somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তীরন্দাজের "কাঁটা বিছাবো নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার পথে" এবং কিছু ভিন্নমত

২২ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তীরন্দাজ ঃ
খুবই ভাল হয়েছে লেখাটা । আপনার বক্তব্যের সাথে আমি পুরোপুরি একমত । কিন্তু এর পাশাপাশি আমি কিছু বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই ।
1। এটাতো মানবেন যে সব কিছুরই সুফল এবং কুফল রয়েছে । একজনের জন্য যা সু অন্যজনের জন্য তা ই কু । নয় কি ? পশ্চিম বিশ্বের জন্য যা সু বলে মনে হচ্ছে আমাদের জন্য তা সু হবে কি না তা ও ভেবে দেখা দরকার । কি বলেন ? আমাদের এবং ওদের তুলনামুলক পরিবেশ, সমাজ, জলবায়ু, আদি ইতিহাস এই সকল চিত্রও এর মধ্যে আসতে পারে বলেই আমার মনে হয় । খুব সহজে কোনও সিধান্তে চলে আশা কতটা যুক্তি সঙ্গত হবে সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে ।
2। একটা শিশু কোন সমাজটাকে বেশী পছন্দ করবে, যে সমাজে বাবা-মা উভয়ের ভালোবাসা পাওয়া যায় সেই সমাজ নাকি যে সমাজে বাবা, মা'কে ছেড়ে চলে যায় সেই সমাজ ? অবশ্যই প্রথমটাই হবে তার প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ । নয় কি ? সেই দিক দিয়ে বিশ্লেষন করলে আমাদের দেশের শিশুদের কিন্তু আমি আনেক ভাগ্যবান বলবো । বাবা-মা'য়ের মধ্যে যতই সংঘর্ষ বাঁধুকনা কেন, সন্তানদের ব্যাপরে কিন্তু তাদের ভালোবাসায় কোন কমতি নেই । দু-একটা ব্যাতিক্রমের কথা যদি কেউ তোলে তাহলে আমি হতাশ হব ।
এটাতো নিশ্চয়ই মানবেন যে প্রত্যকটি মানুষের আলটিমেইট গোল হচ্ছে পরবর্তি প্রজন্মে (সন্তান) র জন্য একটা দ্্বাড় উন্মুক্ত করে যাওয়া যেন তার চলার পথ মসৃন হয় । অর্থাৎ তার ভাবনার একটা বিড়াট অংশ জুড়ে থাকবে পরবর্তি প্রজন্ম । সেই প্রজন্ম কে সুন্দর করে গোড়ে তোলার জন্য বাবা মা উভয়েরই প্রয়োজন আছে বলে আমার বিশ্বাস । বাবা অন্য মেয়ের সাথে জীবন শুরু করছে আর মা অন্য ছেলের সাথে, এই অবস্থায় সন্তানটির কি হাল, তাও ভাবে দেখা দরকার । শিশুকাল থেকেই জীবনের প্রতি তার একধরনের বিতৃ ঞা জন্মাবে । আর তা থেকেই পাঁ বাড়াবে অবৈধ পথে, যা এই মুহুর্তে পশ্চিমা বিশ্বে সবচাইতে ভীতিকর বিষয় বলে চিহ্নিত হয়েছে । তারাও এখন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পরিবারের কথা ভাবতে শরু করেছে ।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যাক্তিত্বের সংঘাত ঘটাতে বাধ্য । আর এই সংঘাতই দুজন মানুষকে পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্যের দাবীতে দুরত্বের জন্ম দেয় বলেই আমার ধারনা ।
আমিতো নিজেকে ভিষন সৌভাগ্যবান মনেকরি এই ভেবে যে, মা এবং বাবা উভয়ের মমতায় ঘেরা এক অসাধারন পরিবারিক বন্ধনের মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেছি আমি । আমার পরবর্তি প্রজন্মও যদি তেমন একটা পরিবার আশা করে তাহলে কি খুব অন্যায় হবে ?
