প্রথম আলোর মত একটা লিডিং পত্রিকার আচরনের কথা শুধু লিখছি, আমি আর কোন কিছু বোঝাতে চাই না। পাঠকরা বুঝে নিন তাহলে কি পরিমান মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্র এরা করে এসেছে বছরের পর বছর। এতগুলো চ্যানেল, এতগুলো পত্রিকা, এসব হাজার হাজার মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে চিকিতসকদের দাড়ানোর কিংবা নিজের বক্তব্যটা প্রকাশের সুযোগ কোথায়? গাজা ব্যাবসার দায়ে পুলিশের হাতে কয়েকবার গ্রেপ্তার হওয়া এক চামারকে এনে এরা টিভিতে বলিয়ে নেয়, ইন্টার্ন ডাক্তাররা নাকি সব ফেনসিডিলখোর তাই রোগীর লোকজনদের সাথে তাদের মারপিট লাগে! সেই লোকের আবার একটা হোটেল নামের মিনি পতিতালয় ও আছে! তো এরা হলো মিডিয়ার চোখে ভালো এবং সত নাগরিক যারা ডাক্তারদের মাথার মুল্য নির্ধারন করে দেবেন নিজেদের অপরিসীম মেধার মাধ্যমে!
প্রথম আলোর গতকালের সিলেট ওসমানী মেডিকেলের সংবাদ নামের অপসংবাদের নিচে কিছু কমেন্ট করেছিলাম আজ সকালে। তখনো পর্যন্ত আর কোন কমেন্ট করা হয় নি , আশা ছিলো এই ব্যাখ্যামুলক কমেন্টটি পড়ে পাঠকেরা অপসংবাদের বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠবেন। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষয় করলাম সকাল দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে গেলেও কমেন্ট গুলি প্রকাশ করা হয় নি। বরং গালাগালিমূলক কমেন্টে ভরে যাচ্ছে সেখানে। সকাল বেলা যদি আমার কমেন্ট গুলো ছাপা হত তাহলে আমি নিশ্চিত, অন্তত পঞ্চাশভাগ পাঠক ই বিভ্রান্তি থেকে বেচে যেতেন। এর মাঝে কয়েকবার এদিক ওদিক করে পরিবর্তন করে দেয়া সত্ত্বেও বারবার ডিলিট করা হচ্ছে আমার কমেন্ট গুলো। নিচে কমেন্টগুলো কপি পেস্ট করে দেয়া হলোঃ
###সিলেটে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে সেদিন পাচ জন মারা যায়। প্রত্যেকে ওসমানি মেডিকেলে আসার পর। শিশু বিভাগে এমনিতেই তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ বাচ্চা ভর্তি থাকে, গড়ে পাচ থেকে ছয়জন রোজ মারা যায়। গাইনী বিভাগের দরজায় ঢুকেই রক্তক্ষরণে মারা গেছে এমন ঘটনা একাধিক বার নিজ চোখে দেখেছি। সেখানে প্রতিদিন দু-তিন জন রোগী মারা যায়। নিউরোসার্জারী বিভাগে গড়ে দু জন, সি সি ইউতে তিন চার জন,আই সি ইউতে দু একজন....পনেরশর বেশি রোগী ভরর্তি থাকা একটা টারশিয়ারি হাসপাতাল, যেখানে জকিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, এরকম আরো বেশি দুর্গম, পাহাড়ি সব এলাকা আর চা বাগান থেকে ম্যালেরিয়া বা ভয়ঙ্কর পোস্ট পার্টাম হেমোরেজ কিংবা সাপে কাটার রোগী কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত দেরি করে ভর্তি হতে আসে। তার মাঝে চলমান হরতাল অবরোধে জমা হয়ে থাকা রোগীর জটিলতা তো আছেই, তারা হরতালের কারনে মারাত্নক সব জটিলতা নিয়েও হয়তো সপ্তাহ খানেক ধরে ঘরে কিংবা জরাজীর্ন হেলথ কমপ্লেক্সে আটকে ছিলেন। তার সাথে একটা কাকতালীয় ফ্যাক্টর থাকে, সেটাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমরা চিকিতসকেরা যেমন কোন কোন দিন নিজেরাই আফসোস করে বলি, আজকের দিনটাই খারাপ যাচ্ছে, সকাল শুরুই হলো দুইজন খারাপ রোগি দিয়ে, কিংবা সকাল সকাল দুটি বাচ্চা মারা গেল...যেখানে গড়ে বিশজন রোগী মারা যাওয়াটা স্বাভাবিক সেখানে একদিন তিরিশজন হওয়াটা কি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে যায় এতটাই অস্বাভাবিক? যেখানে সেদিন শুধুমাত্র মারপিট করেই পাচজন মারা গেছেন?###
