

"নরকের রাজপুত্র"র দ্বিতীয় গল্প "নিরপেক্ষ শান্তিকামুকেরাে"। ইহা একটি স্বপ্নে প্রাপ্ত গল্প। একসময় আমি অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতাম। বেশিরভাগই ভয়াবহ রকম দুঃস্বপ্ন। সেখান থেকে বেশ কিছু গল্প লিখেছি। এই গল্পটি অবশ্য ঠিক দুঃস্বপ্ন থেকে আসে নি। যুদ্ধ নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেখানে তেমন ভয়বাহতা ছিলো না। কিছু সাইকোলোজিক্যাল ব্যাপার ছিলো। যেমন, যুদ্ধে যাবো কি যাবো না, পরীক্ষা, শান্তি, ইত্যাদি নানারকম ব্যাপার স্যাপার; অত মনে নেই। তো এসব কিছু থেকে গল্পের জন্যে যে নির্যাসটা আমি পাই, তা হলো, শান্তির প্রত্যাশা কখনও কখনও খুব অশ্লীল হতে পারে। যারা যুদ্ধ, লড়াই, সংগ্রাম সবকিছু থেকে দূরে থেকে শুধু শান্তি আর শান্তি খোঁজে, তারা আদতে শান্তিকামী নয়, শান্তিকামুক। কামুক লম্পটের মত তারা শান্তির দিকে লোলূপ কামনায় মগ্ন থাকে। এইসব সুবিধাবাদীদের আক্রমণ করেই গল্পটি লেখা। আর পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

নরকের রাজপুত্র'র প্রথম গল্পটির নাম "পরিবারের সবাইকে নিয়ে পড়ার মত একটি গল্প"। এটি লিখেছি ২০১৬'র জুলাইয়ে। মাঝখানে অফিসে আমরা বাংলা সিনেমা নিয়ে নানারকম গল্প, স্মৃতিচারণ, হাসি-তামাশা, ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে আড্ডা দিতাম। তখন কিছু কমন ডায়লগ মাথার মধ্যে ঢুকে যায়। যেমন "ছি, তুমি এমনটি করতে পারলে?", অথবা "মা, আমি ফার্স্ট হয়েছি! আমাদের আর কোনো দুঃখ থাকবে না!"। তখন আমার মাথায় ভাবনা এলো, পরীক্ষায় ফার্স্ট হলে বা ভালো চাকুরি পেলেই কি মানুষের সব দুঃখ শেষ হয়ে যায়? সব লক্ষ্য অর্জিত হয়? আচ্ছা, ধরলাম জীবন চলতে লাগলো সুখী পারিবারিক বাংলা সিনেমার মত। পরীক্ষা, চাকুরি, সুন্দরী-গুণবতী স্ত্রী, গাবদা-গোবদা বাচ্চাকাচ্চা, প্রমোশনের পর প্রমোশন, লাভের পর লাভ...সবকিছু ঘটতে লাগলো। তারপর কী? আরো সাফল্য। তারপর কী? আরো সুখ। তারপর কী? এই সুখ, সাচ্ছন্দ্য, সচ্ছলতার চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়? কোথায় গিয়ে থামবে একজন Absolute সুখী মানুষ?
"নরকের রাজপুত্র"র নিবাস এখন বইমেলায় অনুপ্রাণনের স্টলে।
স্টল নাম্বার- ৪৯৫ (সোহরাওয়ার্দি) স্টল নাম্বার- ২৩ (লিটল ম্যাগ)
হাওয়াই বার্তা- ০১৯৩৭২০৫৪০২
কাল মেলায় যাবো। দেখা হবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



