অবশেষে ধর্ষণের দায় মাথায় নিয়ে পিপড়া মহাশয় জঙ্গল ছাড়লেন।
পিপড়া মহাশয় পরপর কয়েকবার জঙ্গলের অধিপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন; এবার মশা মহাশয়ের নিকট বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর তার জঙ্গলে বসবাস করাটাই দায় হয়ে দাড়িয়েছে। সরকার দলীয় নির্যাতন নিপীড়নে তিনি দিশেহারা। মৌমাছির বাসা কে বা কারা ভেঙ্গেছে, তার দায় পিপড়া মহাশয়ের দলের উপর। হরিণের ঘাস কে বা কারা কেটে নিয়েছে, এর দায়ও তার দলের উপর। কোন ঘটনা অঘটনের মত ঘটলেই সর্বাগ্রে বিরোধী দলের নাম আসে। অর্থাৎ জঙ্গলে যেটাই ঘটে সরকার দলীয় লোক সেটার মধ্যেই বিরোধী দলীয় গন্ধ পায়। আর সরকার দলীয় কতকগুলো সংবাদ মাধ্যম তো আছেই। তিলকে তাল বানিয়ে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়। এই জঙ্গলে ‘হুজুগে’ সম্প্রদায়েরও অভাব নেই। কোন ইস্যুর দেখা মিললেই হল; সত্য-মিথ্যা যাচাই করার সময় তাদের নেই।
তবে এবারের বিষয় ভিন্ন। হাতি মহাশয়ের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে, এই খবর পাড়ার সকলে জানে, অথচ হাতি মহাশয় মিডিয়ার তা সামনে অস্বীকার করে বসলেন। এটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে পিপড়া মহাশয়ের জন্য। কেননা হাতি মহাশয় বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী এমপি। তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার মত সাহস বিরোধী দলীয় নেতা পিপড়া মহাশয় ছাড়া আর কার আছে!
মিডিয়ায় খবর রটে গেল। এর দায় পিপড়া মহাশয়ের উপর পড়ল। গোটা জঙ্গলে পিপড়া মহাশয়কে নির্বাসন করার আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। মানবাধিকার কর্মীরা মানববন্ধন করতে লাগল। নারী অধিকার কর্মীরা রাস্তায় নেমে সরকারের নিকট এর বিচার দাবী করল। বিশেষজ্ঞগণ পত্রিকায় কলাম লেখা শুরু করল। বুদ্ধিজীবীরা টিভিতে টকশো শুরু করে দিল। গল্পকার এই বিষয় নিয়ে বেশ রসালো গল্প প্রকাশ করতে লাগল। আর মানুষের মুখে মুখে ‘ছোট্ট কাহিনী’ কাহিনীময় হয়ে উঠল।
হাতি মহাশয় বেশ বিপাকে পড়লেন। তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হুমকীর মুখে। তিনি যতই বিষয়টা চাপা দিতে চাচ্ছেন; ততই রসালো হয়ে বিষয়টা লোকমুখে ও মিডিয়ায় প্রচারিত হতে লাগল।
কোন উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি তার নেতা মশা মহাশয়ের নিকট আসলেন। বললেন-‘জঙ্গল নেত্রী! আপনি বিষয়টা চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করুন’। আমার ও আমার স্ত্রীর সম্মান আজ হুমকির মুখে’।
নেত্রী বললেন-‘আমি কি করব? মিডিয়ায় রটে গিয়েছে’।
‘খবরটি যে সম্পূর্ণ মিথ্যা!’
‘প্রথম পাতায় মিথ্যা খবর ছেপেছে?
‘হ্যাঁ। সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর ছেপেছে। আমিই আমার স্ত্রীকে গর্ভবতী করেছি’।
‘তাহলে আগে অস্বীকার করলে কেন?
‘আমার স্মরণে ছিলনা। ব্যাস্ততায় তার খোঁজখবর নেয়ার সময় পাইনি। তাই বিষয়টি তখন আমার জানা ছিল না’।
‘মনে কর তোমার এখনও জানা নেই’।
নেত্রীর কথায় হাতি মহাশয় বিস্মিত হয়ে গেলেন। তিনি বললেন- মানে?
নেত্রী লিপিস্টিক মাখা মুখে ঈষৎ হাসি দিয়ে বললেন, ‘পিপড়াকে তাড়ানোর এবার একটি মওকা পাওয়া গেছে। এজন্য তোমার সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন’।
‘কিন্তু আমি কেন বলির পাঠা হব?
‘এরকম সুযোগ আর পাবো কিনা......! তাই এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনা। শোন, তোমাকে এবার মন্ত্রিত্ব দিব। তুমি চুপ করে থাকো’।
‘কিন্তু এটা যে আমার স্ত্রীর সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন............।
‘আগে তাকে জঙ্গল ছাড়া করি তারপর সব অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিব। তখন তোমার স্ত্রীর কথা কেউ মনেও করবে না’।
হাতি মহাশয় কোনভাবেই নেত্রীর সাথে পেরে উঠতে পারছেন না। অনেকক্ষণ চিন্তা করে বললেন-‘আপনি নারী হয়েও আপনার দলের একজন নেতার স্ত্রীকে কলঙ্কিত.....................।
‘শোন, তাকে জঙ্গল থেকে বিতাড়িত করে বিরোধীদল কঠোর হস্তে দমন করার পর নারী জাতির বহুবিধ কল্যাণ করতে পারব’।
হাতি মহাশয় মশা নেত্রীর কথা অবনত চিত্তে মেনে নিয়ে বাড়ি গিয়ে ছুটি কাটাতে লাগলেন। আর নিন্দুকের বহুবিধ কথায় জঙ্গল মুখরিত হতে লাগল।
এবং অবশেষে পিপড়া মহাশয়.................................।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



