শুধু যে আমাদের দেশে এমনটা না সারা বিশ্বে ভূত নিয়ে লেখা গল্প, উপন্যাসের কমতি নেই; আর এসব পছন্দের বেশীরভাগ হয় কিশোর পাঠক । এই বয়সেই আবার মানুষ সবচেয়ে বেশি ভূতের ভয়ে সঙ্কিত থাকে। কিন্তু তাতে কি আসে-যায় ! ভূতের গল্প পড়তে বা শুনতে তিনারা কখনও বিন্দুমাত্র আগ্রহ হারান না। বড়রাও কিন্তু কম না। যদিওবা অনেক মানুষই মুখে ‘ওসব ভূত-টুত বলে কিছু নেই’ শোনা যায়, কিন্তু কথা হচ্ছে যে যতই বলুন না কেন, মনে মনে সবাই ঠিকই ভূতের কাছ থেকে একটু দুরেই থাকতে চান। আবার অনেকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ভূত বলে সত্যিই কিছু নেই। বাজে কথা যতসব! অপরদিকে যারা নিজে জীবনের কোনো না কোনো সময় ভূতের পাল্লায় পড়েছেন তারা আবার এটাকে অস্বীকার করতে পারেন না। তবে যাই বলুন না কেন এই ভূত নিয়ে মানুষের কৌতূহলের কিন্তু শেষ নেই।
আজ এমনি একটা ভূতের জায়গার কথা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব । আশা করছি আপনাদের সবারই ভালো লাগবে। তাহলে চলেন তারাতারি শুরু করা যাক_

বোরলে রেকটরি পৃথিবীর শীর্ষ দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে একটি । মজার ব্যাপার হল এই ভূতের কারনেই এই জায়গাটি রীতিমতো বিখ্যাত! হয়ে উঠেছে । এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভৌতিক জায়গা হিসেবে পরিচিত। আসলে এটিকে জায়গা না বলে একটি বাড়ি বলাই ভালো। বাড়িটি যুক্তরাজ্যের বোরলে গ্রামে। ১৮৬৩ সালের কথা রেভারেন্ড হেনরি নামের এক ব্যক্তি তার নিজের জন্য বোরলে গ্রামে একুটি বাড়ি নির্মাণ করেন। স্ত্রীসহ ১৪ জন ছেলেমেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। কিন্তু এই সুখের সংসার বেশি দিন থাকে নি। ১৯৩৯ সালের একটি ঘটনা সব কিছু ওলটপালট করে দেয়। সে বছর ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে তারা সহ-পরিবারে মারা যান। এরপর থেকেই এই বাড়িতে আর কেউই থাকতে পারেনি । কেউ থাকার জন্য এলেই তাদের সাথে ঘটতে থাকে একের পর এক ভূতুড়ে লোমহর্ষক ঘটনা ।

অনেক পুরান দিনের কথা বিধায় এই বাড়িটি ভূতুরে হবার কারন হিসাবে আরও নানা ধরনের গল্প শোনা যায় , অনেকের মতে এর পেছনে ছিল এক করুন প্রেমকাহিনর গল্প।
এই গল্পটি ছিলো- এক সন্ন্যাসিনীর প্রেমে পড়েন বোরলের নান। ভালবেসে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন দুজনে । সন্ন্যাসিনীর বিধায় বিষয়টা সহজ ছিল না সে সময় তাই দুজনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা পালিয়ে যাবেন । পরিকল্পনা করে দুজনে পালাতে গিয়ে ধরা পরলেন গ্রামবাসীর কাছে । এই ঘটনার বিচারে প্রেমিকা সন্ন্যাসিনীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এবং নানকে এই বাড়ির সুউচ্চ প্রাচীর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। আবার কেউ বলেন নানকে এই বাড়িতেই পুড়িয়ে মারা হয়। ব্যাস তারপর থেকেই ঘটতে থাকে অদ্ভত সব ঘটনা । ১৯৪৪ সালে ‘লাইফ’ ম্যাগাজিন এ বিষয়ে একটি ফিচার প্রকাশ করে। এবং এটি করতে গিয়ে ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় এমন কিছু বিষয় ধরা পড়ে যেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। যেমন ফটোগ্রাফার যখন বাড়ির ছবি তুলতে যান তখন বাড়ির ভেতরে দরজার আড়াল থেকে তার দিকে ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারা হয়। কিন্তু অনেক খুঁজেও পরে আর সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ হলে বাড়িটি নিয়ে কৌতূহলী মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে সেই কৌতূহল ছড়িয়ে পরে বিশ্বময়।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



