পোশাক হিসেবে 'ওড়নার' ব্যবহার বাংলাদেশে বহু যুগ ধরে সমাদৃত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মোটামুটি অধিকাংশ নারীরাই এই পোশাকের ব্যবহার করে থাকেন।
যদিও ইসলাম ধর্ম শালীনতার অংশ হিসেবে বিশেষ ধরনের পোশাক কে মুসলিম নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। অনেক মডারেট মুসলিম নারী সেই পোশাক পরিধান করতে অস্বস্তিবোধ করলেও ওড়না পড়তে তারা অভ্যস্ত কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই। একধরনের পছন্দ ও বলা যায়।
বাংলাদেশে মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বী নারীরাদেরকেও এই পোশাকের বহুল ব্যবহার করতে দেখা যায়। এবং তারা সম্ভবত কোন ধরনের নিজস্ব ধর্মীয় নির্দেশনা এবং প্রেরণা ছাড়াই এই পোশাক পরে থাকেন, অন্য ধর্মের নির্দেশনা মানার তো প্রশ্নই আসেনা।
তাহলে কেন তারা এটা পরিধান করে থাকেন??
'শালীনতা' এমন একটা শব্দ যেটা কমন জেন্ডারের মত কাজ করে। কি পুরুষ, কি নারী?? যদিও পশুপাখিদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। আর যদি কেউ নিজেকে মানুষ হিসেবে মানতে অপারগ হন তাহলে তার জন্য পশুপাখির অপশানটা খোলা থাকে।
নারী-পুরুষ (তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন) উভয়ের শরীরের এমন কিছু জায়গা থাকে যেখানে শালীনতা বজায় রাখাটা জরুরী যাতে নৈতিকতা আর সামাজিকতার ন্যূনতম প্রতিফলন প্রকাশ পায়। আমরা অনেকে ধর্মীয় নির্দেশনা না মানলেও সামাজিকতার এই রুচিটি মেনে চলে এসছি বহুদিন ধরে।
এক কথায় বলা যায়, 'ওড়না' কোনপ্রকারেই ধর্মীয়, গোষ্ঠীয় কিংবা সাম্প্রদায়িক পোশাক হতে পারেনা। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সব ধর্ম-গোষ্ঠীর মানুষ শালীনতার অংশ হিসেবে পরে থাকেন।
২.
অনেক বিজ্ঞ বিশ্লেষক, সূশীলরা এই 'ওড়না'কে মুসলিম ভাবধারার পোশাক হিসেবে আখ্যা দিয়ে, পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ বিষয়ক নানা আলোচনা সমালোচনার মুখরোচক বুলি ইতিমধ্যে দিয়েছেন শুধু ' ও- তে ওড়না চাই' কে কেন্দ্র করে। অথচ ওড়না কোনভাবেই সাম্প্রদায়িক পোশাক হতে পারেনা, যেটা আগেই বলা হয়েছে।
কিন্তু যেসব বিষয় আসলেই সাম্প্রদায়িকতার ইঙ্গিত বহন করে তেনারা সেসব বিষয়গুলি সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন(খুব সম্ভবত নিজেরাও সেগুলির চর্চা চান বলে)।
র-তে রথ টানি। 'রথ' হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় চর্চা।এতে মুসলিম কিংবা অন্য ধর্ম সম্প্রদায়ের কোন ধরনের ধর্মীয় সসম্পৃক্ততা অথবা সমর্থন নেই।
অন্নদাশঙ্কর রায়ের 'নেমন্তন্ম' কবিতায় 'প্রসাদ ভোজন'
শব্দের ব্যবহার হয়েছে। বিভিন্ন দেব-দেবতার নামে পূজো এবং তাদের নামে উৎসর্গকৃত খাবার 'প্রসাদ' নামে পরিচিত যেটা পুজারীরা এবং দেবতার অনুগ্রহ কামনাকারীরা আহার করে থাকে। এটা হিন্দুয়ানী ঐতিহ্য, রীতিনীতির ধারক ও বাহক যেখানেও মুসলিম কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের ন্যূনতম ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা নেই।
আর আমাদের জনৈক বিদ্ধানদের কাছে এগুলো হয়ে যায় অসাম্প্রদায়িক আর 'ওড়না' হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক?????
খালি চোখে বাস্তবিকভাবে যেটা দেখা যাচ্ছে, কতিপয় সুশীলরা একটি নির্দিষ্ট ধর্ম কে পেট্রনাইজ করছেন এবং ইসলাম কে অন্য ধর্মের মুখোমুখি দঁাড় করিয়ে দিচ্ছেন। যেটা এতকাল কখনোই পরিলক্ষিত হয় নি। সাম্প্রদায়িকতার চরম উদাহরণ তো উনারাই, যার এসব অসাম্প্রদায়িকতার বুলি কপচায়।।
অনতিবিলম্বে জাতীয়ভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে 'সুশিলতা' এবং 'অসাম্প্রদায়িকতার' সংজ্ঞা এবং উদাহরণ ঠিক করা হোক। মুসলিমরা এককভাবে সাম্প্রদায়িকতার ভার বহন করাটা রাষ্ট্রীয় বৈষম্য।



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৬:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



