইলে ধৈর্য্য ধরে অন্য ট্যাক্সি গুলো দেখবেন বিশেষ করে চলন্ত খালি ট্যাক্সি বা রিক্সাগুলো। পার্কিং করে রাখা যে কোন বাহন এখানে উচ্চ হারে ভাড়া খুঁজে থাকে |
মিমি সুপার মার্কেটের সামনে আসার পর রাস্তার পাশে যে কোন দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করবেন কারিতাস কোনদিকে। আশা করি পেয়ে যাবেন। ওই হোটেলটিতে ১৫০-৩০০ টাকার মধ্যে মানসম্মত রুম ভাড়ায় পাবেন যা চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন। এইসব রুমে দুজন মোটামুটি ভালভাবেই থাকতে পারবেন। কারিতাস থেকে রাস্তায় নামলেই আশেপাশে অনেক খাবার হোটেল দেখতে পাবেন। যে কোনটিতে গিয়েই পছন্দের খাবার খেয়ে নিতে পারেন। যদি লাঞ্চ কিংবা ডিনার করেন ৬০-৮০ টাকার বেশী আসবে না। নাস্তা করলে ৩০-৪০ টাকায় মুখরোচক খাবার পাবেন। অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করবেন যাতে ভ্রমনটা সুস্হ দেহে উপভোগ করতে পারেন। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আশে পাশে শপিং মল গুলো ঘূরে দেখতে পারেন। কারিতাস থেকে রাস্তায় আসলেই দুটি পাশাপাশি মল দেখতে পাবেন। এই মলগুলোর বিপরীতে ছোট পাহাড়ের ওপর একটা মন্দির আছে। চাইলে ঢু মেরে আসতে পারেন ওখান থেকে
এরপর হোটেলে এসে একটা ঘুম দিন। পরদিন থেকে শুরু করবেন চট্টগ্রাম ভ্রমন।
সকাল ৮ টার ভেতর ঘুম থেকে উঠে যাবার চেষ্টা করুন। ৯ টার ভেতর খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটা ছোট ব্যাগে পানি সেলাইন ক্যামেরা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে নেমে পড়ুন।
প্রথমেই চলুন যাওয়া যাক ডিসি হিলে।
ডিসি হিল
রিক্সা কে ডিসি হিল বললেই হবে। না চিনলে বলবেন বৌদ্ধ মন্দির। সর্বোচ্চ ৪০ টাকা দিয়ে ভাড়া করবেন। ডিসি হিল কি? চট্টগ্রামের যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উত্সব, যেমন পহেলা বৈশাখ পহেলা ফাল্গুন , এসবের প্রাণকেন্দ্র হল ডিসি হিল। প্রায় সময়ই এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে তা উপভোগ করতে পারেন অথবা ঘুরতে পারেন পুরো জায়গাটা। এটি বৃক্ষপ্রেমীদের স্বর্গ কারণ এই স্হানে মনোরম পরিবেশে তৈরি বেশ কিছু নার্সারী রয়েছে। একটি পাহাড়কে ঘিরে পার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং নার্সারি গড়ে উঠেছে এই স্হানে।
এখান থেকে বের হয়ে একটু সামান্য হাটলেই চেরাগী পাহাড় মোড়। কোনদিকে হাঁটবেন চিনতে না পারলে মানুষের সহায়তা নেবেন। চেরাগী পাহাড় মোড়ে দেখবেন একটি অতি সুদৃশ্য মাজার যেটি রাস্তার মাঝখানে।
চেরাগী পাহাড় মোড়
চাইলে সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি তুলে রাখতে পারেন। কথিত আছে এই মাজারটিতে একজন পীর একটি মোম বাতি জ্বালিয়েছিলেন যার প্রজ্জলনে সকল জিন পালিয়ে যায় এবং জংলা চট্টগ্রাম ক্রমেই জনবহুল এলাকায় পরিণত হয়। এরপর চেরাগী মোড় থেকে যে রাস্তাটি নিচের দিকে চলে গেছে সে পথ দিয়ে হাঁটুন। অথবা কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন প্রেসক্লাব কোনদিকে |
কিছুদূর হাঁটলেই রাস্তার বামপাশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগোখচিত একটি বিল্ডিং দেখতে পাবেন। এটিই প্রেসক্লাব। এই ভবনের নিচে রয়েছে বইপ্রেমীদের স্বর্গ।
