somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম পর্বঃ প্রিন্স অফ পার্সিয়া

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম অংশঃ

আমি তখন মিডিয়ার সম্রাট অস্টিয়েজের সামরিক উপদেষ্টা। আমার জন্ম প্রাচীন পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণের ছোট একটি অঞ্চলে। মহাপ্লাবনে প্রাচীন পৃথিবী টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিসের বানে নিমজ্জিত হলে আমার তথা সমগ্র মানবজাতির পূর্বপুরুষ জিওশুদ্র তার পরিবারবর্গ সহ দেবতাদের সহায়তায় কাষ্ঠ-কিশতি ভাসিয়ে পৃথিবীতে প্রাণিজগৎের বীজ সংরক্ষণ করতে সমর্থ হন। পরে তার তিন সন্তান ধরণীর তিন প্রান্তে মানব সভ্যতাকে ছড়িয়ে দেন, সে অনেক আগের কথা। পুরনো পৃথিবীর অনুর্বর এক অংশে আমার জন্ম। সেখানে মানুষের একমাত্র জীবিকা হল যুদ্ধ। শিশুকাল থেকেই আমাদের সৈন্য হিসেবে গড়ে তোলা হয়। মানবজাতি তখন সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মগ্ন। পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত সবাই সীমান্ত বাড়াতে চায়- কারো উদ্দেশ্য সাম্রজ্যের আয়তন বৃদ্ধি, কেউ দেবতাদের ইচ্ছা পূরণে, কেউ আবার শুধুই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্থায়ীভাবে অলঙ্কৃত করতে। পশ্চিম থেকে পূর্ব, দক্ষিণ থেকে উত্তর- যুদ্ধের কমতি ছিল না, সুতরাং আমাদের জীবিকারও অভাব ছিল না। সবার মত আমিও ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করি।

ভাড়াটে সৈনিকদের বিবেক, ন্যায়-নীতি নিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল না। আজকে গ্রীকদের হয়ে যুদ্ধ করছে তো কালকে কার্থেজের সৈন্যদলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অধিকাংশ সৈনিকই ক্ষণজন্মা , যারা যুদ্ধের পর যুদ্ধ টিকে যেতে পারত তারা শেষ বয়সে এসে কোন এক সম্রাটের দরবারে পারিষদ পদ গ্রহণ করে থিতু হয়ে যেত। কেউ কেউ আবার যুদ্ধের নেশা ছাড়তে না পেরে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্র দাপিয়ে বেড়াত। আবার কেউ আমার মত নতুন নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে পুরো পৃথিবী চরে বেড়াত।

পয়সা কামানোর উপযুক্ত স্থান ছিল পুব। সাগরের এপাড় ছিল ভাড়াটে সৈনিকদের সবচেয়ে পছন্দের কর্মক্ষেত্র। কেউ কেউ অবশ্য একিলিস বাইয়ে আক্রান্ত ছিল। সম্মান আর নাম কামানোর নেশায় তারা গ্রীসের মায়াজালে আটকে যেত। গ্রীসে আমিও যুদ্ধ করেছি, কিন্তু সম্মান ও খ্যাতির মোহ কখনই আমাকে টানেনি। গ্রীস থেকে চলে আসি আলেকজান্দ্রিয়া। ব্যাবিলনকে যদি স্থাপত্যের রাজধানী বলি তাহলে আলেকজান্দ্রিয়া পৃথিবীর শিল্প ও জ্ঞানের রাজধানী। পণ্ডিতেরা বলতেন- “যদি পুরনো পৃথিবী খোঁজ চাও তাহলে যাও নিনেভা, আর আধুনিক জ্ঞানার্জনে আলেকজান্দ্রিয়া”। অবশ্য নিনেভা ধ্বংস হবার পর আলেকজান্দ্রিয়াই জ্ঞানপূজারীদের জেরুজালেমে পরিণত হয়েছে। আলেকজান্দ্রিয়ার সম্পদের তুলনায় গ্রীসের পাঠাগারগুলো মদিরা ও পানি তুল্য। গ্রীকরা সভ্য কিন্তু পন্ডিত না। অহংকার ভূষণ নয়, পাঁড় নগ্নতা। নিমরূদের ভূমি পুরোপুরি দেখে শেষ করতে পারার আগেই ফারাও হোপরা ব্যাবিলনের নেবুচাঁদনেজারের পাকা ক্ষেতে মই দিলেন। সেই সুযোগে জুদার রাজা জেহোকিম হোপরার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ব্যাবিলনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বসল।

জেহোকিমের উদ্দেশ্য খুবই পরিষ্কার- জুদা তখন ব্যাবিলনের করদ রাজ্য। মিশরীয় দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে চল্লিশ বছর পর প্রতিশ্রুত পবিত্রভূমিতে ঝাণ্ডা গাড়তে পারলেও হিব্রুদের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা সোলেমানের মৃত্যুতে সব কিছু আবার কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যায়। রাষ্ট্র ভেঙে দুই টুকরো হওয়া, নতুন সামরিক শক্তির কাছে নতি স্বীকার- হিব্রুদের বিশ্বাস ইহ্ওয়ার আদেশ অমান্য করার জন্য তাদের এই দশা। যাই হোক, পুরনো অ্যাশেরীয় সাম্রাজ্য ভেঙে ব্যাবিলন সাম্রাজ্য গঠনের পর ব্যাবিলন সম্রাট হিব্রুদের পবিত্রভূমিকে করদ রাজ্যে পরিণত করেন। জেহোকিম ব্যাবিলনের শেকল থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষণস্থায়ীভাবে মিশরের অনুগত থেকে আবার স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। তার আশা একটা সময় হয়ত ফারাও সাগরের এপাড়ে আর নজর দিবে না, তখনই স্বাধীনতা অর্জন করার উত্তম সময়। আর ব্যাবিলনের সাথে ঠোকাঠুকিতে মিশর ছাড়া আর কেই বা সেয়ানা টক্করের যোগ্য?

কিন্তু নেবুচাঁদনেজার কান ধরে জেহোকিমকে আবার মর্ত্যে নামালেন। তিনি ফারাওয়ের সৈন্যদের ঝেঁটিয়ে সাগর পার করলেন। ব্যাবিলন ফেরার পথে শাস্তিস্বরূপ জেহোকিমকে উচ্ছেদ করে তার হাতের পুতুল জেডেকিয়াকে জুদার সিংহাসনে বসালেন। ভবিষ্যত সতর্কবাণী হিসেবে তিনি জেরুজালেমের বহু নাগরিককে বন্দী করে নিয়ে যান, এদের মধ্যে সোলেমানের মন্দিরের তৎকালীন প্রধান পুরোহিত দানিয়েল ছিলেন অন্যতম। কথায় কি আর এমনি বলে “কয়লা যায়না ধুলে, স্বভাব যায়না ম'লে?” বছরখানেক পর মিশরের প্ররোচনায় এবার জেডেকিয়া বিদ্রোহ করে বসেন। জেডেকিয়ার সাহায্যে হোপরা জেরুজালেমে কয়েক পল্টন সৈন্য প্রেরণ করলে সেই সৈন্যদলের সাথে আমিও জেরুজালেমে পদার্পণ করি।

অনেকদিনের শখ ছিল সোলেমানের মন্দিরটা দেখার। কপাল ভাল নেবুচাঁদনেজার বিদ্রোহ দমন করতে জেরুজালেমে প্রবেশের আগেই তা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। যুদ্ধটা খুবই ক্ষণস্থায়ী ছিল। অজানা ভূমিতে মিশরীয় সৈন্যরা তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেনি। হিব্রুদের মধ্যেও তখন জশুয়া প্রতিম ধারটা ছিল অনুপস্থিত। সুতরাং, যুদ্ধের ফলাফল দাড়ালো যে, নেবুচাঁদনেজার সোলেমানের মন্দির মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে বৃদ্ধ ও অর্থব ছাড়া মোটামুটি সবাইকে বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে যান। ফলে, মিশরের পর হিব্রুরা ব্যাবিলনের দাসত্ব বরণ করে।

