এক ফরেইনারের (পাকিস্থানি ) সাথে কথা হল দু’দিন আগে। তার কোম্পানি বাংলাদেশে শাখা খুলবে। তাই সে আগে এসেছে মার্কেট রিসার্চ এর জন্য। আমি বললাম, রিসার্চের দরকার কি ম্যান? বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে মাটি ছুড়ে মারলেও সোনা হয়ে পড়বে। শুধু প্রশাসনকে একটু মেনেজ করে চলতে হবে আর কি। সে বলল প্রশাসনকে মেনেজ করে চলতে হবে কেন? আমি বললাম, তা না করলে ট্যাক্স অফিসে স্যুট বুট পরে প্রবেশ করলে পাগল হয়ে বের হয়ে আসতে হবে।
সে গাড়িতে ফার্মগেট সিগন্যালে এসে তন্দা মেরে ২৫ মিনিট ধরে নাকি বসে ছিল। সে আরও বলল, এদেশে গ্রিন সিঙ্গালের মানে কি আর রেড সিঙ্গালের মানে কি সেটা পরিষ্কার না। যখন রেড সিগন্যাল থাকে তখন মানুষ চলাচল করে। আবার যখন গ্রিন সিগন্যাল থাকে তখন মানুষ বসে বসে ঘুমায়। সে নাকি ট্র্যাফিকের ঝাড়িও খেয়েছে বাংলা ভাষায় । আমাদের কিছু কিছু ট্র্যাফিকের যা ভাষা, মাশাআল্লাহ।
বললাম, এদেশের সিস্টেম উল্টো। কিছুদিন থাকেন সয়ে যাবে। আর না সয়ে গেলে বিজনেস করার চিন্তা বাদ দিয়ে চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন আর জিয়া উদ্যান বেড়িয়ে পটলা বাইন্দা বাড়ি ফিরেন।
চিন্তা করেন একবার, আমাদের মত কথিত উন্নয়নশীল দেশে সবকিছুই হয় আলগা পরিকল্পনায়। এক কাজ করা হয় বারবার। আর জনগণের টাকা নষ্ট করা হয়। অনেক এলাকায় গিয়ে দেখবেন রাস্তা পীচ ঢালাই দেবার পর রাস্তা সংলগ্ন ড্রেন মেরামতের জন্য নব্য নতুন রাস্তাটা কুচিকুচি করে কেটে বড় বড় রিং বসানো হচ্ছে। ক্যান রে ব্যাটা আগে রাস্তা ভেঙ্গে রিং বসায়ে তারপর রাস্তা পীচ ঢালাই দিলিনা ক্যান?
দেখুন একবার, ঢাকা শহরে হাজার হাজার ট্র্যাফিক সিগন্যাল। প্রত্যেকটা সিগন্যালে হাজার হাজার বাতি আপন মনে জ্বলছে আর নিভে যাচ্ছে। আবার একই কাজে হাজার হাজার ট্র্যাফিক পুলিশ নিয়োগ দেয়া। বাতির কোন কাজ আদতে হচ্ছে না। শুধু শুধু বিদ্যুৎ নষ্ট। একদিকে বিদ্যুৎ নষ্ট আরেকদিকে ট্র্যাফিকের বেতন। যে কোনো একটা এক্টিভ রাখা দরকার। যেহেতু আমাদের দেশে পুপুলেশন বেশি এবং ট্র্যাফিক সিগন্যাল কেউ মানে না। সুতরাং ট্র্যাফিক পুলিশ রাখাই শ্রেয়। কিন্তু, এই হাজার হাজার ট্র্যাফিক সিগন্যালের বাতির দরকারটা কি শুনি?
দেশের নীতিনির্ধারকেরা কি দেশটাকে কখনই সিস্টেম্যাটিক ওয়েতে পরিচালিত করবে না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




