somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“আমার নাম... অতঃপর ডিসকানেট”

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ভোর ৬:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“আমার নাম... অতঃপর ডিসকানেট”
লিখাঃ- রাজু দাস
Creadit :- Apurbo Chowdhury
.
ইদানীং আমার একটুও ভাল্লাগছে না। ফারহান, মিসবাহ কাউকেই এখন আর পাওয়া যায় না। সবাই ভীষণ ব্যস্ত। এই কিছুদিন আগেও আমরা তিনজন একসাথে ঘুরতাম। বিকেলটা কাটতো এলাকার মানুষদের সাথে আড্ডা দিয়ে আর হরি কাকুর গরম চা খেয়ে ভালোই কাটতো। হটাৎ করেই ফারহান আর মিসবাহ সিলেট চলে যায়। ওদের আর কাউকেই পাওয়া যায় না। যার যার মতো ব্যস্ত হয়ে গেল। পরে রইলাম আমি অপূর্ব। আমি কিছুই করিনা। না করি প্রেম আর না করি টিউশনি। আমার আরেক ফ্রেন্ড বিজয়। ও ও একটা টিউশনি পেল। তাই সে ও ব্যস্ত থাকে। আমার সাথে দেখা হয় না। আমার একা সময় কাটে না। পেপার পড়ে, মোবাইল টিপে আর কতক্ষণ বা সময় কাটানো যায়। আগের কথা মনে হলো এখন আমার মনে হয় “এই এলো, এই গেলো”। কেন জানি এখন মনে হয় কেউ জীবনটাকে চুইংগামের মতো লম্বা করে দিলো।
.
হটাৎ বিজয়ের আগমন।
কিরে কি করিস। চল ঘুরে আসি।
তুই এই সময়। কোথা থেকে আসলি বিজয়। আজ তোর টিউশনি নেই?
নারে। ছাত্রের পেট খারাপ। তাই ওর ও ছুটি, আমারও ছুটি। তোর রুমমেট কোথায়?
কে? ওহ সজীব। ঐ ব্যাটা তো হুজুর টাইপের পোলা। কোথায় আর যাবে। হয়তো মসজিদে গেছে।
ওহ। চল দোস্ত মোগলাই খেয়ে আসি।
বিল তুই দিবি নাকি আমি?
আমিই দিব, চল।
কিরে লটারি পেয়েছিস নাকি। মোগলাই চলবে না। চল স্যুপ খেয়ে আসি।
এত বগর বগর করতাছোস ক্যা? ধ্যাত শালা তোর যাওয়া লাগবো না।
আমি ভয় পেলাম। আমার মোগলাই আর স্যুপ গেল বলে। বললাম, নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। চল মোগলাই খাব। তাইনা রে। তুই যা বলবি তাই খাব।
কি? ওহ হ্যাঁ.. বিজয়ের চেহারায় তৃপ্তিকর প্রত্যাশিত এক অনুভূতি।
একটু পর আমি আর বিজয় রিকশা তে উঠলাম। গন্তব্য কোনো ভালো হোটেল। ব্যস্ত শহরে যে যার মতো ছোটাছুটি করছে। রিকশার পিছনে রিকশা, গাড়ির পিছনে গাড়ি, পুরুষের পিছন নারী, নারীর পিছন পুরুষ। শুধুই ছোটাছুটি। আমি হঠাৎ বিজয় কে প্রশ্ন করলাম, দেখতো দোস্ত মেয়েটা হেব্বি সুন্দর না। (বিপরীত দিক থেকে রিকশা করে এক সুন্দরী মেয়ে আসছে।)। বিজয় দূর থেকে দেখেই বললো, হো রে সুন্দরী। বিজয় দূর থেকে না দেখেই এই মন্তব্য করলো, কিন্তু মেয়েটা যখন কাছে আসলো তখন বিজয় থমকে গেল। বললো –
-দোস্ত আর কথা বলিস না রে।
- কেন?
- আরে ব্যাটা এই মেয়েটা আমার ছাত্রের বড় বোন।
- ওহ তাই নাকি? তা ওর সাথে কিছু হয় নাকি মামা?