হোপরার অবশিষ্ট সৈন্যরা চিরতরের জন্য মিশরে ফিরে গেলেও নতুন মহাদেশ দেখার বাসনায় জেরুজালেমে থেকে গেলাম। বেশিরভাগ সময় মন্দিরের বৃদ্ধ পুরোহিতদের সাথে কাটাতাম। খুব সম্ভবত হিব্রুরা পৃথিবীর প্রথম ইতিহাসবিদ। যদিও তারা শুধু তাদের জাতির ইতিহাস নিয়েই বেশি আগ্রহী, তাদের ইতিহাসে সমসাময়িক অন্যান্য জাতির কথা তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবুও মহাদেশের কিছুটা ইতিহাস জ্ঞান, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ধারণা পাবার চেষ্টা করতাম। এরকম এক সন্ধ্যার আলোচনায় এক পুরোহিত অদ্ভুত এক অনুরোধ করে বসলেন, “পুবে যাও টায়ারসিয়াস (আমার নাম আসলে টায়ারসিয়াস না। জানি না কি কারণে আমার গ্রীসের সহযোদ্ধারা এই নামে ডাকা শুরু করলে সবার মুখে এই নামটিই প্রচলিত হয়ে যায়)। মনে রেখ, মানব জীবন নিয়তি তাড়িত। ঈশ্বরের যে অনুগ্রহকে তুমি অভিশাপ মনে করছ সঠিক ব্যবহারে সেটাই এক সময় আশীর্বাদ হয়ে প্রকট হবে। এভাবে আর কতদিন পালিয়ে বেড়াবে? তুমি ভাবছ এভাবে নিয়তিকে ফাঁকি দিবে? আসলে তোমার নিয়তিই তোমাকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। ঈশ্বরের লীলা বোঝা বড়ই কঠিন। হয়ত তিনি তোমাকে ইতিহাসের সাক্ষী বানাতে চান। ভগবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইজরায়েলের সুদিন আবার আসবে, তিনি তার মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মাসিহা পাঠাবেন। তুমি ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির সাক্ষী থেক। ঈশ্বর নোয়া, আব্রাহাম, জ্যাকবের সাথে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন, এটিও রক্ষা করবেন। ঈশ্বরই মাসিহাকে জেরুজালেমে প্রেরণ করবেন, তুমি শুধু উত্তরপুরুষদের কাছে ভবিতব্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে”।

পুরোহিতের অনুরোধ রক্ষা করার জন্য না হলেও নিজের গরজেই কোন এক সময় পুবে যেতাম। উত্তর আর উত্তর-পূর্ব হল পাহাড়ি এলাকা। এসব পর্বতের কোন একটার চূড়ায় জিওশুদ্রের কিশতি ভিড়েছিল। তার উপর ব্যাবিলন দেখার শখ তো ষোল আনাই ছিল। আরো পুবের দিকে গেলে হয়ত হিব্রুদের হারানো গোত্রের সন্ধানও পেয়ে যেতে পারি, কে জানে। জেরুজালেমেও তো করার কিছু ছিল না, নেবুচাঁদনেজার সব সম্পদ লুট করেছে, সেগুলো হয়ত ব্যাবিলনে বেল-মারডুকের মন্দিরে শোভা পাবে। সুতরাং তল্পি-তল্পা গুছিয়ে ঘুরপথে উত্তরে লিডিয়া হয়ে পুবের দিকে রওনা দিলাম। এক সময় মিডিয়ার রাজধানী একবাটানাতে সম্রাট অস্টিয়েজের দরবারে হাজির হলাম।

অত্র অঞ্চলের সবচেয়ে পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিল অ্যাশেরীয়রা। সম্রাট আশুরবানিপালের মৃত্যুর পর অ্যাশেরীয় সাম্রাজ্যের ভিত দূর্বল হয়ে পড়ে। সেই সময় নেবোপোলাজারের নেতৃত্বে বিদ্রোহ সংঘটিত হলে অ্যাশেরীয় সাম্রাজ্য টুকরো টুকরো হয়ে যায়। অ্যাশেরীয় ধ্বংসাবেশেষের সিংহভাগ নিয়ে গঠিত হয় ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য। বাকি টুকরোগুলো মিডিয়া, পারস্য, শাকান ও কিমেরিয়রা ভাগাভাগি করে নেয়। কালের বিবর্তনে বাকি রাজ্যগুলো ব্যাবিলন গিলে ফেললে বহিঃশত্রুর আক্রমণ পরাহত করার জন্য মিডিয়া ও পারস্য জোট গঠন করে। সেই সাম্রাজ্যের তৎকালীন সম্রাট ছিলেন অস্টিয়েজ।

শাসক হিসেবে অস্টিয়েজ ছিলেন তৃতীয় শ্রেণীর। ক্ষমতার লোভ, উন্নাসিকতা, নিষ্ঠুরতার আবরণে ঘেরা একজন স্বৈরাচারী। জোটের অপর সদস্য পারসিকদের তিনি অবজ্ঞা করতেন। মিড রাজপরিবারের চাকচিক্য ও পারস্যের অনাড়ম্বর জীবনের তুলনা ছিল তার রাজদরবারের প্রধান আলোচিত বিষয়। এমনকি নিজের মিড নাগরিকদেরও তিনি তুচ্ছ জ্ঞান করতেন। অস্টিয়েজের দুই সন্তান- বড়জন মেয়ে ম্যান্ডেন ও ছোটছেলে সায়াজারেস। অস্টিয়েজের দরবারে আমি সামরিক উপদেষ্টা ও সায়াজারেসের শিক্ষক নিযুক্ত হই। জেরুজালেমে যুদ্ধের সুবাদে বিদেশী সৈনিক হিসেবে আমার নাম মিডিয়া পর্যন্ত পৌছেছিল। অস্টিয়েজের সেনাবাহিনীর সাথে নিজেকে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে অশ্বারোহী বাহিনীর সেনাপতি হারপাগাস আমার খুবই ঘনিষ্ট বন্ধু হয়ে উঠলেন।

একদিন আমি ও হারপাগাস সৈন্যদের প্রাতঃকালীন মহড়া শেষে প্রতিদিনের মত গৃহে ফিরছিলা। এমন সময় রাজপ্রাসাদের এক দূত জানালো অস্টিয়েজ আমাদের তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠিয়েছেন। অস্টিয়েজের কক্ষে পৌছে দেখি রাজদৈবজ্ঞও সেখানে উপস্থিত। আমাদের বসতে দিয়ে অস্টিয়েজ বললেন, “অদ্ভুত এক স্বপ্ন বুঝলে, দেখি টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিসের বানে পুরো মহাদেশ ভেসে যাচ্ছে। সেই বানের উৎস হল আমার মেয়ে ম্যান্ডেনের গর্ভ। এর অর্থ কি হতে পারে বলে তোমাদের মনে হয়?”

আমি বললাম, “শাসকদের স্বপ্নে দৈববাণীর প্রকাশতো নতুন কিছু নয় মহারাজ। ফারাও এক সময় দুর্ভিক্ষের দৈববাণী পেয়েছেন, কিন্তু আমরা তো জোসেফ নই। তারপরও যদি মতামত চান তাহলে আমি বলব এতে চিন্তার কিছু নেই। টাইগ্রিস আর ইউফ্রেটিস এক সময় মহাপ্লাবনের জন্ম দিয়েছিল, আবার দিলেও অবাক হব না”।

“কিন্তু এর সাথে ম্যান্ডেনের কি সম্পর্ক?”

সবাই রাজদৈবজ্ঞের দিকে তাকালাম, এর উত্তর আমাদের মধ্যে একমাত্র তার পক্ষেই দেয়া সম্ভব। মিডিয়ার ছয়টি গোত্রের মধ্যে তাদের গোত্র একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। রাজ্যের তাবৎ দৈবজ্ঞ, গ্রন্থিক, বৈদ্য তাদের গোত্র থেকে নিয়োগ করা হয়। বংশপরম্পরায় তারা এ জ্ঞান চর্চা করে আসছেন। তাদের মর্যাদা অনেকটা ডেলফির ভবিষ্যদ্বক্তাদের সমান। কিছুক্ষণ ভাবার পর রাজদৈবজ্ঞ মুখ খুললেন, “মহারাজ, রাজকুমারী ম্যান্ডেনের গর্ভে এমন এক সন্তানের জন্ম হবে যার পরাক্রম পুরো মহাদেশকে গ্রাস করবে, যা কিছু পুরনো, জীর্ণ তা ছুড়ে ফেলে নিজের শাসন কায়েম করবে”।

এবার অস্টিয়েজ শঙ্কিত হলেন, “পুরনো মানে কি আমাকেও? ম্যান্ডেনের সন্তান কি আমাকেও উৎখাত করবে?”

