somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঘুড়তে থাকা চিল
ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড

সূচনার গল্প (পাংগারচুলা)

১৮ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি স্বপ্ন দেখেছি পাংগারচুলার,এভারেস্টের স্বপ্ন দেখিনি ৷ ১ টি বছর ধরে মনের মধ্যে স্বপ্ন বুনেছি,অপেক্ষা করেছি ৷ ৫ বন্ধু মিলে একসাথে যাবো,কিন্তু অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে আমরা কেবল দুজন ই রওনা দিয়েছি ৷

যাওয়ার দুদিন আগ পর্যন্ত টাকা ম্যানেজ হয়নি, সেই মুহুর্তে তানজীল এর ৮০০০ টাকা আমাদের দুজনের জন্যে বুস্ট হিসেবে কাজ করেছিলো ৷ ছিলো আরো সাথে আনজুম,আজিম ভাই আর তন্ময় এর সাহায্য ৷
আমার সফর নিয়ে আমার থেকেও বেশী কল্পনা করে রেখেছিলো তন্ময় ৷

এবারে আর হাজার কিলো দূরের হরিদওয়ার যাওয়ার কল্প কাহিনী লেখবোনা ৷ উত্তরাখন্ডে প্রবেশ টা হয়েছিলো আমার খারাপ ভাবে ৷ প্লাটফর্মে পরে গিয়ে হাত,মাজা ও পা বেশ ভালো ভাবেই কেটেছে ৷ এই লুলা ভাবেই শুরু করতে হয়েছে জীবনের সবচেয়ে প্রতিক্ষিত ট্রেক ৷

সফরসঙ্গী আমার আর তারিক ভাইয়ের জুটি খারাপ না,যদিও গত লাদাখ ট্রিপে খাবার নিয়ে একটু মন কষাকষি হয়েছিলো ৷ কিন্তু সেই তারিক ভাই আর আমিই এবার শুধু শসা আর বিস্কুট খেয়েও পুরো এক-দুটো দিন কাটিয়ে দিয়েছি ৷ সময়ে-অসময়ে কেবল আমরা দুজনই, একে অপরের ৷

হরিদওয়ার পৌছেছি সকাল ৯ টায় ৷ ততক্ষনে আমাদের ছেড়ে TTH টিম চলে গেছে জোসিমাঠ এর উদ্দেশ্যে ৷ আবারো একটি ধাক্কা, বাস স্ট্যান্ড ঘুরে বের করি আজ আর জোসিমাঠের কোনো বাস নেই ৷ রুদ্রপ্রয়াগ এর বাসে চড়ে যাই সাথে সাথে ৷ গঙ্গার পাশ ধরে বাস এগিয়ে যাচ্ছে।


প্রায় ঘন্টা খানেক পরে পৌছেছি রিশিকেশ শহরে ৷ এডভেঞ্চার একটিভিটিজ এর জন্যে বিখ্যাত শহর রিশিকেশ ৷ উপর থেকে দেখা যাচ্ছে নিচে গঙ্গা তে শ'খানেক রাফটিং বোট রেডি,কিন্তু নদীতে কোনো স্রোত নেই ৷


দুপুর নাগাদ আমরা পৌছাই দেবপ্রয়াগ এ ৷ এখানে দুটো নদী এসে মিলেছে, আলাকনন্দা ও ময়ুর ৷


বাস শ্রীনগর পেরিয়ে রুদ্রপ্রয়াগ পৌছেছে প্রায় শেষ বিকেলে ৷


জোসিমাঠ এখনো ১১০ কিলো দূরে ৷ আবার আরেক বাসে চড়ে বসলাম ৷ ১ ঘন্টা পর সেই বাস আমাদের নামিয়ে দিলো কার্নপ্রয়াগে ৷


এদিকে বিয়ের হিরিক লেগেছে, সব গাড়ি রিজার্ভ ৷ রাত নেমেছে ছোট শহরটিতে, জোসিমাঠ এখনো অনেক দূরে ৷ কাল থেকে আবার আমাদের ট্রেকিং শুরু করতে হবে ৷
হঠাত একটা গাড়ি পেলাম, ১০ জনের গাড়ীতে ১৪ জন বসে কোনোমতে আসলাম চামোলি তে ৷ রাত ৯ টা বেজেছে , গন্তব্যে এখনো পৌছানো হয়নি ৷ আর কোনো উপায় না পেয়ে জ্বীপ একটা ১৮০০ রুপী তে রিজার্ভ করে রওনা হলাম জোসিমাঠ এর উদ্দেশ্যে ৷ কিন্তু সে আবার যাবেনা আমাদের রিসোর্ট পর্যন্ত ৷ সে ভয় পায় এতো রাতে অলির রাস্তা নাকি খারাপ! চার পায়ের জানোয়ারের ভয় তার ৷

কিছুদূর যাওযার পর আমরাই ভয় পেয়ে যাই, দূরে সব বিশালাকার পাহাড় গুলোতে আলো ভাসছে ৷ ভালো করে নিচে তাকিয়ে দেখলাম নিচে জলবিদ্যুত কেন্দ্র ৷ কেমন যেনো ভিদঘুটে লাগছিলো পাহাড় গুলো কে ৷ রাত ১১ টায় পৌছেছি আমরা জোসিমাঠ শহরে ৷ এখান থেকে আমাদের রিসোর্ট আরো ৭ কিলো উপরে ৷ এবার আমাদের জিও টিম আমাদের গাড়ি করে রিসিভ করে অলি রিসোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে ৷

এখানে এসে এক অন্যরকম আবহাওয়া! সারাদিন তপ্ত রোদে কাটিয়ে এখানে এসেই দেখি তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি ৷ শরীর থরথর করে কাপছে শীতে ৷ সারাদিন কোনো খাবার জোটেনি ৷ কিন্তু এখন আমাদের জন্যে খাবারের অভাব নেই ৷
মাংস,ভাত,ডাল,আলু গোভী,রুটি! ! পেট পুরে খেয়ে নিয়ে আজকের মতো ঘুমানোর পালা ৷


কাল থেকে শুরু হবে পাংগারচুলার দিকে হাটা ৷

চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৩১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×