somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে বড় হচ্ছি আমরা? এই হিংস্রতা কেন?

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই যে ছেলেগুলোকে দেখতে পাচ্ছেন, তারা এমন করছে কেন ? এই অমানবিক ব্যবহার কেন সমবয়সীর প্রতি? একটু চিন্তা করে দেখুন তো এর জন্য দোষী কারা?

গতকাল একটি ইংরেজি পত্রিকায় ছবি গুলো দেখে নিজেকে নিয়ে ভাবা শুরু করলাম।

আমার বয়স ১৯। সদ্য কিশোর কালের গণ্ডি পেরোলাম।
আমি যদি আমার গত ১৫ বছর বয়সকালের কথা চিন্তা করি কি দেখব? আমার বিনোদনের মাধ্যম কোথায় ? বাংলাদেশের একজন শিশু হিসেবে ৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আমার আমার বিনোদন কি ছিল ?
চলুন দেখে নেই ,
নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী ভর্তি পরীক্ষা নামক বিনোদনে । বর্তমানে তার সাথে পি এস সি বিনোদন যোগ হয়েছে। সাথে প্রাইভেট টিউটর ও কোচিং বিনোদন তো আছে । আরো আছে পারিবারিক কলহ বিনোদন , অভাব বিনোদন। সপ্তম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী গেল গ্রেডিং বিনোদন কী তা বুঝতে বুঝতে। এখন তার সাথে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টারা যোগ করলেন জে এস সি বিনোদন। যার পরপরই শুরু হল বিভাগ বিনোদন। গলায় পড়িয়ে দেয়া হল সাইন্স কমার্স বা আর্টসের মালা। নবমে উঠছি আমার ভাবসাবই আলাদা , পেয়ে গেলাম প্রেম বিনোদন। সাথে ছিল ছ্যাকা বিনোদন ।



জীবন যায় যায় তার মধ্যেই দিলাম এস এস সি বিনোদন। এস এস সির পর দেখলাম কলেজে ভর্তির নামে ভোগান্তি বিনোদন। যার পরেই আসল কোন স্যার বেস্ট স্যার সেইখানে সিট পাওয়ার বিনোদন। এরপর আসল কলেজের রাজনীতি বিনোদন । আরে সে এক ব্যাপক বিনোদন । তার পরেই আসল এইচ এস সি বিনোদন । পরীক্ষার রুটিন থেকেও নাই বিনোদন । যেদিন পরীক্ষা সেইদিনেই হরতাল দেওয়ার এবং প্রিপারেশনের তেরটা বাজার বিনোদন । এবং এর পরেই আসল ভর্তি পরীক্ষা নামক অন্য লেভেলের বিনোদন। অবশেষে ঠাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন ধৈর্য্য বিনোদন উপভোগ করছি।



আচ্ছা বলুন তো এত এত বিনোদনের কথা কেন বললাম? কারণ আমি আসলে জানতে চায় আমাদের বিনোদন নেয়ার সময়টা কোথায় ? এত বিনোদনের ব্যবস্হা যে নীতিনির্ধারকগণ করে রেখেছেন তাদের কাছে জানতে চায় আমরা প্রকৃতপক্ষে কি শিখছি?



যদি আমি ভুল না করি তাহলে বলব প্রতিযোগীতা শিখছি । যেখানে শেখানো হচ্ছে কেউ তোমার বন্ধু না সবাই প্রতিযোগী। আমার মত পাওয়ারফুল স্কুলের ছেলের গায়ে ভুলে ধাক্কা লাগল? কেন লাগবে কেন ভুল করবি? শুরু কর প্রতিযোগীতা। আজ এরা মারল। কাল ওরা প্রতিশোধ নিল ।



