somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এতো কষ্ট ক্যানো ভালোবাসায়?

২০ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোনো এক দুর্বোধ্য কারণে, আমার প্রেম ভাগ্য খুবই খারাপ।

আমি তখন প্রায় শিশু। এক মাস্তান বড় ভাই -পাড়ার এক মেয়ের সাথে প্রেম করেন। আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে ডিউটি দেই। তার প্রেমপত্র লিখে দেয়ার দায়িত্বও আমার। সেই প্রেমপত্র লিখতে লিখতে আমার সাহিত্যপ্রতিভার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে।

প্রেমপত্র লিখতে গিয়ে আরেকটি ঘটনাও চুপি চুপি ঘটে যায়। প্রেমপত্রে আবেগ সঞ্চার করতে গিয়ে আমি সেই মেয়ের প্রতি এক ধরণের চুম্বক টান অনুভব করতে থাকি।

বড় ভাই সেই মেয়ের বাসার জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। মেয়েটা জানালায় এসে দাঁড়াতো। একটু অবহেলা ভরে হাসতো। আমার সেই প্রবল প্রতাপশালী মস্তান বড় ভাই থরো থরো আবেগে কাঁপতেন।

এক সময় চরম বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করলাম, সেই মেয়ে জানালায় এসে দাঁড়ালে, আমার বুকও দুরু দুরু করে। আমার মনেও কাঁপন লাগে। রাতের স্বপনে সেই সুমী নামের মেয়েটা আমার স্বপ্নেও হানা দেয়।

চিঠি লেখার সময় আমার হাত কাঁপতে থাকে, গলা শুকিয়ে আসে, অকারণে দূরে কোথাও পালিয়ে যেতে মন চায়।

এ এক মহাবিস্ময়।

এরপর আমি গভীর এবং সুক্ষ্ন ষড়যন্ত্র মেতে উঠলাম। প্রেমপত্রে প্রেমের ধার কমিয়ে দিলাম, আবেগের ডোজ নামিয়ে আনলাম দারিদ্র সীমার নিচে। আমার বড় ভাই চিঠি পড়েও দেখতেন না। তার এতো সময় ছিল না। খালি বলতেন, ঠিকমতো লেখছোস তো?

সেই চিঠির কারণেই কিনা জানি না, বড় ভাইয়ের প্রেম গেল ছুটে।

একদিন ওই মেয়ের বাসার সামনে আমি আর সেই বড় ভাই দাঁড়িয়ে থাকলাম। জানালার পর্দা দু একবার নড়ে উঠলো, কিন্তু সেই মেয়ে আর এলো না। সকাল থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। বিকেলের দিকে আমার বড় ভাইয়ের চোখ ভিজে উঠলো।

বড়ো ভাইয়ের দুখে নয়, শুধু ওই মেয়েটা এলো না বলে, আমি আবেগ সামলাতে না পেরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম।

প্রথমে বড় ভাই ব্যাপারটা ধরতে পারলেন না। তারপর আচমকা বললেন, ওই, তুই কান্দোস ক্যা?
আমি বল্লাম, আমার কষ্ট লাগতেছে।
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে বড় ভাই কি বুঝলেন জানি না, বললেন, শালার ঘরের শালা, তোর কষ্ট লাগবে ক্যা? তোর এতো জ্বলে ক্যা? আমারে বোঝা, তোর জ্বলে ক্যা?

আমি কোনো সদুত্তর দিতে পারলাম। বড় ভাই আমাকে আচ্ছাসে ধবলধোলাই করলেন।

আহা, শৈশবের সেই করুণ স্মৃতি আজও অম্লান।

এই সেদিনও আরেকটা প্রেম চটকে গেল।
ভালোই চলছিল। তারপর কি থেকে কি হইলো, কিছুই বুঝলাম না, শুধু বুঝলাম, হয়ে গেছে, জিনিসটা টেসে গেছে।

আমার সর্বশেষ টেসে যাওয়া প্রেমের গল্প বলে আপনাদের কাঁদাতে চাই না।
বাইরে এমনিতেই বৃষ্টি হচ্ছে।

আমার শুধু একটিই কথা, এতো কষ্ট ক্যানো ভালোবাসায়?
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×