- দূর শালা। ওর সাথে আমার কথাই হয় না।
- বাদ দে। বল, কিসে পড়ে মেয়েটা?
- ক্লাস মানে? আমগো চাইতে দুই বছরের ছোট হইব। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।
(বিজয় একটু থেমে আবার বলে উঠলো) জানোস মামা, একবার এই মেয়েটারে নিয়ে এক মজার ঘটনা হয়েছে।
কি বলতো।
একদিন আমি আমার ছাত্র কে আমি পড়াচ্ছিলাম। ওকে পড়াই ওদের ড্রয়িং রুমে। ঐ মেয়েটা আশেপাশে ঘুরঘুর করছিল। আমি ট্যাঁরাই ট্যারাইয়া দেখতেছিলাম। হটাৎ শুনি ও বললো, স্লামালাইকুম। আমি তাড়াতাড়ি করে উত্তর দিলাম “ওয়ালাইকুম আসসালাম”। এরপর ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি ঐ মেয়েটা আমাকে সালাম দেয়নি। মোবাইলে অন্য কাউরে সালাম দিছিলো। কি যে বলি তোকে, আমার যে তখন কি লজ্জা লাগছে। ছাত্রের দিকে তাকিয়ে দেখি শয়তানটা আমাকে দেখে হাসতেছে।
হাহাহাহাহাহা। আমি কিছুতেই হাসি থামাতে পারছিলাম না। তারপর বললাম, দোস্ত তাইলে তো টিউশনি করে অনেক মজা তাইনা রে। তবে আমার মতে ছাত্রের চাইতে ছাত্রী পড়াইতে অনেক ভালো।
হো অনেক ভালো তো লাগবই। যদি লাইগগা যায়, তাইলেতো রাজকন্যা প্লাস রাজত্ব।

হঠাত কে যেন বলে উঠলো, ঐ অপু কল ধর! ঐ অপু কল ধর! আমি তাড়াতাড়ি করে কল ধরলাম। বিজয় অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, এইটা আবার কেমন টোন?
-এক্সক্লুসিভ টোন! দাঁড়া কলটা ধইরা নেই। আমি রিসিভ করলাম, হ্যাঁ ভাই বলেন... ওহ আচ্ছা ঠিক আছে। আমি এখনি আসছি। কলটা রেখে দিয়ে বললাম, দোস্ত স্বাধীন ভাই কল দিছে। এখনি যেতে বলছে। চল যাই।
.
বসে আছি ড্রয়িংরুমে। শীতকাল বলে ফ্যান ঘুরছিল না। রুমের একপাশের সোফায় আমরা বসে আমি বিজয় আর বিজয় এবং অন্যপাশে স্বাধীন ভাই। স্বাধীন ভাই বললেন, এটা আমার বোনের বাড়ি। এখানে পড়ানোর কথাই তোমাকে বলেছিলাম। তোমাকে একজন স্টুডেন্টকে পড়াতে হবে। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। মেয়েটা কিন্তু একটু চঞ্ছল প্রকৃতির। তোমাকে ধৈর্য সহকারে যত্ন করে পড়াতে হবে। পারবে তো?
-জ্বী ভাইয়া পারব।
- আচ্ছা তোমরা একটু বস। আমি একটু আসছি।
স্বাধীন ভাই অন্যরুমের যাওয়ার সাথে সাথেই বিজয় বলে উঠলো,
-দোস্ত, স্টুডেন্টটা পোলা নাকি মাইয়া?
- জানিনা তো। পোলাই হবে হয়তো। মেয়ে স্টুডেন্ট কি আমার ভাগ্যে আছে। এই বলে আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।
ভিতর থেকে একজন মেয়ের উঁকিঝুঁকি মারতে দেখে বিজয় বললো, এই হয়তো তোর স্টুডেন্ট।
- হবে হয়তো।
একটু পর সব জল্পনার-কল্পনার অবসান ঘটলো। স্বাধীন ভাই বললেন, এই হলো তোমার স্টুডেন্ট।
-ওহ আচ্ছা। তা তোমার নাম কি? (আমি)
- অরু-ণিমা “অরুণিমা” (মেয়েটা)
(মনে মনে বললাম এভাবে বলার কি ছিলো)
.
