বৃটেনে থাকার কারণে বাংলাদেশী সহ কর্মক্ষেত্র অনুসারে সময় সময় ভারতীয়, পাকিস্তানী এবং আরবদের তৈরি মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। এই গত সপ্তাহে আরবদের নির্মিত একটি মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করি। সেখানে খুতবার আগে ইংরেজীতে ইমাম সাহেব বললেন বিশ্বের সকল মুসলমান দেশ কেন অনৈক্য, বিভেদ, সমস্যা এবং এক মুসলিম দেশ হতে আরেক মুসলিম দেশে যেতে কেন ভিসা লাগবে? কেন সব মুসলিম রাষ্ট্র ইসলামী শাসন ব্যাবস্থায় চলে না? উনার কথা অনুযায়ী সকল মুসলিম রাষ্ট্র ইসলামী ব্যাবস্থা কায়েম করে মদিনা কেন্দ্রিক খলিফা ব্যাবস্থায় যাওয়া উচিত। অথচ আজ হতে ৯৪-৯৫ বছর পূর্বে আরবের কিছু নেতৃবৃন্দ আরব জাতীয়তাবাদ ও নিজেদের শাসন করার সুবিধার্তে তথা খলিফার বদলে বাদশাহী বা রাজতন্ত্র কায়েমের জন্য তুর্কীর উসমানিয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। আরবরা এক সময় এক ইসলামী রাষ্ট্র উসমানিয়া খেলাফতের অধীনে ছিল
http://en.wikipedia.org/wiki/Ottoman_Turks
যেহেতু আরবদের নিজস্ব সামরিক ব্যাবস্থা শক্তিশালী ছিলনা বা তাই তারা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদেরকে ডেকে আনে। ফলে আরব মুসলমান এবং নাছারা ব্রিটিশদের সহায়তায় উসমানিয়া খেলাফতের পতন হয়
http://en.wikipedia.org/wiki/Arab_Revolt
জন্ম হয় সিরিয়া, ইরাক, সৌদি, আমিরাত, বাহারাইন, কাতার, ওমান, ইয়েমেন, জর্দান, ইসরাইল, ফিলিস্তিন, লেবানন। এ সবই ব্রিটিশ ফর্মূলায় এই সকল দেশের সীমা নির্ধারিত হয়। কিন্তু বাধ সাধে ব্রিটিশদের সহায়তায় ১৯২০ সাল হতে ইহুদীদের জয়নবাদী। তখন আরব মুসলমানদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা জেগে উঠে। কিন্তু ততদিনে ব্রিটিশরা তাদের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে শক্ত ভিতে গড়ে তুলেছে। জয়নবাদী ইহুদীরা সংখ্যালঘু হয়েও ব্রিটিশদের সমর্থনে ফিলিস্তিন মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাফল্যের সাথে লড়তে থাকে। শেষমেশ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জয়লাভের উপহার স্বরুপ ইহুদী চেইম ভাইজমানের আবদার অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে ভেঙ্গে ইসরাইল রাষ্ট্র গড়া হয়। এই রকম ভাবে ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে মুসলমানরা ক্ষমতার লোভে ও আরাম আয়েশের কারণে নিজেদের মধ্যে লড়ে ব্রিটিশ সহ অন্যান্য ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের কাছে নিজেদের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়েছে। যদি আরবরা উসমানিয়া খেলাফতের সাথে গাদ্দারী না করত এতদিনে হয়ত যূগের প্রয়োজনে ইন্দোনেশিয়া হতে মরোক্কো এক ইসলামী রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় চলে আসত। কারণ উসমানিয়া খেলাফত হত ইসলামের জন্য রোল মডেল। আজকে মুসলিম বিশ্ব এত র্দূদশায় পতিত হত না। এই ইমাম সাহেবের মত আফসোস করতে হত না। কথায় বলে গাধা ঘোলা করে পানি পান করে। নিজেদের ভুল তথা গাদ্দারির কথাতো স্বীকারতো করেই না বরং সিংহভাগই নিজস্ব সুবিধা মত মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বিকৃতি করে সমস্যা জিইয়ে রেখেছে। মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু ভুলের উপর ভিত্তি করে মিথ্যা অহমিকা দেখানো বেওকুফী ছাড়া আর কিছুই নয়। এই কারণেই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সমস্যা মিটছে না। কোন মুসলিম রাষ্ট্রই হামাস-হিজবুল্লাহ এবং ইরানকে সংযত হতে বলছে না। অথচ এখন তাদের অনেকে এক ইসলামী রাষ্ট্রের কথা বলছেন যা উসমানিয়া খেলাফতের সময় উজ্জল ছিল
http://en.wikipedia.org/wiki/Pan-Islamism
কোন পাত্রের ছিদ্র না বন্ধ করলে যেমন সেখানে পানি রাখা যায় না তেমনি সমস্যা জিইয়ে রেখে বা অবহেলা করলে শান্তির আসা করা যায় না। ক্ষমতার লোভ, র্দূনীতি, ব্যাক্তি বিশেষের প্রাধান্য তথা ডিক্টেটরশীপ রেখে শুধু মুখে মুখে ইসলামের দোহাই দিলে চলবে না। আর ধর্মের মিথ্যা অপব্যাখ্যা দিয়ে অমুসলিমদের সাথে বৈরিতা তথা আক্রমণাত্নক ভূমিকাও কাম্য নয়। কারণ পবিত্র কোরআন বলা আছে মুসলমানগণ মধ্যমপন্থী জাতি এবং তাদের ভূমিকা রক্ষণাত্নক, সদা সতর্ক। কোনমতেই গায়ে পড়ে ঝগড়া বা হানাহানি নয়। অথচ বাস্তবতা হল আমরা সিংহভাগ মুসলমানগণ এবং বিশেষ করে আমাদের মুসলিম আরব-ইরানী নেতৃবৃন্দ এসব তোয়াক্কা তথা আন্তরিক ভাবে চিন্তা করেন না। রাসুল(সাঃ) বলেছেন " যে ব্যক্তি আসহাবিয়াতের (জাতিয়তাবাদের) দিকে ডাকে , আসহাবিয়াতের জন্য কাজ করে, আসহাবিয়াতের সমর্থন নিয়ে মারা যায়, সে আমার দলভুক্ত নয়"। তাই আজকে বিশ্বে আমাদের মুসলমানদের এত র্দূভোগ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

