গ্রন্থ- 'বিশ্বাসের ভাইরাস'। লেখক- অভিজিৎ। সে যা বলেছে।
↪ কোরআন একটি পশ্চাৎপদ গ্রন্থ।
↪ কোরআনে কোনো বিজ্ঞান নেই।
↪ মুসলমান বিজ্ঞানীদের খুঁজে পাওয়া যায় না বিজ্ঞানের জগতে।
↪ তরুনদেরকে বিজ্ঞান খোঁজার জন্য কুরআনের দিকে না গিয়ে যুক্তিবাদী ও আধুনিক বিজ্ঞানীদের তত্ত্বের দিকে ধাবিত হওয়া উচিত।
অথচ বাস্তবতা দেখুন-
↪ মুসলিম বিজ্ঞানী আলকেমির নামে বিজ্ঞানের একটি শাখা কেমিষ্ট্রি'র নামকরন করা হয়েছে। সেটি কি এমনি?
↪ বীজগনিত এবং ইংরেজিতে এলজেব্রার নামকরন করা হয়েছে মুসলিম বিজ্ঞানী আল জাবের ইবনে হাইয়ান এর নামে। এটিও কি এমনি?
↪ মুসলিম গনিতজ্ঞ মুসা আল খোয়ারিজমীক। তাঁকেই বলা হয় আধুনিক ত্রিকোনমিতির জনক। এটিও কি এমনি?
↪ শল্য চিকিৎসা বা অপারেশনের জনক হিসেবে মুসলিম ডাক্তার ইবনে সিনা আজও অগ্রগণ্য। অন্যদিকে সেই অপারেশনে আধুনিকতা আনয়ন করেছেন মুসলিম ডাক্তার হাসান ইবনে হাইসাম।
↪ আল বিরুনী পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাসবিদ হিসেবে পরিগণিত হন। তিনি একজন মুসলিম।
↪ মধ্যযুগে সমগ্র পৃথিবী ছিলো অজ্ঞতার সাগরের অন্ধকারে নিমজ্জিত। অথচ ঐ সময় পুরো পৃথিবীর মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একমাত্র কেন্দ্র ছিলো ইরাকের বাগদাদ।
↪ মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো প্রাচীন এবং মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
↪ মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হলো এই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজছে পশ্চিমা বিজ্ঞানীগণ। কিন্তু মহাণ আল্লাহপাক এর কি অপার ক্ষমতা! তিনি এই প্রশ্নের উত্তর আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে মহাগ্রন্থ কোরআনে দিয়েছেন এভাবে- *তাঁর কাজতো কেবল এতটুকুই যে তিনি যা কিছুর ইচ্ছে করেন তিনি বলেন (আল্লাহ) হয়ে যাও, আর তা হয়ে যায়* । কিংবা- *সবকিছুই ছিলো একটি কেন্দ্রবিন্দুতে, অত:পর আমি তাকে ছড়িয়ে দিলাম চারিদিকে* ।
↪ আধুনিক বিজ্ঞান জীনোম সিকোয়েন্স ও মানব শিশু জন্মের রহস্য মাত্র কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছে। কিন্তু মহাণ আল্লাহপাক সেই অমোঘ রহস্য ১৪০০ বছর পূর্বেই মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলে দিয়েছেন এভাবে- *আমি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি কেবল এক বিন্দু তরল বীর্য হতে* !