বাতিঘরের একটি অংশ
জাহাজের আদলে তৈরী করা বাতিঘর নামে একটি বইয়ের দোকান। যেখানে প্রায় যে কোন বিষয়ের বই পাওয়া যায়। এটি দোকান হলেও এখানে বসে আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা বিনামূল্যে বই পড়তে পারবেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্হা, আরামদায়ক শব্দ বিনোদন আপনাকে বই পড়ার পূর্ণ আনন্দ দেবে। এছাড়াও কফি এবং আইসক্রিমের ব্যবস্হা রয়েছে এখানে যদিও তা বিনামূল্যে নয় ! বাতিঘর থেকে বের হয়ে চক্কর দিয়ে আসতে পারেন শহরটা।
মহসিন কলেজের মেইন গেইট। এর বিপরীতেই চট্টগ্রাম কলেজ
বাতিঘর থেকে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়ায় যেতে পারেন চিটাগাং কলেজ। এই কলেজের বিপরীত পাশেই হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ। দুটি কলেজই পাহাড়ের ভেতর মনোরম পরিবেশে তৈরী। যেখানে হাঁটলেই মন ভাল হয়ে যাবে। এখানে ঘোরা হয়ে গেলে এবার একটা রিকশা নিয়ে হোটেলে যাওয়া দরকার। কারণ ইতিমধ্যে দুপুর হয়ে গেছে। ঐ স্হান থেকে রিকশাকে মিমি সুপার মার্কেট বললেই হবে। ৩০ টাকা ভাড়া নেবে।
হোটেলে ফিরে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে ৩ টার আগেই নেমে পড়ুন। একটা রিক্সা নিয়ে চলে আসুন গরীবুল্লাহ শাহ মাজারে। গন্তব্য মাজারের নাম বললেই হবে। রিকশা ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশী নেবে না বরং আরো কমে পেতে পারেন।
এই স্হানে যাবার সময় আশেপাশের পরিবশের আনন্দ নিতে পারেন। যাবার পথে অনেক কিছুই চোখে পড়বে। গরীবুল্লাহ শাহ মাজার চাইলে দেখে আসতে এবং জিয়ারত করতে পারেন, না চাইলে সরাসরি ৪ নম্বর বাসে উঠে যাবেন। মাজারের সামনে দিয়েই এই বাসগুলো যায়। বাসের শেষ গন্তব্যে গিয়ে নামবেন।
যেখানে নামাবে তার নাম ভাটিয়ারী। ভাড়া নেবে ১৩-১৫ টাকা। বাস থেকে ভাটিয়ারী সড়কের দিকে আসবেন। বাস থেকে নামলেই সড়কটি দেখতে পাবেন , সড়কের ওপর বি এম এ লেখা ফলক আছে যার অর্থ বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী।
এই ধরণের পথ ধরে হেঁটে যেতে পারেন
এবার ঐ সড়ক ধরে হাঁটতে থাকবেন। হাঁটতে হাঁটতে অনেক কিছু দেখতে পাবেন। যদি নিতান্তই হাঁটতে না পারেন তবে ওখানে এক ধরণের পিক আপ রয়েছে ওগুলাতে চেপে চলে যেতে পারেন সানসেট পয়েন্ট। ভাড়া নেবে ১০ টাকা। সানসেট পয়েন্ট বললেই নামিয়ে দিবে। নামলেই দেখতে পাবেন উঁচু টিলার ওপর বসার জায়গা। যেখান থেকে সমুদ্র দেখা যায় এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখা যায়। সন্ধ্যার সূর্যাস্ত দেখে যেতে পারেন। সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত আশেপাশের অসাধারণ জায়গা গুলো হেঁটে ঘুরে আসতে পারেন।
এমন দৃশ্য এখানে অহরহ দেখতে পাবেন
ফেরার সময় একইভাবে ঐ পিকআপে চড়ে মেইন রোডে চলে আসবেন। মেইন রোড থেকে ৪ নম্বর বাসে নামবেন লালখান বাজার। বললেই নামিয়ে দিবে।
