somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নিল সেই দিন (কুল্লু ও মানালি)

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেবেন্দ্র এর গাড়ী ছুটছে পাহাড়ি আকা বাকা রাস্তা ধরে। মানালি শিমলার থেকে নিচু শহর। শিমলা শহর টি যেমন পাহাড়ের উপর,মানালি তেমন নয়, বিয়াস নদীর তীরবর্তী একটি ভ্যালি বলা চলে। ভোর ৪ টায় আমরা পৌছাই কুল্লুর এগ্রো রিসোর্ট এ। এখান থেকেই আমরা আমাদের ১০ কিমি রাফটিং ও ৬০০০ ফিট থেকে পারাগ্লাইডিং করার প্যাকেজ নিয়েছি।
রিসোর্ট এর লোকেশন টাও অসাধারণ সুন্দর। বিশাল পাহাড় আর স্রোতস্বিনী বিয়াস নদীর পাড়েই। রিসোর্ট এর সামনে বসে চা পান করতে করতে সকাল ৭ টা,আর কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত হাজির।


শাওন এর ভালোই ভয় লাগছিলো রাফটিং এর কথা ভেবে, কিন্তু করতেই হবে নো অপশন। আমাদের জন্যে গাড়িও চলে এসেছে। এই গাড়ি তে করে আমরা চলে যাবো রাফটিং এর শুরুর পয়েন্ট এ ।


রাফটিং বোটে চরলাম, বিশাল বিশাল ঢেঊ আচড়ে পড়ছে আমাদের শরীরে। পানি এত ঠাণ্ডা যে শরীর ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছিলো। মনে ভয় লাগতে শুরু করলো,এই পানিতে পরলে কি অবস্থা হবে! এগিয়ে চলেছে আমাদের বোট,বিশাল বিশাল ঢেঊ এর মধ্যে লাফাচ্ছি আমরা। কুফ্রি তে করা এক্টিভিটিজ গুলো এখানে আমাদের ভালোই সাহস দিয়েছে। তবে শাওন একটিবারের জন্যেও সামনে ফিরে বসেনি,সাহস যোগাতে পারেনি স্রোত দেখার। শেষে না পেরে আমার হাতের মধ্যে হাত লক করে বসে ছিলো। ওর হয়ত শুধু কান্না করাটাই বাকি ছিলো।


আমাদের রাফটিং এর একটি ছোট ভিডিওঃ Click This Link

রাফটিং শেষ করতে না করতেই প্যারাগ্লাইডিং এর পালা। আবারো গাড়ি দিয়ে চলে গেলাম দুরের কোনো এক পাহাড়ের চুরায়। এখান থেকেই নিচে তাকাতেই ভয় লাগছিলো।


কে এখান থেকে প্রথমে লাফ দিবে তা নিয়ে শুরু হয়ে গেলো জল্পনা কল্পনা! অবশেষে জুবায়ের ই আগে গেলো।
আমি তো সিধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম করবোনা, কিছুতেই এখান থেকে লাফ দেওয়ার মত সাহস যোগাতে পারছিলাম না।


একে একে সবায় করলো, শুধু আমিই বাকি! বুক ধড়ফড় করছে, কি করে সম্ভব! কিন্তু লাফ দিতেই হলো।


শুধু লাফ দেওয়া পর্যন্ত ই ভয়, তারপর সবই স্বপ্ন। আকাশে যখন উড়ি তখনই যেনো চিলের সার্থকতা।
রাফটিং,প্যারাগ্লাইডিং শেষ করে আমরা ছুটি রোহতাং পাস এর দিকে। সময় সল্পতার কারনে আর আমরা সোলাং ভ্যালি পৌছাতে পারিনি। মানালি শহর হয়ে আমাদের গাড়ি ছুটে চললো রোহতাং পাস এর দিকে। গাড়ি এবার শুধু উপরেই উঠছে, রাস্তা ও সংকীর্ণ। কিন্তু আশে পাশের দৃশ্য অপরুপ সুন্দর।



রোহতাং পাস যখন পৌঁছাই তখন শীত কাবু করে বসে আমাদের সবায়কে। চারদিকে যেদিকে তাকাই সেদিকেই পাহাড়,বরফ,মেঘের মিতালি। রোহতাং পাসের উচ্চতা ১৩০৫০ ফিট। এত উচ্চতায় আমাদের সবার ই প্রথম বারের মত আশা,কিন্তু এখানে উচ্চতার কারনে আমাদের কারোর ই কোনো সমস্যা হয়নি।


রোহতাং পাস থেকে আমরা ফিরতে শুরু করি শহরের দিকে, প্রায় সন্ধ্যা নাগাদ আমরা আমাদের হোটেলে পৌছাই। রাতে শহর টা ঘুরে ঠিক করে রাখি আগামিকাল লেহ যাত্রার জন্যে। মানালি যেই হোটেল এ উঠেছিলাম সেখান থেকে পুরো শহর টা দেখা গিয়েছিলো।


সকালে কিছুক্ষন পুরনো মানালি শহর টা ঘুরে আমরা রউনা হই লেহ এর উদ্দেশে।



আগামি পর্বে থাকবে আমাদের মানালি থেকে লেহ যাত্রার ইতিকথা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:৩৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাহমান কলমের সাহায্যে কোরআন ও বাইয়ান শিক্ষা দিয়ে থাকেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:১০



সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
২। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে
৩। পড় তোমার রব মহামহিমাম্বিত
৪। যিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×