somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

#নির্ভেজাল_আলো_চাই।।

০৯ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সপ্তাহ দুই আগে আমার গ্রামের বাড়ী এলাকা থেকে আমার এক কাকী আসেন আমার কাছে এবং আমাকে জানান বাবা আমার ঘরের বিদ্যুতের লাইনের তারে জুন মাসের প্রথম দিক দিয়ে খেয়াল করলাম লিক হয়ে আগুন জ্বলে। সাথে সাথে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানাই। তারপর তারা এসে কসটিভ দিয়ে পেচিয়ে রেখে গেল। কিন্তু তার দুইদিন পরে আবারো তারে বার বার আগুন জ্বলা শুরু করলো। এরপর জানানোর পরে তারা আমার লাইনটা কেটে দিয়ে গেছে এবং আমার কাছ থেকে ১০০০ টাকা ও কারেন্ট বিলের কাগজ নিয়া গেছে।
তারপর বেশ কয়েকদিন পার হওয়ার পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করার পরে বলতেছে আমাদের লাইন ফিরে পাইতে নাকি ৩০০০ টাকা লাগবে। আমি এখন কি করবো?

প্রথমেই আমার মনে প্রশ্ন জাগলো তাহলে কি মানুষ বিদ্যুতের লোকদের এই জন্যই কথায় কথায় বকা দেয়।

আমি কাকীকে বললাম আপনি তাদের কাছ থেকে ঐ ১০০০ টাকা আর আপনার বিদ্যুৎ বিলের কাগজটা নিয়ে আমার কাছে দুই-একদিনে মধ্যে আইসেন।

কথামত কাকী পরের দিনই ঐ এক হাজার টাকা আর বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ফিরিয়ে নিয়ে আমার কাছে আসে। এরপর আমি তাকে নিয়ে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যাই। সেখানে অফিসের দায়িত্বে থাকা অফিসারের কাছে জানতে চাই ওনার লাইন আপনারা কেটে দিয়ে আসছেন তারপর আর সংযোগ দিয়ে আসেননি কেন বা তাকে কি করতে হবে তার কিছুই বুঝিয়ে বলেননি কেন?
তখন দায়িত্বরত অফিসার আমাকে জানালো ওনার পূনঃসংযোগের আবেদন করতে হবে তারপর সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে।

এরপর আমি তার কাছে জানতে চাইলাম ভাই- ওনার সংযোগের তারটা তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পুরাতন হওয়ার কারনে নষ্ট হয়েছে সে ক্ষেত্রে কেন তাকে পূনঃসংযোগের আবেদন করতে হবে?
আমার জানামতে কারো মাসিক বিল বা অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করার কারনে যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় তবে তার পূনঃসংযোগের জন্য আবেদন করতে হয় এবং পূনঃসংযোগের আবেদন ফি ১২০০ টাকা। সেক্ষেত্রে এসব কারনে তো তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি।
অফিসার জানালো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেই পূনঃসংযোগের আবেদন করতে হয়।
আমি জানতে চাই তাহলে যদি তাই হয় তো তার কাছে ৩০০০ টাকা কেন চাওয়া হয়েছে পূনঃসংযোগের আবেদন ফি তো ১২০০ টাকা।
তিনি জানালেন এই ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

এরপর আমি বললাম ঠিক আছে তাহলে এই সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনারা কি কোন সাহায্য করবেন না।
সে বলে দিলো না, এখানে আমাদের কিছুই করার নেই জেলা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

কি আর করা, বিস্তারিত উল্লেখ্য করে একটি আবেদনপত্র লিখে নিজের সময় না থাকায় কাকীকে একটি গাড়ি ধরিয়ে দিলাম জেলা অফিসে যাওয়ার জন্য।

জেলা অফিস থেকে ফিরে কাকী আমাকে জানালেন তাদের আবেদনপত্র দেখানোর সাথে সাথে তারা বলেছে আপনার লাইন দিয়ে আসবে, আপনি চলে যান। কোন আবেদন ফি চায়নি।
এরপর দুদিন অপেক্ষা করার পরেও সংযোগ দিয়ে গেল না কেউ। আবারও কাকীকে পাঠালাম জেলা অফিসে সাথে আমার "মা" কেও। এবার তারা একটি টোকেন নম্বর দিয়ে তাদের বলে দিয়েছে এটা উপজেলা অফিসে গিয়ে দেখালেই আপনার সংযোগ দিয়ে আসবে। টোকেন নম্বরটি রেখে কাকীকে বাড়ী চলে যেতে বললাম।

পরেরদিন ছোট বোনকে দিয়ে টোকেনটি উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে পাঠালাম। তারা সেটি রেখে দিল।
এরপর দুই দিন চলে গেল সংযোগ আর দিয়ে গেল না।

এবার আমি চিন্তা করলাম সেই গ্রাম অঞ্চল থেকে মানুষগুলো উপজেলা সদরে এসেও কোন সমাধান পাচ্ছে না, যেতে হচ্ছে জেলা অফিসে তারপরও সমাধান পাওয়া দুস্কর হয়ে পরছে। এটা কেমন নিয়ম? স্থীর করলাম তাদের অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রয়োজন। তাই তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে তথ্য চেয়ে আবেদনপত্র প্রস্তুত করে চলে গেলাম উপজেলা অফিসে।

