somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টপ মাস্তান / টপ টেরর

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :










শব্দগুলি সুণতেই কেমন জানি একটু ভড়কে যাই বা একটু থেমে যাই বা ভ্রু কুঁচকে যায় । কিন্তু কেনও , আমরা এই শব্দগুলিকে ভয় পাই বা পছন্দ করিনা । আবার সকল ক্ষেত্রেই কি , আমরা অপছন্দ করি ? মনে হয় না , এর কারন কি ? যেটা পছন্দ করিনা , আবার সেটাকেই পছন্দ করি , এটা কেমন কথা । তাহলে আমরা কি চিন্তা / ভাবনা করতে , মাঝে মাঝে ভুল করি , না ইচ্ছা করেই করি , না নিজের অজান্তে করি । ব্যাপারটা ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করি , তাই লিখছি । একজন টপ মাস্তান বা টপ টেরর কিভাবে সৃষ্টি হয় , বা কিভাবেই বা তার উত্থান হয় সমাজে । কেউ কেউ বলে হতাশা থেকে হয় , আবার কেউ বলে অভাবে হয় , কেউ বলে সংগও দোষে হয় , কেউ বলে নিজের উপর বা নিজের পরিবারের উপর মাস্তানই হলে , তার প্রতিশোধ এর কারনে হয় , কেউ ন্যায় পথের মানসিকতার কারনে , অন্যায়ের প্রতিবাদের কারনে হয় , কেউ ইচ্ছা করে হয় , কেউ বংশগত কারনে হয় , কেউ নিজেকে সমাজে প্রভাবশালী করার জন্য হয় , আবার কেউ রাজনীতির মার প্যাঁচে পড়ে হয় । যাকগে যে পথেই হউক , এই পথকে সমাজ সমর্থন করে না । একবার এক দৈনিক পত্রিকায় দেখেছিলাম যে ,== মাস্তান বিষয়ক জটিলতা = শিরোনামে একটি খবর । আবার আমাদের সমাজে যদি কোনও মাস্তানকে আসতে দেখে বা আসে , তবে তাকে খুব সমীহ করে , তাকে বেশ আপ্যায়নও করে থাকে । এর কারন মনে হয় , নিজেকে তার ছোবল থেকে মুক্ত রাখার জন্য কিংবা প্রয়োজনে তাকে ব্যাবহার করার জন্য , খাতির যত্ন করা বোধ হয় । কিন্তু ঐ টপ টেরর কি এটা বুঝতে পারে ? মনে হয় না , আবার বুঝলেও , তার কিছু বলার থাকে না , কারন তার এই প্রাপ্য যথেষ্ট , এলাকায় কেউ , সন্ত্রাসী কাজকর্ম করলে বা যদি কেউ করে , তাহলে তার বিরুদ্ধে বলতে কেউ চায় না বা বলতে সাহস পায় না । এর কারন হোলও আমাদের দুর্বল মন , লোভ বা লালসা বলে মনে করি , কিংবা নিজে বাঁচলে , বাপের নামের মতো আর কি । তাহলে আমরা সন্ত্রাস মোকাবেলা কি ভাবে করবো , কিভাবে সন্ত্রাসের ছোবল থেকে মুক্তি পাবো ? সন্ত্রাসীরা কিন্তু মানসিক ভাবে দুর্বল থাকে , কিন্তু তাদের চাপার জোর ভয়ংকর রুপের , যে জন্য কখনো কখনো জনরোষে পড়ে মিত্তু হয় তাদের , যাকে বলে গণপিটুনি । টপ মাস্তানরা কিন্তু শক্তিধর ব্যাক্তিদের শেল্টারে থাকতে পছন্দ করে , আবার সেই শেল্টার দাতাও , তার হাতেই নাজেহাল হয় বা আঘাতপ্রাপ্ত হয় , কখনো কখনো মিত্তুও হয়। একে বলে প্রবাদে ===সাপুড়ে মরে সাপের হাতে == । আবার ক্ষমতার পালা বদলেও , সন্ত্রাসীরা একই অবস্থানে থেকে যায় , কারন মালপানি কামানোর জন্য বা টেন্ডার ভাগাভাগির সময় , তারা একে অপরের সম্পূরক হয়ে কাজ করে থাকে , কোনও কোনও ক্ষেত্রে অঞ্চল বা এলাকা ভাগ করে নেয় । একে বলে প্রবাদে ==যে লাউ , সেই কদু ==। তবে তফাৎ মোটা / চিকন কিংবা স্বাদ / কম