পারমাণবিক বোমা মানবসভ্যতার জন্য এক হিংস্র দানবের নাম। বর্তমান পৃথিবীতে যে পরিমান পারমাণবিক বোমা মজুদ আছে তা এ-দূর্ভাগা পৃথিবীকে একাধিকবার ধ্বংস করতে পারে। এমনকি এখনও নতুন করে কিছু দেশ এই ভযংকর বিদ্ধংসী পারমাণবিক বোমা তৈরীর অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা অবশ্যই নিন্দনীয়।
সমপ্রতি ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরীর চেষ্টা বিশ্বের বেশ আলোচিত বিষয়, যদিও ইরান তা বরাবরের মতই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মকান্ড পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ করে বিদু্যৎ উৎপাদনের জন্যই তারা মূলত কাজ করছে। কিনতু বিশ্ববাসী জানে তাদের এ কাজে পারমাণবিক-চুল্লীর বিশেষ প্রয়োজন নেই কেননা ইরান তেল-সমৃদ্ধ দেশ এবং তারা ঙচঊঈ ভূক্ত দেশগুলোর মধে দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানীকারক।
যাহোক, অন্যদিকে পৃথিবীর পরাশক্তিগুলো পারমাণবিক বোমার বিশাল ভান্ডার গড়ে তুলেছে। শুধুমাত্র আমেরিকা ও রাশিয়ার হাতেই রয়েছে 12000 এর মত পারমাণবিক বোমা। শুধু তাই নয় আমেরিকা পারমাণবিক বোমা তৈরীর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সমপ্রতি তারা মিনি-নিউক নামে ছোট আকৃতির (5 কিলোটন) পারমাণবিক বোমা তৈরী করেছে (আমেরিকা তার পরবর্তী সম্ভাব্য যুদ্ধে এই বোমা ব্যবহার করতে চায় বলে খবর বেরিয়েছে যা পৃথিবীব্যাপী অত্যন্ত সমালোচিতও হয়েছে)। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার কি কোন অধিকার আছে ইরানকে তার পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বলার? এ ব্যাপারে আমেরিকার বক্তব্য হল তাদের সঠিক বোধসম্পন্ন নেতৃত্য আছে যে কারণে তারা এবং তার বন্ধুগণ পারমাণবিক বোমা তৈরী ও সংরণ করতে পারে। অথচ বিশ্ববাসী দেখেছে পৃথিবীর প্রথম ও শেষ পরিকল্পিত পারমাণবিক ধ্বংসলীলা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে। ব্যাপারটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় শেষে(6 ও 9 আগষ্ট-1945) যখন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতাই ছিল বাকী। আমেরিকার নেতৃত্ব কতইনা সঠিক বোধসম্পন্ন!!!
আমেরিকার এক বন্ধু ইসরাইল (1948 সালে জন্ম নেয়া বিতর্কিত ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র স্বীকার করে না বা স্বীকৃতি দেয় নি।), যে ইতিমধ্যেই শতাধিক পারমাণবিক বোমা তৈরী করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এখন যদি ইরান (ইরানের রয়েছে দীর্ঘ মানবসভ্যতার ইতিহাস) পারমাণবিক বোমা অর্জনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের নিরাপত্তা ও মতার ভারসাম্য (মতার ভারসাম্য অনেকসময় বড় রকমের যুদ্ধ থেকে দেশকে রা করে যেমন ভারত ও পাকিস্তানের কথা বলা যায় অথবা স্নায়ু-যুদ্ধের সময় আমেরিকা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা) রা করতে চায়, তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে কি? যখন ইসরাইল পারমাণবিক বোমা তৈরী ও মজুদ করছিল কোথায় ছিল ওঅঊঅ, আমেরিকা ও তার তথা-কথিত বন্ধুরাষ্ট্রগুলো? আরও মজার ব্যাপার হল ওঅঊঅ এবং এর প্রধান আল-বারাদি কে নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেওয়া হয়েছিল। এটা কি এজন্য যে ইসরাইল পারমাণবিক বোমা তৈরী করতে সম হয়েছিল!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



