সংসারটা যে বড়ই বেহায়া, জীবন নিয়ে করে খেলা
সকাল বেলাই উঠে দেখি, গিন্নীর হাতে ঝাটা।
ছেলে-মেয়ের ঘ্যানঘ্যানানি, প্যানপ্যানানি, কতদিন আর যায় শোনা?
এটা নেই, ওটা নেই, গিন্নীর গলা চড়া,
কিছু যদি না আনিস মিনসে, উঠবে না আর চুলোয় কড়া।
প্রতিদিনের এক ফিরিস্তি, শুনতে কার লাগে ভালো?
অফিসে বসের ঝাড়ি, কেনো আমার দেরি হল?
গাড়ি গুলো বাড়ে যেমন, বাড়ে তেমন যানজট,
বসে থেকে ঘন্টা দুই, পিঠটা করে ব্যাথায় টনটন।
বসকে কি করে বোঝাই আমি, এটাই এখন আইন,
শুধু শুধু আমায় কেন, মাসের শেষে গুনতে হবে ফাইন?
হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বাসটা ধরে ঝুলে থাকা
গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি, ঘেমে নেয়ে একসার
প্রতিদিন খাচ্ছে গালি বাসের কন্ট্রাক্টটার।
এইতো জীবন চলছে দেখো একই ধারায়,
মধ্যবিত্ত সাইনবোর্ড ঝুলছে গলায়।
বাজারে গিয়ে আঁতকে উঠি, আগুন যেন সবখানে,
গিন্নীর ভয়ে বাজার করি, শেষে আমার রিক্সা ভাড়ায় টান পড়ে।
হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরি, গিন্নী তবু গোমড়া মুখে
পাশের বাসার ভাবী নাকি, নতুন শাড়ী কিনে এনে,
হেসে হেসে সেই কাহিনী, জমিয়েছে চা খেতে খেতে।
নতুন আসবাব, গইনাগাটি, আসে নাকি তার ভুরি ভুরি
হাসির ছলে ভাবীগুলো, মারছে আমার বুকে ছুরি।
মাথায় হাত দিয়ে ভাবি, পাশের বাসায় সবার, কেন থাকে ভাবী?
এই চাহিদা, সেই চাহিদা, পূরণ করি কি করে?
বেতন আমার খুব সামান্য, যাই ফুরিয়ে দু’বেলা খেতে ভাত পেট পুরে।
বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল, এখন তারা গ্রামে থাকে,
জীবনের ঠেলা খেতে খেতে, কবেই তাদের গেছি ভুলে।
বছরের একটা ঈদে, দেখা হয় তাদের সাথে।
তাদের চোখে যখন দেখি জল,
মনটা তখন আমার দ্বিধা-দ্বন্দের কেন্দ্রস্থল।
কত কিছু করার সাধ জাগে, গ্রামটা আমায় খুব টানে
বছরের বাকি দিনগুলোতে, তবু তাদের থাকি ভুলে।
ভাই-বোন আর বন্ধুরা সব, অভিমানে গাল ফুলায়
আমার দুঃখ কেমন করে, বলো না আমি তাদের বোঝায়?
কষ্টগুলো বুকে চেপে, চোখের জল লুকিয়ে রেখে, ঈদের পরে তাদের থেকে পালায়,
একটা বছর আবার কাটে, লুকোচুরি খেলায়।
এমন করেই জীবন কাটে, যেমন করে মধ্যবিত্ত জীবন, আমায় চালায়।
তোমরা আমায় ক্ষমা করো, আমার জীবন আর শোনে না আমার কথা,
মধ্যবিত্তের মহান শিকলে, এখন আমার জীবন বাধা।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