অভিজিত এর লিখা কথা এবং প্রকৃত বাস্তবতার মাঝে কতটা ফারাক তা উপরে উল্লিখিত তথ্য পড়লেই স্পষ্টত বোঝা যায়। এটি কি মূর্খতা নাকি প্রকৃতই ইসলাম ধর্মের প্রতি বিদ্বেস, সেটি আমি জানিনা। আপনারাই বলুন দয়া করে।
↪ আমার দুঃখ যেটি-
এমনিতেই বর্তমান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ-যুবক প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মাঝে কোরআন এর ব্যাপারে তেমন স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই এহেন বিশাআআল মুক্তমন এর অধিকারী অভিজিত লিখিত গ্রন্থ যদি আমাদের ভাই-বোনেরা পড়েন ( বিশেষ করে যারা ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাডিকেল এবং বিজ্ঞান বিভাগের অন্যান্য শাখায় উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছেন ) তবে নিশ্চিত তাঁরা শয়তানের ধোঁকার মাঝে পড়বে। যেটি অবশ্যই আতঙ্কের ব্যাপার।
↪ অভিজিত এর মৃত্যু এবং আমার চুড়ান্ত ব্যাক্তিগত দর্শণ-
অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। কেউ অপরাধ করলে তার সাজা দেবে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের আইন। জনসম্মুক্ষে কেউ কাউকে কুপিয়ে মেরে ফেলবে এটি সঠিক নয়। কিন্তু এখানে কথা আছে। একজন মুসলিম হিসেবে আমি অবশ্যই অভিজিত এর ইসলাম বিদ্বেসী কর্মকান্ডের জন্য তাঁকে ক্ষমা করবো না। অভিজিত কে মেরেছে সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। অথচ দোষ দেয়া হচ্ছে মুসলিমদের কে! এটি চরম দুঃখজনক। পুলিশের সামনে একজন মানুষকে মেরে ফেলল অথচ পুলিশ নির্বিকার! এদিকে আমি যাবো না। কথা হলো, আমিও তো ব্লগে লিখি কিন্তু আমাকে তো কেউ মৃত্যুর হুমকি দেয়না! কেনো? কারণ আমি কোনো ধর্মকে কটাক্ষ করে কিছু বলিনি, লিখিনি। কখনও বলা বা লিখবোও না। অথচ বিদেশে থাকা অবস্থায়ই অভিজিত মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। সেটি কেনো? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, 'অভিজিত অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। মূলত ইসলাম ধর্ম রাসুল সাঃ এবং কোরআন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছে। যা অনুচিত। এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কটাক্ষ করে বই লিখেছে ব্লগ লিখেছে। তাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী কেউ হয়তো তাঁকে মৃত্যুর হুমকি দিয়েছেন'। (সেটিও প্রমাণ সাপেক্ষ)।
আজকে আমি যদি ইন্ডিয়ার অধিবাসী হতাম এবং হিন্দু ধর্ম'কে নিয়ে কটাক্ষ করে ব্লগ লিখতাম, বই ছাপাতাম তাহলে কি কট্টর হিন্দু মৌলবাদীরা আমাকে ছেড়ে দিতো? অবশ্যই নয়। বাবরী মসজিদের ঘটনা কি আপনারা ভুলে গেছেন? কোরআন এর কথা- *যুদ্ধ করো ওদের সাথে। (কাফির ও দুস্কৃতিকারী ) মহান আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি দিবেন। তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন এবং মুমিনদের অন্তরগুলোকে শান্ত করবেন* । সূরা তাওবাঃ আয়াত-১৪।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ সাঃ এতটাই সুন্দর এবং প্রকৃত মুক্তমনা মানুষ ছিলেন যা তাঁর বলা কথাতেই স্পষ্ট প্রতীয়মান। তিনি সর্বদাই বলেছেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে। অন্যের ধর্ম পালনে বাঁধা না দিতে। ধর্মের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি না করতে। অথচ কতটা দুঃখ লাগে যখন দেখি এহেন মহামানব কে অভিজিত এর মত সাধারণ একজন বাঁজে ভাবে মূল্যায়ন করছে!
কে কখন জন্ম নেবে এবং কে কখন, কোথায়, কিভাবে, কোন অবস্থায় এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে তা পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহপাক। অভিজিত এর ব্যাপারেও তেমনি নির্ধারণ করা ছিল এবং সেভাবেই সে বিদায় নিয়েছে। এটিই মহাণ সত্য। যেমন সত্য আল্লাহ, তাঁর রাসুল সাঃ এবং আসমানী কিতাব কোরআন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