সেখান থেকে একটা রিকশায় ১০-১৫ টাকায় চলে আসবেন স্টেডিয়াম মেইন গেট। সেখানে নামলেই বেশ কিছু খাবার দোকান দেখতে পাবেন। রয়েল হাট নামে বেশ জনপ্রিয় একটা দোকান এখানে রয়েছে। মোটামুটি ১২০ টাকা বাজেট থাকলে টিক্কা পরটা খেতে পারবেন। আপনার বাজেট আরো বেশী থাকলে আশেপাশে রোদেলা বিকেল, রেড চিলিতে যেতে পারেন। এই দোকানগুলোতে ওয়াই ফাই সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে খাওয়ার সুন্দর পরিবেশ। আপনি যদি মোম বাতির আবছা আলোয় অতি শান্ত পরিবেশে খেতে চান তবে ঐ জায়গা থেকে স্টেডিয়ামের গেট দিয়ে ঢুকে অপর প্রান্তের গেট দিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন "ওহ" নামক খাবার দোকানে। খাওয়া শেষ করে আশেপাশে ঘুরতে পারেন। চট্টগ্রামের নাগরিক জীবন উপভোগ করতে পারেন।
যেখানে আছেন ওখান থেকে মিমি সুপার মার্কেট ৩০ থেকে ৪০ টাকা নিবে। এতক্ষনে হয়ত বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আজকের মত এখানেই শেষ। খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
পরদিন সকালে উঠে খাওয়া দাওয়া শেষে ১০ টার দিকে বের হতে পারেন। একটা রিক্সা নিয়ে চলে যেতে পারেন সি আর বি এলাকায়। সি আর বি বললেই রিকশা চিনবে। ভাড়া পড়বে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
সি আর বি এলাকা
সি আর বি এলাকায় নিজের মত করে ঘুরে বেড়াতে পারেন। পুরো এলাকা ঘুরতে ১ ঘন্টারও বেশী সময় নিবে। কোন একটা দিকে যদি ঢুকতে না দেয় তবে বিকল্প পথ নিজের মেধায় বের করবেন। ছোট ছোট পাহাড়গুলোর সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠবেন। অনেক অদ্ভুত দৃশ্য সেখানে আপনার অপেক্ষায় থাকবে।
এমন অনেক দৃশ্যই দেখবেন সি আর বি পাহাড়ের ওপর থেকে
সি আর বি এলাকা ঘোরা হলে হোটেলে চলে আসতে পারেন।
অথবা শপিংয়ে যেতে চাইলে একটা রিক্সা নিয়ে ২৫ টাকায় চলে যেতে পারেন নিউ মার্কেট। হকার মার্কেট , তামাকুন্ডি লেইন ইত্যাদি এখানে কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত। যে কোন শ্রেণী পেশার মানুষ এখান থেকে কেনাকাটা করে। সেখান থেকে হোটেলে অর্থাত্ মিমি সুপার মার্কেটে ভাড়া পড়বে ৩০/৪০ টাকার মত।
দুপুরের খাওয়া শেষ করে ৩ টার মধ্যে বেরিয়ে পড়ুন। যে কোন দোকানদারকে জিজ্ঞেস করুন CSCR কোনদিকে। CSCR হাসপাতাল থেকে একটু সামনে গেলেই দেখবেন বামদিকে একটা সুন্দর রাস্তা নেমে গিয়ে আবার উঠে গেছে।
ঐ রাস্তা ধরে এগুতে থাকুন। এগুলেই একটু পর বামদিকে দেখবেন অসম্ভব পরিপাটী একটি জায়গা।
ওয়ার সিমেট্রি
এটি একটি সমাধিক্ষেত্র। নাম ওয়ার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ অঞ্চলে নিহত ব্রিটিশ সৈনিকদের এখানে সমাহিত করা হয়েছিল। এই জায়গাটি ছবি তোলার জন্য খুবই আকর্ষনীয়। এছাড়া বিভিন্ন তথ্যে পরিপূর্ণ। জায়গাটি শুক্র ও শনিবার ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ৩ টা থেকে ৫ টা খোলা থাকে। জায়গাটি ঘোরা হয়ে গেলে যেদিক থেকে এসেছেন ওদিকে ব্যাক করবেন। মেইন রোডে আসলেই রিক্সা পাবেন। রিক্সা কে গন্তব্য বলবেন জিইসি । ১৫ টাকা নেবে। চাইলে হেঁটে যেতে পারেন। হাঁটা পথ। জিইসি কোনদিকে বললেই দেখিয়ে দিবে মানুষ
