আট ক্লাস পাশ করা এই মেয়েটিকে শুধুমাত্র চেহারা দেখেই বিয়ে করেছিলেন আর্মি অফিসার জিয়াউর রহমান। আর এতেই তিনি ফুলে-ফেঁপে উঠলেন… উঠবেন নাই বা কেন, কুকুরের পেটে ঘি বলে কথা!
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন জিয়াউর রহমান… কিন্তু জিয়াউর রহমানের সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেন তিনি। যাবেন-ই বা কেন…? একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমান থাকবে ছোট-খাট কোন বাড়িতে, সব ধরণের সুযোগ-সুবিধাও পাবেন না, যুদ্ধে ব্যস্ততার কারণে হয়তবা স্ত্রীকে নিয়মিতভাবে সময়ও দিতে পারবেন না। আর পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ন্ত্রনে থাকা ক্যান্টনমেন্টে তো সুখ-ই সুখ!
যুদ্ধ শেষ, যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে আসলেন জিয়াউর রহমান; এসে নয় মাস আগে যে স্ত্রী তাকে ত্যাগ করেছিল, তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি! করবেন-ই বা কেন…? এই নয় মাস তিনি কি অবস্থায় ছিলেন, তা কে বা জানে!
১৯৭২ সাল; পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু! যুদ্ধবিদ্ধস্ত সদ্য স্বাধীন এই দেশটির পূনর্গঠনে যখন মনোনিবেশ করলেন তিনি, তখন ভাঙা সংসার পূণর্গঠনের দাবী নিয়ে কান্নাজড়িত অবস্থায় তার কাছে হাজির হলেন খালেদা। বঙ্গবন্ধুর কাছে নিজের কৃতকর্মের জন্য ভূল স্বীকার করায় বঙ্গবন্ধু ডাক দিলেন জিয়াকে… তিনি জিয়াকে বললেন; খালেদা আমার নিজের মেয়ে, আমি তোকে বলছি তাকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে। বঙ্গবন্ধু কথা আর ফেলতে না পেরে তাকে গ্রহণ করলেন জিয়া। ফলে নয় মাস ধরে গায়ে জমতে থাকা কলঙ্ক থেকে আপাতদৃষ্টিতে মুক্তি পেলেন তিনি। পথ থেকে ফিরে গেলেন স্বামীর ঘরে, পেয়ে গেলেন সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকরর্তাদের একজনের স্ত্রীর মর্যাদা!
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধানের যায়গায় দেখতে পেয়েছিলেন জিয়া। তাই তো ১৫ই আগষ্ট ষড়যন্ত্রের সবটুকু জেনেও সেদিন নিরব ছিলেন তিনি। আর জিয়ার হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে নিজেকে দেশের সর্বোচ্চ আসনে দেখেছিলেন খালেদা, তাই তো ক্ষমতায় গিয়েও স্বামী হত্যার বিচার করেন নি তিনি। তাই বলা যায়; বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পিছনের নায়ক জিয়া হলেও এর ফল কিন্তু পুরোপুরি ভোগ করলেন খালেদা!
তাই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের মাধ্যমে জন্ম নেয় নতুন খালেদার!
৭১ এ চারিত্রিক কারণে যার সাত কোটি মানুষের ঘৃণা ও থু থু’র পাত্রী হওয়ার কথা; তিনি যদি কোন একটি হত্যাকান্ডের কারণে ঐ সাত কোটি মানুষের নেতা হয়ে যান, তাহলে তো নেতা হিসেবে সেটি তার জন্মদিন-ই হওয়ার কথা… তাতে হোক না, সে হত্যাকান্ডটি তার পিতার কিংবা পুরো জাতির পিতার! যিনি সামান্য সুখের জন্য স্বামীকে ত্যাগ করতে পারেন; পিতার মৃত্যুতে যদি ক্ষমতার গন্ধ থাকে, তাহলে সেই মৃত্যুর দিনে তো তিনি নাচতেই পারেন!!!
সত্যিই ১৫ই আগষ্টেই তার জন্মদিন,
তবে খালেদা হিসেবে নয়……
একজন বেইমান, অকৃতজ্ঞ আর মোনাফেক হিসেবে!
এই জাতি যাকে এককথায় ঘষেটি বেগম বলে ডাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



