কুরবানী-মৃত পশুর রক্তের বহমান স্রোত দেখে উল্লাসের নাম নয়। কুরবানী-একটি জীবন্ত জীবের পতন ঘটানোর নাম নয়। কুরবানী-রক্তের হেলিখেলার মধ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশের নাম নয়। কুরবানী হচ্ছে-মহান আল্লাহর একটি হুকুমের নাম, একটি আদেশের নাম, একটি নির্দেশের নাম।
কুরবানী একটি আনন্দের নাম-মহান আল্লাহর হুকুম সুন্দরভাবে পালন করা ও নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হিসেবে প্রকাশ করা; আনন্দ এজন্যই। আবার কুরবানী একটি বেদনার নাম-মাহান আল্লাহর রাহে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সঁপে দেয়ার নিমিত্তে প্রিয় পশুটাকে কুরবানী করা; বেদনা এজন্যই।
আনন্দ-বেদনার মাঝামাঝি কুরবানীর অবস্থান। আর সেটাই হচ্ছে প্রকৃত কুরবানী। ধনী-গরিব, পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলে কুরবানির পশু ভাগাভাগি করে আনন্দ উৎযাপনের পাশাপাশি কুরবানীর পশুর প্রতি একটু সমবেদনা থাকা উচিত। একটু দুঃখবোধ থাকা উচিত। আর ‘সমবেদনা’ প্রকাশ পাবে যখন আমরা কুরবানির পশু জবাইয়ের প্রাক্কালে হুড়োহুড়ি না করে শান্ত-শিষ্ঠভাবে আল্লাহর হুকুম স্মরণ করে জবাই করব। কুরবানীর পশুটিকে জবাইয়ের পূর্বে টানাহেঁচড়া না করে স্বাভাবিকভাবে যথাসম্ভব অল্প ব্যথার মাধ্যমে জবাইয়ের কাজ সম্পন্ন করব।
কুরবানীর পশু আমাদের শত্রু নয়; অতএব পশু জবাইয়ের সময় কিংবা পরে উল্লাস প্রকাশ করার মধ্যে কোন মানবতা নেই, কোন সার্থকতা নেই। মনে রাখা উচিত; কুরবানী হচ্ছে ‘প্রত্যেক ব্যাক্তির পুত্রের বদলা’। কেননা কুরবানীর শুরু হয়েছিল সেভাবেই। হযরত ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে জান্নাতী দুম্বা কুরবানী হয়েছিল। আর সেই কুরবানী ছিল-হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কর্তৃক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হযরত ইসমাইল (আঃ) এর বদলা। যেহেতু আমাদের হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর মত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মত সাহস ও ক্ষমতা নেই, তাই আমাদের জন্য এই সহজ ব্যবস্থা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