“আহুরামাজদা যদি চান তাহলে তা হতেই পারে। সবই তো ঈশ্বরের ইচ্ছা, আমরা তো নিমিত্ত মাত্র। তিনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে আমাদের কর্তব্য সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করা এবং নিজেদের সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করা”।

সম্ভবত ঈশ্বরের প্রতি রাজদৈবজ্ঞের কর্তব্যজ্ঞান অস্টিয়েজের পছন্দ হল না। বেতন ভোগ করবে রাজার আর কর্তব্য ঈশ্বরের প্রতি- ব্যাপারটা অস্টিয়েজ ঠিক হজম করতে পারলেন না। মনে মনে তিনি নিমরূদ সদৃশ প্রতিকার খুঁজতে লাগলেন। অনেকক্ষণ ভাবনা-চিন্তা করার পর বললেন, “আচ্ছা, ম্যান্ডেনের বিয়ে যদি মিডিয়ার বাইরে ছোট কোন রাজার সাথে দেয়া হয় তাহলে তো মনে হয় বিদ্রোহ এড়ানো যায়, তাই না? ছোট রাজ্যে জন্মালে সে মিডিয়ার মত বড় রাজ্যকে চোখ রাঙানোর সাহস করবে না। তোমরা কি বল?”

রাজার বক্তব্যে একই সাথে বিরক্তি ও আমোদ বোধ করলাম। মাতামহ নিজের পৌত্রকে প্রতিদ্বন্ধী মনে করছে। সিংহাসনের মোহ কি পরিমাণ তীব্র হতে পারে! অস্টিয়েজকে পাগল ছাড়া আর কিছু মনে হল না। এদিকে রাজদৈবজ্ঞ তার মতামত পেশ করলেন, “মহারাজ, নিয়তি ঈশ্বরের লিখন, তা খণ্ডানোর ক্ষমতা কারো নেই। ঈশ্বর চাইলে ঝর্ণাও প্লাবনের জন্ম দেয়”।

অস্টিয়েজ তার কথা অগ্রাহ্য করে আমার দিকে ফিরলেন, “ক্যাম্বিসেসকে খবর দাও। একজন সত্রপ প্রধানের বেশিদিন অবিবাহিত থাকা উচিৎ না। আমি পারসিকদের ব্যাপার স্যাপার বুঝি না। এত কড়াকড়ি করে চললে ঈশ্বরের পৃথিবীর অধিকাংশ বস্তুই তো ভোগ না করে চলে যেতে হবে। ধর, পরের জন্মেও আবার পারস্যে জন্মালো? তাহলে কি হবে?”

ক্যাম্বিসেস পারস্যের সত্রপ প্রধান, চমৎকার একজন মানুষ। তার পিতা ছিলেন কুরুশ। ক্যাম্বিসেসের সাথে আমার প্রথম পরিচয় লিডিয়ার বিরুদ্ধে গ্রহণের যুদ্ধে। সেই থেকে পরিচয়টা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে পরিণত হয়। পারসিকরা শিশুকাল থেকেই কঠোর অনুশাসনের মধ্য দিয়ে বড় হয়। সন্তান বারোতে পা দিলেই সামর্থ্যবান পিতা-মাতা তাদেরকে বালকদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেন। তাদের প্রথম পাঠ সদাচার ও সুশাসন। আইনের ব্যবহারিক প্রয়োগ তাদের হাতে-কলমে শেখানো হয়। শ্রেণিকক্ষে একজন বিচারকের দায়িত্ব পালন করে, বাকিরা বাদী-বিবাদীর ভূমিকা পালন করে। বিচারকের কাজ সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা, অন্যথা শিক্ষক তাদের যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকেই বিচারকের ভুমিকা পালন করতে হয়। এর সাথে তারা ধর্নুবিদ্যার শিক্ষা লাভ করে।

চার বছরের শিক্ষা সম্পূর্ণ হবার পর তাদেরকে যুবকদের প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগ পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন রকম দায়িত্ব পালন করতে হয়। সকালে তারা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়। প্রশাসক তাদের মাঝে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। রাতে নগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা নগরের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান করে। পারসিকরা বিশ্বাস করে সৈনিকের সবচেয়ে বড় গুণ হল সংযম। আর সংযমের অভ্যাস গড়ে তোলার উপযুক্ত সময় হল যৌবন৷ যুদ্ধের কলা-কৌশল শেখানোর জন্য প্রশাসক এই যুবকদের শিকারে নিয়ে যান। অস্ত্র হিসাবে তরবারি, বল্লম ইত্যাদির ব্যবহার তাদের শিক্ষার অন্যতম অংশ। পঁচিশ বছর বয়স পূর্ণ হলে তারা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মর্যাদা লাভ করে। এসময় তারা মেধানুযায়ী বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত হয়। বয়স পঞ্চাশ পার হবার পর তারা সব রকম কর্তব্য থেকে অবসর গ্রহণ করে নীতি নির্ধারকের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

যথেষ্ট ধুমধামের সাথে ক্যাম্বিসেস ও ম্যান্ডেনের বিয়ে সম্পন্ন হল। উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন ক্যাম্বিসেস-ম্যান্ডেন জুঁটি ঈশ্বরপ্রদত্তই বটে। মিড রাজপ্রাসাদের প্রতিপত্তির মাঝেও ম্যান্ডেন অনাড়ম্বর জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল। আনশানে ক্যাম্বিসেস গৃহে ম্যান্ডেনের চেয়ে উপযুক্ত ঠাকুরাণী আর কেউ হতে পারত না। অস্টিয়েজও নিশ্চিন্তে মিডিয়ায় তার রাজত্ব বজায় রাখলেন।

বছরখানেক পর ম্যান্ডেন সন্তানসম্ভবা হল। সেই সময় অস্টিয়েজ আরেকটি স্বপ্ন দেখলেন, “ম্যান্ডেনের গর্ভ থেকে দ্রাক্ষালতা বের হল। তা ম্যান্ডেনকে যত্নসহকারে আবিষ্ট করে পুরো মহাদেশকে আচ্ছন্ন করে ফেলল”।

রাজদৈবজ্ঞ আগ্রহ সহকারে বললেন, “এতো ভাল লক্ষণ, মহারাজ। দ্রাক্ষা দান ও প্রাচুর্যের প্রতীক। মহাপ্লাবনের পর পৃথিবীকে সুজলা-সুফলা করার জন্য দেবতারা জিওশুদ্রকে দ্রাক্ষার বীজ উপহার দিয়েছিলেন। আপনার পৌত্র রাজ্যে সোভাগ্য বয়ে আনবে”।

কিন্তু অস্টিয়েজের সংশয় দূর হল না, “কিন্তু এর সাথে আগের স্বপ্নের কোন সম্পর্ক নেই তো?”

রাজদৈবজ্ঞ গম্ভীর স্বরে বললেন, “মহারাজ, সেই স্বপ্নের ব্যাপারে আমার মতামত এখনো বদলায়নি। ঈশ্বরের অভীপ্সাই আমাদের নিয়তি। আমার নতুন আর কিছু বলার নেই। তবে আপনার এখনকার স্বপ্ন সোভাগ্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমাদের উচিৎ হবে সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় বুক বাঁধা”।

রাজদৈবজ্ঞের কথায় অস্টিয়েজ আশ্বস্ত হলেন কি না বোঝা গেল না। কয়েক দিন পর পত্রযোগে ম্যান্ডেনকে মিডিয়ায় নিমন্ত্রণ করলেন, তার ইচ্ছা ম্যান্ডেনের সন্তান যেন মিডিয়ার ভূমিতে জন্ম নেয়। পিতার অনুরোধ ম্যান্ডেন ফেলতে পারলো না। গর্ভাবস্থার শত কষ্টেও সুদূর পারস্য থেকে একবাটানাতে উপস্থিত হল।

ম্যান্ডেনের উপস্থিতিতে মিড রাজপ্রাসাদের জমকালো জীর্ণ পরিবেশে প্রাণের সঞ্চার হল। অনাগত প্রাণের শুভাবার্তায় প্রাসাদের অন্দরমহলের সাথে রাজ্যেও আনন্দের ঢল নামলো। মাসখানেক পর ম্যান্ডেনের প্রসব বেদনা উঠল। আমি ও সায়াজারেস আঁতুরঘরের বাইরে অপেক্ষা করছিলাম। নবজাতকের কান্নার আওয়াজ বাইরে আসতেই আমাদের সাথে সাথে পুরো রাজপ্রাসাদ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠল। এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে হারপাগাস এলো, “মহারাজ তার পৌত্রকে দেখতে চান”৷