কয়েকদিনের মধ্যেই আমার ছাত্রী পড়ানোর সাধ মিটে গেল। ছাত্রী তো আমার কোনো কথাই শুনতে চায়না। আমি যদি বলি ডানে, ও বলে বাঁয়ে। যদি বলি, এটা লিখো, ও বলে না স্যার পড়ি। আমি কয়েকবার ওর পরিক্ষাও নিতে চেয়েছি। কিন্তু পারিনি। পারবো কি করে? যে মেয়ে কথা শুনে না। পড়তে চায় না। একটা বললে আরেকটা করে। তাঁর কাছে তো পরিক্ষা দেওয়াটা ফোর্থ সাব্জেক্টের মতো গুরুত্বহীন!
একদিন পড়ার সময় আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা অরুণিমা তোমার কোনো সাব্জেক্ট পড়তে বেশি ভালো লাগে?
-স্যার আমার কিছুই পড়তে ভাল্লাগেনা।
- কেন?
- জানিনা স্যার।
- আচ্ছা তুমি কি আমার পড়ানো বুঝো না?
- বুঝি স্যার।
- তাহলে পড় না কেন?
- বললাম না স্যার, ভালো লাগে না তাই।
- তাহলে কি করা যায় বলোতো?
- জানিনা স্যার।
- আচ্ছা তুমি সারাদিন কি কর?
- কি করি মানে?
- মানে পড়াশোনা করো না। তো সময় কাটাও কি করে।
- কিছু করিনা স্যার।
- ভারি সমস্যার পড়লাম তো! আচ্ছা আমার কি করতে হবে বলো? তোমার সাথে কি করলে তুমি পড়বে? তুমি যা বলবে আমি তাই করব।
- না না স্যার। আমার সাথে আপনার কিছুই করতে হবে না।
- তোমার মামা কে জানাতে হবে।
এই বলে পড়া বাদ দিলাম ঐদিনের মতো।
ঘড়িতে এখন রাত সাড়ে বারোটা। আজ বেশ শীত পড়েছে। রুমে ভালো লাগছে না তাই বাহিরে গেলাম। তেমন কুয়াশা ও পড়ে নি। তাই রুমে চলে আসলাম। এসময় সারাক্ষণই লেপের মধ্যে ডুকে থাকতে ইচ্ছে করে। আমি লেপের নিচে শুয়ে পড়ালাম। আমার রুমমেট সজীব ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমারও চোখ লেগে গেছিলো। হঠাত শোনা গেল “ঐ অপু কল ধর! ঐ অপু কল ধর”!
হ্যালো স্লামালাইকুম। হ্যালো। (কোনো সাড়াশব্দ নেই) আমি, হ্যালো কথা বলছেন না কেন? ধ্যাত। বিরক্ত হয়ে গেলাম। হ্যালো, কেউ শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা। রেগে গিয়ে লাইন কেটে দিতে চাইছিলাম কিন্তু পারলাম না। হঠাত মোবাইল কথা বলে উঠলো, তাও আবার নারী কন্ঠ।
-হ্যালো, কি বিরক্ত হচ্ছেন নাকি? (অচেনা কন্ঠে) আসলে চুপ করে থেকে আপনার ধৈর্যের পরিক্ষা নিচ্ছিলাম।
- তাই নাকি? (আমি) কিন্তু আমার পরিক্ষা নেওয়ার আপনি কে?
- আমি কে সেটা জানার কি খুব জরুরী?
- হ্যাঁ জরুরী। কারণ, আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলিনা।
- আচ্ছা বুঝলা। এখন আমরা ঠিকই অপরিচিত। কিন্তু একটু পরে নাহয় পরিচিত হয়ে যাব। তাছাড়া কথা বললে কি পরিচিত হওয়া যায়?
