somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিশ্চুপ গল্প...। #অভ্রমেঘ

১২ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-ঐ শয়তানী; আমার সাথে ঝগড়া করবি নাহ্ । বড় আপুর বাবুটার নাম আমিই রাখব ।
-এহ; বললেই হল ! বড় আপুর বাবুটার আমি খালামনি হবো । তাই নাম আমিই রাখব ।
-ইশশ, কত্ত শখ ! তুমি খালামনি হবে; আর আমি ? আমিও মামা হবো । হুহ
-দেখ কুত্তা; বেশি বকলে কিন্তু তোর পিঠের চামড়া তুলে ফেলব । আমাকে ক্ষ্যাপাবি না মেঘ ।
-আচ্ছা ওকে । যদি ছেলে হয়, তাহলে আমি নাম রাখব । আর যদি মেয়ে হয়, তাহলে তুই নাম রাখিস । ওকে লক্ষী আপু ।
-এইতো আমার শয়তান ভাই আমার মনের কথা বলেছে । ঠিক আছে । তাহলে মনে থাকে যেন ।
-আচ্ছা থাকবে তো !
.
রোদ, আমার ছোট আপু । ওর জন্মের পরেই তো আমার জন্ম হয়েছে । তাই আমরা 'পিঠা-পিঠি' ভাই বোন । সবসময় ঝগড়া চলে দুজনের । কারনে অকারনে ঝগড়া চলে । রোদের সাথে এক বেলা ঝগড়া না হলেও থাকতে পারিনা । যখন কোনো টপিক পাইনা ঝগড়ার, তখন ওর মাথাই জোরছে একটা ঢিসুম দেই । ব্যাস; ঝগড়া চালু !
.
তবে বেশ কিছুদিন হল ঝগড়ার টপিকের আর অভাব হচ্ছে না । ঝগড়ার কেন্দ্রবিন্দুতেআছে বড় আপু আর তার সন্তান । টপিক গুলো এমনই- ওর নাম কে রাখবে, ও দেখতে কার মত হবে, ও কাকে বেশি ভালোবাসবে এসবই মুল টপিক । আর আমরাও টপিক পেয়ে খুবই আনন্দিত ।
.
ইশ; একটা টপিক তো সল্ভ হয়ে গেল ! আমি আসলেই বোকা ।
* * *
-বড় আপুনি,
-হুমম, বল
-রোদ কে বলেছি, ছেলে হলে আমি নাম রাখব । আর মেয়ে হলে ও নাম রাখবে ।
-তুই কি চাস রে ভাই ? মামা নাকি খালামনি ?
-আল্লাহ যেটা দিবেন তাতেই খুশি হবো ।
-এইত আমার লক্ষী ভাইয়ের মত কথা বললি ।
-রোদ আমায় শয়তান বলেছে তো !
-ও তো বোকা মেয়ে, তাই বলেছে ! তুই আমার ভালো ভাই ।
-হি হি, রোদ বোকা, আমি ভালো ।
.
বড় আপুর সাথে কথা বলছিলাম । বড় আপুকে আমি দুই চোখ্খে দেখতে পারতাম না । রাজশাহী কলেজে ভূগোলে পড়ত আপু । আর যখনই বাড়িতে আসবে; আমাকে এত্ত এত্ত কথা শোনানো যেন ওর দায়িত্ব ।
.
-মেঘ তুই পড়িস না
-পড়ি তো !
-তাহলে অংকে তিন' পাইছিস কেন ?
-[আমি চুপ] !
.
আবার বলবে-
.
-মেঘ তুই সারাদিন এত্ত খেলবি না, লেখাপড়াও কর ।
-কই সারাদিন খেলি ! আমি তো তেমন একটা খেলিনা ! সকালে একটু; দুপুরে সামান্যই; আর বিকেলে তো সবাই খেল । তাই আমিও...
-এই তোর সামান্য খেলা !
-[আমি চুপ] !
.
আবার বলবে
.
-ঐ এত আগেই ঘুমাতে যাচ্ছিস কেনো ! যা পড়তে বস"
-আপু; ক্লান্ত ! একটু ঘুমায় । প্লিজ
-এহ কি আমার মহৎ কাজ করে ক্লান্ত !
-[আমি চুপ] !
.
এত এত বকা যেন ওর মুখে লেগেই থাকত সবসময় । তাই যখন রাজশাহী চলে আসত, তখন খুব খুশি হতাম ।
.
হ্যা ওকে পছন্দ করতাম না । রাগ লাগত ওর ওপর । কিন্তু যেদিন ওর বিয়ে হয়ে গেল, সেদিন কি যেন একটা হারিয়ে ফেলছিলাম । মনে আছে কোনো আনন্দ করিনি সেদিন । দুপুরে খেয়েছিলাম না । শুধু যখন ও কান্না করতে করতে চলে গিয়েছিল; ওর ফেলে যাওয়া ডায়েরীতে লিখেছিলাম, "আই লাভ ইউ আপু"
* * *
-ঐ রোদ, তুই একটা বোকা রে !
-কি বললি শয়তান ! আজ তোকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে নাহ্ । থাম তুই !
.