অফিসে গিয়ে প্রথমে বিচ্ছিন্ন সংযোগ এখনো কেন দেয়া হলো না তা জানতে চাইলে তারা বললো জেলা অফিস থেকে কোন রিসিট দিয়েছে কিনা? আমি বললাম জেলা অফিস কোন পূনঃসংযোগের আবেদন গ্রহণ করেনি তবে একটি টোকেন নম্বর দিয়ে তা আপনাদের কাছে গতকাল পৌছেছি আমার ছোটবোনকে দিয়ে।
দুঃখ্যের বিষয় তারা আর সেই টোকেনটি খুজেঁ পেল না! ভাবলাম আবার মনে হয় জেলা অফিসে যেতে হবে।

এবার গেলাম উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাহেবের কাছে এবং তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী তথ্য চেয়ে আবেদনপত্র দাখিল করলাম। তিনি আবেদনপত্র দেখে বললেন এখন আমি কোন তথ্য দিতে পারবো না, আপনি কয়েকদিন পরে আসেন আমাদের অফিসে আমরা আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত লিথে দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেবো।

আমি ডিজিএম সাহেব কে বললাম দেখেন আমি আপনার কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছি আর আবেদনপত্রে লিখিত তথ্য চেয়েছি। এই ক্ষেত্রে আপনি আমাকে লিখিত তথ্য দিতে বাধ্য।
তিনি আমার সাথে কর্কশ স্বরে কথা বলা শুরু করলেন আর বলতে লাগলেন আপনি আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে যান। আমি বললাম আপনি একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, আর আমি আপনার কাছে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর আদলে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছি সেক্ষেত্রে আপনি আমাকে তথ্য দিতে বাধ্য।
ডিজিএম সাহেব এবার আরো কর্কশ স্বরে বললেন আমি কোন তথ্য দিতে পারবো না।
আমি বললাম তাহলে এটার উপর লিখে দিন আপনি তথ্য দিতে অপারগ। তিনি বললেন আমি কিছু লিখতে পারবো না।
শেষেমেষ তাকে বিদায় জানিয়ে আমার চলে আসতে হলো।
দোতলা থেকে নামার পরে অফিসের অন্যান্য স্টাফদের মধ্যে একজন বললেন আমি এখনি যাচ্ছি ঐ সংযোগ স্থলে।

কিছুক্ষন পরে চাচাত ভাই ফোন করে জানালো ভাই বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক আসছিল এবং বলে গেছে তারের টাকা লাগবে তা জেলা অফিসে জমা দিয়ে আসতে হবে।
ভাবলাম পরেরদিন জেলা অফিসে যাবো কিন্তু সন্ধার দিকে চাচাত ভাই আবারও ফোন করে জানালো ভাই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে গেছে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক এসে।

এখানে আমার তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ার কারন ছিল তারা আমাকে মৌখিকভাবে তাদের উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের যেসব দায়িত্ব সম্পর্কে জানিয়েছে তাতে একজন গ্রাহকের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়্যত আর উপজেলা সদরের বাইরে থেকে যারা আসছেন তাদের তো চরমের উপর চরম ভোগান্তি। আর এগুলো যদি সত্যি হয় তবে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর এর সমাধানের জন্য একটি স্বারক লিপি প্রদান করবো। কিন্তু যা বুঝতে পারলাম মনে হলো উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) সাহেব তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেনই না।

যাইহোক, চিন্তা করেছি জেলা অফিস থেকে তথ্য চেয়ে আবেদন করবো এবং সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

মোঃ পলাশ খান
উপজেলাঃ জাজিরা
জেলাঃ শরীয়তপুর।
তারিখঃ ০৭/০৭/২০১৯ইং
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্রগ্রাম যে ভাবে বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:১২


আরাকান আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের সমৃদ্ধি ঘটলেও সে সময় দৌরাত্ম বেড়ে যায় পর্তুগীজ এবং মগ জলদস্যুদের। এরা চট্টগ্রামের আশেপাশে সন্দ্বীপের মত দ্বীপে ঘাঁটি গেড়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে লুটপাট করত এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিভা

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৪৩



এক শকুনের বাচ্চা তার বাপের কাছে আবদার ধরলো-
বাবা, আমি মানুষের মাংস খেতে চাই, এনে দাও না প্লিজ!
শকুন বলল, ঠিক আছে ব্যাটা সন্ধ্যার সময় এনে দেব।

শকুন উড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরুর নাড়ি ভুরি খাওয়া নিয়ে দ্বিধা জায়েজ /না জায়েজ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩৭


কোরবানী বা ঈদ-উদ-আযহা এলে সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা বিভিন্ন পশু কোরবানী করে থাকে। মাংস ও ভুড়ি খাওয়ার ধুম পড়ে। অনেকে আবার ভুড়ি খাননা বা খেতে চাননা কারণ খাওয়া ঠিক না বেঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোচিত খুন , আলোচিত গুম, আলোচিত ধর্ষণ ও আলোচিত খলনায়ক।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৪০

মেজর সিনহাকে চারটা নাকি ছয়টা গুলি করেছে তা নিয়ে বিতর্ক করে কি লাভ এখন। তাকে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে এটাই সত্য। আর এই হত্যা করেছে দেশের আইন শৃঙ্খলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

৮ টি প্রয়োজনীয় ও বিনোদনমূলক ওয়েবসাইটের লিংক নিয়ে সামুপাগলা হাজির! (এক্কেরে ফ্রি, ট্রাই না করলে মিস! ;) )

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৬



করোনার সময়ে অনেকেই ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। বড়দের অফিস চললেও অপ্রয়োজনীয় কাজে সচেতন মানুষেরা বাইরে যাচ্ছেন না। ইচ্ছেমতো বাইরে গিয়ে শপিং, ইটিং, ট্র্যাভেলিং করে ছুটির দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×