somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“অরণ্য কথন ০৪”

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ চলে যায়, রেখে যায় তার স্মৃতি। স্মৃতি কখনো হাসায়, আবার কখনো কাঁদায়। কিছু স্মৃতি মানুষকে অন্য এক জগতের সন্ধান দেয়। আর! কিছু স্মৃতি মানুষকে পোড়াতে থাকে, খুবলে খেতে থাকে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। আর যারা স্মৃতির সাথে অবিরাম যুদ্ধে পরাজিত হয় তারা সময় হবার আগেই এমন এক শক্তির ওষ্ঠে চুম্বনা আঁকে যে শক্তির কাছে আমরা মানবজাতি শৃঙ্খলে আবদ্ধ। তার নাম মৃত্যু। মৃত্যুকে যারা আপন করে নেয় তাদের কি বলবো? কাপুরুষ? যাদের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার শক্তি নেই তাদের কি বলবো? প্রশ্নটা আজ অনেকদিন ধরে মাথায় ঘুরছে। কি বলবো অরণ্যকে? ভীতু? কিন্তু কিভাবে বলি? সে তো পালাতে চায় নি, চায় নি এই পৃথিবীর কাছে হার মানতে। কিন্তু তাকে যে আমরা বাধ্য করলাম। আমরা সভ্য, নগর কেন্দ্রিক অতিমানবেরা। না, জ্ঞান বাক্য লিখছি না। লিখছি অরণ্যের কথা। আমার বন্ধুটি যখন চলেই গেল তার যাওয়া নিয়ে আমরা কি প্রশ্ন তুলবো? হ্যাঁ, তুলবো। অন্তত আমি তুলবো। এটা ঠিক না অরণ্য এভাবে চলে যেতে হয় না। এভাবে সবাইকে ধোঁকা দিয়ে না জানিয়ে যেতে হয় না।

আমার ভাগ্য কিংবা কপাল যাই বলিনা কেন জিনিসটা খুব ভালোর দলে নেই। আজ মিতাকে রাস্তায় দেখলাম। দেখে কিছুটা অবাক হয়ে উঠলাম। এতটা খুশি কিভাবে মানুষ হয়? এটা কি সময়ের তালে বদলে যাওয়া? নাকি তীব্র দুঃখ ঢেকে রাখা? মিতাকে দেখার পর প্রশ্নের মহামারিতে আমি আক্রান্ত। এত প্রশ্ন কিন্তু উত্তর কোথায়? আজ কোথায় অরণ্য? কোথায় তার অস্তিত্ত? আর যে মানুষটি একটা সময় তার অস্তিত্বকে অরণ্যের অস্তিত্ব বলতো আজ সে মুক্ত বিহঙ্গ। অনেক খুশি মিতা। মুঠোফোনে সেলফি নামক দুরারোগ্য ব্যাধি তে আঁকে আক্রান্ত দেখলাম, আরও দেখলাম তার ভুবন ভোলানো এক হাসি। যে হাসি একদিন শুধু ছিল অরণ্য নামক এক বোকার সকল সুখের উৎস। এত বোকা ছিল আমাদের অরণ্য। সত্যি বোকা ছিল অরণ্য, অনেক বোকা। ফিরে যাই আজ থেকে তিন বছর আগের সেই দিনটিতে যেদিন অরণ্য ছয়মাস পর মিতার দেখা পেয়েছিল। এবার নাটকীয় ভাবে। অরণ্য তার নিজস্ব আচরণ ভুলে কথা বলতে থাকল। একবার কানে কানে বল্লাম, বন্ধু আস্তে, আস্তে বন্ধু। কিন্তু সে কথা শুনতে রাজি নয়। তার মন শুধু মিতার কথায় মশগুল। ছয়মাস ধরে সবধরনের সামাজিক যোগাযোগ দিয়ে খুজে সে মিতাকে পায় নি সেই মিতা আজ তার সামনে।

“আজ ছয়মাস পর খুজে পেলাম। খুজে পেলাম তার ঠিকানা। মিতা তোমায় খুজেছি গত ছয়মাস ধরে। পাইনি খুজে কোথাও। নাম জানিনা যে তোমার। শুধু চেহারা জানি। ফেসবুকের প্রতিটা ক্লিক খুজেছে তোমায়। খুজেছি সব পরিচিতের তালিকায়। পেলাম না। পেলাম অনেকদিন পর। সে কি? তুমি আমাকে চিনলে না? কেন করছনা একসেপ্ট? আছি বিপদে আর দুশ্চিন্তায়। কই পাবো তোমায়? আমার চাইতো তোমায়। আমিও খুঁজবো, খুজে যাব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। ছয় মাস কেটে গেল মিতা। পাইনা কেন? নামও তো জানিনা। হবে কি এখন?

কি নামে ডাকব তোমায়?
অপ্সরী না মেঘবালিকা?
কি উপমা দেব?
লাস্যময়ী নাকি অপরাজিতা?

ফুলের ঈর্ষা তোমার নিত্যসঙ্গী,
দিখল কালো চুল তোমার আকর্ষণ।

কিন্তু কোথায় তুমি?
কেন পাইনা তোমায়?
নাকি কাছে থেকেও পথভ্রষ্ট আমি?

হাসির মায়াতে পরেছি বাঁধা,
তাই তো করে চলেছি,
তাকে পাওয়ার এক নিস্ফল অভিযান চলছে,
চলবে আরও।“

(চলবে)...



সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×