somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রিটেন এর নাদিয়া , বাংলাদেশের ডেজার্ট এবং মুসলিম তথা বাংলার শাসনাধীন চিনি শিল্প ।

২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সিলেটি নাদিয়া ব্রিটেনের রানির জন্য কেক বানিয়েছেন । সে মন্তব্য করেছে, এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্য সংস্কৃতিতে নাকি ডেজার্ট বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য নেই। ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাদিয়া বলেছেন, বাংলাদেশী খাবারের পরে কখনো ডেসার্টের সংস্কৃতি ছিলনা! নাদিয়া হুসেইনের এ মন্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ অনেকের মাঝে ক্ষোভ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এ বিষয়টিতে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ফেসবুকে শাহানা সিদ্দিকী লিখেছেন মূল খাবারের পরে ডেসার্টের যে সংস্কৃতি সেটি সিলেটে বেশ ভালোভাবেই আছে। এক্ষেত্রে ‘চালের ফিরনির’ কথা উল্লেখ করেন শাহানা সিদ্দিকী।

বাংলাদেশী বংশদ্ভূদ নাদিয়া হয়তোবা নিজের শিকর ছেরে বিদেশ বিভুইয়ে থেকে ভুলে গেছেন , এ দেশের ডেজার্ট বা মিষ্টি রন্ধন শিল্প কতোটা ধনী তা হয়তোবা তিনি জানেন না । ফিরনি , পায়েস , সেমাই , রসমালাই , বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি এগুলোতো সাধারণ ব্যাপার । আরও কতোযে আইটেম আছে তা গুনে শেষ করা যাবে না ।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল ডেজার্ট বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের মূল উপাদান চিনি শিল্পের বিস্তার কিন্তু প্রথমবার ঘটে মুসলিম শাসিত বাংলায় । লাল চিনি (পরিশোধিত সাদা চিনি নয়) ছিলো মসলিনের ন্যায় বাংলার একটি অন্যতম রপ্তানি দ্রব্য। মার্কো পোলো উল্লেখ করেছেন যে, ত্রয়োদশ শতকে বাংলাদেশ থেকে প্রধান প্রধান রপ্তানীকৃত দ্রব্যের মধ্যে চিনি ছিল অন্যতম। পর্তুগীজ পর্যটক বারবোসা-র বিবরন থেকে জানা যায়, ষোড়শ শতকের গোড়াতে ভারতের বিভিন্ন দেশে, শ্রীলঙ্কায়, আরবে, পারস্যে বাংলাদেশ চিনি রপ্তানী করেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলাদেশে প্রস্তুত চিনি প্রচুর পরিমানে বৃটেনে রপ্তানী হত।”
পরবর্তীতে বাংলার মুসলমানদের কাছ থেকে চিনিশিল্পের বিষয়টি আয়ত্ত্ব করে এ অঞ্চলে ব্যবসার জন্য আসা আরবগণ। তাঁরা বাংলার মুসলমানদের ন্যায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় বড় আখের ক্ষেত ও সুগার রিফাইনারি মিল তৈরী করা শুরু করে। তৎকালীন স্পেন বা আল আন্দালুস ছিলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান চিনি উৎপাদন কেন্দ্র।

বিপরীতে চিনিকে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যে পরিণত করার মতো অবস্থায় আসতে সাদা চামড়ার খ্রিস্টানদের বহু সময় লেগেছে। চিনি ছিলো তাদের কাছে মূল্যবান বস্তু। স্পেনের ইসাবেলা তার মেয়ের জন্মদিনে মেয়েকে উপহার দিয়েছিল একবাক্স চিনি! এই অবস্থা বহুদিন পর্যন্ত বিদ্যমান ছিলো, যতোদিন না চিনিশিল্পের জন্মদাতা বাংলাকে দখল করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। বাংলা দখলের পর এ অঞ্চল থেকে ব্রিটেনে হু হু করে চিনির সরবরাহ বাড়তে থাকে, যার কারণে একপর্যায়ে চিনিকে বিলাসদ্রব্য থেকে খাদ্যের পর্যায়ে আনতে অভ্যস্ত হয় ব্রিটিশ ও ইউরোপীয়রা।

উগ্র খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা যখন মুসলিম ভূখণ্ড আক্রমণ করেছিল, তখন তারা চিনি ব্যবসায়ী মুসলমান কাফেলার মুখোমুখি হয়। ক্রুসেডাররা তখন চিনির মিষ্টতার কারণে অবাক হয়ে তার নাম দিয়েছিল ‘সুইট সল্ট’ বা মিষ্টি লবণ! আমরা জানি যে, ইউরোপের খ্রিস্টানরা অরিজিনালি সিদ্ধ খাদ্য খায়। মসলা থেকে শুরু করে চিনি, খাবারের স্বাদ বাড়ানোর কোন উপকরণের ব্যবহারই তারা জানতো না। কারণ মুসলিমরা যখন নগরসভ্যতা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের উচ্চ শিখরে অবস্থান করছিল, তখন খ্রিস্টানরা ছিলো সভ্যতা থেকে অনেক দূরে। পরবর্তীতে ইউরোপের ভাষায় যে sugar শব্দটি এসেছে, তার উৎপত্তি আরবীতে ব্যবহৃত sukkar শব্দ থেকে। মধ্যযুগে আরব ব্যবসায়ীদের কাছে চিনি “Sweet salt” নামে পরিচিত ছিল। Crusader দের বিবরণেও এই নামের উল্লেখ দেখা যায়। আরবরা ভারত থেকেই এই “Sweet salt”, রোমে আর Constantinople এর বাজারে আনত। ঢাকাই মসলিনের মতই খুব চাহিদা ছিল চিনির।



সংগ্রহীত এবং পরিমার্জিত ।

লিঙ্ক : http://blog.bdnews24.com/MottalibDarbari/49203
লিঙ্ক : http://www.abasar.net/UNIbibidh_sugar.htm
লিঙ্ক : http://www.banglasanglap.co.uk/?p=5088
লিঙ্ক : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ১১:৩৯
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×