- হ্যাঁ তা ঠিক বলছেন। আচ্ছা বলেনতো আপনি কে? আমার নাম্বারই বা কোথায় থেকে পেলেন?
- আরে বাবা। আস্তে আস্তে প্রশ্ন করেন। এত প্রশ্ন একসাথে করলে কিভাবে সবগুলোর উত্তর দিব? ধীরে ধীরে উত্তর দেই। কন্ঠ শুনে নিশ্চই বুঝতে পারছেন আমি একজন মেয়ে। আমার নাম.....।

নাম বলার আগেই লাইনটা কেটে গেল। তাড়াতাড়ি করে আমি কল ব্যাক করলাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। আমি যতবারই কল দিলাম ততবারই উত্তর মিললো, “আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরটিতে এই মুহূর্তে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। একটু পর আবার চেষ্টা করুন”।
.
আজ অরুণিমার পরিক্ষা দেওয়ার কথা। যদিও আমি ধরে নিয়েছি যে অরুণিমা পরিক্ষা দিবে না। যদি সে ভুলক্রমে পরিক্ষা দিয়েই ফেলে তাহলে তা হবে “ সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হয়” এমন টাইপের ঘটনা। আমি অরুণিমার সামনে গিয়ে থাকে জিজ্ঞাসা করলাম,
-আজকে পরিক্ষা তাইনা? নিশ্চই সব পড়া হয়ে গেছে?
- (মুখ অন্ধকার করে সে জবাব দিলো) না স্যার কিছুই হয়নি।
- কেন? কি হয়েছে? শরীর খারাপ ছিল নাকি?
- না স্যার। শরীর খারাপের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ছিল। তাই অনিবার্যকারণবসত আজ পরিক্ষা হবে না।
- কি সব উলটাপালটা বলছো?
- স্যার আজকে তো হরতাল ছিল।
- তো কি হয়েছে?
- স্যার, হরতালে তো সাধারণত সবকিছুই বন্ধ থাকে তাইনা?
- হ্যাঁ।
- তাই আমার পড়াশোনাও বন্ধ ছিল।
আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। আমার মাথায় ছোটবেলায় শেখা একটা কথা যেন ভন ভন করতে ঘুড়তে লাগলো, “মাইরের নাম লক্ষ্মীকান্ত, ভূত পালায় ভয়ে”। অরুণিমাকে তো আর মারা যায় না। কিন্তু হালকা শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
এই মেয়ে দাড়াও, দাড়াও বলছি। (আমার হঠাত কঠোর কণ্ঠে অরুণিমা যেন ভয় পেল।) সে তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে গেল।
-কান ধরো।
- জ্বী স্যার?
- কান ধরতে বলেছি। ধরো, ধরো বলছি।
অরুণিমা বাধ্য হয়ে কান ধরলো। এবার দাঁড়িয়ে থাকো।
আজ ভালো লাগছিল না। জানিনা কি কারণ ছিল ভালো না লাগার। হয়তো ছাত্রীটাকে শাস্তি দেওয়ার হতে পারে, হতে পারে! আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কাল সকাল আটটায় ক্লাস। তাই আমাকে কাল একটু সকাল উঠতে হবে। কিন্তু কিছুতেই দুচোখে ঘুম আসছিল না। একবার ডানে কাঁত হই, আবার বানে কাঁত হই। এভাবেই সময় পার করছিলাম। হঠাত ফোনটা বেজে উঠলো। এ তো সেই মেয়ে, যে গতকাল ফোন করেছিল। যে গতরাতে নাম না বলেই ফোন রেখে দিয়েছিল।
-হ্যালো। কেমন আছেন আপনি? (আমি আবার কাউকে প্রথমে শুধু হ্যালো বলতে পারিনা।)
- জ্বী একরকম বেঁচে আছি। আপনি কেমন আছেন?
- খুব একটা ভালো নেই। আজ মনটা খুব খারাপ।
- তাই। তা মন খারাপের কারণ কি? প্রেমঘটিত নাকি?
