জীবন্ত কিংবন্দন্তি পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফ্র্যাঙ্ক হকিং ছিলেন জীববিজ্ঞানের গবেষক। আর মা ইসাবেল হকিং ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী। বাবা চেয়েছিলেন হকিং বড় হয়ে চিকিত্সক হোক। কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই হকিংয়ের আগ্রহ বিজ্ঞানে আর গণিতে। হকিং গণিত পড়ার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি হোন। কিন্তু যেহেতু সেখানে গণিতের কোর্স পড়ানো হতো না, সেজন্য হকিং পদার্থবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়া শুরু করেন। সে সময়ে তার আগ্রহের বিষয় ছিল তাপগতিবিদ্যা, আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যা।

১৯৬২ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কোর্স করাকালে হকিং মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। ছুটিতে বাড়িতে আসার পর ডাক্তার পিতা তাকে নিয়ে যান হাসপাতালে। ডাক্তাররা পরীক্ষার পর জানান, হকিং আক্রান্ত হয়েছেন মটর নিউরন ডিজিজে, আমেরিকায় এই রোগটির নাম লো গ্রেইরিজ ডিজিজ। স্নায়ুতন্ত্রের এই রোগ ক্রমশ হকিংকের প্রাণশক্তি নিংড়ে নেবে। সেসময় ডাক্তারদের ভাষ্যমতে, হকিং আর মাত্র দু-আড়াই বছর বাঁচবেন।

১৯৬২ সালে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী জেনের সঙ্গে লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট হওয়ার আগেই হকিংকের অসুস্থতা ধরা পড়ে। কাজেই উজ্জ্বল স্ফূর্তিবাজ, প্রাণবস্তু হকিংকে জেন দেখেননি কখনো। জেনের ভালোবাসা ছিলো অসুস্থ হকিংকে ঘিরেই। জেন আর হকিং দম্পত্তি তিন সন্তানের জনক। তারা হচ্ছেন রবার্ট, লুসি ও টিমোথি। ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী হওয়ায় জেনের বড় খেদ ছিল হকিঙের কাজের সঙ্গে একাত্ম হতে না পারা। তারপরও দীর্ঘদিন তিনিই ছিলেন হকিংয়ের সার্বক্ষণিক সেবিকা। পরে আর্থিক সচ্ছলতার কারণে সার্বক্ষণিক নার্স নিয়োগের সামর্থ্য হলে আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে হকিং ও জেনের মধ্যে। ডেভিড মেসনের স্ত্রী এলিনা মেসন হকিংয়ের নার্সিংয়ের দয়িত্ব নেন। এলিনার ভরসায় হকিংয়ের সঙ্গে বিদেশ যাওয়া বাদ দেন জেন। এর মধ্যে তিন ছেলেমেয়ের দায়িত্বও তাকে পালন করতে হয়। অবশেষে জেন ও হকিং পরস্পরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯১ সালে হকিং বিয়ে করেন এলিনাকে।
১৯৮০ সালের মাঝামাঝ সময়ে এক অপারেশনের ফলে হকিং সম্পূর্ণভাবে বাকশক্তি হারান। ছোট ছেলে টিমোথির বন্ধুর বাবা ডেভিড মেসন হকিংকে একটি কম্পিউটার বানিয়ে দেন, যা তার হুইল চেয়ারের হাতলে ফিট করা। ক্যালিফোর্নিয়ার এক কম্পিউটারবিদ হকিংয়ের কম্পিউটারের জন্য তৈরি করেছেন একটি বিশেষ সফটওয়্যার। শুধু আঙুল নাড়িয়ে হকিং কম্পিউটারের পর্দায় ফুটে ওঠা শব্দ নির্বাচন করেন। এভাবে তৈরি করেন বাক্য। ভয়েস সিনথেসাইজারের মাধ্যমে ওই বাক্য স্পিকার থেকে বের হয়ে আসে।
আরো জানুন স্টিফেন হকিং এর সম্পর্কে -স্টিফেন এর সামাজিক কর্মকাণ্ড স্টিফেন এর অর্জন সমূহ স্টিফেন হকিং এর ক্যারিয়ার প্রোফাইল স্টিফেন হকিং এর কিছু কথা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



