সৃষ্টিকর্তা নারীদের আকারগত ভাবে কিছুটা দুর্বল করেছেন। সম্পর্কে যেকোন একজন কে একটু দুর্বল থাকতেই হয়। এক পক্ষ কে সয়ে যেতেই হয়। দুজন সমান তেজী হলে ভাঙন ধরে। আর তাই আজকাল ডিভোর্স এত ঘটে যায়। আমি মনে করি নারীদের আল্লাহ সহ্যশক্তি বেশি দিয়েছেন, দিয়েছেন এডজাস্ট করে নেয়ার একটা বিশেষ ক্ষমতা, তাই নারীরাই বেশিরভাগ সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করে এবং মানিয়ে নিবে আমি তাতেও বিরোধিতা করিনা।
কিন্তু আমি শুধু একটা কথাই বলব, যেসব বাঙালী পুরুষ ভাবেন, নারী বলে নারীদের মন খারাপ, দুঃখ, কষ্টের অনুভূতি অন্যরকম হয়, আর পুরুষদের দুঃখ কষ্ট আর হতাশা 'পুরুষ' বলেই স্পেশাল তাহলে বলব আপনারা ভুল ভাবেন। নারীরা অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং শারীরিক ভাবে দুর্বল হলেও তাদের মাথার মধ্যকার যে অংশ তাদের অনুভূতি নিয়ে কাজ করে, তা কিন্তু অবিকল পুরুষদের মতন। আনফরচুনেটলী মস্তিষ্ক লিঙ্গ ভেদ করতে পারেনা। পারলে পুরুষদের আরও সুবিধা হয়ে যেত। সুতরাং মা, বউ, বোনদের উপর রাগ ঝারবেন, তাদের মানষিক চাপ দিয়ে নিজে একটু হালকাবোধ করবেন ভাল কথা। কিন্তু ভুলে যাবেন না, তারাও মানুষ, তাদের মষ্তিষ্ক ঠিক আপনার মতই ক্রিয়াশীল। অনুভূতিগুলো একই রকমভাবে অনুভূত হয়। দয়া করে একটু দয়া রাখবেন মনে। অফিসের বা সমাজের নানা ঝামেলা আর স্ট্রেস বাসায় এসে তাদের ওপর ঝাড়ার আগে নাহোক, পরেও যদি একটু ভাবেন, যে নিজের স্ট্রেস ঝাড়া হল, কিন্তু এটা কিন্তু ঝাড়া হলনা। আপনি শুধুই পাস করে দিলেন আপনার জন্জালটা। যাকে দিলেন, সে পাস করবে কাকে? একটু এভাবে ভাবলেও আপনার নারীটি হয়তো বুঝবে আপনার কষ্ট আরও ভালভাবে।
এবার শুধুই রক্তের সম্পর্কীয় পরিবারের কথা যদি বলি,
দুঃখজনক ভাবে বাঙালী মায়েরা পুত্র দের ভালবাসার বেশি কিছু করে বসেন। একবাড়ি তে একসাথেই আমৃত্যু থাকার প্রস্তুতি হিসেবে তাদের মনঃক্ষুণ্ণ করে বিরাগভাজন এর কারণ হতে চান না। মায়েরা ন্যায়-অন্যায়ের কনসেপ্ট টা আনক্লিয়ার রেখেই ছেলে সন্তানটি কে কিশোর থেকে যুবক হতে দেন। এটায় যেটা হয়, পুরুষরা ভাবতে শুরু করে, সে যেটা ভাবছে, যেভাবে ভাবছে সেটাই পৃথিবীর শেষ সত্য এবং কখনো তার রাগ চাপতে নেই! সহনশীলতা বা ধৈর্য আবার কি জিনিষ, এটা শুধুই নারীদের ডিপার্টমেন্ট!
হায়রে পুরুষ আপনি মানুষ তো, না? আর আপনার নারীও একজন মানুষ। আপনি যদি আপনার শিট্স এর বস্তা তাকে সময়ে সময়ে পাস করে দিতে পারেন আপনার নারীকে, তার টাও কি নিতে পারা খুব মুশকিল?
দোষটা আপনার ঠিক করে না। আপনার মায়ের। তিনি আপনাকে মানুষ নন, পুরুষ করে বড় করেছেন। আর আপনি যদি আপনার মায়ের আদর শাষণ দুটাই পেয়ে থাকেন, তবুও নারীকে মানুষ আপনার মনে না হয়ে থাকে, তবে দোষটা আপনার মায়ের না হলেও, আপনার বন্ধুর মায়ের। পুরুষরা কিশোরকাল থেকেই একটা আলাদা অনুভূতি নিয়ে জন্মায়, যে সে পুরুষ তার জন্যে সাত খুন মাফ। এই অনুভূতি টা আবার সেসব পরিবারের পুরুষদের কম হয়, যাদের বোন নাই। বেশি হয়, যাদের বোন আছে, আরও বেশি হয় অনেকগুলো বোনের বিপরীতে একাই ভাইওয়ালা পুরুষ। আর অনেক ভাই, অনেক বোনওয়ালা পরিবারে তো রীতিমতন ছেলে মেয়ে আলাদা আলাদা গ্রুপ হয়ে যায়। এসব পরিবারে বোন দলের দায়িত্ব মা-বাবা কে শেষ বয়সে দেখভাল করা। এই দায়িত্বহীনতার শরম, ভাই দলেরা ভাগাভাগি করে শেয়ার করেন। ফলে এড়ানোর মত কমে যায় এক একজনের জন্যে শরমের পরিমাণটা।
হায়রে মা, তোষামদি নয়, ভালবাসা নয়, পাশা পাশি ছেলে সন্তানটিকে ন্যায় অন্যায়ের শিক্ষা দিন। বলুন সবাই মানুষ, তারপর ফারদার ক্লাসিফাই করুন।
(সেই হিন্দি এড এর মত) তাকে বলুন ' আমি পুরুষ, আমি কাঁদিনা। এবং আমি কোন মেয়ের অশ্রুর কারন হইনা।'
তাকে বলুন নারীরা দুর্বল বলেই তাদের বেশি বেশি যত্ন নিতে হবে, আর তাই বলে তাকে মানসিক / শারীরিক অত্যাচার এর সার্টিফিকেট পেয়ে যাওয়া, তা ও না। তাকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডার করার কনসেপ্ট না দিয়ে, বলুন দয়াশীল হতে, এবং সহ্যশীল হতে। মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি দায়িত্বশীল হতে। তাকে বলুন, নিজের জন্যে বাঁচার জন্যে না বেচে থাকতে, অন্যেকে সুখ দেয়া যে অন্যরকম সুখ, তার স্বাদ তাকে ছোটবেলা থেকেই পেতে দিন। টাকার বিত্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে বিত্তশীল হওয়াও যে গুরুত্বপূর্ণ তা শিক্ষা দিন। বিশ্বাস করুন মা, একটা ভাল সন্তানের চাইতে একটা ভাল মানুষ তৈরী করার অনুভূতিগুলো, আপনার নিজেকে আর্টিস্ট হওয়ার সুখ দিবে। একটা ভাল মানুষ, একটা ভাল পুত্র ও বটে।
পরিশেষে নেপলিয়ন বলেছিলেন, আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটা শিক্ষিত জাতি দেব'।
এই শিক্ষা সার্টিফিকেটীয় শিক্ষাই সবসময় নয় বলতেই হয়।
সব কথার এক কথা : 'অন্যায়' শব্দটির ওপর লিঙ্গর প্রভাবমুক্তি ঘটুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