ম্যান্ডেন তখনো অচেতন। জন্মের পর শিশু মাকে আগে দেখবে এটিই পৃথিবীর রীতি। ধাত্রীরাও হারপাগাসের অনুরোধে সম্মত হতে পারছিল না। কিন্তু হারপাগাসের চাপাচাপিতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও শিশুকে হারপাগাসের হাতে তুলে দেয়। সেই সুযোগে কিছু মুহূর্তের জন্য পারস্যের ভাবি রাজাকে দেখার সুযোগ পাই। লোকে বলে শিশুরা নাকি ঈশ্বরের দর্পণ, কিন্তু ম্যান্ডেনের সন্তানকে দেখে আমার মনে হল এ দেবশিশু না হয়ে পারে না৷ তার ললাটে নিয়তির লিপি সুস্পষ্ট। তার কচি, এলোমেলো দেহভঙ্গিমায় আদেশের সুর। ছোট সম্রাট চোখ বুজেই তার আকুলতার সাথে মায়ের খোঁজ করছে। “বেশি দেরি কোরো না বন্ধু, জেগে উঠে ছেলেকে না পেয়ে মা পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে”, হারপাগাসের কোলে শিশুটি তুলে দিলাম। হারপাগাস কথা না বাড়িয়ে দ্রুত অস্টিয়েজের কক্ষের দিকে প্রস্থান করল।

অনেক সময় পার হবার পরও হারপাগাস ফিরছিল না, এদিকে ম্যান্ডেন জেগে উঠে সন্তানের খোঁজ করছে। সায়াজারেসকে রেখে অস্টিয়েজের কক্ষের দিকে রওনা দিলাম। আমাকে দেখে অস্টিয়েজ উল্লাসে ফেটে পড়ল, “আমি নিয়তিকে পরাজিত করেছি, টায়ারসিয়াস। ম্যান্ডেনের সন্তান আমার আর কোন ক্ষতি করতে পারবে না”।

অস্টিয়েজের উল্লাসের পেছনের মমার্থ অনুধাবন করতে মুহূর্তখানেক সময় লাগল। ক্রোধে রক্ত মাথায় উঠে গেল, “কি করেছেন আপনি?”

মদিরার পাত্র হাতে অস্টিয়েজ হালকা সুরে বললেন, “আমি কিছু করিনি। হারপাগাসের হাতে আমার যমকে তুলে দিয়েছি। আহুরামাজদার পরই সে আমার প্রতি অনুগত, হয়ত তার চেয়েও বেশি। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই, সুতরাং ম্যান্ডেন বা আহুরামাজদার কাছেও জবাবদিহিতার কোন কারণ নেই”।

উন্মাদ ও ক্রুর রাজার সাথে তর্ক না করে তাৎক্ষণিক হারপাগাসকে খুঁজতে বের হলাম। আশায় ছিলাম হয়ত তখনো তার হাত পাপে রঞ্জিত হয়নি। আস্তাবল থেকে ঘোড়া বের করার সময় অশ্বপালের কাছে জানলাম হারপাগাস নগরের বাইরে জংগলের দিকে গেছে। ঝড়ের বেগে ঘোড়া ছোটালাম । নগরদ্বার রক্ষকের ইশারা অনুযায়ী পুবের দিকে যেতেই দূর থেকে হারপাগাসকে দেখতে পেলাম। সে ফিরে আসছে, হাত খালি। কাছে যেয়ে তার গলার তরবারি ধরলাম, “বাচ্চা কোথায়, হারপাগাস?”

আমাকে দেখেই হারপাগাস ভেঙ্গে পড়ল, তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল, “আমি পারিনি, টায়ারসিয়াস, মহারাজের আদেশ রক্ষা করতে পারিনি। কোন শিশুকে হত্যা করার মত দৃঢ়তা বা মনোবল আমার নেই, তাও আমাদের ম্যান্ডেনের সন্তানকে! আমার নিজেরও ছেলে আছে, আমি কিভাবে আরেকজনের সন্তানকে হত্যা করি। এই পাপ করলে আহুরামাজদা আমার বংশের বাতি অন্ধকার করে দিবেন”।

হারপাগাসের কথায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পেলাম, হয়ত ম্যান্ডেনের সন্তান তখনো জীবিত আছে। হারপাগাসের বিবেকের যাতনা শোনার সময় ছিল না, “তাহলে সে কোথায়?”

“জঙ্গলের ধারে মেষপাল মিত্রিয়াদের ঘর, তার কাছে দিয়ে এসেছি। বেশিক্ষণ হয়নি, হয়ত সে এখনো তাকে হত্যা করেনি। আমার একটা অনুরোধ রাখো বন্ধু- পারলে ম্যান্ডেনের সন্তানকে জীবিত রাখার ব্যবস্থা কর। রাজ্যে একমাত্র তুমিই রাজার আদেশ না মেনে ধড়ে মাথা রাখার সাহস করতে পার। মহারাজ তার আদেশ পালন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হবার জন্য দূত পাঠাবেন। মৃতদেহ তাদের হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ আছে। আমি কিছুক্ষণের জন্য তাদের আটকে রাখব, তুমি যদি পার তাহলে সেই সময়ের মধ্যে অভাগা বাচ্চাটিকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাও। তারপর আমার কোন সাহায্য লাগলে জানিয়ো। এজন্য যদি আমার নিজের সন্তানের বলি দিতে হয়, তবে আহুরামাজদার শপথ, আমি পিছপা হব না”।

কালক্ষেপণ না করে মেষপালের ঘরের দিকে রওনা হলাম। হারপাগাসের বুদ্ধিটা খারাপ না। আমি মিডিয়া থেকে চলে গেলে আমার কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু আমি সৈনিক, সন্তান পালনের কি বুঝি? যা হোক পরে একটা ব্যবস্থা হবে, আগে শিশুটিকে বাঁচাই। জঙ্গলের প্রান্তে এসে মেষপালকের কুটির চোখে পড়ল, ছুটে তার ঘরে প্রবেশ করলাম। ঘরে মিত্রিয়াদের সাথে একজন মেয়েমানুষ ছিল। ভূমিকা না করে সরাসরি বাচ্চা কোথায় তা জিজ্ঞেস করলাম। মিত্রিয়াদে সম্ভবত আমাকে রাজার দূত ঠাউরেছিল। কম্পিত হাতে আমার দিকে ম্যান্ডেনের নিজের হাতে তৈরি কাপড়ে আবৃত মৃত শিশু এগিয়ে দিল। মৃত শিশুকে এক নজর দেখে মিত্রিয়াদেকে সঠিক সৎকারের নির্দেশ দিয়ে বের হয়ে আসলাম। এবার রাজার সাথে বোঝাপড়ার পালা।

রাজপ্রাসাদে যখন পৌছালাম ততক্ষণে সেখানে কান্নার রোল পড়ে গেছে। ম্যান্ডেনকে ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। বৈদ্য তাকে আরক দিয়ে অচেতন করে রেখেছে। সরাসরি অস্টিয়েজের কক্ষে প্রবেশ করলাম, মদিরায় মত্ত পাষণ্ড পামর আলুথালু বেশে মেঝেতে পড়ে রয়েছে৷ আমার উপস্থিতি টের পেয়ে মাথা তুলে জিজ্ঞেস করলেন, “মারা গেছে? আমার পৌত্র কি মারা গেছে, টায়ারসিয়াস?”

