জীবনের প্রথম পর্যায়েএকটা দুইটা স্বপ্ন দেখে পোষায়তো না।অমুক হবো,তমুক হবো,ঘোড়া কিনবো ,হাতি কিনবো ইত্যাদি ইত্যাদি মনমুগ্ধকর স্বপ্নে পার হতো একেকটা দিন। কিন্তু কাজের বেলায় ছিলাম ঠনঠনা।ssc পর্য়ন্ত মা আদা জল খেয়ে লাগল আমার পেছনে।পারলে সেই মুখস্ত করে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আমায় ভালো রেজাল্ট করিয়ে দিত। আমিও তার সুয়োগ নিতে থাকলাম।যেদিন খারাপ রান্না হতো বলতাম আজ মাথার বুদ্ধি কমে গেছে তুমি ভালো খেতে দাও নি।তাই আজ পড়তে পারবো না।
সন্ধ্যা থেকে ১২টা অবধি টিভি দেখা শেষ করে পড়তে বসতাম।..আর মাকে বলতাম আমার পাশে বসে থাকতে।মা তাই করতো।সারা দিন হার ভাঙ্গা খাটুনির পর বেশি ক্ষন জেগে থাকতে পারতো না। চোখ যখন ঘুমে লেগে আসতো তখন জাগিয়ে দিয়ে বলতাম ঘুমাচ্ছ কেন,আমার ভয় লাগছে তো !!মা আবার উঠে বসতেন।এতো অত্যাচার সহ্যের পর শেষ পর্যন্ত মা সফল হলেন।আমি ভালো রেজাল্ট করলাম।।
এবার গ্রামের পাঠ চুকিয়ে পড়তে আসলাম শহরে।নতুন জীবন ,নতুন আকাশে উড়া..:মন্দ লাগছিল না।আমার পাশে মায়ের রাত জাগার গল্প গুলোর কথা ভূলে গেলাম। পড়াশুনার গতি কমতে থাকল।এইচ.এস.সি থেকে মাস্টাস্ আশানুরুপ রেঝাল্ট করতে পারলাম না।তবুও যেটুকো অর্জন ছিল তাই দিয়ে আবার নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম।ফল স্বরুপ পেলাম একটা বেসরকারি চ্যানেলে সাংবাদিকতা করার সুযোগ, সেই সঙ্গে সংসার।
আমার ৫ মাসের চাকুরীতে ৩মাসের ছুটি।।যে কারনে সেখানেও ভালো কিছু আশা করি না।......
তবে খুব অবাক হই যখন দেখি আমার ছোটবেলার স্বপ্ন গুলোর মধ্যে শুধু মাত্র একটা স্বপ্ন এখনও জীবন্ত।ওই একটা স্বপ্নই এখনও আমাকে আশার সন্চার করে।আমি এখনও বিশ্বাস করি যে কোন একদিন আসবে যেদিন আমার মা বলবে আমার নির্ঘুম রাত গুলো বৃথা যাইনি.....আমার মেয়ে আজ অনেক বড় লিখিকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