3। নারী'র অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যাপারে আপনার মতের সাথে আমার কোন দ্্বীমত নাই । কিন্তু আমি সেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কখনই চাইবো না, যেখানে স্বাধীনতার আতিশয্যে পারিবারিক বন্ধনকে ভেঙ্গে-চুঁড়ে আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মত শুধু "চাচা আপন প্রান বাঁচা" বলে দেশ (পরিবার) জাহান্নামে যাক ভেবে ক্ষমতায় বসে থাকতে হয় সিন্দাবাদের ভূতের মত । আমি কিন্তু পরিবারের পক্ষেই রায় দিব ।
আমার কাছে মনেহয়, আমাদের নারী সমাজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় অন্তরায় আমাদের সামগ্রিক দারীদ্্র, সেটা সরকার এবং এলিট শ্রেনীর নীল নক্সার অংশ হোক বা নাহোক । আর সেই দারীদ্্র এবং শিক্ষার অভাব অঙ্গা-অঙ্গিভাবে জড়িত বলেই আমার ধারনা ।
আর সত্যিই যদি আমরা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চাই তাহলে সরকারকেই সর্বপ্রথম এগিয়ে আসতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে কর্ম ক্ষেত্র এবং নারীর উপযুক্ত কাজের পরিবেশ । নিশ্চিত করতে হবে কর্মক্ষেত্রে নারীর অবাধ যাতায়াত । যদিও সে সম্ভাবনা বাংলাদেশে একেবারেই ক্ষীন, তবু পোষাক শিল্প দরীদ্্র শ্রেনীকে কিছুটা হলেও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে সহায়তা করেছে । কিন্তু তা নারী সমাজকে কতটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছে তা নিয়েও আলোচনার অবকাশ রয়েছে । তবে নারী শিক্ষার হার উল্লেক্ষযোগ্যভাবে বাড়াতে না পাড়লে সে সম্ভাবনা শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে ।
তবে আপনার শেষ প্যারার প্রথম লাইন (অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যেদিন আমাদের সমাজে আসবে, তখন বদলে যাবে আমাদের সমাজের চিত্রও ) কে টেনে এনে বলতে চাই, যদি বদলে যাওয়া সমাজের চিত্র বলতে আপনি বাবা-মা'য়ের ব্যাক্তি স্বার্থে একটি পরিবারকে ভেঙ্গ ফেলার পক্ষে রায় দেন, তাহলে অবশ্যই আমি আপনার সঙ্গে এক মত হব না । নারী স্বাধিন হউক কিন্তু টিকে থাকুক পরিবার, শিশু বেড়ে উঠুক মমতাময়ী মা'য়ের অাঁচলের তলায় আর বাবার স্নেহ-ভালোবাসায়, এটাই আমার একান্ত কাম্য । নারী (কা)পুরুষদের অত্বাচারে নিষ্পেষিত হয়েও পরিবার রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করুক, আমি এই নীতিতেও বিশ্বাসি না । নারী নির্যাতনে (শারিরিক এবং মানষিক) র বিরুদ্ধে দেশে যে আইন আছে তার সঠিক বাস্তবায়নই নারীকে পুরুষের অত্বাচার থেকে রক্ষা করতে পারে । আর তখনই নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা একই সঙ্গে, একটি পরিবারকে রক্ষা করতে পারে, গড়ে দিতে পারে একটা শিশুর সুন্দর জীবন আর উপহার দিতে পারে একটা আদর্শ আগামি প্রজন্ম, যারা আমাদের ঘুনে ধরা সমাজকে প্রচন্ড আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে পারবে ।
আশাকরি আমার লেখাকে সবাই সুস্থ চোখে দেখবেন, আর অবস্যই মতের মিল না হলে সুস্থ সমালোচনার সুযোগতো রইলোই ।
তীরন্দাজের "কাঁটা বিছাবো নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার পথে" এবং কিছু ভিন্নমত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×