- আরেহ নাহ! ওসব কিছু না। স্টুডেন্টকে বকা দিয়েছি তো তাই। আসলে একটু বেশিই বকেছি। এতটা ঠিক হয়নি।
- বাহ! স্টুডেন্টের জন্য তো আপনার দারণ টান! নিশ্চই আপনার স্টুডেন্ট সুন্দরী এক মেয়ে।
- হ্যাঁ মেয়ে। তবে সুন্দর কি না বলতে পারিনা। কখনো ওভাবে খেয়াল করে দেখা হয়নি।
- আচ্ছা। এরপর দেখে এসে আমাকে বলবেন।
- তা হয় বললাম। এখন বলুন আপনার কি?
- ওহ তাই তো! আমার নামই তো বলা হয়নি। আমার নাম... ।
গতদিনের মতো আবার লাইন কেটে গেল। আবার কল ব্যাক করলাম কিন্তু আবারো শোনা যাচ্ছে “আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরটিতে এই মুহূর্তে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। একটু পর আবার চেষ্টা করুন”।
এই নাম না জানা অচেনা মেয়েটি প্রতিদিন কল দেয় আমাকে। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওটে। সম্বোধন ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে আসে। আস্তে আস্তে কথা বলার সময়সীমাও বাড়তে থাকে। পাঁচ মিনিট... দশ মিনিট... আধ ঘন্টা... এক ঘন্টা। এখন মাঝে মাঝে আমিও কল করে মেয়েটার সাথে কথা বলি। কথা হয় কিন্ত পুরনো সমস্যাটা এখনো রয়ে গেছে। ওর নাম জানতে চাইলে নাম বলে না। নাম জিজ্ঞেস করলে লাইন কেটে মোবাইল বন্ধ করে দেয়।
-হ্যালো অপূর্ব, কি করছো?
- কিছুনা। এইতো গান শুনছিলাম।
- কি গান?
- ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে, তোমায় করেছে রাণী।
- হঠাত ভালোবাসার গান? কারো প্রেমে পড়েছো নাকি?
- আমি তো প্রেমে পড়েই আছি।
- কার????
- কার আবার! তোমার।
- আমার!!!
- হ্যাঁ তোমার।
- প্রমাণ দাও।
- এই যে তোমাকে নাম জিজ্ঞেস করলেই তুমি লাইন কেটে দাও। তারপরেও আমি তোমার সাথে রাগ না করে ঘন্টার পর ঘন্টা ধৈর্য সহকারে তোমার সাথে কথা বলে যাচ্ছি। এটা কি প্রেম না?
- আচ্ছা বলতো ভালোবাসা কি?
- আসলে ভালোবাসা একেকজনের দৃষ্টিতে একেকরকম। এই ধরো আম্মার এক ফ্রেন্ড বিজয়। ও ভালোবাসা হচ্ছে প্রতি মাসের প্রথম তারিখ।
- কেন?
- কারণ এ দিন সে টিউশনির টাকা পায়। হা হা হা।
- তুমি তো মজা করছো আম্মার সাথে। আমি তোমাকে সিরিয়াসলি প্রশ্নটা করেছি।
- সিরিয়াসলি?
- হ্যাঁ, সিরিয়াসলি।
- তাহলে আজ না। বলব ১৪ ফেব্রুয়ারি।
- সামনা-সামনি বলতে পারবে?
- হ্যাঁ পারব, অফ অফকোর্স পারব। কেন পারব না? বলো কোথায়, কখন বলব? প্লিজ প্লিজ বলো, এই বলো না।
- বেলী পার্কে। বিকাল ৪ টা।
- ঠিক আছে। কিন্তু আমি তোমাকে চিনব কি করে? আজ অন্তত তোমার নামটা বলো।
- ওহ হ্যাঁ তাই তো। আমার নাম...।
লাইনটা যথারীতি কেটে গেল। ফোন কেটে গেলে কি হলো, আম্মার মনে লাইন কাটে নি। আমার মনের জমিতে আমি শক্তিশালী পিলার বসিয়ে আরোও বিস্তৃত করতে লাগলাম।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বেলী পার্কে এসে অরুণিমার সাথে দেখা হবে আমি ভাবতেও পারিনি।
-আসসালামুআলাইকুম স্যার, স্যার আপনি এখানে?
