শুনলাম সরকারের সেই কর্তাব্যক্তিরা নাকি আবারও সামনে হাটার চেষ্টা করছে যারা কিছুদিন আগেই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ করার একটা কুচেষ্টা করেছিলেন ৷ ঐ অবিবেচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তখন সবাই সরব হয়েছিল বলেই উনারা পিছু হাটতে বাধ্য হয়েছিলেন ৷ এই ভুত হয়ত আমরা আবারও তাড়িয়ে দিব কিন্তু আইন রক্ষা করেই যে কান্ড করা হচ্ছে তা রুখবে কে? ছোট দুটো প্রাসঙ্গিক ঘটনা বলি……
ঘটনা - ১,
গ্রামের এক হত দরিদ্র কৃষক সেলিম মিয়া ৷ একটা ছেলে সন্তানের আশায় চার চারটা কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন ৷ এখন বাবা যেহেতু হয়েছেন পিতার দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে ৷ সেই দায়িত্ববোধ থেকেই হয়ত এখন বড় মেয়ের বিয়ে দিতে চাচ্ছেন! কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে মেয়ের বয়স ১৮ হয় নাই ৷ এবার সেলিম মিয়া ধরলেন এলাকার মেমবারকে ৷ মেমবার সাহেব সব কথা শুনলেন ৷ সেলিম মিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে দয়াশীল মেমবার সাহেব সব ব্যবস্থা করে দিলেন ৷ ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেলিমের ১৫ বছরের মেয়ে এখন ১৮! তার মেয়ের বিয়ে এখন আর ঠেকায় কে?
এরই কিছুদিন পর জানা গেল সেলিম মিয়াকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না ৷ বাল্যবিবাহ হচ্ছে জেনে পুলিশ হামলা দিয়েছিল বিয়ে বাড়িতে ৷ তখন থেকেই মেয়ের বাবা উধাও! পরে আরো জানা গেল, পারিবারিক অবস্থার কথা ভেবে যিনি বেআইনি কাজ করেছিলেন সেই মেমবার সাহেবকেও সেলিম মিয়া বোকা বানিয়ে দিয়েছেন ৷ বড় মেয়ের বিয়ের কথা বলে বয়স বাড়িয়ে যে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই কাগজ দেখিয়ে মেঝো মেয়ের বিয়ের দিচ্ছিলেন সেলিম মিয়া!
ঘটনা - ২,
মেয়ের নাম নাসরিন ৷ বাবা-মা নাসরিনকে নিয়ে এসেছে ইউনিয়নের চেয়্যারম্যানের কাছে ৷ চেয়্যারম্যান সাহেব নাসরিনকে দেখে বিনা বাক্যে মেনে নিলেন এই মেয়ের বয়স নিশ্চিত ১৮ ৷ তার মানে নাসরিন বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে ৷ চেয়্যারম্যানের লিখিত পেয়ে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র নাসরিনের জন্মনিবন্ধনে তাকে ১৮ বয়সী বানিয়ে দিল ৷
অবশ্য নাসরিনের বিয়ের পর জানা গেল, এ নাসরিন সে নাসরিন নয়! জন্মনিবন্ধনের কাগজ দেখে যায় কাবিন করা হয়েছে সে নাসরিনই ছিল ৷ তবে যাকে সেদিন চেয়্যারম্যানের কাছে হাজির করা হয়েছিল সে নাসরিন ছিল না ৷ সেদিন পাশের বাড়ির বিবাহিত এক মেয়েকে নিজের মেয়ে বলে চালিয়ে ছিল নাসরিনের বাবা-মা!
বুঝাই যাচ্ছে আমাদের দেশের জনগণ বাল্যবিবাহের আইন কিভাবে মেনে চলছেন! উপরের দুটি ঘটনাই আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র ৷ শহর ছেড়ে একটু পাশে তাকালেই এসব অহরহ দেখা যায় ৷ সরকার কঠোর হলেও কাজ হচ্ছে না ৷ আসলে সবার আগে দরকার জনসচেতনতার! সেই দায়িত্বটা আমাদেরই ৷ দেশের প্রত্যেকটা শিক্ষিত সচেতন নাগরিকদের ৷ কিম্তু আমরা কোন ভুমিকা পালন করছি না ৷ আমাদের সকল দেশ সেবা এখন অনলাইনেই সীমাবদ্ধ ৷ প্রতিদিন সরকারের সমালোচনা করে রাতে এক গ্লাস দুধ খেয়ে ঘুমিয়ে যাই ৷ আমাদের নারীবাদিরাও শহুরে শিক্ষিত নারীদের নিয়েই ভাবেন ৷ কি পেলেন কি পেলেন না সে দাবি নিয়েই উনারা ব্যস্ত! গ্রামের মেয়েদের নিয়ে ভাবার টাইম উনাদের নাই ৷ এভাবে কেবল জনসচেতনতার অভাবে আজকের একজন জরিনা-মর্জিনা আগামীতে নতুন করে একটা জরিনা-মর্জিনা পয়দা করবে এবং এভাবে চেইনটা যুগ যুগ ধরে হয়ত চলতেই থাকবে…

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