কিছু সময়ের ব্যবধানে ম্যান্ডেনের সন্তান যম থেকে পৌত্রে পরিণত হয়েছে, তা মদিরার প্রভাব না অনুশোচনার তা ঠিক ঠাউর করতে পারলাম না। অস্টিয়েজের সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাধছে, কিন্তু ভেতরের গরল উদগিরণ করতে না পারলে তাকে হত্যা করে বসতে পারি, “অভিনন্দন মহারাজ, দেবতাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার জয় হয়েছে। কালই নিজেকে ঈশ্বর ঘোষণা করে দেন”।

“ভগবান, এ আমি কি করলাম! নিজের মেয়ের সন্তানকে হত্যা করলাম? ঈশ্বর!” অস্টিয়েজ শব্দ করে ফোঁপাতে লাগলেন।

স্বৈরাচারদের মতিগতি বোঝা দায়- এই হয়ত শাস্তির নামে সাধারণ নাগরিকদের কচুকাটা করছে, আবার একটু পরেই রাজভাণ্ডারের রত্ন তাদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছে। অস্টিয়েজও ব্যতিক্রম নন। যে উত্তরাধিকারীর আগমন রোধ করার জন্য এত চেষ্টা, যা শিশুহত্যার মত জঘণ্যতম কাজে পরিণতি পেল, আবার তার জন্যই শোক পালন। কিন্তু ক্ষণকালের অনুতাপ সুচিন্তিত হত্যার দায় এড়াতে পারে না, “দুঃখ পাচ্ছেন, মহারাজ? আপনার তো উৎসব করা উচিৎ। নিমরূদ যা পারেনি আপনি তাই করে দেখিয়েছেন। আপনি তো অমর হয়ে গেলেন…”

“ম্যান্ডেন? ম্যান্ডেন কেমন আছে? আমি ম্যান্ডেনের কাছে যেতে চাই…” অস্টিয়েজ উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করলেন। কাঁধ ধরে অস্টিয়েজকে উঠতে বাঁধা দিলাম, “আপনি ম্যান্ডেনের সামনে যেতে পারবেন না, আমি যেতে দিব না। পরের জন্মে সে পিতৃহত্যার দায় মাথায় নিয়ে পৃথিবীতে আসুক তা আমি চাই না। আপনি তাকে তার সন্তান থেকে আলাদা করেছেন, সুতরাং আপনারও কোন অধিকার নেই নিজের সন্তান দর্শনের আনন্দ ভোগ করার। নশ্বর হিসেবে আমি আপনাকে এতটুকুই শাস্তি দিতে পারি, ঈশ্বরের সাথে আপনার কি হিসেব হবে তা তিনিই জানেন। ঈশ্বরের শপথ আমি সেই দিন পর্যন্ত মিডিয়ায় অবস্থান করব। কাল আমি ম্যান্ডেনকে পারস্যে রেখে আসব”, এই বলে বের হয়ে আসলাম, ম্যান্ডেনের যাবার আয়োজন করতে হবে।

পারস্য মিডিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত। একবাটানা থেকে আনশানের দূরত্ব কম নয়। ম্যান্ডেনকে নিয়ে ভোরবেলা রওনা দিলাম। মিড ও পারসিকরা মূলত আর্য। জিওশুদ্রের সন্তান শাম ও হাম যখন তাদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে দেবার পর বসতি স্থাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তখন যাপেথের বংশধরেরা যাযাবর জীবন যাপনে মগ্ন। উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ছিল তাদের বিচরণ ক্ষেত্র। হামের বংশধর নিমরূদ কুশ ও মিশর থেকে পুবে এসে সামের বংশধরদের বন্দী করে সেখানে আক্কাদীয় সাম্রাজ্য স্থাপন করে। আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যাবিলন ও অ্যাশেরীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে। পুরো পৃথিবীতে যখন ছোট ও বড় সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ঘটছিল আর্যরা তখনও ভবঘুরে। অ্যাশেরীয় সাম্রাজ্যের পতনের প্রাক্কালে তারা উত্তরের পার্বত্য এলাকা থেকে নেমে এসে আশুরবানিপালের মহান সাম্রাজ্যের ভগ্নাংশ দখল করে বসতি স্থাপন করে। অনেক পণ্ডিতের মতে, আর্যরা আদিপিতার কুসন্তানের বংশধর। ঈশ্বরের অভিশাপে তিনি অনন্তকাল নির্বাসিত। উত্তরের কিছু কিংবদন্তি অনুযায়ী মহাপ্লাবনের সময় তিনি ও তার বংশধরেরা উত্তরের পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করছিলেন, পাহাড়ের চূড়ায় নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে জিওশুদ্রের মত তার বংশধরেরাও প্লাবন থেকে রক্ষা পায়। পরে তারা পাহাড় থেকে সমতলে নেমে আসে। নির্দিষ্ট এলাকায় থিতু হবার পরও আর্যরা তাদের প্রাক্তন জীবন ব্যবস্থা বজায় রাখে। পুরো পৃথিবী যখন পরিবার-গোত্র-রাজ্য ব্যবস্থা থেকে সাম্রাজ্য গঠনে মন দিয়েছে তখন তারা গোত্র ব্যবস্থায় আবদ্ধ। ছয়টি গোত্র নিয়ে মিডিয়া ও বারটি গোত্র নিয়ে পারস্য গঠিত। পারসিকরা পাহাড় ও উপত্যকাগুলো ভাগাভাগি করে বসবাস করে। পারস্য মিডিয়ার মত উর্বর না হলেও না নাগরিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্তব্যবোধ পারস্যকে পুবের অন্যতম সফল রাজ্যে পরিণত করেছে।

পুরো যাত্রায় ম্যান্ডেন অচেতন ছিল। আনশানে পৌছার পর ক্যাম্বিসেসকে পুরো ঘটনার হালকা ধারণা দেই। তাকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে জিজ্ঞেস না করে পারলাম না, “কি করতে চাও বন্ধু? তুমি যদি মিডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চাও আমি তোমার সাথে আছি। যুদ্ধ পরিকল্পনায় তো বটেই যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করব”।

আমার কথা শুনে ক্যাম্বিসেস শুষ্ক হাসি হাসল, “যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। ঈশ্বরই ন্যায়-বিচার করুক, আমি করলে সেটা ন্যায় হবে না, প্রতিশোধ হবে। সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা, প্রতিশোধের অধিকারও তার”।

“তোমরা আবার সন্তান নিতে পার…”

ক্যাম্বিসেস মাথা নেড়ে বলল, “না, ম্যান্ডেনের সন্তান যদি সত্যই অস্টিয়েজের জন্য হুমকি হয় তাহলে সে পরের সন্তানকেও হত্যার চেষ্টা করবে। ম্যান্ডেনকে আবার সেই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে দিতে পারি না”।

ক্যাম্বিসেসের কথায় যুক্তি আছে। আপাতদৃষ্টিতে যাই হোক না কেন এখন বোঝা যাচ্ছে অস্টিয়েজ পারস্যকে ছোট করে আর দেখছে না। কিন্তু ভাবি পারসিক রাজার হত্যাও তো তাদেরকে বিদ্রোহের ইন্ধন যোগাতে পারত- অদ্ভুত অসঙ্গতি। হয়ত ঝোঁকের বসে কাজটা করা হয়েছে, হয়ত এর উত্তর অস্টিয়েজেরও জানা নেই। এই মুহূর্তে পারস্য বিদ্রোহ করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাবে। ব্যাবিলন তো বটেই, লিডিয়াও আক্রমণ করার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে জোটের পতন ঘটলে মিডিয়া বা পারস্য কেউই লাভের মুখ দেখবে না। পারস্য হয়ত ব্যাবিলনের তরফ থেকে আক্রান্ত হবে না, কিন্তু দরিয়া পাড়ের যাযাবর বেদুঈন গোষ্ঠী পারস্যে থাবা বসাতে পারলে খুশিই হবে।

সন্তান-হারা পিতা-মাতাকে সান্ত্বনা দেয়া আমার কম্ম না। আমি সৈনিক মানুষ, শিশুকালেই পরিবারের বন্ধন থেকে মুক্ত। পারিবারিক বিষয়াদি আমার জ্ঞানের গণ্ডির বাহিরে। তবু কেন জানি এই অভাগা দম্পতির নির্বাক শোক আমাকে ছুঁয়ে গেল। মিডিয়ার অভিশপ্ত মাটিতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছিল না। ঈশ্বরের বিধান স্বচোক্ষে দেখব এই আশাতেই মিডিয়া ত্যাগ করলাম না। দূত মারফত অস্টিয়েজকে জানিয়ে দিলাম পশ্চিমের সীমান্তের দিকে যাচ্ছি। সীমান্তগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার, সিংহের উচ্ছিষ্টে হায়েনাও ভাগ বসায়। সাম্রাজ্যের এমন দুর্দিনে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে তা প্রতিহত করার ব্যবস্থা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

সীমান্তের পশ্চিমে নেবুচাঁদনেজারের নেতৃত্বে ব্যাবিলন তার সাম্রাজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে চলেছে। জুদার পুর্ণদখলের পর তিনি দক্ষিণের মরুভূমি এলাকা হস্তগত করে ফিনিশিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ব্যাবিলনীয় সেনাবাহিনী টায়ার অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সীমান্তে এসব সংবাদ খুব দ্রুত পৌছায়। নিয়মানুযায়ী সেসব খবর রাজধানীতে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করেই আমার দায়িত্ব খালাস। হারপাগাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। কিন্তু খুব প্রয়োজন না পরলে রাজধানীমুখী হইনা।

তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধশালী দ্বীপ নগরী হল টায়ার। আলেকজান্দ্রিয়া আর ব্যাবিলনের সম্পদের কথা তো আগেই বলেছি, সেই তুলনায় টায়ার হল ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য। সমুদ্র তীরবর্তী এই নগরীর সড়কগুলো সবসময় দেশি-বিদেশি বণিকদের পদচারণে মুখর থাকে- যেন জাদুকরের বিরাট কড়াই, জানা-অজানা গাছ-গাছড়ার সমন্বয়ে তৈরি পাঁচমিশালী সিকশ্চার। টায়ারের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে পুব থেকে পশ্চিম বা দক্ষিণে মালামাল আমদানি-রপ্তানী করার জন্য টায়ারের বন্দর ব্যবহারের বিকল্প নেই। আলেকিজান্দ্রিয়া বা এথেন্স, জেরুজালেম কি থিবস্, টায়ার না মাড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। মহান সাগরের তীর ঘেষে যত নগর আছে সেগুলোকে যদি ঘর ধরা হয় তবে টায়ার হবে তাদের বাজার। ফিনিশিয়রা দক্ষ নাবিক ও বণিক। সমুদ্র তাদের আঙিনা। মায়ের পেট থেকে পড়ামাত্র ফিনিশিয়রা সমুদ্রকে আপন করতে শেখে। প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগেই তাদের নাবিকবিদ্যায় পারদর্শী হতে হয়। গ্রীসের জ্যেতির্বিদ্যা ফিনিশয়দেরই দান। সাগর শাসনে তারা অদ্বিতীয়।

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে টায়ার সবসময়ই সম্রাটদের লোভের শিকার হয়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এর উত্থান ঘটলেও যুগে যুগে সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের করাঘাতের শিকার হওয়াই যেন এর নিয়তি হয়ে দাড়িয়েছে। প্রথমে মিশরের এবং পরে অ্যাশেরীয় ও ব্যাবিলন সাম্রাজ্যের করদ রাজ্যে পরিণত হওয়া যেন দুই ভাষা ও ভূগোলে সেই হিব্রুদের কাহিনীরই পুণরাবৃত্তি। আবার সেই মিশরের ইন্ধনে জেহোকিমের মত টায়ারও ব্যাবিলনের গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। নেবুচাঁদনেজার তাদের আস্পর্ধার উত্তর দেয়ার জন্য টায়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

জেরুজালেমের মত এত সহজে টায়ারের পতন ঘটানো সম্ভব না। টায়ার মূলভূমি থেকে কিছু দূরে উঁচু পাথরের দেয়াল বেষ্টিত একটি দ্বীপ। দ্বীপের উত্তর ও দক্ষিণে দুইটি পোতাশ্রয়। পোতাশ্রয়ে ঢোকার মুখে সরু একটি প্রণালী, প্রণালীর বাইরের মুখটি লোহার দ্বার দ্বারা বন্ধ। কোন জাহাজ ঢুকতে চাইলে প্রথমে দ্বারপালের কাছে অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করতে হয়। দ্বারপাল জাহাজের খুঁটিনাটি, যেমন উদ্দেশ্য, অবস্থানকালীন সময়, নাবিকদের সংখ্যা ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে বন্দরের কর্মকর্তাদের কাছে সংবাদ প্রেরণ করে। কর্মকর্তারা ছাড়পত্র দিলেই তবে জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করার অনুমতি পায়। সেইটুকু সময় জাহাজ প্রণালীর দুই প্রান্তের দেয়ালে অবস্থিত রক্ষীদের কঠিন নজরদারির ভেতর থাকে। দেয়ালটিও বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, নাবিকদের সবসময়ই মনে করিয়ে দেয়া হয় যেন তারা ভুল করেও বোকামি না করে বসে (ট্রয়ের ঘটনার পর আর কেউ কোন ধরণের ঝুঁকি নেয়ার ভুল করতে রাজি ছিলনা)। এমতবস্থায় নেবুচাঁদনেজার টায়ারকে উত্তর দিক থেকে আটকে রাখতে পারলেও দক্ষিণে পেরে উঠবে না। খাদ্যের অভাবে টায়ার অধিবাসীরা নয় বরং ব্যাবিলনের সৈন্যদেরই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফারাও যদি টায়ারে রসদ প্রেরণ করে তাহলেই যথেষ্ট, আবার গ্রীকরাও তাদের পুবে প্রবেশপথকে ব্যাবিলনের হাতে তুলে দিতে চাইবে না। এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত, যুদ্ধে অনেক কিছুই হতে পারে। তবুও আমার মনে হয়না ফারাও বা গ্রীকরা টায়ারের সাথে বেইমানী করবে, নিজের ভাল পাগলেও বোঝে।

এর মধ্যে কয়েক বছর পার হয়ে গেছে। নেবুচাঁদনেজার তখনো টায়ারের প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পারেননি। মাটিতে সিংহ সর্বশক্তিমান, কিন্তু পানিতে কুমিরের বিপক্ষে সে হরিণের মতই অসহায়। নেবুচাঁদনেজারের অহং টায়ারে বন্দী দেখে মিডিয়ার সীমান্ত সুরক্ষিত মনে হল। একবাটানাতে ফিরে আসলাম। রাজপ্রাসাদের আবহাওয়া বদলে গেছে, কেমন যেন মৃত। সায়াজারেস আমাকে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল। এতদিন সে হারপাগাসের অধীনে শিক্ষাগ্রহণ করেছে, আমাকে দেখে আবার আমার শিষ্য হবার অনুরোধ করল। শিষ্যের অনুরোধ ফেলতে পারলাম না। অস্টিয়েজের সাথে দেখা হয়েছে, সম্রাট হঠাৎ করেই অনেক বুড়িয়ে গেছেন। পুরনো প্রসঙ্গ না তুলে আগের মত দরবারে যাওয়া-আসা করতে লাগলাম। হারপাগাসের সাথেও পুরনো বন্ধুত্ব ঝালিয়ে নিলাম। তার ছেলেটা বেশ বড় হয়েছে। ঠাট্টা করে হারপাগাস ও তার স্ত্রীর সামনে একটি বড় মেষ বলি দিলাম এই বলে যে ভাগ্যিস ছেলেটা মায়ের রূপ পেয়েছে।

একদিন একজন পারিষদ, আর্টেম্ব্রিস, তার পুত্রসহ অস্টিয়েজের কাছে ফরিয়াদ নিয়ে আসল। নগরের বাইরে চাষীদের বাচ্চাদের খেলতে দেখে আর্টেম্ব্রিসের পুত্র তাদের সাথে যোগ দিল। তারা রাজা-রাজা খেলছিল। অভিজাতের সন্তান হিসেবে আর্টেম্ব্রিসের পুত্রের রাজা হওয়া উচিৎ, কিন্তু চাষীপুত্ররা তাদের মধ্য থেকে একজনকে রাজা নির্বাচিত করল। অভিজাত সন্তানের তা পছন্দ হল না, সে নির্বাচিত রাজাকে মেনে নিতে অস্বীকার করল। তার যৌক্তিক অস্বীকৃতিতে নতুন রাজা বেজার হয়ে তাকে বেদম প্রহার করে। আর্টেম্ব্রিস মনে করেন নিচু জাতের এহেন স্পর্ধার অবিলম্বে বিচার হওয়া দরকার।

অস্টিয়েজ নিজে একজন স্বৈরাচারী, এরূপ স্পর্ধা মেনে নেবার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি তৎক্ষনাৎ চাষীপুত্রকে দরবারে ডেকে পাঠালেন। অস্টিয়েজের আরেকটি প্রহসন- স্বৈরাচার আরেক স্বৈরাচারের বিচার করবে! মিনিটখানেক পর দশ-বার বছরের এক বালক শেকল পরা অবস্থায় দরবারে প্রবেশ করল। বন্দী অবস্থাতেও ছেলেটির মাথা উঁচু, পদক্ষেপ দৃঢ়। ছেলেটির হাব-ভাব দেখে অস্টিয়েজও একটু নড়ে-চড়ে বসলেন। তার সামনে এসে দাড়াতেই আর্টেম্ব্রিসের ছেলের দিকে ঈঙ্গিত করে বললেন, “তুমি এই ছেলেকে কেন মেরেছ? একজন অভিজাত পরিবারের সদস্যের গায়ে হাত দেয়ার শাস্তি তুমি জানো না?”

