‘’ওহ ঈশ্বর! স্বর্গসুখের কি এক সম্পূর্ণ মুহুর্তই না ছিল সেটা! কম কী! অন্তত একটা মানুষের সম্পূর্ণ জীবনের জন্য সেটা কম কী!’’
(সাদা রাত; ফিওদর দস্তইয়েফস্কি)
এই দুটি লাইন আমার জীবনের অনেক দিনের সাথী ছিল। এখনও বন্ধুর মতই আছে। দুঃখ কিংবা ব্যার্থতায় এই দুটি লাইনের কথা মনে করে দুঃখ মোচন করার চেষ্টা করি, ব্যার্থতা ঢাকার প্রয়াস চালাই।
এই দুটি লাইনের সাথে কয়েক বছর পার করার পর মনে হল- ‘বাস্তবতার’ নিরিখে বিচার করলে এই লাইন দুটির উপযোগিতা খুবই সামান্য । অথচ এই লাইন দুটি দিয়েই উপন্যাস শেষ হয়েছে। অর্থাৎ বেশ চিন্তা ভাবনা করেই ঔপন্যাসিক লাইন দুটির অবতারণা করেছেন। ‘সাদা রাত’ উপন্যাসের সম্পূর্ণ ভাব লাইন দুটির মধ্যে। লাইন দুটিই উপন্যাসটির প্রাণ।
মূলত উপন্যাসে একজন স্বপ্নচারী যুবকের কথা বলা হয়েছে। যে কিনা অবচেতন মনের কথাগুলোও অবলীলায় বলে। যেগুলো আমরা এড়িয়ে যাই সেগুলোও সে বেশ জোড়ালো ভাষায় বলে। অবশেষে যখন প্রেমিকা হারিয়ে দুঃখে নিপতিত হল তখনও প্রেমিকার সান্নিধ্যের চারটি ‘মুহুর্ত’ নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখল। উপরের বাক্যটি যুবকের মুখ থেকে তখনই বের হয়।
কি অদম্য শক্তি! সমস্ত কষ্ট, সমস্ত দুঃখ একটি বাক্য দিয়ে জয় করে নিল!
আসলে দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে এরূপ বাক্য আবৃতি করা শুধু স্বপ্নচারী ব্যক্তিদের দ্বারাই সম্ভব। অথচ আমরা সকলেই স্বপ্নচারী। কিন্তু ‘বাস্তবতার’ সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সেগুলোকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। অবচেতন মনের কথাগুলো মনের মধ্যেই রেখে দেই।
আমরা স্বপ্নচারী হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবতার অভিনয় করি; তাই লাইন দুটির উপযোগিতা হারানোর পথে......।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



