somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে হয়েছিল জাতির পিতার জানাযা ও লাশ দাফন?

১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের মুখে একটা কথা প্রায়ই শুনি ৷ “মুজিবের উপর তৎকালিন জনগণ এতটাই বিতৃষ্ণ ছিল যে তার মৃত্যূর পর তার জানাযা পড়তেও পর্যন্ত আসে নি" ! আমার ঠিক জানা নেই মানুষ কিভাবে এরকম মিথ্যাচার করতে পারে? এর আসল সত্য জানতে হলে আপনাকে আগে জানতে হবে কীভাবে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ দাফোন করা হয়েছিল ?

মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সেই দাফন কার্যের বর্ণনা জানতে গেলে হয়ত খুব বেশি শব্দ আপনাকে হজম করতে হবে না! আমি চাই আপনি সত্যটা জানুন.....

শুক্রবার, ২৯ শ্রাবন ১৩৮২, ১৫ আগষ্ঠ, ১৯৭৫ সাল ৷ আস্তে আস্তে রাতের অন্ধকারের শেষ রেশটুকুও ফিকে হয়ে গিয়েছে ৷ সারা শহরে কারফিউ ৷ নিশ্চয়ই প্রতিদিনের মত খবরের কাগজ ছাপা হয়েছিল ৷ কিন্তু বিক্রির জন্য সেই পত্রিকা নিয়ে কোন হকররা আর আজ শহরের পথে ঘুর ঘুর করছেনা ৷ পথঘাট পুরোটাই জনশুন্য ৷ শহরের পথে পথে কতগুলো কুকুর ছাড়া কোন মানুষ চোখে পড়েনা ৷

আর এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত লাশ ৩২ নম্বরে সৈন্যদের কঠোর পাহারায় রয়েছে ৷ অন্য বাড়ির লাশগুলি এনে এখানে রাখা হয়েছে ৷ অনেক রাতে গোসল ও জানাজা ছাড়া বঙ্গবন্ধুর লাশ রেখে বাকি সব লাশ বনানীতে দাফন করা হল ৷ টুঙ্গিপাড়ার ওসিকে খবর পাঠানো হল, আগামী কাল বঙ্গবন্ধুর লাশ যাবে ৷ সুতরাং কবর যেন আগেই খনন করা হয় ৷ ঘাতকেরা সময়ের অপচয় করতে চায় না !

রাতে বঙ্গবন্ধুর লাশ বরফ দিয়ে ৩২ নম্বরে রাখা হল ৷ লেঃ কঃ আবদুল হামিদকে দায়িত্ব দেওয়া হল হেলিকাপ্টারে করে লাশ টুঙ্গিপাড়া নিয়ে দ্রুত দাফন করে, কবর পাহারায় রেখে চলে আসার জন্য ৷

সকালে লাশ বহনের জন্য একটা বাক্স এনে তাতে আবার বরফ দিয়ে সম্পূর্ণ লাশ মুড়ে সৈন্যরা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গেল ৷ সকালেই টুঙ্গিপাড়ার ওসি বঙ্গবন্ধুর বাড়ির মসজিদের ইমাম মৌলভী আবদুল হালিমের কাছে খবর দিলেন লাশ আসতেছে ৷ সুতরাং কবর খুরতে হবে ৷ ইমাম সাহেব হত্যাকান্ডের খবর শুনে আগে থেকেই শোকাহত ছিলেন ৷ অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ঘাতকদের বন্দুকের গুলির ভয়ে অন্যদের সাহায্যে তিনি কবর খনন করেলেন ৷

বেলা দেড়টায় একটা হেলিকাপ্টার এলো ৷ বাড়ির কাছে থানার পাশে মাঠে নামল ৷ লেঃ কঃ হামিদের নেতৃত্বে মোট ১২ জন সৈন্য কফিন বয়ে আনল ৷ চারিদিকে খুব কড়া নিরাপত্তার পুলিশি ব্যবস্থা ৷ পুরো টুঙ্গিপাড়ায় আগে থেকেই কারফিউ জারি ছিল ৷ বঙ্গবন্ধুর দুই মামা শ্বশুর শেখ মনসুরুল ও শেখ মনজুরুল হক কফিন বুঝে নিলেন ৷ শোকাক্রান্ত জনগনকে কাছে আসতে দেওয়া হল না ৷

লেঃ কঃ ইমাম সাহেবকে দ্রুত লাশ দাফন করতে বলল ৷ লাশ দেখার পর ইমাম সাহেব জানালেন পুরো কার্য সম্পাদন করতে দুই ঘন্টা সময় লাগবে ৷ লেঃ কঃ হামিদ ইমামের কাছে এত সময় কেন লাগবে তা জানতে চাইল ৷
ইমাম সাহেব বললেন, "শরীয়াত অনুযায়ী গোসল করাতে ও জানাযা পড়াতে সময় লাগবে ৷"
লেঃ কঃ হামিদ এসব ছাড়াই করা যায় কি না বলতেই ইমাম সাহেব উত্তর দিলেন, "একজন মুসলমানের লাশ গোসল ছাড়াই দাফন করা যায়, যদি সে শহীদ হয় ৷ "

হামিদ একটু রেগে গিয়ে বললেন, আপনি দাফন করবেন কি—না?
“না, পারব না ৷ যদি লিখে দিন যে শহীদ করে এনেছেন তাহলে দিতে পারি"
"না, সেটা লিখতে পারব না ৷ ঠিক আছে গোসল করান ৷ তবে দেরি করতে পারবেন না"

৫৭০ সাবান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে যথারীতি গোসল করান হল ৷ রেডক্রস থেকে চার ইঞ্চি পাড়ের সাদা শাড়ি এনে পাড় ছিড়ে ফেলে কাফনের কাপড় বানানো হল ৷ একটা গুলি মাথার পেছনে করা হয়েছিল ৷ নয়টা গুলি চক্রাকারে বুকের নিচে করা হয়েছিল ৷ পায়ের রগ কাটা ছিল, একটা আঙ্গুলেও গুলি করা হয়েছিল ৷

খুব দ্রুত লাশ দাফন করা হয়ে গেল ৷ জানাযায় বাইরের কোন মানুষকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হল না ৷ ওরাই মারল আবার ওরাই তার জানাযা পড়ল ৷ পিতার কবরের উপরে মাটি চাপা দিয়ে, উঠোনের বরই গাছের কাঁটাভরা ডাল চাপিয়ে দিল ৷ হেলিকপ্টার চলে যাবার আগে ওরা বাইগার নদীর পানিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর পবিত্র রক্ত ধুয়ে টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে ফেলে গেল ৷

আজ সেখানেই শিরিষ-কদম-নিম-নারকেল-তাল-তমাল-বকুল গাছের নিভৃত ছায়ায়, সবুজ প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় বঙ্গবন্ধুর মাজার ৷
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯



৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।

সিদ্ধান্তটা গতকাল নিইনি। অনেক দিন ধরে একটু একটু করে নিয়েছি।

আজ শুধু বাস্তবায়ন করতে বের হয়েছি।

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎ ছিল না।

আমি এমন এক জায়গায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×