


এলাকায় একজন লিচু বাগান করার পরিকল্পনা নেয় । পরে সে দিনে দিনে প্রায় ১০০ টি লিচু গাছের বাগান তৈরি করেছে । গাছগুলিতে এখন লিচু ধরতে শুরু করেছে । বাগানটি করতে প্রায় ৩ একর জমির প্রয়োজন হয়েছে । সারি সারি গাছগুলি দেখতে খুব মজার । বাগানের মধ্যে আছে বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচান । সেই মাচানের উপর বসে বসে সে মাঝে মাঝে সময় কাটায় । তার সাথে অনেকেই বসে বসে গল্পও করে । ঐ বাগান মালিকটি আবার খুব সৌখিন তাই সে বাগানের মধ্যে আবার গড়ে তুলেছে ফুলের বাগান দেখতে দারুন লাগে । বাগানের মধ্যে আবার একটি পুকুর ও ছোট একটি ছোনের ঘর করেছে ভদ্রলোক ঐ ঘরের মধ্যে আবার আধুনিক সব সুবিধাই বিদ্যমান আছে । সে মাঝে মাঝে ঐ ঘরে বসে বসে গল্পের বই পড়ে ও লেখে । সে একদিন তার এই সুন্দর বাগানে বসে বাগানের ইতি কথাগুলি বলছিলও তা হোলও যে তার বাগানে যখন লিচু ধরে সেই লিচু কাচা / পাকা সময় পযন্থ খুবি সুন্দর লাগে যা বর্ণনা করা দুষ্কর । লিচু যখন পেকে উঠে , তখন বাদুর নামক পাখীটিকে তাড়াতে গাছে / গাছে টিন বানতে হয় , আবার যারা রাতে লিচু পাহারা দেয় তাদের পায়ের সাথে ঐ টিনের দড়ি বেধে রাখতে হয় । কারন পাহারাদাররা রাতে কখনো কখনো ঘুমিয়ে পড়ে , তাই মাঝে মাঝে জেগে উঠে বা ঘুমের ঘোরে নড়া / চড়া করলেই , ঐ পায়ে বাধা দড়ি টান পড়ে যায় , আর ওমনি টিনগুলি বেজে উঠে , আর বাদুড়রা উড়ে যায় । এমনিতেই পাহারাদাররা রাতে খুব একটা ঘুমাতে পারেনা , সারা রাত বাদুড় তাড়াতে হয় । সবশেষে সে বললো যে , ভাই লিচু আসে বাগান ভরে কিন্তু বিক্রি করার সময় আবার ঝামেলা হয় , এতো লিচু নিজে একা একা বিক্রি করা যায়না , তাই ঢাকা / চিটাগাং থেকে মহাজনরা আসে লিচু পাকার আগেই বাগান ধরে কিনতে । তাদের সাথে আবার এলাকার কিছু ফড়িয়া থাকে । এরা বাগান ধরে কিনে নেয় , আর বায়না করে ৫০ লক্ষ টাকার দামের বাগানে ৫ লক্ষ বায়না দিয়ে বাগান কিনে নেয় , বাদ / বাকী দিবে পরে দিবে বলে । পরে সেই টাকা তুলতে নানা ঝামেলা এমনকি বিচার / সালিশ পযন্থ করতে হয় কখনো কখনো । তারা বলে যে লচ হয়েছে বা ঝড়ে বেশীর ভাগ লিচু নষ্ট হয়ে গেছে । সেই বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিবো কিসের মতো । তাই আমি ভাই , সুন্দর বাগান বানিয়েছি ঠিকই কিন্তু এখন আমি বাদুড় আর মহাজন নিয়ে পড়েছি বিপাকে ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৭:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