অতঃপর রোদ আমার পিছনে দৌড়াতে শুরু করল । আমি প্রথমেই দৌড়ে বাড়ি থেকে পালালাম । ভাবলাম পিছু নিবেনা । কিন্তু দেখি ও আমার দিকেই আসছে ! তাই উসাইন বোল্টের গতিতে অন্য দরজা দিয়ে বড় আপুর কাছে লুকালাম । সাথে সাথে রোদ এসে বলল-
.
রোদঃ আপু মেঘ আমায় বোকা বলেছে । ওকে আমি পিটাবো এখন ।
আপুঃ কেন কেন কেন !
আমিঃ কারন রোদ বোকা । হি হি হি
রোদঃ আপুউউউউউ, তুই ওকে মারবি না আমিই মারবো বল প্লিজ ।
আমিঃ দেখ আপু,কত্ত সাহস ! তোমার সামনে তোমার ভালো ভাইয়াকে পিটাতে চাই !
রোদঃ ভালো না হাতি ! তুই সারাদিন আমার সাথে লাগিস ক্যা ? যা তোর সাথে কথা নাই ।
.
রোদ কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল । আর আপু ওকে ডাকতে লাগল । কিন্তু কথা শুনল না রোদ । আমি বড় আপুকে বললাম-
.
-সরি আপু । ঐ শয়তানকে আমি ঠিক করে নিবোনি ।
-সবসময় শয়তানি করিস কেন
-তুমিও আমায় শয়তান বললে ! যাও কথা নাই হু
-হি হি পাগল ভাই আমার ।
.
একটু পরেই রোদের মান ভাঙ্গানোর জন্য উঠে পড়ে লাগলাম । জানি ও আমার উপর রাগ করে থাকতে পারেনা ।
.
-রোদ আপুনি
-যা ভাগ কথা বলতে আসবি না ।
-শোন না । বড় আপুর বাবুর জন্য নাম পেয়েছি ।
-কি নাম !
-নাঈম । সুন্দর না ?
-হ্যা সুন্দর । আমিও পেয়েছি ।
-কি নাম ?
-তারিন, সুন্দর না ?
-একদম সুন্দর না ।
-কি !
.
এরপর আবার শুরু হল আমার আর রোদের দৌড়াদৌড়ি ।
* * *
-আব্বু
-জ্বী
-আজ স্কুলে না গেলে হয়না ?
-কেনো !
-আজ তো বড় আপু হসপিটালে ।
-তো !
-না মানে...
-ফাকি দেওয়ার চিন্তা ? যাও স্কুলে যাও ।
-প্লিজ
-যেতে বলেছি ।
.
ধুর, সব বাপেরাই কী আপনার মত জল্লাদ হয় ? একটা দিনই তো ! না গেলে কী এমন ক্ষতি হতো ? (মনে মনে বললাম) । এরপর মন খারাপ করেই স্কুলের জন্য পা বাড়ালাম ।
.
উফ্স ! সারাদিন খুব মজা করেই কাটল । অনেকটা পাগলামী বলা যেতে পারে । বন্ধুদের সাথে বকবক, স্যারদের সাথে মজা, একটা পেয়াজী কিনে তিন বন্ধু মিলে খেলাম । আর ছয়টা সিঙ্গারা নিয়ে প্রথমে কে শেষ করে অন্যেরটাতে ভাগ বসাবে- এই প্রতিযোগীতাও করলাম ।
.
সারাদিনের এই হাড়ভাঙ্গা খাটুনী (!)'র পর ক্লান্ত মনে বাড়ি ফিরছিলাম । ফেরার সময় এক স্যারের সাথে দেখা হল । স্যার বললেন-
.
-এই মেঘ শোন
-জ্বী স্যার
-নাসরিন (আমার আপু) কেমন আছে ?
-জ্বী স্যার ভালো । বড় আপু তো হসপিটালে !
-হু শুনলাম । তুই তো মামা হয়ে যাবি রে !
-হি হি । জ্বী স্যার; আর আপনি বুড়ো নানা হয়ে যাবেন ।
-হা হা; যা ভাগ ।
.
অতঃপর আমি স্যারের কাছে থেকে চলে আসলাম ।
* * *
-রোদ, তুই কইরে ! আইজ আমি হেব্বি হ্যাপ্পি । পুরা আড়াইটা সিঙ্গাড়া খাইছি । ও রোদ; তুই কইগেলি রে শয়তান !
-মেঘ,
-কি হইছে আপুনি, তোর মন খারাপ কেনো ? কি হয়েছে বলনা ?
-ভাইয়ূ,
-কাঁদতেছিস ক্যান
-নাঈম ! নাঈম এসেছিল রে ভাই ।
-এসেছিল মানে !
-নাঈম আর নেই রে !
-আপু মিথ্যা বলিস ক্যানো !
-[প্রচন্ড শব্দে কেঁদে উঠল রোদ]
.
আমি নিস্তব্ধ, নিশ্চুপ, নিরব হয়ে গেছি । আমি সেদিনও কাঁদিনি । অধিক শোকে নাকি মানুষ পাথর হয়ে যায়; আমি কি সেদিন পাথর হয়ে গিয়েছিলাম ? নাঈমের শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম । নাঈম; তুই কোথায় হারালি সোনা ?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×