যারা ভবিষ্যতে ডাক্তারী পড়তে ইচ্ছুক এবং তাদের অভিভাবক দের প্রতি কিছু উপদেশ :
আমি নিজে একটি প্রাইভেট মেডিকেলে পড়ছি, নিজের কিছু অভিঞতা বটেই এবং সহপাঠীদদের দেখেও অনেক কিছু রোজ শিখছি, শিখেছি।
আমরা যারা প্রাইভেট এ পড়ি, বেশিরভাগ আসি বাবা মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে, এছাড়াও সেচ্ছায় আসা ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ও অনেক। তবু দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেই যায়। যেমন যে বন্ধুটি orientation এ স্টেজ এ দাড়িয়ে মাইকে গল্প বলেছিল, ক্লাস ফাইভে ডক্টর এর কাছে যেয়ে কি করে অনুপ্রানিত হয়েছিল এবং তাই সে কলেজে ভর্তি হয়েছে, দুঃখজনকভাবে সে আজ ডিফল্টার।
ভবিষ্যতে ডাক্তারী পড়তে ইচ্ছুক এমন ছোট ভাইবোনদের কিছু বলতে চাই-
ডাক্তারী এমন একটা পড়াশুনা যেখানে অনেক বেশি দায়িত্বজ্ঞান এর পরীক্ষা দিতে হয়। এটি Sincerity, Seriousness, Punctuality, Determination আর Devotedness এর এক পথ চলা।
#কাজেই যে ছেলেটি খুরধার বুদ্ধি বা স্মৃতিশক্তির বলে মা্ত্র তিনমাসের পরিশ্রমে এস.এস.সি. তে এ+ পেয়েছেন, সে ডাক্তারী পড়তে যেয়ে তীব্র বিপদে পড়তেই পারেন। অর্থাৎ এই শিক্ষায় মেধাবির চাইতেও নিয়মিত ছাত্র হওয়া খুব বেশি জরুরি। দৈনিকভাবে অন্তত তিন চার ঘন্টা পড়ার ধৈর্য না থাকলে আপনি বিপদে পড়বেন। এখানে 'সাপ্তাহিক ছাত্রদের' কোন উজ্জ্বল সম্ভাবনা নাই।
# আপনাকে প্রেশার বা স্ট্রেস নিতে জানতে হবে। কোন কোন রাত যাবে লড়াইয়ের, কোন কোন রাত যাবে টেনশনের, অথবা শুধুই ভয়ের আর হয়তো প্রতি রাত যাবে পরিশ্রমের, এই সমস্ত নেয়ার মন মানসিক এবং শারীরিক শক্তি থাকা চাই।
# যে সন্তানদের পরিবারের প্রতি অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাদের জন্যে পড়ায় পিছিয়ে যাওয়ার ভয় থেকে যায়, অথবা অন্য কারনে -পড়ায় পিছিয়ে পড়ার সংখ্যা প্রায় অর্ধেক এর মত হয়ে দাড়ায়। কাজেই নতুন করে আরম্ভ করবার একটা মানসিকতা সবসময়ই থাকা চাই। positive মানসিকতা অবশ্য জরুরী।
# অনেকেই যারা শৃংখলা মেনে চলতে পারেন না। অথবা অন্য কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হল অলসতা। তারা যদি সকাল ৮.০০ হইতে ২.৩০ টার ক্লাস, মাঝে ১৫-২০ মিনিটের বিরতি -এরুপ সপ্তাহে ৬ দিন এর জীবন পেতে ইচ্ছুক হন, তবে আজ থেকেই জীবন যাপন বদলান।
# অনেকেই শুধু অন্তর্মুখী স্বভাবের কারনেই পিছিয়ে পড়েন। কাজেই নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করতে হবে।
# এ লেখাপড়ায় শ্রদ্ধাবোধ, ব্যক্তিত্ব, রুচি, আচার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী।
যারা ভবিষ্যতে মেডিকাল/ডেন্টালে পড়তে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে এই গুণগুলো থাকা চাই। আর যাদের কোন অভাব আছে তারা আজ থেকেই নিজেকে একটু একটু করে ঢেলে সাজাও। মনে রাখতে হবে রেজাল্ট নির্ভর মেধাবী ছাত্র হলেই ভাল ডাক্তার হওয়া যায়না, study নয় it's all about learning & Knowledge.
এমন নয় মেডিকাল শুধু নেয়, এটি অনেক দেয়ও। যেমন সম্মান, আত্ন বিশ্বাস।
আর অভিভাবকদের বলছি, নিজের ইচ্ছা সন্তানদের উপর চাপিয়ে দেবার আগে একটি বার ভাবুন অথবা সন্তানদের এখন থেকেই একটু করে তৈরী করুন। সরকারী নতুবা প্রাইভেট এ লক্ষ লক্ষ টাকা দেবার সামর্থ্য আপনার যতই থাকুক, কর্ম, ফল এবং লড়াই সবই কিন্তু আপনার সন্তান এর। কাজেই অবুঝের মত চাপ না দিয়ে একটু বুঝে নিন।
আমি জানি না এই লেখাটি ঠিক কতটুকু উপকার করতে পারবে। আশা করি লেখাটি 'মেডিকাল ছাত্র এর আত্নহত্যার' মত দুঃক্ষজনক পরিনতি একটু হলেও প্রতিহত করতে সমর্থ হবে।।
নীলাম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



