ভেজাল ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই রুলের পর আর সন্দেহ থাকে না, দেশে ওষুধ চোরাচালানিরা সক্রিয় রয়েছে।

চোরাচালানের মাধ্যমে যে ওষুধ দেশে আসছে, তা ভেজাল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম, যেমন- সিরিঞ্জ ও স্যালাইন চোরাইপথে দেশে আসছে। চীনসহ আরো কিছু দেশ থেকে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ আমদানি করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য পণ্যের নাম ঘোষণা দিয়ে এসব পণ্য আনছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি। এসবের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে চিকিৎসাব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইনফিউশন সেট (স্যালাইন সেট) আমদানির জন্য ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো অনুমতি দেয়নি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু ১৫৮ জন আমদানিকারক প্রায় ৯৪ কোটি টাকার ইনফিউশন সেট আমদানি করেছে। এই তথ্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এ বছরের মার্চে ৯৬ কেজি ও ৪ মে ৪৭২ কেজি ওষুধ জালিয়াতি করে অন্য পণ্যের নামে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে আমদানি করা হয়েছে। এ রকম আরো কিছু ভয়ংকর তথ্য আছে, তা গায়ে কাঁটা দেয়। এসবের অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আমরা জানছি না, কী ওষুধ খাচ্ছি আমরা। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ খাচ্ছি কি না, তা বোঝার উপায় নেই। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এতে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ক্যানসার, বিকলাঙ্গসহ ভয়ংকর সব রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ওষুধ খাওয়ানো তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ারই শামিল। এই দায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। কিন্তু আমরা কোনো পদক্ষেপ সে অর্থে দেখছি না, যা ভেজালমুক্ত ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। চোরাইপথে, কাগজপত্র জালিয়াতি করে যারা ওষুধ আমদানি করছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার উদাহরণ খুবই নগণ্য। এর অর্থ এই নয়, ওষুধের বাজার ভেজালমুক্ত। এই অবস্থায় ভেজাল ওষুধ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রোগমুক্তির আশায় ভেজাল ওষুধ খেয়ে তাতে যদি কারো মৃত্যু হয়, দায়ীদের জন্য অবশ্যই তা অমার্জনীয় অপরাধ। ঘন জনবসতির আমাদের এই দেশে যথাসময়ে যথার্থ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ এমনিতেই সীমিত। তারপর তা যদি ভেজাল ওষুধে সয়লাব হয়ে যায়, তাহলে আশার জায়গা বলতে আর থাকে কি! এই পরিস্থিতি চলতে পারে না। যথার্থ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব। এর জন্য সরকারের নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আশা করি, হাইকোর্টের রুলের মাধ্যমে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম চোরাচালান, সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করতে এখনই তৎপরতা শুরু করবে।
--------------------------------------------------------------------------------------------------এক দল আশাবাদী মানুষ
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৫ দুপুর ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



