অবশেষে অনেক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই কাংখিত দিনটি আজ আমার জীবনে উপস্থিত।
আজ তার সাথে আমার দেখা হবে। একটা ভয় মিশ্রিত উত্তেজনা মনে বাসা বেঁধেছে। প্রতিদিন ফোনে কথা বলা, কিছুক্ষণ পর পর ম্যাসেজ দেয়া, একজন আরেক জনকে মিসকল দিয়ে 'I miss you' বোঝানো, সর্বপরি প্রতি সপ্তাহে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চিঠি দেয়া নেয়ার পর আজ দুজনে দেখা করতে যাচ্ছি।
জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। চমৎকার রোদ ঝলমলে দিন। ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে প্রিয় আকাশী-নীল রংয়ের শার্ট আর নেভী ব্লু জিন্সের প্যান্ট পরে বের হলাম। বের হবার পর খেয়াল করলাম দুপুর হতে বেশ বাকী নেই।
নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। না, বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় নি। একটা রিক্সা এসে থামলো আমার সামনে। আরোহিণী নীলচে বেগুনি শাড়ী পরা।
রিক্সা থেকে নেমে মধুরকণ্ঠে বলল, 'আশা করি খুব একটা দেরী হয় নি।' আমি উত্তর দিলাম, 'না, আমি এসেছি বেশীক্ষণ হয় নি।' সে এসে আমার হাত টা ধরে বলল, 'চলো, হাঁটি। তোমার আপত্তি নেই তো?' আমি হেসে বললাম, 'সারা জীবন? তাহলে আমি রাজী।' সেও উত্তরে হাসি দিল। সেই হাসি, তার প্রেমে পড়ার কয়েকটা কারণের একটি।
দুজনে হাত ধরে হাঁটছি আর গল্প করছি। এর মধ্যে ভয় ছিল পরিচিত কেউ যদি দেখে ফেলে, কি উত্তর দেবো? যদিও ভয়টাকে তেমন বংশ বিস্তার করতে দিলাম না। হাঁটতে হাঁটতে জেলা ষ্টেডিয়ামের কাছে চলে এলাম। ষ্টেডিয়ামে কাজ চলছে। ইট সুড়কি বিছানো রাস্তা পেরিয়ে দেখলাম বিল্ডিং এর বারান্দা। ছায়াঘেরা বারান্দা দেখিয়ে তাকে বললাম, 'চলো, ওখানে বসি।' সেও সম্মতি দিলো।
আইসক্রিম খেতে খেতে গল্প চলছে, সেই সাথে খুঁনসুটি। তখনো দুজনে হাত ধরে আছি...
আর তখনই ঘুমটা ভেঙে গেল। চোখের সামনে হাতটা এনে আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করলাম তার স্পর্শ যেন আমি বাস্তবেও পাচ্ছি!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