ছেলেটি বিচলিত না হয়ে অস্টিয়েজের চোখে চোখ রেখে উত্তর দিল, “মহারাজ, আমরা যখন খেলছিলাম তখন সে আর অভিজাত শ্রেণীভুক্ত ছিল না, আমাদেরই একজন ছিল। আর তা হতে যদি সে অস্বীকার করে তবে আমাদের সাথে খেলার ভড়ং করারই বা কি দরকার ছিল তার? আমাকে সবাই রাজা বানিয়েছে, অবাধ্য প্রজাকে শাস্তি দেয়ার অধিকার রাজার আছে বৈকি”।

ছেলেটির উত্তর শুনে দরবারের সবাই বিমোহিত হল। কিন্তু তার আসন্ন বিপদের কথা ভেবে উৎকণ্ঠাও চেপে রাখতে পারছিল না। অস্টিয়েজ কোন কথা বলছিলেন না, কি যেন ভাবছিলেন। পুরো ব্যাপারটা যাচাই করার পর তিনি মুখ খুললেন, “তোমার পিতা কে?”

“মেষপাল মিত্রিয়াদে আমার পিতা, তার স্ত্রী স্পাসো আমার মা”।

আর কেউ লক্ষ্য না করলেও আমার চোখ এড়ালো না যে ছেলেটির উত্তর শুনে হারপাগাস প্রচণ্ড ধাক্কা খেল। তার কৌতুহলী চোখ আমার কাছ থেকে উত্তর পাবার আশায় উদগ্রীব ছিল। সেদিকে নজর না দিয়ে আমি ছেলেটির দিকে মনোনিবেশ করলাম। অস্টিয়েজ মিত্রিয়েদেকে দরবারে আনার জন্য পাহারাদারদের আদেশ দিলেন। সবাই ছেলেটিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। দেখার পাত্রই বটে, ছেলেটা সুদর্শন। এমন না যে নিচু জাতে পদ্মফুল ফোঁটে না, তবে তাদের আচরণ এত উদ্ধত হয় না। রাজার ইশারায় গর্দান যাবে মিডিয়ার প্রজারা এরকম রীতিতেই অভ্যস্ত। দরবারে এরূপ ঔদ্ধত্য অদৃষ্টপূর্ব।

এর মধ্যে মিত্রিয়াদে হাজির হল। আমাকে রাজার কাছাকাছি দেখতে পেয়ে তার চোখে-মুখে আকুতি ফুটে উঠল। আমি না দেখার ভান অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ছেলেটিকে দরবারের বাইরে অপেক্ষা করতে বলে অস্টিয়েজ মিত্রিয়াদেকে জেরা শুরু করলেন, “তুমি কি জান তোমার ছেলে কি করেছে?”

মিত্রিয়াদে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “মহারাজ, সে ছেলেমানুষ। আমার ব্যর্থতা আমি তাকে সহিহ্ আদব-কায়দা শেখাতে পারিনি। তার অন্যায়ের জন্য আমাকে শাস্তি দিন। ছেলের কিছু হলে গোপী নিজের প্রাণ নিবে। তখন আমারও আর বেঁচে থেকে কি হবে? আপনার দয়ার শরীর প্রভু। আমার গর্দান নিন…”

অস্টিয়েজ তার আবেদন অগ্রাহ্য করে বললেন, “মিত্রিয়াদে, তুমি তো জান আমি কিভাবে রাজ্য চালাই। আমার রাজ্যে সামান্য চাষার ছেলে এত সাহস দেখাবে কল্পনার বাইরে। উহু, চাষার ছেলে এত সাহস করবে না। এ তোমার সন্তান তো? নাকি কোন অভিজাতের সন্তান চুরি করেছ? মিথ্যা বোলো না, মিত্রিয়াদে, আখেরে কারো লাভ হবে না”।

মিত্রিয়াদে এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, “ জন্মের পর থেকে একে আমি লালন-পালন করেছি, মহারাজ, কিন্তু এর জন্মদাতা আমি না। বার বছর আগে সেনাপতি হারপাগাস আমার হাতে একে তুলে দেন হত্যা করার জন্য। সেই রাতে আমার স্ত্রী একটি মৃত সন্তানের জন্ম দেয়। রাজপ্রাসাদ থেকে সৈনিক আসলে তার হাতে আমরা আমাদের সন্তানকে তুলে দেই। সন্তান-হারা গোপী ফুটফুটে দেবশিশুকে হত্যা করতে দেয়নি। তাকে আমরা নিজেদের ছেলের মত বড় করেছি…”

মিত্রিয়াদের কথা শুনে অস্টিয়েজ আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন৷ পারিষদবর্গের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি জানতাম এ সাধারণ ছেলে নয়। কিন্তু আমার ম্যান্ডেনের সন্তান তা ধারণাও করিনি। আমার পৌত্র মারা যায়নি, টায়ারসিয়াস। আমার ম্যান্ডেনের সন্তান জীবিত আছে। হারপাগাস, তোমার ছেলেকে রাজপ্রাসাদে পাঠিয়ে দিও, সে আমার পৌত্রের খেলার সাথী হবে”, তারপর মিত্রিয়াদেকে বললেন, “তোমার জন্য আমি আমার পৌত্রকে ফিরে পেয়েছি। এর বিনিময়ে তুমি কি চাও?”

সন্তান হারানোর দুঃখ মিত্রিয়াদের চোখে-মুখে সুস্পষ্ট। কিন্তু চাইলেও তো সে আর তাকে নিজের কাছে রাখতে পারবে না। সন্তানের বিনিময়ে অন্য সম্পদ চাইবে এমন হৃদয়হীন পিতা দুনিয়াতে আদৌ আছে কি না জানি না। নিচু জাতের হোক আর যাই হোক মিত্রিয়াদে তো মানুষই, “আমি কিছু চাইনা, মহারাজ। রাজকুমার ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক এই কামনাই করি…” তার চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রুধারা বয়ে চলছিল।

অস্টিয়েজ মিত্রিয়াদের উদারতায় কর্ণপাত করলেন না, “উহু, তোমাকে কোন না কোন ভাবে পুরষ্কৃত করব। এখন তুমি যেতে পারো। রাজকুমার ঘরে ফিরে এসেছে, কাল সে তার মায়ের কাছে ফিরে যাবে। তুমি এখন যেতে পার”। অস্টিয়েজ তৎক্ষণাত দরবার ভেঙ্গে দিলেন৷ রাজকুমারকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হল। ঘটনার আকস্মিকতায় রাজকুমার হতবিহবল হয়ে পড়ল। তার জন্য দামি দামি পোশাক নিয়ে আসা হল। রসুইঘরে ঠাকুরকে সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করার জন্য আদেশ দেয়া হল। সিদ্ধান্ত হল যে রাজকুমারকে অবিলম্বে তার মায়ের কাছে পাঠানো হবে। যেচে পড়ে দায়িত্বটা আমিই নিলাম। গতবার গিয়েছিলাম মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে, এবার যাব খুশির সন্দেশ হাতে।

রাতে হারপাগাসকে সরাইখানায় ডেকে পাঠালাম। দু প্রস্থ মদিরা পানের পর হারপাগাস তার হৃদয়ের ঝাঁপি খুলে দিল, “আহুরামাজদা আমার প্রার্থনা শুনেছেন। যে পাপ আমাকে গত বার বছর ধরে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল তা থেকে মুক্তি পেলাম বন্ধু”।

“তাহলে এই খুশিতে আজকে রাতে তোমার ট্যাকই খালি হোক। গলা পর্যন্ত না গিলে আমি আজ উঠছি না”।

আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে হারপাগাস বলল, “টায়ারসিয়াস, তুমি কি আগে থেকে জানতে?”

কয়েক ঢোক গলায় চালান করার মত সময় নিলাম। হারপাগাস তখনও এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, “কিসের কথা বলছ?”

“তুমি মিত্রিয়াদের ঘরে গিয়েছিলে। মৃত শিশুকে তুমিই প্রথম দেখেছ। সেটা যে ম্যান্ডেনের সন্তান না তা বুঝতে পারলে না?”