জিইসি থেকে চেপে বসুন ১০ নম্বর বাসে । গন্তব্য আগ্রাবাদ। আগ্রাবাদ বললেই নামিয়ে দিবে বাস। ৮ টাকা ভাড়া নিবে। আগ্রাবাদ যে পাশে বাস নামিয়ে দেবে সে পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা ঢুকে গেছে ওটা ধরে সোজা হাঁটতে থাকবেন। সামনে এগুলেই বাম পাশে দেখবেন জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর।
জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর
এটি বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর। এটি ঘোরা হলে চলে আবার আগের জায়গায় চলে আসবেন। আগ্রাবাদ মোড়ে। সেখান থেকে ১০ নম্বর বাসকে জিজ্ঞাসা করবেন সী বিচ যাবে কিনা। গেলে ওটা তে চেপে বসুন। সীবিচ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া নিতে পারে।
যাবার পথে আশেপাশে চোখ রাখবেন। পথেই পড়বে বন্দর ভবন, কাস্টম হাউস এবং চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার অসাধারণ দৃশ্য। বাসের বাম দিকে বসার চেষ্টা করবেন। গন্তব্যে পৌছে নামলেই বুঝতে পারবেন বীচ কোনদিকে। গিয়ে সাগরের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
সী বিচে আরও বেশি সময় কাটাতে চাইলে আরো আগে বের হবেন। বীচ থেকে সন্ধ্যার আগে আলো থাকতে চলে আসলে ভাল হয় কারণ আমরা আরো একটা জায়গায় যাব। বীচ থেকে একটা রিক্সা নিয়ে চলে যাবেন নেভাল। নেভাল বললেই রিকশা নিয়ে যাবে। ৩০ টাকা ভাড়া নেবে সর্বোচ্চ। এছাড়াও টমটম আছে। ওগুলোতে প্রতিজন ১০ টাকা। নেভাল পৌছুলে দেখতে পাবেন নদীর পাশে লম্বা একটি সড়ক।
এখানে বসে খেঁতে পারেন সুস্বাদু পিয়াজু এবং কাঁকড়া ভাঁজা
নদী ও সাগরের মিতালীও দেখতে পাবেন ঐ জায়গায়। ওখানে ছোট্ট দেয়ালের ওপর বসে নদীর বাতাস উপভোগ করতে পারেন। পিয়াজু এবং কাঁকড়া ভাঁজা খেতে পারেন। ২০ থেকে ৪০ টাকা প্রতি প্লেট। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতে পারেন।
সন্ধ্যায় এমন দৃশ্য দেখবেন নেভালে
এরপর সামনে হাঁটতে থাকলেই এয়ারপোর্টের মোড় দেখতে পাবেন। সেখান থেকে ১০ নম্বর বাস পাবেন। না পেলে যে কোন গাড়িতে সিমেন্ট ক্রসিং অথবা ইপিজেড চলে আসতে পারেন। সেখান থেকে ১০ নম্বর বাসে ২ নম্বর গেট চলে আসবেন। সেখান থেকে মিমি সুপার মার্কেট রিকশায় ১০-১৫ টাকা। এত ঝামেলা না চাইলে নেভাল থেকে সরাসরি মিমি সুপার মার্কেট ট্যাক্সি নিতে পারেন। ভাড়া নেবে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
এবার হোটেলে ফিরে চট্টগ্রামের সুখস্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। ট্যাক্সি কে বি আর টি সি অথবা কর্ণেলহাট বাস স্ট্যান্ড বললেই বাস স্ট্যান্ডে নিয়ে যাবে। ভাড়া পড়বে ১০০ থেকে ১৮০ টাকা। কাছাকাছি বাস স্ট্যান্ডে যেতে চাইলে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার যেতে পারেন। ওখানেও বাস স্ট্যান্ড রয়েছে তবে বেশীরভাগ এসি বাস।
আশা করব চট্টগ্রাম ভ্রমন ভালভাবেই ১৮০০ টাকা দিয়ে হয়ে যাবে। এরপরেও কোন সাহায্য লাগলে https://www.facebook.com/yournavin পেইজে মেসেজ পাঠাবেন। আমি নিজে সাহায্য করার চেষ্টা করব। আপনার এলাকা কোনটি ? আমি যেতে চাই। এভাবে যদি গাইডলাইন দিয়ে দেন যাবার চেষ্টা করব। আবারো চট্টগ্রাম আসার নিমন্ত্রন জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



