somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রহর্তা অন্তর
আমি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। স্বপ্নের ঘোরেও আমি স্বপ্ন দেখি একটি বকশিত অসাম্প্রদায়িক মানব সভ্যতার।

সীমানা পেরিয়ে, ১০০ তম সীমান্ত জয়ে...

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা ভ্রমণবিলাসী, ভ্রমণকন্যা বা ভ্রমনপিয়াসু যে নামে ডাকি, তিনি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিলেন এক লাইনে “I was born to travel” - আমি ভ্রমণের জন্য জন্মেছি। বাংলাদেশের মত একটি রক্ষণশীল পুরুষ আধিপত্য সমাজে নারীরা আপন মহিমায় স্ব-স্ব অবস্থানে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে - নাজমুন নাহার সোহাগী সেসব নারীদের মধ্যে এক জ্বলন্ত দিশারী।


রবি ঠাকুরের স্ফুলিঙ্গ কবিতা [আয় চলে আয়রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে, উড়িয়ে দে তোর বিজয়-কেতন] বা কাজী নজরুলের নারী কবিতা [কোন কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী]। নজরুলের কবি কল্পিত নারী কবিতার ভাবার্থ উল্টো করে দেয়েছে আমাদের লক্ষ্মীপুরের সেই বিজয় লক্ষ্মী নারী নাজমুন নাহার সোহাগী। প্রেরণা দিতে নয়, বরং প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে লাখো ভ্রমনপিয়াসু মানুষের কাছে। বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নে। ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষীপুর হামছাদী ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে সোহাগীর জন্ম।


সম্প্রতি বাংলা টিভির ভাইস চেয়ারম্যান নিশাত দস্তগীর সাথে ছায়াসঙ্গী হয়ে নাজমুন নাহার সোহাগী এসেছিল কাতারে। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের চমকপ্রদ তথ্যের সাথে কম খরচে কিভাবে ভ্রমণ করা সাধ্যায়ত্ত করা যায় সেসব বিষয়ে একান্ত কথা হয়েছিল অতি বিনয়ী এই “বিরামহীন বিশ্ব-পথিকের” সাথে। সাথে থাকা অনেক স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র দিয়ে গেলেন সৌজন্য দেখিয়ে। ২০১৬ ও ২০১৭- এই দুই বছরে সোহাগী ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। ২০০০ সাল থেকে এ যাত্রায় সব মিলিয়ে তার ভ্রমনের ডায়েরিতে যুক্ত হয়েছে ৯৩ টি দেশের নাম। নাজমুন এরমধ্যে বেশির ভাগ দেশই ঘুরেছেন একা। ১৪টি দেশ ঘুরেছেন মাকে সঙ্গে নিয়ে।


হাতের লাল সবুজের পতাকা কখনো মাথায় মুড়িয়ে, কখনো শরীরে জড়িয়ে ঘুরিয়ে বেড়িয়েছেন এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা,উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের ৯৩ দেশ। এভাবে নাজমুন “বাংলাদেশকে” পরিচয় করিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর ছয়টি মহাদেশের বিভিন্ন দেশের সাথে আর পৃথিবীকে পরিচয় করিয়েছে “বাংলাদেশের সাথে, বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিজয়ের কেতন উড়িয়ে।


প্রথমে ভারতীয় বাঙালী নারী মেজর(অব) শিপ্রা মজুমদার, পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের দুই নারী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার নিশু (১৯ মে ২০১২) ও এখনও পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন (২৬ মে ২০১২) এর এভারেস্ট জয় বহিবিশ্বে বাঙালি নারীর বিজয়ের অগ্রযাত্রা সুত্রপাত ধরা যায়। ওয়াসফিয়া নাজরীন বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সেভেন সামিট (পর্বতশৃঙ্গ) জয় করেছেন। সেই অনুবৃত্তিক্রমে ১০০ শততম দেশে বাংলাদেশের পতাকা হাতে দীপ্ত পায়ে এগোচ্ছে আমাদের নাজমুন নাহার সোহাগী।


বাংলাদেশ আজ নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বের বুকে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম নারী শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনস্বত্ব বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাই নারী ছিলেন। নিশাত, ওয়াসফিয়া, নাজনীন ও নাজমুন নাহারের পদাংক অনুসরণ করে গোঁড়ামি ইন্দ্রজাল ভেদ করে বাঙালী নারীর জয়যাত্রার এই লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে এই প্রত্যাশা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×