
ঝরা পাতার দিন শেষ হতে না হতে
পলাশ শিমুলের আগুন ঝরা রক্ত হোলি খেলায় মত্ত;
আমার শহীদের জর্জর ক্ষত থেকে
ঝরে পড়ে রক্তাক্ত আটই ফাল্গুন।
ছালাম-বরকত, রফিক-জব্বার
অজানা আর কতো শহীদি আত্মা কাঁদে।
মধু বন- বনান্তরে গুঞ্জনে মাতোয়ারা ফাগুন ডাকে সাড়া,
কামিনী-হাসনাহেনা, নিশীত জাগরনে।
উঠে আসে মায়ের চির ছেঁড়া ধনেরা
নেবুর ফুল নেবে শুভ্র স্নিগ্ধতায়,
ফুটে থাকে আমার গৌরাবাম্বিত আশা
বাবার উচ্ছলতা, আবেগময় বোন আর নিশ্চিত ভাষা;
মায়ের তিল তিল সযত্ন রক্ত পিন্ড নিঃশেষ করে দিয়ে
মিনারে ভূইমালির গাঁধা-জবা চাপে
একগাদা চেতনা একত্র হয়ে যায়।
ও আমার বাংলা-
আমার দেশের মনোহর গান;
প্রকৃতিতে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দিয়ে
তুমি মধুর হাসিতে, বাঁকা অম্লান বদনে কাঁদ কেন সখী?
আটান্নর পিচ্ছিল পথ শুষেছে পলাশ শিমুল
আগুনে ঢেউ লগেছে কৃষ্ণচুড়া পত্র পল্লবে।
অনন্ত বাতাসে লেগেছে কাঁপন
বৃক্ষের সবুজ শোভায়; মৌ মৌ মদিরতাকে নিয়ে
জোয়ার বইছে ফসলে মাঝ মাঠে কৃষককলা।
তুমি এলে বাংলাদেশ!
ফুলের সৌন্দর্য দিয়ে মিছিলে মিছিল নিয়ে;
ফলের মতো সম্ভবনা শহীদদের দ্বারে দ্বারে
দৃপ্ত অঞ্জলী দেবে শ্লোগানের উচ্চারনে।
১২ পেব্রুয়ারী’ ১৯৯০খ্রীঃ

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



