somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিতা মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য কেমন হওয়া উচিত ।

২১ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমগ্র দেশ যখন নিজ মাতা-পিতা হত্যার ঘটনায় এক সন্তানের গল্পে বিভোর ...... সেখানে আমি আজ আরেকটি সন্তানের কথা বলব ...।

ছেলেটির বয়স হয়ত ২১ বা ২২ হবে। উত্তর বাড্ডা বাজারের সামনে সে ভেলপুরি বিক্রি করে। তার সাথে আমার পরিচয় এই ভেলপুরির কারণেই। মাঝে মাঝেই খাই তার কাছ থেকে, কিছুটা অন্তরঙ্গতাও হয়েছে। দীর্ঘ রোজা, তারপর ঈদের ছুটি গেলো। বহুদিন পর আজ তার সাথে দেখা। আমাকে দেখে সে খুশীতে বাক বাকুম। নিজ হাতে ইস্পেশাল পুরি বানিয়ে খাওয়ালো। টাকাও নিলো না। আমি অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞাস করলাম, " কি হইল তোমার ? লটারি পাইছ নাকি?? "

"না মামা, লটারী না। তার থেকেও বেশী কিছু। আব্বা ছাড়া পাইছে "

তার বাবার বিষয়ে আমি শুনেছিলাম তার কাছে। কোনও একটা মিথ্যা কেসে সে জেলে আছে। আজ ডিটেইলস শুনলাম।

তার বাবা সিএনজি চালাতেন। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তারা যে বাড়িতে ভাড়া থাকত সেই বাড়িওয়ালা তাকে আসামী করে মামলা করে। এটেম্পট টু রেপ কেস। অনেক প্যাঁচালো কাহিনী, ডিটেইলস এ গেলাম না। আসল কথায় আসি। ছেলেটির বাবা কে পুলিশ জেলে ভরেছে প্রায় ২ বছর হল। বৃদ্ধের নিজের আপন ভাই বোন তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সে যে নির্দোষ ... এটা তারা বিশ্বাস করেনি । কিন্তু সন্তান পিতার প্রতি বিশ্বাস হারায়নি। দীর্ঘ ২ বছর ধরে বাবার হয়ে কেস লড়ে যাচ্ছে। সংসারের হাল নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে । সি এন জি চালিয়েছে দীর্ঘদিন। খরচে কুলাইতে না পেরে সেটাও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। জায়গা জমি অল্প যা ছিল, তা তো আগেই শেষ। কিছুদিন রিকশা, ভ্যান চালিয়েছে। কিন্তু কোর্ট এ দৌড়াদৌড়ির কারণে রেগুলার গাড়ি চালাতে পারত না, তাই মহাজনেরা তাকে সে পথ থেকেও বিমুখ করেছে। অতঃপর বাধ্য হয়ে সে এই ব্যাবসায় নামে। কিন্তু এই যখন অবস্থা এর মাঝে একদিন তার উকিল তাকে ফোন দিয়ে ২ লাখ টাকা চায়। নাহলে এই কেস সে আর আগাতে পারবেনা বলে জানায়। সেই ফোন কানে নিয়ে ঐ অবস্থায় হাউ মাউ করে কেঁদে উঠে, রাস্তার মাঝেই বসে পড়ে। ঐ সময় বেশ কয়েকজন আবার ওখানে দাঁড়িয়ে ভেলপুরি খাচ্ছিলেন। তো তেমনই একজন তাকে এগিয়ে এসে সান্ত্বনা দেয়। তার কাছ থেকে ডিটেইলস শুনে, তার একটা কার্ড এগিয়ে দিয়ে বলে পরদিন সকালে তার সাথে কোর্টে দেখা করতে। তিনিও পেশায় একজন উকিল।

ঐ ভদ্রলোকই ছেলেটির বাবাকে ছাড়িয়ে এনে দিয়েছেন, কোনও টাকা পয়সাও নেন নি। এমন কি কোর্টের ফী টাও উনি নিজ পকেট থেকে দিয়েছেন। যার কেউ নাই তার আল্লাহ্‌ আছে , কথাটা মিথ্যা না।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, আমাকে কেন তাহলে সে এসব বলল বা খাতির করল ???

কারন রোজার আগে শেষ যেদিন আমি ভেলপুরি খাচ্ছিলাম, তখন আসার সময় তাকে বলেছিলাম ... " ইনশাল্লাহ ... এবার ঈদ তোমার বাবার সাথেই করবা "

এক জন ঐশীর ঘটনা এই দেশে বিরল। কিন্তু ভেলপুরি ওয়ালার মত এমন হাজারও কাহিনী অহরহ ঘটছে। কিন্তু খুব সাধারণ বলে আমরা আমলে নেই না।

একজন অশিক্ষিত সিএনজি চালক কি এমন শিক্ষা দিয়েছিলেন তার সন্তান কে , যে সেই সন্তান তার বাবার জন্য সারা দুনিয়ার সাথে লড়তে পারে??? যা কিনা একজন শিক্ষিত বাবা তার ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া মেয়েকে দিতে পারেন নি।

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর নাকি সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন মাকে দেখার জন্য। হযরত বায়েজীদ বোস্তামি (রঃ) এর মায়ের প্রতি ভালোবাসাও আমরা বই তে পড়েছি। কিন্তু তা কত টুকু আমাদের কে নাড়া দিয়েছে ???

কারন তারা ছিলেন মহান, আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে এগুলি গল্পই থেকে যাবে। কিন্তু এই ভেলপুরি ওয়ালাদের পিতৃ প্রেমের রচনা গুলি যদি আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায় , তাহলে মনে হয় আমাদের বাবা মায়ের প্রতি আমাদের যে ভালবাসা আছে তা বাড়বে বই কমবে না ...
কারন ঐশী একজন। আর আমরা অগনিত ... যারা এই বুড়ো বয়সেও দুঃস্বপ্ন দেখলে জেগে উঠে পানি পরে খাই ... জানি গভীর রাত... তবু মা কে জাগিয়ে তুলি ...... দূরে থাকলে ফোনে ...
" হ্যালো...... মা, জেগে আছো ?? "

" কি হইছে বাবা ?? এত রাতে.....?? " (অস্থির কন্ঠে)

" মাগো, বড্ড অস্থির লাগছে মা... "

কিছুক্ষন কথা বলে, আমরা হয়ত এক গ্লাস পানি খেয়ে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ি...
কিন্তু মা আমার হয়ত সারা রাত জায়নামাজেই কাটিয়ে দেন ...।

লিখাটি ভালো লাগলো বলে ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Click This Link
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×