somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেলে আসা দিনগুলো ...

১৭ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৃশ্যপট ১ :

বেশ ক'বছর আগের ঘটনা -
মাত্র কিছুক্ষণ আগেই সকাল হয়েছে | কিন্তু রোদের অসহনীয় তীব্রতা দেখে সে কথা বোঝার উপায় নেই | ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চার-পাঁচ বছরের ছোট্ট একটি ছেলে তাকিয়ে আছে দূরে- ছেলেটির
মন কিছুটা খারাপ | আজ তাকে প্রথম বারের মত স্কুলে যেতে হবে | কিন্তু সে এটা চাইছে না |তার মধ্যে একটা ভয় লাগা কাজ করছে | এর মূল কারণ -কয়েকদিন আগেই সে তার বন্ধুর কাছে শুনেছে স্কুল নাকি ভালো জায়গা না - ওখানে গেলেই শুধু বই পড়তে হবে , খেলতেও দিবে না , আর
পড়া না পারলে টিচারদের মার তো আছেই | সব মিলিয়েই স্কুলে পা রাখার প্রথম দিনটিতেই স্কুলে না যেতে চাওয়ার একটি তীব্র বাসনা তৈরী হয়ে গিয়েছিল তার মনে | যাই হোক - দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই সে দেখল -তার মা এগিয়ে আসছে | মা এসে পৌঁছানোর আগেই ছেলেটি দৌড়ে গিয়ে মা-কে জড়িয়ে ধরল | তারপর কিছুটা ভয় মনে নিয়েই বলে ফেলল - "মা ,আমি স্কুলে যাব না " | মা তো অবাক , এ আবার কী কথা ! মা এরপর নানা ভাবে -ছলে বলে,কৌশলে বোঝাতে চাইলেন ছেলেকে যে স্কুল এর চেয়ে সুখকর জায়গা আর কোথাও নেই | কিন্তু ,ছেলে অনড় - কোনো ভাবেই সে স্কুলে গিয়ে টিচার এর মার খেতে রাজি নয় | অগত্যা ,ডাক পড়ল বাবার | গম্ভীর মুখ নিয়ে ছেলের সামনে হাজির হলেন বাবা |
আরেকটি কথা বলে নেয়া ভালো - একমাত্র বাবা নামক ব্যক্তিটিকেই এই ছোট্ট ছেলেটি সবচেয়ে বেশি ভয় করে | তারপরও যেভাবেই হোক ছেলেটি তার বাবার কথাও আজ শুনতে নারাজ - স্কুলে সে কোনমতেই যাবে না |
অতঃপর কি আর করা ,"সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠিলে তাহা বাঁকাইতেই হয় "......
এর কিছু সময় পর (মাঝের সময়টাতে কি ঘটেছিল -পাঠক অনুমান করে নিন ), দেখা গেল -ফুটফুটে একটি ছেলে সদ্য বানানো ইউনিফর্ম গায়ে চাপিয়ে ,কাঁধে স্কুল ব্যাগ ( যেটা কোনো মতেই তার শরীরের সাথে খাপ খাচ্ছেনা ) নিয়ে বাবার হাত ধরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসছে !
ঘটনা এখানেই শেষ মনে হলেও -'ইহা শেষ নহে -কেবল শুরু '| ঘর থেকে শান্ত ভাবে বের হলেও , সিঁড়ি পেরোনো মাত্রই ছেলেটি আবার তারস্বরে কান্না জুড়ে দেয় | চিত্কার করতে করতে সে তার মা কে ডাকতে থাকে | কিন্তু বাবা যে অনড় | কিছুতেই ছেলেকে ছাড়বেন না আজকে | অতঃপর একটি ট্রাজিক মুহুর্তের অবতারনা | বাড়ির তিনতলায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে মা কিছুটা শঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন -
আর বাবা ছেলেটিকে কিছুটা উত্তম - মধ্যম প্রদানের পর টেনে হিঁচড়ে রিকসায় তুলছেন | তখনও ছেলেটির চোখে অশ্রু |
এর খানিকক্ষণ পর দেখা গেল -ছেলেটি ক্লাসরুমে বসে আছে -আরো অনেকগুলো ফুটফুটে ছেলেমেয়ের ভীড়ে -আর কয়েক মুহূর্ত পর পর বাইরে তাকাচ্ছে -যেখানে তার বাবা তখনও দাঁড়িয়ে আছেন |
আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হতে শুরু করলো | কদিন আগেই যে ছেলেটি স্কুলে যেতে চাইতো না - সে আজকাল তার নতুন স্কুল ব্যাগটি বালিশের পাশে রেখে ঘুমাতে যায় |

দৃশ্যপট ২ :

এর কয়েকবছর পরের ঘটনা | ক্লাসরুম - চারিদিকে শুনশান নীরবতা , ক্লাস চলছে | স্যার মনোযোগ দিয়ে তার ছাত্রদের পড়া ধরছেন | পড়া বলতে না পারার অপরাধে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্রকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছে বেন্চ এর উপর -এদের মাঝে আমাদের গল্পের ছেলেটিও আছে |
আমাদের গল্পের ছেলেটি এখন নিয়মিত স্কুলে যায় , যেতে না চাইলেও আজকাল যেতে হয় | প্রায়ই পড়া না পারা কিংবা স্কুল পালানোর মত ছোট্ট (!)অপরাধে তাকে বেন্চ এর উপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ; কখনো কখনো সাথে যোগ হয় হালকা মাত্রার প্রহার | বেন্চ এর উপর দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই তার মনে পড়ে- স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের ঘটনাগুলো |তার খুব রাগ হয় -আবারও কেঁদে ফেলে ছেলেটি | সে কখনই স্কুলে আসতে চায়নি - কখনো না |

দৃশ্যপট ৩ :

এসব ঘটনা পেরিয়ে গেছে অনেক দিন হলো | সেদিনকার সেই ছোট্ট ছেলেটি এখন ভার্সিটি তে পড়ে |
স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে এলেও এখনো তাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাসে যেতে হয় | কিন্তু এখন আর কেউ আগের মত করে পড়া ধরে না-বকে না,শাস্তি দেয় না; ইদানীং এই ব্যাপারগুলো সে অনেক মিস করে | ক্লাস পালিয়ে আড্ডা দেয়ার মুহুর্তগুলো-কিংবা ক্লাসরুমে ছোঁয়াছুঁই খেলা -অযথাই দৌড়াদৌড়ি করার মুহুর্তগুলো ছেলেটির চোখের পাতা ভারী করে তোলে | কোনো এক গরমের দুপুরে ঘামে ভেজা শরীরে বাসায় বসেও তার মন চলে যায় শৈশবের সেইসব সকাল-দুপুর-কিংবা বিকেলগুলোতে |
মনের অজান্তেই তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে-এবার আবারও কেঁদে ফেলে সে-
ঘটনাটি আগের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হতে পারত |
কিন্তু না - এখন ছেলেটির স্কুলে যেতে খুব ইচ্ছে করে |
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×