হালকা গলায় বললাম, “ম্যান্ডেনের সন্তানকে কি আমি আগে দেখেছি? ভাল করে দেখার আগে তুমিই তো নিয়ে চলে গেলে। আমার কাছে সব বাচ্চাদের চেহারাই এক রকম লাগে। আমার মনে হয় না সদ্যোজাত শিশুকে তার মা ছাড়া আর কেউ চিনতে পারবে। ভাগ্যিস সব গর্ভবতী মায়েরা একসাথে এক জায়গায় সন্তান প্রসব করে না, না হলে ধাত্রীদের বিপদ ছিল। কার সন্তান কার হাতে তুলে দিত কে জানে। যা হোক, তুমি বিবেকের তাড়না থেকে মুক্তি পেয়েছ দেখে আমি খুবই খুশি৷ এবার আমার একটা কাজ করে দাও”।

“কি কাজ?” হারপাগাসকে ভাল করে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিলাম। সে আমার অনুরোধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বলে কথা দিল। আরো কয়েক প্রস্থ মদিরা গেলার পর দুইজনই বাড়ি ফিরে গেলাম, পরের দিন দুইজনেরই গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।

খুব ভোরে আনশানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম৷ অস্টিয়েজ রাজধানীর প্রধান ফটক পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসলেন। অস্টিয়েজ রাজকুমারের সাথে বিভিন্ন রকম উপহার বেধে দিতে চেয়েছিলেন, আমি তাকে নিরস্ত্র করি৷ দীর্ঘ পথ, এত কিছু নিতে গেলে লোকজনের বহর নিতে হয়। আমি চেয়েছি যাত্রায় শুধু আমি আর রাজকুমার থাকব। অস্টিয়েজ কিছুক্ষণ গাই-গুই করে রাজি হয়ে যান। রাজকুমার প্রথম ঘোড়ায় চড়ছেন, সুতরাং বেশ ধীরে-সুস্থেই আগাচ্ছিলাম। রাস্তায় রাজকুমারের সাথে হালকা কথা-বার্তা হচ্ছিল, বেশিরভাগই তার শৈশবের গল্প। হঠাৎ করে সে তার পালক পিতা-মাতার কথা তুলল, “আমার পিতা মিত্রিয়াদে আর মা স্পাসো কোথায়?”

“তারা তো তোমার আসল পিতা-মাতা নন। তোমার পিতার নাম ক্যাম্বিসেস ও মায়ের নাম ম্যাণ্ডেন”।

“তাদেরকে আমি কোনদিন দেখিনি, জ্ঞান হবার পর থেকে মা স্পাসোকে দেখেছি। আমার খাওয়া না দেখে মা কখনো খায় না। কাল থেকে হয়ত কিছু খায়নি। আমরা কি মাকে একবার দেখে যেতে পারি না?”

“তোমার পালক মা স্পাসো জানে যে তুমি যেখানে যাচ্ছ সেখানে তোমার কখনো খাওয়ার অভাব হবে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই”।

রাজকুমারকে খুব একটা সন্তুষ্ট মনে হল না। পুরো যাত্রা পথে অন্যমনস্ক হয়ে থাকল। বিকেলের দিকে মিডিয়া-পারস্য সীমান্তে পৌছালাম, হারপাগাস সেখানে অপেক্ষা করছিল। আমার নির্দেশ অনুযায়ী হারপাগাস আমার আগেই পারস্য সীমান্তের দিকে রওনা হয়েছিল। মেষপাল দম্পত্তিকে মিডিয়াতে রাখার ভরসা পাচ্ছিলাম না৷ রাজকুমার নিচু জাতের মাঝে বড় হয়েছেন এই গুজব বা আলোচনা এড়ানোর জন্য অস্টিয়েজ তাদের হত্যার আদেশ দিতে পারেন। তাছাড়া রক্তের সম্পর্ক না হোক, বার বছর রাজকুমার তাদেরকে পিতা-মাতা বলে জানে, এ বাঁধন থেকে তাকে সহজে মুক্ত করা যাবে না। সব মিলিয়ে রাজকুমারকে তার পালক পিতা-মাতার সাথে পারস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেই। ক্যাম্বিসেস-ম্যান্ডেন তাদেরকে সাদরেই গ্রহণ করবে। আর কেউ যাতে না জানে তাই হারপাগাসকে গোপনে কাজটা সারতে বলেছিলাম।

দূর থেকে স্পাসোকে দেখতে পেয়ে রাজকুমার ঘোড়া থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ল, দৌড়ে স্পাসোর দিকে ছুটে গেল। সে যে এখন আর তাদের সন্তান নয়, বরং পারস্যের রাজকুমার, তা ভুলে স্পাসোও আদরের ধনকে বুকে জড়িয়ে ধরল। মিত্রিয়াদের মধ্যে কিছুটা আড়ষ্টতা কাজ করছিল। কিন্তু ছেলে যখন নিজের নতুন পদমর্যাদা ভুলে পালক পিতার কোলের মধ্যে আসন নিল প্রজাধর্ম ভুলে মিত্রিয়াদে সন্তানকে জড়িয়ে ধরল। হারপাগাসকে ছোট-খাট দরকারী কিছু নির্দেশ দিয়ে মিডিয়ায় ফিরে যেতে বললাম। মেষপাল পরিবারের আবেগঘন পুর্ণমিলনী শেষ হলে চারজন আনশানের দিকে রওনা হলাম।

ক্যাম্বিসেস আর ম্যান্ডেনকে সব কিছু খুলে বলা হলে আনশানে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। মিত্রিয়াদে ও স্পাসোকে রাজকুমারের পিতা-মাতার মর্যাদায় বহাল রেখে আনশানের গৃহস্থালিতে স্থান দেয়া হল। পারস্যের রাজকুমারের নামকরণ অনুষ্ঠানের জন্য গোত্রপালদের ও মিত্র দেশের রাজাদের নিমন্ত্রণ করা হল। মিডিয়ার হয়ে সায়াজারেস অংশগ্রহণ করল। পিতামহের নামানুসারে রাজকুমারের নতুন নাম দেয়া হল কুরুশ। আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রাণভরে পারস্য রাজকুমারকে আশীর্বাদ করলেন। ভাবি রাজার দর্শন পাওয়ার জন্য নাগরিকেরা ক্যাম্বিসেস গৃহে ভিড় জমাতে লাগল। রীতি অনুযায়ী ক্যাম্বিসেস পুত্রকে বালকদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করল।

পারস্যে কিছুদিন অবস্থান করলাম। সায়াজারেসকে সাথে করে গোত্রপালদের সাথে বারটি গোত্র ঘুরে তাদের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা নিলাম৷ মূলতঃ সায়াজারেসকে দীক্ষিত করা ছিল এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য। মিডিয়ার ভবিষ্যত সম্রাট হিসেবে প্রজাদের জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা তার কর্তব্য। পারস্য ভ্রমণ শেষে আরেকবার ক্যাম্বিসেসের ঘরে আতিথ্য গ্রহণ করে মিডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেখানে আরেক শোকবহ বার্তা অপেক্ষা করছিল।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৩৪
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিষাদের উত্তরাধিকার....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৫৬

বিষাদের উত্তরাধিকার....

আমি হাজার হাজার বছর ধরে পিঠে বিষাদ বেঁধে হেঁটে চলেছি। আমার বাবা, আমার মা তার মা তার বাবা…
একইভাবে এগিয়ে গেছে আমার মতই।
পিঠ থেকে নামিয়ে চোখের কোলে বসিয়ে তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুমিল্লায় ঘটনা তিনটা: আমি যেভাবে দেখি

লিখেছেন সরোজ মেহেদী, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৪৬

১. মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানের অবমাননা করা হয়েছে। ‘কে করেছে?’ হিন্দু ভাইরা সবার আগে এই প্রশ্নটা করবেন। উত্তর: আমি জানি না। কোনোদিন জানা যাবে বলেও বিশ্বাস করি না। কথা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোদন ভরা আমাদের শিক্ষা জীবন শুরু

লিখেছেন জুন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯

আমাদের শিক্ষা জীবনে প্রথম বাংলা সাহিত্যের সাথে পরিচয় ঘটে সবুজ সাথী বই এর মাধ্যমে। সেই বইতে ছিল নানা রকম শিক্ষা মুলক গল্প, কবিতা,প্রবন্ধ । কিন্ত আজ চিন্তা করলে দেখি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাইওয়ান দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২



চীনের ভাবসাব দেখে ও শি জিনপিং'এর কথা থেকে মনে হচ্ছে, চীন তাইওয়ান দখল করার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছে; এবং চীন ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

তাইওয়ান হচ্ছে আরেকটি চীনদেশ, ইহা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবনিক~১ম পর্ব (তৃতীয় খন্ড)

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৫৩


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
দুই বছর পর...
নেক্ষন ধরে টু টুটুট টুটুট করে টেলিফোন বাজছে।
সৌম্য গভীর ঘুমে তখন।মনে হচ্ছিল বহু দুরের কোন শব্দ। ঘুমটা হালকা হতেই সে ভীষণ আলস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×