somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

১৩ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টিভিতে বহুদিন পর একটা ভালো বিজ্ঞাপন দেখলাম।
ফ্রেশ পানির বিজ্ঞাপন।
ট্রেনে করে যাচ্ছে দুটি পরিবার। একটা মুসলিম পরিবার ও একটা হিন্দু পরিবার। যেহেতু রমযান, সেহেতু মুসলিম পরিবারটি রোযাদার ছিল এবং ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসতেই তারা চলন্ত ট্রেনেই ইফতারের আয়োজন করতে ছিল। ইফতারির আইটেমে জিলেপি দেখে হিন্দু পরিবারের একটা বাচ্চা ছেলে একটু আকাঙ্খিত হলো,কিন্তু পরিবারের বাধা সত্ত্বে যে চুপ হয়ে গেল। ওদিকে মুসলিম পরিবারটি ইফতারের আয়োজন আনন্দে মত্ত,এদিকে হিন্দু পরিবারটি চুপচাপ নীরবে বসে রইলো।
ইফতারের ঠিক আগে মূহুর্তে মুসলিম পরিবারটির এক মহিলা সদস্য হিন্দু পরিবারটিকে ইফতারে যোগ দিতে আমন্ত্রন জানিয়েছিল এবং খুব আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে হিন্দু পরিবারটি যোগ দিল। বিজ্ঞাপনের শেষ মূহুর্তে দু সেকেন্ডে হিন্দু ছেলেটির জিলেপি হাতে সেই দৃশ্যটি এতো ভালো লাগল প্রকাশ করার ভাষা জানা নেই। বৈষম্য ও রক্তারক্তির সমাজে যেখানে ধর্মের অপতৎপরতা ও সাম্প্রদায়িকতার শিকড় শক্ত,সেখানে দেড় মিনিটের বিজ্ঞাপনটি মনে করিয়ে দেয় মানবতা,ভালোবাসা,অসাম্প্রদায়িকতা,সম্প্রীতির কথা।আমরা চাইলে ধর্মবৈষম্যের ব্যাপারটি ভুলে একজন মানুষ হিসেবে সবার সাথে সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে পারি। মানব সভ্যতার বিকাশে পারস্পরিক সম্পর্কের সুদৃঢ় মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
যে সমাজে কিংবা সংস্কৃতিতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতর মেলবন্ধন ঘটাতে পারে সেটা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষের সমাজ হতে পারে না, সেটা হতে পারে পাশবিক একটা ক্ষেত্র।
আজকাল সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মূল্যবোধ যেমন মুছে যাচ্ছে ঠিক তেমনি ঘুচে যাচ্ছে সব বিভেদের বেড়াজাল ভেঙে গড়ে তোলা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।
আমরা আগের চেয়েও সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে নড়বড়ে আছি।
বৈষম্য যেন আমাদের উপজীব্য।
বৃটিশদের শিখিয়ে দেওয়া হিন্দু মুসলমানদের বিভেদের কায়দাকানুন আমরা মুখস্থ করে চর্চা করছি।
র‍্যাডক্লিফ সাহেবের সীমানা ভাগের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে অন্তর।
একভাগে রয়েছে স্বজাতির প্রতি মেকি কান্না, আর অন্যভাগে অন্য ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর প্রতি চরম ঘৃণা।
যার ধর্ম সে পালন করবে, যার মত সে প্রকাশ করবে, তবে কারো প্রতি কেউ বিদ্বেষ ছড়িয়ে নয়, দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে নয়।
পত্রিকার পাতা খুললেই এপার বাংলায় সংখ্যালঘুর প্রতি অনাচার ও অনলাইনে দেখি গোরক্ষকদের সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি অনাচার ও ব্রাক্ষ্মণ সমাজ কর্তৃক দলিত হিন্দুদের সামাজিক ও গোঁড়ামিপূর্ণ নিষ্পেষণ।
এসব দেখে দেখে আমাদের মধ্যে একটা বিশাল বিদ্বেষ সৃষ্টি হচ্ছে।
কোন ধর্মই বলে নাই যে ও ঐরকম, ওকে জোকের মত চুষে খাও।
যদিও কোন বিড়াল তপস্বী সেটা ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে তবে সেটা নিজের স্বার্থে অপব্যাখ্যা।
আমরা দেড় মিনিটের বিজ্ঞাপন থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি ও বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারি।
সুন্দরীদের নজরকাড়া বিজ্ঞাপনের রোশনাই ভুলে আসুন দীক্ষিত হই মানবতার অনুশীলনে, স্বপ্ন দেখি বৈষম্যহীন সমাজের।
আমরা আরো দশ বছর পাঁচ বছর আগে যে ভালোটা দেখেছিলাম, তাও আজ ফুরিয়ে গেছে।
আমরা অতীতও নয়, বর্তমানও নয়, নতুন করে ভালো একটা পরিবেশ গড়তে চাই।
হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কিংবা অভিজাত নিম্মজাত, শিক্ষিত অশিক্ষিত, কালো ধলো, পুঁজিপতি শ্রমিকশ্রেণীর বৈষম্যের বাঁধ ভেঙে ভালোবাসার জোয়ারে প্লাবন হোক প্রতিটি জনপদ।
অতি ধার্মিক কেউ ভুল বুঝবেন না,
আমরা একদিকে যেমন ধর্মানুসারী আরেকদিকে মানবতাবাদী।
ধর্মের আরেক নাম মানবতা ও মানবকল্যাণ।
শুভকামনা।

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপির মূল্যায়নে বঙ্গবন্ধু কিংবা আওয়ামিলীগের অবদান শূণ্য। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবদান জামাতের॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৬



বিএনপি করার পূর্ব শর্ত কি? ইতিহাস বিচারে দেখা যায়, পার্ক মার্কিন প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মিথ্যুক হতে হবে। আর সাথে রাজাকার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হলে তো কথাই নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২১

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?



জাতিসংঘে বিশ্বের সকল দেশের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান হয়ে গেল ।
সেখানে শাসক, স্বৈর-শাসক ও গনতন্ত্রর বক্ততারা এক হয়েছিলেন । কিন্ত কোন ভালো সিদ্বান্ত
নিতে পেরেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×