যার প্রতিচ্ছবি এই ছবি গুলোতেই আছে। আমাদের বর্তমান সমাজ কিংবা রাষ্ট্র ব্যবস্হায় শিশু কিশোর দের সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়। আমি কি জানতে পারি কেন? কি দোষ আমাদের? আমাদের জন্য কি আছে? কি করেছেন আপনারা? মীনা কার্টুন বানিয়েছেন,সিসিমপুর বানিয়েছেন। বলেন তো সবগুলো মিলে কটা এপিসোড মীনা আর সিসিমপুরের? ১০০? শিশুপার্ক বানিয়েছেন? শিশুপার্কের সংখ্যা কত? আমি চট্টগ্রামে থাকি , এখানে দুটা। সেগুলো এখন প্রেমপার্ক। একটা সময় শিশুপার্কে যেতাম, সারাদিন লাইন ধরলে দুটা রাইড হয়ত চড়তে পারতাম ।



বিনোদনের অপর মাধ্যম হল গান কবিতা।এতক্ষন তো অন্যের ওপর দোষ চাপাইলাম। এখন নিজেদের নিয়ে বলি। আচ্ছা এই সময়কার একজন তরুণের নাম বলেন তো যে শিশুদের নিয়ে গান করে? অথবা ছড়াকার? গল্পকার? খুঁজে পান এমন নতুন কাউকে? অথচ বাথটবে প্রেমিকা কিভাবে গোসল করে এমন বাজে বর্ণনার কবিতার গল্পের কোন অভাব নেই। যা আমরাই লিখছি। তরুণরা ।



এমন কেউ কি আছেন কার্টুন এনিমেশন এসব নিয়ে দেশে বাণিজ্যিকভাবে কিছু করতে চান , যার মূল লক্ষ্য হবে এই শিশুদের কিশোরদের বিনোদন দেয়া? আপনার বাসায় আপনার যে ছোট বোনটি বা ভাইটি আছে তাকে নিয়ে ঈদ ছাড়া কি কোথাও বেড়াতে নিয়ে যান? ঈদে বন্ধুদের সময় দিতে দিতে ওকে কি সময় দেয়া হয়? আচ্ছা তাহলে ওরা করে কি সারাটাদিন? পড়াশোনা প্রতিযোগীতা ছাড়া ওরা করে কি?



ওদের নির্মল আনন্দ নির্মল বিনোদন নিয়ে কি কেউ ভাবছে? না ব্যক্তি না পরিবার না সমাজ না রাষ্ট্র না নীতিনিধারণী নামক নাট্যদল? কে ভাবছে ওদের নিয়ে? ও আজ এসব কেন করছে ? কোথা থেকে শিখছে ও এসব ? ওর মানসিক অবস্হা কতটুকু নিচে নামলে ও ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্হায় এমন হিংস্র আচরণ করে? আমাদের কতটুকু অবহেলার ফসল আজকের এই ছবিটি? এই ছেলেগুলোকে হয়ত ধরে শাস্তি দেয়া হবে । কিন্তু আফসোস আমাদের শাস্তি হবে না কোনদিন। আমরা আমাদের প্রেমিকার বাথটব নিয়ে আর গণতন্ত্র নিয়েই মজা করে জীবন পার করব। আর ধীরে ধীরে এই শিশুগুলোই হয়ে উঠবে জাতির . . ? নিজেরাই উত্তর দেবেন
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ টা হোন্ডা ১০ টা গুন্ডা ইলেকশন ঠান্ডা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৯

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সত্যিকারের ইলেকশন হতে চলেছে। আপনারা সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যান; যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন যিনি সৎ ও যোগ্য তাকেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯



গতকাল রাত ১২ টায় খুব মেজাজ খারাপ হয়েছে।
বাসায় এসে বসেছি মাত্র। আর গলির ভিতর ঢুকেছে মিছিল। ধানের শীষের মিছিল। রাত ১২ টায় কেন মিছিল করতে হবে? ফাজলামোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাল হাদিস ধরার একটি এপ্লিকেশনের আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩২

জাল হাদিস ধরার একটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এপ্লিকেশন বানানোর ছক আঁকার পরে এখন ইনভেস্টর খুঁজছি। দিন কয়েক আগের ঘটনা। সামুতে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, অসুস্থ্য থাকায় আল্লাহর নির্দেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×