somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উৎসর্গ- জেলীকে

০৩ রা মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৮ এর শেষের দিক। ভার্সিটিতে নতুন ঢুকেছি। ক্যাম্পাসের তখন সবই খুব সুন্দর আর স্নিগ্ধ মনে হতো। গাছ খুব ভালোবাসি, তাই আলাদা দুর্লভ গাছের একটা বাগান দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। একটি গাছের নাম পান্হপাদপ। সেই গাছের গোড়া থেকে উপর পর্যন্তকলাগাছের মতো ডাল ছড়ানো। ডাল ধরে টান দিলেই গড়িয়ে জল পড়ত। সেই টলটলে জল খুব বিশুদ্ধ। খাওয়াও যায়! বাকীদের চক্ষু বাঁচিয়ে মাঝে মাঝে এই ছেলেমানুষিটা খুবই ইনজয় করতাম।

দুসপ্তাহ পরেই শুরু হয়ে গেলো ইলেক্টিভ কোর্স। হয় ম্যাথ নইলে বোটানী। আবার কী? ঢুকে পড়লাম বোটানীতে। ইন্টার পর্যন্ত বয়েজ স্কুলে পড়ে আসা; তাই নতুন কম্বাইন্ড ক্লাসে ঢুকে একটু অস্বস্তিতেই পড়ে গেলাম। /:)

ক্লাসের অর্ধেকই মেয়ে। মেইন কোর্সের মেয়েরা (আঁতেল কোর্স) আহামরি না হলেও বোটানীতে ঢুকেতো চক্ষু চড়কগাছ! বেশীরভাগই দেখতে শুনতে বেশ ভালো!:P আমি আপার ডিপার্টমেন্ট থেকে আসায় সম্ভাবনাও খারাপ না! কিন্তু বরাবরই খুব শাই স্বভাবের হওয়ায় না পারি কিসু কইতে না পারি সইতে। বাসায় আব্বা ছিলেন খুব কড়া এবং ফ্যামিলী কনজার্ভেটিভ। বুকে জ্বালা থাকলেও মনে বল বা মুখে জোড় কোনোটাই নাই! :| শুধু দেখে আর ফাও গল্পই করে যাই!

ঐ ডিপার্টমেন্টেই পরিচয় হলো জেলীর সাথে! শান্ত ও বেশ মিষ্টি স্বভাবের। ছিপছিপে গড়ন। আহমরি ফিগার না হলেও হাসিটা ছিলো অদ্ভুত সুন্দর আর ডায়াবেটিস রকমের মিষ্টি। :) ভালো লাগলেও বলার কিসু নাই। বাসায় আমার বিয়ের কথা আরও ৩ বছরেও উঠার কথা না। ইলেক্টিভ কোর্স হওয়ায় দেখাও খুব একটা হতো না।

তখন হিন্দী একটা গান খুব জনপ্রিয় হয়ে গেলো,"হো গায়ি হ্যায় মোহাব্বাৎ তুমসে"। বৃষ্টির মাঝে নৌকায় শুটেড। খুবই রোমান্টিক। :> একদিন ডিপার্টমেন্টের সামনে সবাই আড্ডা দিচ্ছি, তো হঠাৎ জেলী আমার নামের পেছনে অতিরিক্ত একটা নাম জুড়ে সম্বোধন করল। কিছুই না বুঝে ওর দিকে তাকালাম। ও বলল এই গানের কথা। এই গান সংশ্লিষ্ট একজনের সাথে নাকি আমার নামের হুবহু মিল। লাস্ট নেমটা না মিলায় ও নিজেই কষ্ট করে জুড়ে নিয়েছে! ও জানেনা যে এটা আসলে আমারও খুব প্রিয় একটা গান! গানটা মনে পড়ার পর আমি কেনো যেনো লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম! :#> খুব স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু বিড়ম্বনায় পরে গেলাম। তাই শুধু একটু দাঁত কেলালাম। :-B আজ মনে হয় লজ্জা নারীর ভূষন হতে পারে কিন্তু পুরুষের জন্য ডেফিনিটলি তা কলন্কের! =p~ =p~(ইভটিজাররা আবার ফাল দিয়েননা! এইখানে কেস কিন্তু ভিন্ন)

এর কিছুদিন পরের ঘটনা। ডিপার্টমেন্টের সামনে দাড়িয়ে সবাই আড্ডা দিচ্ছি। জেলী তখনও আসে নাই। সবাই নিজেদেরকে নিয়ে অযথা গল্প শুরু করলাম। বাংগালী কাজ না থাকলে যা করে আর কি! কথা প্রসন্গে জেলীর কথা উঠলো। আমি কি মনে করে যেনো টপ করে বলে ফেললাম যে, মানুষ কেনো যে খাবারের নামে নাম রাখে তাই বুঝি না। শুনলেই মনে হয়, যেনো ওরে টপ করে মুখে পুরে খেয়ে ফেলি। :#> হঠাৎ বুঝলাম যে সবার চোখ কেনো যেনো আমার দুই হাত পেছনে ফোকাসড। পিছনে ফিরে দেখি.........কোথ্থেকে যেনো স্বয়ং জেলী সশরীরে হাজির!:-/ নার্ভাস শকে পুরা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলো! জেলীর চেহারা দেখেই বুঝতে পারলাম যে সে বেশ লজ্জা পেলেও আমার মতো নার্ভাস সে মোটেও হয় নাই। আসলে একই বয়সের একটি ছেলে হতে একটি মেয়ের মেন্টাল ম্যাচুরিটি অনেক বেশী থাকে! সে খুব সুন্দর ভাবেই হেসে উড়িয়ে দিলো আর আমিও আমতা আমতা করে পালিয়ে বাঁচলাম।

ক্লাস শেষ হয়ে আসায় তারপর ওর সাথে কালে ভদ্রে দেখা হতো। হ্য়তো ওর প্রতি ভালোবাসা ছিলো না, কিন্তু ভালো লাগা অবশ্যই কাজ করতো। আজ এতদিন পরে মনে হয় যে, ভালোবাসা আর ভালোলাগার মধ্যে খুব সুক্ষ একটা লাইন থাকে। লাইনটা ক্রস করতে চাই ছোট্ট একটু প্রয়াস! ভালোবাসাতো আর আকাশ থেকে ধপাস করে পড়ে না! কিন্তু কখনো তাকে ঐ ভালোলাগাটুকুও বলা হয় নাই।

ইয়ার ফাইনাল শেষ করে ২য়, ৩য় বর্ষ শেষ করে লাস্ট ইয়ারে চলে এলাম। এরমধ্যে আর ওর সাথে দেখা হয় নাই। মাস্টার্সের ক্লাশ শুরু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন ওকে দেখলাম বোটানীর সামনে। ঠিক আগের মতোই আছে। সেই মিষ্টি হাসি! অনেকদিন পরে দেখা, হয়তো ভুলে গেছে মনে করে আর থামলাম না। চিনতে না পারলে মান ইজ্জত দুটাই পাংচার। কিন্তু একটু এগিয়েই আড়চোখে বুঝতে পারলাম যে সে ঠিকই চিনতে পেরেছিলো! :(( সেই ছিলো ওর সাথে আমার শেষ দেখা। :| এই প্রবাসে বসে আজ ঐ ছোট্ট ঘটনাগুলোও কেনো যেনো মনে পড়ে যায়।

পরিশেষে শেষ করবো ওর পছন্দের ঐ "হো গায়ি হ্যায় মোহাব্বাৎ তুমসে" গানটা দিয়ে,



গানটা কিন্তু বেশ সুন্দর, তাই না!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:২৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×