বেশী । যারা টপ মাস্তান , তারা কিন্তু সারাজীবন রাতে ভালো করে পরিবার /পরিজন নিয়ে ঘুমাতে পারে না , তারা কিন্তু পথে পথেই কাঁটায় বেশীর ভাগ সময় , কিংবা নেশার জগতে পড়ে থাকে , কিংবা আতংকে কাটে দিন / রাত । আবার তাদের ছেলে সন্তানদের ভালো বিয়ে শাদীও হতে চায় না । টাকা তারা , যতোই কামাই করুকনা কেনও , সেই টাকার ভোগ নেই শ্বাদের সাথে । আবার পাড়ায় পাড়ায় আধিপত্তের কারনে , মাস্তান বিষয়ক জটিলতা বাঁধে , তাতে হয় দাংগা , আর তার থেকে কখনো হয় অপমিরতু । একে বলে ==যেমন কর্ম , তেমন ফল == , যাকে এক কথায় বলে কর্মফল ===। আবার কেউ বলে , মাস্তানে মাস্তানে দাংগা নাকি কম হয় , কারন লোহায় লোহায় ঘর্ষণ হলে আগুন ধরে তাই , তারা নিরাপদ দুরত্তে বজায় রেখে চলতে চায় , তারপরও টপ টেরর গীরী দেখাতে গিয়ে , বাঁধে মারাত্মক দাংগা । এর প্রবাদে বলে == জোঁকের গায়ে নাকি জোঁক লাগে না ===। কিন্তু জোঁক মানুষের গায়ে লাগে ঠিকই , তবে টের পেতে দেরী হয় , পরে দেখা যায় , শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে । আবার খেয়াল করে দেখবেন টপ মাস্তানরা , ক্রস ফাইয়ারকে ভয় করে , অথচ তারা মানুষকে , পাখীর মতো গুলি করে মেরে ফেলে , তাই সন্ত্রাসীরা ক্রসকে সমর্থন করে না , আবার কখনো বর্তমান শেল্টার ছেড়ে , চলে আসে নিরাপদ শেল্টারে বা অন্য শেল্টারে ,কারন সন্ত্রাসীরাও বুঝে নেয়, বাতাস কোন দিকে বইছে , তারা ঠিক সময়েই , সেই দিকেই পাল তুলে দেয় । আর যারা থেকে যায় , তারা কেউ মরে , আবার কেউ কেউ বেঁচে যায় । আবার আমরা যারা দল করি , তাদের যতো অবদানই থাকুক দলের জন্য , কিন্তু দল যখন ক্ষমতায় যায় , তখন এই সন্ত্রাসীরাই ক্ষমতার দলে ভিড়ে যায় , আর দলের নিবেদিত ভদ্রলোকগুলি বা দলের সমাজ কর্মের লোকগুলি অসহায় হয়ে পড়ে কিংবা পিছে পড়ে যায় । এখন যা হচ্ছে ,লোহায় লোহায় ঘর্ষণ , কোনটি পাকা লোহা , কোনটি কাঁচা লোহা , যার ঘর্ষণে হচ্ছে আগুন , এবং কেউ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিয়ে ঘুরছে পথে পথে ,আগুন নিভানোর জন্য , কিন্তু যখন অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রে পানি সংকট হবে , তখন সন্ত্রাস থেকে সন্ত্রাস , সন্ত্রাস থেকে দাংগা , দাংগা থেকে , হার / জিত হবে । কিংবা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের পানিতে ভিজে যাবে এক সময় , তাই আগুনও আর , জল্বেনা । যাই বলি , মাস্তানই / সন্ত্রাসী পথের বা জীবন বেশী দিন চলে না, যারা এই সন্ত্রাসীদের নিয়ে খেলা করে , লাভ ও লোভে , তাদের মিত্তু বা পরাজয় হয় ঐ সন্ত্রাসীদের হাতেই । একেই প্রবাদে বলে ===লোভে পাপ , পাপে মিত্তু ===। সন্ত্রাসীরা সাময়িক ভাবে আমাদের সমাজকে অশান্ত করছে মাত্র , যার স্থায়িত্ব খুবই কম । একে প্রবাদে বলে , ==পীরের বাইড় , ১২ বসর ==। তাই আমাদের একটি সময়ের জন্য , অপেক্ষাই করতে হচ্ছে , শান্তির অন্বেষণে বোধ হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×