- হ্যাঁ মানে এখানে আমার এক ফ্রেন্ড আসবে তো তাই।
- ওহ আচ্ছা।
- কিন্তু তুমি?
- স্যার আমারো এক ফ্রেন্ড আসবে। আসি স্যার।
- ঠিক আছে।
এই বলে চলে গেল ও। আমি ওকে এখানে দেখে খুব অবাক হলাম। আমার ছাত্রী লুকিয়ে দেখা করতে আসছে। আমি ভাবতেও পারছিনা আবার মনে মনেও হাসছি। এই ভেবে আসছি যে, ওর মতো পাগলী কে কিভাবে সামলাবে। যে সামলাতে সেই যোগ্য পুরুষ।
অরুণিমা আজ শাড়ি পরেছে। শাড়িতে ও কে অপূর্ব সুন্দরী লাগছে। অনেক পূর্ণ মনে হচ্ছে। বাসায় ও কে এত বড় লাগে না। আসলে সবই শাড়ির অবদান।
আমি ভাবছি আমার সেই অচেনা ভালবাসার মানুষটি আসছে না কেন? নিজেকেই প্রশ্ন করতে লাগলাম। কিন্তু উত্তর খোঁজে পাচ্ছি না। আমি অনেকবার ও কে ফোন করার চেষ্টা করছি কিন্তু কোনোভাবেই ফোন ডুকছে না। স্যুইচ অফ বলছে। কি করা যায়? নানান কথা ভাবতে লাগলাম। যে মেয়ের নাম জানিনা, চেহারাও অচেনা, তাঁকে আমি কিভাবে খোঁজে বের করব। কিভাবে যে ও কে ভালোবাসার সংজ্ঞা শোনাব। ঘড়ির দিকে তাকালাম। ৪ টায় আসার কথা, ৫ টা বেজে গেছে। ধ্যাত আর ভালো লাগছে না। চলে যাব কি না ভাবছি। ভাবতে ভাবতে আমি রাস্তার সামনে এসে দাড়াই। গাড়ি আসে, গাড়ি যায়। মানুষ আসে, বাড়ি যায়। কিন্তু আমার সে আসে না। শেষ একটা চেষ্টা করা যাক বলেই ওর নাম্বারে কল লাগালাম। এটায় ফেল হলে গন্তব্য বাড়ির রাস্তা নিশ্চিত। মোবাইল হাতে নেই। হ্যাঁ এবার রিং হচ্ছে।
-হ্যালো, হ্যালো?
- হ্যাঁ হ্যালো বলো।
- তুই কোথায়?
- এইতো কাছেই।
- আচ্ছা এখানে এত ভিড়ের মাঝে তোমাকে চিনব কিভাবে?
- দেখলেই চিনতে পারবে।
- কি যে বলো না। যার নামই জানিনা, তাঁকে আবার দেখলেই চিনতে পারব। কিভাবে সম্ভব? এখনতো বলো তোমার নামটা?
- ওহ হ্যাঁ। আমার নাম...? আমার নাম “অরুণিমা”।
আমার মনে হলো যে, নামটি আমি ফোনে শুনিনি। আমার পিছন থেকে আসছে কন্ঠটা। আমি সাথে সাথে পিছনে তাকিয়ে দেখি আমার দুষ্টু ছাত্রী অরুণিমা দাঁড়িয়ে আছে নীল শাড়ি পড়ে আর ওর হাতে মোবাইল সেট। যাকে ১ ঘন্টা আগে আমি অপরূপ সুন্দরী বলেছিলাম।
কি??? তুমি!!
আমার চোখে মুখে যেন পৃথিবীর সমস্ত বিস্ময় এসে ভর করে।
হ্যাঁ আমি। হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন!
-ওহ... হ্যাঁ...। হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ভোর ৬:২১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×