###অবহেলা হতে পারে, এবং অবশ্যৈ হয়। এটা কিছুতেই অস্বীকার করা যাবে না। তবে চব্বিশ ঘন্টা, অর্থাত দিনে তিন শিফট ডিউটি চালু রাখার জন্য দারোয়ান ক্লিনার থেকে নার্স ডাক্তার সব পদে তিন গুন জনবল থাকা উচিত, যে কোন খাতের চেয়ে স্বাস্থ্যখাতে জনবল দেড়গুনের বেশি থাকে না কখনৈ। আর খারাপ ক্ষেত্রে তো নাই বললাম, সিকি ভাগ বা অর্ধেক দিয়েও কাজ চালাতে হয়। মেডিকেল কলেজগুলিতে রোগীরা শুধু দেখেন বড় ডাক্তার সকাল দশটায় রাউন্ড দিয়ে যায় গা, আর আহে না! অথচ প্রফেসররা সপ্তাহে পাচদিন সকাল সাতটা থেকে ক্লাশ নেন, এরপর রাউন্ড, এবং রাউন্ড শেষ করে অন্যান্য বিভাগে অনুরোধের রোগী, যেমন হয়তো গাইনি বিভাগের রোগীর হার্ট এটাক হলো, তখন সি সি ইউর ডাক্তারকে ডাকা হয়, এরকম গোটা পাচেক কল দেখতে যেতে হয়। তারপর আবার ক্লাশ কিংবা পরীক্ষা, প্রশ্ন করা, পরীক্ষার খকাতা দেখা, এরমাঝেই আবার মাঝারী থেকে বেশি জটিল রোগীর তালিকা রেডি হয় এবং প্রফেসর সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দেন কিংবা নিজে কাজ করেন। সপ্তাহে দুইদিন থাকে রুটিন অপারেশনের শিডিউল, আর এসবের ফাকে ফাকে ট্রেইনি আর ইন্টার্ন ডাক্তারদের শেখানো...অন্য কোন পেশায় প্রচন্ড কস্টের আর গুরুত্বপুর্ন ঝুকিপুর্ন সার্ভিস এবং একৈ সাথে প্রচন্ড স্ট্রেসফুল এবং স্ট্রিক্ট একাডেমিক একটিভিটি চালাতে হয় না বিধায় এখানে যাবতীয় চাপ নেবার পর ও অভিযোগের জায়গা শেষ হবার না।###
###তাই? পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়? তাহলে পনেরশ রোগির মাঝে মাত্র তিরিশজন মারা গেল কেন? এমনিতেই তো যে কোন উন্নত দেশের উন্নততম হাসপাতালেও মৃত্যুহার এক পার্সেন্টের কম নাই, সেখানে দুই পার্সেন্ট মৃত্যুহার নিয়ে আপনারা এত রুপকথা বানাচ্ছেন?###
###তাই নাকি? কোন সভ্য দেশে? কিংবা একটা অসভ্য দেশের ই নাম বলুন যেখানে পনেরশ রোগীর মাঝে তিরিশ জন মারা গেলে অর্থাত দুই পার্সেন্ট মৃত্যুহারের সাথে সাথে অশিক্ষিত লোকজনের কথায় ডাকতারেরা জেলে থাকতো?###
###কোন ধরনের সাংবাদিকতা এটা, ডাক্তারদের লেখা কমেন্টগুলো একটাও পাবলিশ করা হচ্ছে না এখানে! সকাল নটায় কমেন্ট করেছি এখন দেখি গালাগালির লাইন পড়ে গেছে অথচ আমার কমেন্টের খবর নেই!###
এর আগেও আমরা দেখেছি একজন নারী চিকিতসককে ধর্ষন চেস্টার পর মেরে ফেলা হলে সে নিউজ ছাপায়নি একটি পত্রিকাও!! আমরা একটা মানববন্ধন করলাম, সেখানে একজন ফটোগ্রাফার পর্যন্ত পাঠায় নি কোন পত্রিকা বা চ্যানেল! শেষে ফোন করে এক নারী সাংবাদিককে আনা হলে তিনি এসেই দিয়েছিলেন সেই বিখ্যাত উক্তি- তিনি নাকি এক ডাক্তার আরেক ডাক্তারকে মেরে ফেলেছে শুনে এসেছেন। আসল ব্যাপার জানলে আসতেন না! কারন নাকি ""ডাক্তার মারা গেলে সেটা আবার নিউজ কিসের? ডাক্তার কাউকে মারলে সেটা নিউজ হতে পারে""!!! তো এই হলো একজন ধর্ষন চেস্টার পর খুন হওয়া নারী চিকিতসকের ব্যাপারে এক নারী সাংবাদিকের বক্তব্য! এরা নাকি আবার ডাক্তারদের মানবতা সেখায়, তাদের সুপথে আনবে! আর আলিফ বা তা সার মত বারবার পড়তে পড়তে সাধারন লোকজন ও সেটাই বিশ্বাস করে বসবে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



